- readaim.com
- 0
উত্তর::ভূমিকা: অর্থনীতির জগতে চাহিদা একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানুষ কীভাবে পণ্যের দামের পরিবর্তনের সাথে সাথে তাদের চাহিদার পরিমাণ বাড়ায় বা কমায়, সেটি বোঝাতে অর্থনীতিবিদরা বিভিন্ন ধারণা ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে সহজ এবং আকর্ষণীয় একটি ধারণা হলো চাহিদার “সংকোচ-সম্প্রসারণ”।

উপরের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, উল্লম্ব অক্ষে (P) পণ্যের দাম এবং অনুভূমিক অক্ষে (Q) পণ্যের চাহিদার পরিমাণ দেখানো হয়েছে।
- যখন দাম বেশি (যেমন P4P_4P4), তখন ক্রেতারা অল্প পরিমাণ (যেমন Q1Q_1Q1) পণ্য কেনে। এ অবস্থায় চাহিদা সংকুচিত হয়।
- যখন দাম ধীরে ধীরে কমতে থাকে (যেমন P3,P2P_3, P_2P3,P2), তখন ক্রেতারা আগের তুলনায় বেশি কিনতে থাকে (Q2,Q3Q_2, Q_3Q2,Q3)।
- সবশেষে দাম আরও কমে P1P_1P1-এ নামলে ক্রেতারা সর্বাধিক পরিমাণ (Q4Q_4Q4) কিনে। এ অবস্থায় চাহিদা সম্প্রসারিত হয়।
অতএব, একই চাহিদা রেখা DD’DD’DD’-এর উপর ক্রেতার চাহিদা কখনো সংকুচিত, আবার কখনো সম্প্রসারিত হয়। দাম বাড়লে চাহিদা সংকুচিত হয়, আর দাম কমলে চাহিদা সম্প্রসারিত হয়—এটাই মূল ধারণা।
উপসংহার: চাহিদার সংকোচ-সম্প্রসারণ আমাদের শেখায় যে ক্রেতার আচরণ মূলত দামের সাথে সম্পর্কিত। বাজার বিশ্লেষণ, উৎপাদন পরিকল্পনা ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি অর্থনৈতিক ধারণা। তাই অর্থনীতি বোঝার জন্য এর গুরুত্ব অপরিসীম।
এককথায় বলতে গেলে, চাহিদার “সংকোচ-সম্প্রসারণ” হলো দামের পরিবর্তনের ফলে চাহিদার পরিমাণের হ্রাস-বৃদ্ধি।
১৮৯০ সালে অর্থনীতিবিদ আলফ্রেড মার্শাল প্রথম স্পষ্টভাবে চাহিদার সংকোচ-সম্প্রসারণ তত্ত্ব ব্যাখ্যা করেন। ১৯৭০-এর দশকে বৈশ্বিক তেলের দাম বৃদ্ধির সময় বিভিন্ন দেশে এ ধারণার বাস্তব প্রভাব দেখা যায়। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দায়ও চাহিদার সংকোচ সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছিল।

