- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: সমাজ কখনো স্থির থাকে না; সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চিন্তা, মূল্যবোধ, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসে। বাংলাদেশের সমাজও ঐতিহ্যনির্ভর কৃষিভিত্তিক কাঠামো থেকে ধীরে ধীরে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও শিল্পভিত্তিক সমাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের মধ্যবর্তী অবস্থার কারণে বাংলাদেশকে একটি ক্রান্তিকালীন বা পরিবর্তনশীল সমাজ বলা যায়।
বাংলাদেশ একটি ক্রান্তিকালীন বা পরিবর্তনশীল সমাজ হিসেবে:
ক্রান্তিকালীন সমাজ বলতে এমন একটি সমাজকে বোঝায়, যেখানে পুরোনো সামাজিক কাঠামো, মূল্যবোধ ও জীবনধারার সঙ্গে নতুন চিন্তা, প্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটে। বাংলাদেশ বর্তমানে এমন একটি পরিবর্তনের পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
১।অর্থনৈতিক পরিবর্তন: একসময় বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রধানত কৃষিনির্ভর ছিল। বর্তমানে শিল্প, তৈরি পোশাক খাত, প্রবাসী আয়, তথ্যপ্রযুক্তি ও সেবাখাত অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে পেশাগত কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে।
২।সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন: শিক্ষার প্রসার, নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, নগরায়ণ এবং গণমাধ্যমের প্রভাব মানুষের জীবনধারা ও সামাজিক চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এনেছে। তবে একই সঙ্গে অনেক ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ এখনও সমাজে বিদ্যমান।
৩।প্রযুক্তিগত পরিবর্তন: ডিজিটাল প্রযুক্তি, মোবাইল যোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তার বাংলাদেশের সমাজকে নতুন রূপ দিয়েছে। শিক্ষা, ব্যবসা ও সরকারি সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।
৪।নগরায়ণ ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তন: গ্রাম থেকে শহরে মানুষের স্থানান্তর, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং শহরকেন্দ্রিক জীবনযাত্রার বিস্তার সামাজিক কাঠামোতে পরিবর্তন সৃষ্টি করছে।
তবে বাংলাদেশের পরিবর্তন এখনো সম্পূর্ণ আধুনিক সমাজে রূপ নেয়নি। একদিকে আধুনিক শিক্ষা, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন ঘটছে, অন্যদিকে দারিদ্র্য, বৈষম্য, কুসংস্কার ও ঐতিহ্যগত সামাজিক বাধা এখনও বিদ্যমান। তাই বাংলাদেশকে পরিবর্তনের মধ্যবর্তী বা ক্রান্তিকালীন সমাজ বলা অধিক যুক্তিযুক্ত।
উপসংহার: বাংলাদেশ বর্তমানে পুরোনো ও নতুন সামাজিক ব্যবস্থার সংমিশ্রণে গঠিত একটি পরিবর্তনশীল সমাজ। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটলেও কিছু পুরোনো সমস্যা এখনও রয়ে গেছে। তাই বাংলাদেশকে একটি ক্রান্তিকালীন সমাজ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।ৃ