- readaim.com
- 0
উত্তর::সূচনা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পদ্ধতি অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ ভিন্ন। এখানে সাধারণ জনগণের সরাসরি ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন না, বরং একটি বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এই পদ্ধতিটি হলো ইলেক্টোরাল কলেজ, যা ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অফ কলাম্বিয়ার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত। এটি একটি পরোক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়া, যা দেশের প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
ইলেক্টোরাল কলেজ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের একটি বিশেষ পদ্ধতি। এটি কোনো আসল কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অফ কলাম্বিয়া থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের একটি গ্রুপ। এই প্রতিনিধিরা ভোটারদের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টকে ভোট দেন।
সহজ কথায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণ সরাসরি প্রেসিডেন্টকে ভোট দেয় না। বরং তারা প্রথমে তাদের রাজ্যের জন্য কিছু প্রতিনিধি বা ইলেক্টর নির্বাচন করে। এই ইলেক্টরদের গ্রুপকেই বলা হয় ইলেক্টোরাল কলেজ। এরপর এই ইলেক্টররা তাদের রাজ্যে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে ভোট দিয়ে থাকেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যের জনসংখ্যা অনুযায়ী কিছু সংখ্যক ইলেক্টর থাকে। যেমন, ক্যালিফোর্নিয়াতে আছে ৫৫ জন ইলেক্টর, যা সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে, ছোট রাজ্যগুলোতে ইলেক্টর সংখ্যা অনেক কম। প্রতিটি রাজ্যের ইলেক্টর সংখ্যা নির্ধারিত হয় সে রাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের (House of Representatives) সদস্য সংখ্যা এবং সিনেটরের (Senator) সংখ্যার যোগফল দিয়ে। প্রত্যেক রাজ্য থেকে দুইজন করে সিনেটর থাকেন এবং প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য সংখ্যা নির্ভর করে জনসংখ্যার উপর। সব মিলিয়ে মোট ৫৩৮ জন ইলেক্টর রয়েছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে একজন প্রার্থীকে অবশ্যই ২৭০ বা তার বেশি ইলেক্টরাল ভোট পেতে হয়।
সংখ্যাগরিষ্ঠ অঙ্গরাজ্যে “উইনার-টেক-অল” (Winner-Take-All) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এর মানে হলো, যে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী একটি রাজ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ভোট (popular vote) পান, সেই রাজ্যের সব ইলেক্টরাল ভোট তিনিই পেয়ে যান। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো প্রার্থী ক্যালিফোর্নিয়ায় জনপ্রিয় ভোটে জয়ী হন, তাহলে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার সব ৫৫টি ইলেক্টরাল ভোট পেয়ে যাবেন, অন্য কোনো প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ যাই হোক না কেন। এই কারণেই কিছু নির্বাচনে জনপ্রিয় ভোটে পিছিয়ে থেকেও কোনো প্রার্থী ইলেক্টরাল কলেজে জয়লাভ করে প্রেসিডেন্ট হতে পারেন।
উপসংহার: উপসংহারে বলা যায়, ইলেক্টোরাল কলেজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদিও এটি দেশের ছোট রাজ্যগুলোর স্বার্থ রক্ষা করে, তবে “উইনার-টেক-অল” পদ্ধতির কারণে এটি অনেক সময় জনপ্রিয় ভোটের ফলাফলকে প্রতিফলিত করতে ব্যর্থ হয়। এই কারণে, এই পদ্ধতিটি প্রায়শই বিতর্কের জন্ম দেয় এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ইলেক্টোরাল কলেজ হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের একটি পরোক্ষ পদ্ধতি, যেখানে জনগণের সরাসরি ভোটের বদলে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা (ইলেক্টর) প্রেসিডেন্টকে ভোট দেন।
- ১৭৮৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে এই পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়।
- ১৮০০ সালের নির্বাচনে জনপ্রিয় ভোটে থমাস জেফারসন ও অ্যারন বারের মধ্যে টাই হয়, যা এই পদ্ধতির দুর্বলতা প্রকাশ করে।
- ১৮২৪, ১৮৭৬, ১৮৮৮, ২০০০ এবং ২০১৬ সালের নির্বাচনে জনপ্রিয় ভোটে পরাজিত প্রার্থী ইলেক্টরাল কলেজে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- ২০১৬ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জনপ্রিয় ভোটে প্রায় ৩০ লাখ ভোট কম পেয়েও ইলেক্টরাল কলেজে জয়লাভ করে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। এই পদ্ধতি নিয়ে বর্তমানেও বিতর্ক চলছে।

