- readaim.com
- 0
উত্তর::প্রাককথা: যোগাযোগ হলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি ছাড়া আমাদের সম্পর্কগুলো গড়ে উঠতে পারতো না, সমাজ বিকশিত হতো না এবং জ্ঞানও ছড়িয়ে পড়তো না। সহজ ভাষায়, যোগাযোগ হলো তথ্য, ধারণা, অনুভূতি এবং চিন্তা আদান-প্রদান করার একটি প্রক্রিয়া। আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং পেশাগত জীবনে সফল হওয়ার জন্য কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শাব্দিক অর্থ: যোগাযোগ (Communication) শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ‘Communicare’ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো আদান-প্রদান করা বা সাধারণ কিছু তৈরি করা। এর মাধ্যমে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে কোনো বার্তা, তথ্য বা অনুভূতি বিনিময় হয়।
যোগাযোগ একটি গতিশীল প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি (প্রেরক) অন্য একজন বা একাধিক ব্যক্তির (গ্রহীতা) কাছে কোনো মাধ্যম ব্যবহার করে কোনো বার্তা বা তথ্য পাঠায়। এই প্রক্রিয়ায় প্রেরক বার্তাটিকে সংকেতে রূপান্তরিত করে (encoding) এবং গ্রহীতা সেই সংকেতকে বুঝে (decoding)। একটি কার্যকর যোগাযোগের জন্য প্রেরক এবং গ্রহীতার মধ্যে বোঝাপড়া থাকা অপরিহার্য।
বিভিন্ন পণ্ডিত ও গবেষক যোগাযোগকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সংজ্ঞায়িত করেছেন:
১. উইলবার শ্রাম (Wilbur Schramm): “যোগাযোগ হলো তথ্য ভাগ করে নেওয়ার একটি উপায়, যার মাধ্যমে আমরা সমাজে নিজেদের একটি অংশ হিসেবে অনুভব করি এবং সমাজের অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করি।” (Communication is a way of sharing information, of feeling ourselves a part of a larger group, and of getting along with the others in that group.)
২. ডব্লিউ জি বোভী (W. G. Bovee): “যোগাযোগ হলো চিন্তাভাবনা এবং তথ্যের আদান-প্রদান।” (Communication is the interchange of thoughts and information.)
৩. লুইস অ্যালেন (Louis Allen): “যোগাযোগ হলো চিন্তা, ধারণা, তথ্য এবং মতামতের আদান-প্রদান।” (Communication is the exchange of facts, ideas, opinions or emotions by two or more persons.)
৪. জর্জ টেরি (George Terry): “যোগাযোগ হলো তথ্য ও অনুভূতি আদান-প্রদানের একটি প্রক্রিয়া, যা দুটি বা তার বেশি মানুষের মধ্যে ঘটে।” (Communication is a process of transmitting information and feelings, which happens between two or more persons.)
৫. হার্বার্ট এ. সাইমন (Herbert A. Simon): “যোগাযোগকে এমন একটি প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের এক সদস্য থেকে অন্য সদস্যের কাছে সিদ্ধান্তমূলক ধারণা স্থানান্তরিত হয়।” (Communication may be considered as a process by which decisional premises are transmitted from one member of an organization to another.)
৬. ফ্রেড জি. মেয়ার (Fred G. Meyer): “যোগাযোগ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে এক বা একাধিক ব্যক্তি তাদের চিন্তা বা অনুভূতি অন্য ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়।” (Communication is a process by which one or more persons transmit their thoughts or feelings to others.)
৭. অ্যালান লুইক (Alan L. Luecke): “যোগাযোগ হলো কোনো তথ্য বা বার্তা একজনের কাছ থেকে অন্যজনের কাছে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া।” (Communication is the process of getting a message from one person to another.)
উপরের সংজ্ঞাগুলোর আলোকে আমরা বলতে পারি, যোগাযোগ হলো একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া, যেখানে প্রেরক ও গ্রহীতার মধ্যে কোনো মাধ্যম ব্যবহার করে অর্থপূর্ণ বার্তা, তথ্য, ধারণা বা অনুভূতির আদান-প্রদান ঘটে, যার ফলে পারস্পরিক বোঝাপড়ার সৃষ্টি হয়।
উপসংহার: যোগাযোগ শুধু তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম নয়, এটি মানব সমাজের বন্ধন। এটি আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে মজবুত করে, ভুল বোঝাবুঝি কমায় এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে সাফল্যের পথ খুলে দেয়। একটি উন্নত সমাজ ও কার্যকরী কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার জন্য আমাদের সকলেরই উচিত যোগাযোগ দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া। এটি এমন একটি দক্ষতা যা আমাদের জীবনকে আরও অর্থবহ এবং সমৃদ্ধ করে তুলতে পারে।
যোগাযোগ হলো তথ্য ও অনুভূতির আদান-প্রদান ও বিনিময়ের একটি মাধ্যম, যা মানুষের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করে এবং সামাজিক বোঝাপড়া নিশ্চিত করে।
বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণায় দেখা গেছে, ৯০% এর বেশি পেশাদাররা মনে করেন যে কর্মক্ষেত্রে সফলতার জন্য যোগাযোগ দক্ষতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৯ সালের একটি পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ অনুসারে, প্রায় ৪২% প্রাপ্তবয়স্করা ইন্টারনেট ব্যবহার করে বন্ধু এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ২০১৭ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, প্রায় ৯৫% মানুষ প্রতিদিন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যোগাযোগ করে।

