- readaim.com
- 0
উত্তর::ভূমিকা: ফরায়েজী আন্দোলন ছিল ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে বাংলায় গড়ে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন। এর মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামকে সকল কুসংস্কার ও অনৈসলামিক রীতিনীতি থেকে মুক্ত করে তার মৌলিক আদর্শে ফিরিয়ে আনা। এই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হাজী শরীয়তউল্লাহ।
হাজী শরীয়তউল্লাহ মক্কায় দীর্ঘকাল অবস্থান করে ইসলামের বিশুদ্ধ রূপ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন। দেশে ফিরে তিনি দেখতে পান, বাংলার মুসলমান সমাজ বিভিন্ন কুসংস্কার, শিরক এবং হিন্দুয়ানি প্রভাবে আচ্ছন্ন। তাই তিনি ফরজ বা ইসলামের মৌলিক স্তম্ভগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করে একটি আন্দোলন শুরু করেন। এই আন্দোলনের অনুসারীরা ‘ফরায়েজী’ নামে পরিচিত হন। ফরায়েজীর অর্থ হলো ‘ফরজ’ পালনকারী।
এই আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্যগুলো ছিল:
- ধর্মীয় সংস্কার: পীর পূজা, কবর পূজা, মহররমের তাজিয়া মিছিলের মতো অনৈসলামিক রীতিনীতিগুলো পরিহার করা।
- সামাজিক ঐক্য: মুসলিম সমাজের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা করা।
- রাজনৈতিক চেতনা: ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে এবং জমিদার ও মহাজনদের শোষণের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করা।
হাজী শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র মুহম্মদ মুহসীন ওরফে দুদু মিয়া আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। দুদু মিয়া আন্দোলনকে আরো সংগঠিত ও শক্তিশালী করেন। তিনি ধর্মীয় সংস্কারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তির ওপর বেশি জোর দেন। তার নেতৃত্বে ফরায়েজী আন্দোলন একটি প্রতিবাদী কৃষক বিদ্রোহে রূপ নেয়। তিনি কৃষকদের ওপর জমিদারদের অতিরিক্ত কর ও শোষণ বন্ধের জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি ঘোষণা করেন, ‘আল্লাহর জমিতে চাষ করার জন্য কাউকে কর দিতে হবে না।’
এই আন্দোলনের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। এটি বাংলার মুসলিম সমাজে এক নতুন ধর্মীয় ও সামাজিক চেতনার জন্ম দেয়। এটি কৃষকদের মধ্যে ব্রিটিশ ও জমিদার বিরোধী মনোভাব গড়ে তোলে, যা পরবর্তীকালে অনেক কৃষক বিদ্রোহের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল।
উপসংহার: ফরায়েজী আন্দোলন কেবল একটি ধর্মীয় আন্দোলন ছিল না, বরং এটি ছিল ধর্মীয় সংস্কারের মাধ্যমে সমাজ ও অর্থনীতির শোষণের বিরুদ্ধে সাধারণ কৃষকদের একটি বিশাল প্রতিবাদ। এটি বাংলার কৃষক সমাজকে জাগিয়ে তুলেছিল এবং তাদের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করেছিল।
ফরায়েজী আন্দোলন হলো হাজী শরীয়তউল্লাহ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন যা পরবর্তীতে একটি কৃষক বিদ্রোহে রূপান্তরিত হয়।
- এই আন্দোলন ১৮১৮ সালে হাজী শরীয়তউল্লাহর হাত ধরে ফরিদপুরে শুরু হয়।
- ১৮৪০ সালে তার মৃত্যুর পর পুত্র দুদু মিয়া আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেন।
- ১৮৪৭ সালে দুদু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয় এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে এটি একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল।
- ১৮৬০ এর দশকে দুদু মিয়ার মৃত্যুর পর এই আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

