• Home
  • Class 0-12
  • Grammar
    • Bangla Grammar
    • English Grammar
    • Arabic Grammar
  • Computer
    • MS Word
  • Jobs Study
    • BCS
    • Bank
    • Primary
    • Govt. job
    • Nibandhon
    • Medical Admission
    • University Admission
    • Army/Police/BDR/Anchar
  • Jobs
  • News
    • Home
    • Class 0-12
    • Grammar
      • Bangla Grammar
      • English Grammar
      • Arabic Grammar
    • Computer
      • MS Word
    • Jobs Study
      • BCS
      • Bank
      • Primary
      • Govt. job
      • Nibandhon
      • Medical Admission
      • University Admission
      • Army/Police/BDR/Anchar
    • Jobs
    • News
  • mdreadaim@gmail.com
  • Read at Home
Login > Register
Read Aim
Read Aim
  • Home
  • Class 0-12
  • Grammar
    • Bangla Grammar
    • English Grammar
    • Arabic Grammar
  • Computer
    • MS Word
  • Jobs Study
    • BCS
    • Bank
    • Primary
    • Govt. job
    • Nibandhon
    • Medical Admission
    • University Admission
    • Army/Police/BDR/Anchar
  • Jobs
  • News
  • readaim.com
  • 0
বাংলাদেশের প্রশাসন কি উন্নয়ন প্রশাসন উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

প্রশ্ন:- বাংলাদেশের প্রশাসন কি উন্নয়ন প্রশাসন? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর::প্রাককথা: বাংলাদেশের প্রশাসন কি উন্নয়ন প্রশাসন? এই প্রশ্নটি জটিল এবং এর উত্তর দেওয়া সহজ নয়। তবে এর গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রশাসন পুরোপুরি উন্নয়নমুখী না হলেও, উন্নয়নের পথে তার যাত্রা চলছে। এখানে যেমন রয়েছে অনেক ইতিবাচক দিক, তেমনি রয়েছে কিছু উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতা। এই নিবন্ধে আমরা বাংলাদেশের প্রশাসনের উন্নয়নমুখী চরিত্রটি বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করব।

বাংলাদেশের প্রশাসন কতটুকু উন্নয়নমুখী:-

১। পদসোপান নীতি: বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পদসোপান নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অনুমোদন ছাড়া কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রায় অসম্ভব। এর ফলে, মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে অনেক সময় বাধার সম্মুখীন হন। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের গতিকে মন্থর করে। যদিও এই নীতি প্রশাসনের শৃঙ্খলা বজায় রাখে, তবে এটি প্রায়শই উদ্ভাবনী চিন্তা এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের পথে বাধা সৃষ্টি করে।

২। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ: বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বিকেন্দ্রীকরণের কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও, এর বাস্তবায়ন এখনো অনেকাংশে দুর্বল। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন- উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ইত্যাদির হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা ও বাজেট থাকে না। এর ফলে, তারা জনগণের চাহিদা অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করতে বা তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে না। ক্ষমতার এই কেন্দ্রীকরণ কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে দেয় এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ সীমিত করে দেয়।

৩। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যেকোনো দেশের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। রাজনৈতিক অস্থিরতা, ঘন ঘন হরতাল, অবরোধ এবং দলীয় কোন্দল প্রশাসনিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে, প্রশাসনকে প্রায়শই উন্নয়নমূলক কাজ ছেড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দিতে হয়, যা সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ থাকলে প্রশাসন তার লক্ষ্য অর্জনে আরো বেশি মনোযোগী হতে পারে।

৪। জনবিচ্ছিন্নতা: বাংলাদেশের প্রশাসনের একটি বড় অংশ জনগণের কাছে থেকে বিচ্ছিন্ন। সাধারণ মানুষ অনেক সময় সরকারি অফিসে গিয়ে সেবা পেতে হয়রানির শিকার হয়। প্রশাসনের এই জনবিচ্ছিন্নতা জনগণের আস্থা হ্রাস করে এবং প্রশাসনকে জনগণের প্রকৃত সেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে বাধা দেয়। জনগণের সাথে কার্যকর সংযোগ স্থাপন না করতে পারলে কোনো উন্নয়নমূলক কার্যক্রমই পুরোপুরি সফল হতে পারে না।

