- readaim.com
- 0
উত্তর::প্রাককথা: প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, সংগঠন বা ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো নিয়ন্ত্রণ পরিধি। এর মাধ্যমে বোঝা যায় একজন ব্যবস্থাপকের অধীনে কতজন কর্মী কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। এটি শুধু কর্মী সংখ্যা নয়, বরং একটি আদর্শ ব্যবস্থাপনার জন্য অপরিহার্য একটি ধারণা যা প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।
নিয়ন্ত্রণ পরিধি-এর শাব্দিক অর্থ হলো কোনো কিছুকে নিয়ন্ত্রণে রাখার সীমা বা পরিধি। ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে, এর দ্বারা একজন ব্যবস্থাপক বা কর্মকর্তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে কতজন অধস্তন কর্মচারী কাজ করে, সেই সংখ্যাকে বোঝানো হয়।
নিয়ন্ত্রণ পরিধি সম্পর্কে বিভিন্ন গবেষক ও পণ্ডিত ভিন্ন ভিন্ন সংজ্ঞা দিয়েছেন। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা তুলে ধরা হলো:-
১। এল.ডি. হোয়াইট (L.D. White): তার মতে, “নিয়ন্ত্রণ পরিধি বলতে বোঝানো হয় যে একজন নির্বাহী সরাসরি কতজন অধস্তন কর্মীর উপর কার্যকরভাবে তত্ত্বাবধান করতে পারেন।” (The span of control refers to the number of subordinates an executive can effectively supervise.)
২। লুথার গুলিক (Luther Gulick): তিনি নিয়ন্ত্রণ পরিধিকে প্রশাসনিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “নিয়ন্ত্রণ পরিধি হলো সেই সংখ্যা, যেখানে একজন নির্বাহী তার অধীনে থাকা কর্মীদের কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেন।” (The span of control is the number of subordinates a manager can effectively control.)
৩। অধ্যাপক ফিফনার ও প্রেসথাস (P. Fiffner and Presthus): তাদের মতে, “নিয়ন্ত্রণ পরিধি হলো একজন ব্যবস্থাপকের অধীনে থাকা কর্মীদের সংখ্যা, যাদের কাজ তিনি দক্ষতার সাথে তদারক করতে পারেন।” (The span of control is the number of subordinates a supervisor can efficiently manage.)
৪। সাইমন, স্মিথবার্গ ও থাম্পসন (Simon, Smithburg and Thompson): তারা বলেন, “নিয়ন্ত্রণ পরিধি হলো সেই সংখ্যা, যা একজন নির্বাহী একই সাথে পরিচালনা করতে পারেন এবং তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে পারেন।” (Span of control refers to the number of subordinates who can be simultaneously directed and coordinated by an executive.)
৫। ডিমক ও ডিমক (Dimok and Dimok): তাদের মতে, “নিয়ন্ত্রণ পরিধি হলো একজন নির্বাহীর কর্মপরিধির সীমা, যার মাধ্যমে তিনি তার অধীনস্থ কর্মীদের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।” (Span of control is the limit of a manager’s work scope, through which he can observe and control the activities of his subordinates.)
উপরোক্ত সংজ্ঞাগুলোর আলোকে, আমরা বলতে পারি যে নিয়ন্ত্রণ পরিধি হলো ব্যবস্থাপনার এমন একটি নীতি, যার মাধ্যমে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপক তার দক্ষতা ও কার্যকারিতার উপর ভিত্তি করে সরাসরি কতজন অধস্তন কর্মীকে কার্যকরভাবে পরিচালনা, তত্ত্বাবধান এবং সমন্বয় করতে পারেন তার সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। এই সংখ্যা কম হলে তত্ত্বাবধান সহজ হয়, কিন্তু ব্যবস্থাপনার স্তর বেড়ে যায়। অন্যদিকে, সংখ্যা বেশি হলে তত্ত্বাবধান কঠিন হয়, তবে ব্যবস্থাপনার স্তর কম থাকে।
উপসংহার: নিয়ন্ত্রণ পরিধি ব্যবস্থাপনার একটি অপরিহার্য দিক যা প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক কাঠামো এবং কার্যকারিতাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। এটি একটি আদর্শ সংখ্যা নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি, কর্মীদের দক্ষতা এবং কাজের জটিলতার উপর নির্ভরশীল। সঠিক নিয়ন্ত্রণ পরিধি নিশ্চিত হলে কর্মক্ষেত্রে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় থাকে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
নিয়ন্ত্রণ পরিধি হলো একজন ব্যবস্থাপকের অধীনে থাকা কর্মীর সেই সর্বোচ্চ সংখ্যা, যাদেরকে তিনি কার্যকরভাবে পরিচালনা ও তদারক করতে পারেন।
নিয়ন্ত্রণ পরিধির ধারণাটি ১৯৫০-এর দশকে প্রশাসনিক বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনার গবেষণায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। ১৯৫৩ সালের একটি জরিপে দেখা যায়, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে একজন ব্যবস্থাপকের অধীনে গড়ে ৬ থেকে ৭ জন কর্মী থাকে। তবে আধুনিক যুগে প্রযুক্তি এবং দূরবর্তী কাজের প্রচলন বেড়ে যাওয়ায় এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে, অনেক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে একজন ব্যবস্থাপকের অধীনে ১৫ থেকে ২০ জন কর্মীও থাকতে পারে, যা কাজের ধরন ও প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল।