৫। দক্ষতার বিকাশ: সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু থাকলেও, অনেক সময় তা যথেষ্ট কার্যকর হয় না। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কর্মস্থলে যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির সুযোগের অভাব দক্ষ জনবল তৈরিতে বাধা দেয়। এর ফলে, অনেক ক্ষেত্রেই পুরোনো আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই কাজ পরিচালিত হয়, যা আধুনিক উন্নয়ন প্রশাসনের জন্য উপযোগী নয়। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি না হলে প্রশাসনের গুণগত মান উন্নত করা কঠিন।

৬। আইন প্রণয়ন ও কার্যকর: আইন প্রণয়নে বাংলাদেশ যথেষ্ট গতিশীল হলেও, তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রায়শই শৈথিল্য দেখা যায়। অনেক সময় দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্বল নজরদারির কারণে আইন প্রয়োগে বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। একটি উন্নয়নমুখী প্রশাসনের জন্য প্রয়োজন এমন একটি আইনি কাঠামো, যা দ্রুত এবং নিরপেক্ষভাবে কার্যকর হয়। আইনের দুর্বল প্রয়োগ জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করে এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়।

৭। অদক্ষ প্রশাসন: প্রশাসনের কিছু অংশে এখনো দক্ষতার অভাব দেখা যায়। অনেক সময় পুরোনো এবং অকার্যকর পদ্ধতিতে কাজ করা হয়, যা সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলে না। প্রশিক্ষণের অভাব এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে অনীহা অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের কার্যকারিতাকে সীমিত করে। এই অদক্ষতা সরকারি সেবা প্রদানে বিলম্ব ঘটায় এবং জনগণের ভোগান্তি বাড়ায়।

৮। অর্থসামাজিক অবস্থা: দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা প্রশাসনের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা এবং সামাজিক অসমতা জনগণের উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করে। এ সকল সমস্যার কারণে, প্রশাসনকে শুধু উন্নয়নমূলক কাজ নয়, বরং সামাজিক সমস্যা সমাধানেও মনোযোগ দিতে হয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা প্রশাসনের জন্য একটি বড় কাজ।

৯। যোগাযোগ ব্যবস্থা: একটি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা তার উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। যদিও বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নতি হয়েছে, কিন্তু এখনো প্রত্যন্ত অঞ্চলে এর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দুর্বল যোগাযোগ অবকাঠামো এবং অপর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা পণ্য ও সেবার সরবরাহকে বাধাগ্রস্ত করে, যা অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং সামাজিক উন্নয়নের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

১০। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো: বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো বেশ সুসংগঠিত হলেও, এর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দেখা যায়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান এবং কার্যক্রমে সমন্বয় প্রায়শই দুর্বল থাকে। এই দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয়ের অভাব উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটায়।

১১। প্রশাসনিক সংস্থা: দেশের প্রশাসনিক সংস্থাগুলো যেমন- দুদক, পাবলিক সার্ভিস কমিশন ইত্যাদি তাদের কার্যকারিতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রায়শই বিতর্কের সম্মুখীন হয়। এই সংস্থাগুলোর ওপর রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্নীতির অভিযোগ তাদের কার্যকারিতা হ্রাস করে। একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক সংস্থা দেশের সুশাসন ও উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১২। সমন্বয়ের অভাব: বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি বড় সমস্যা। একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যখন একাধিক মন্ত্রণালয় বা সংস্থার প্রয়োজন হয়, তখন এই সমন্বয়ের অভাবে কাজ অনেক সময় থেমে যায়। এই সমন্বয়হীনতা কেবল সময় ও অর্থের অপচয় ঘটায় না, বরং সামগ্রিক উন্নয়নের গতিকেও মন্থর করে।

১৩। দায়িত্বশীলতার নীতি: প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দায়িত্বশীলতা এবং জবাবদিহিতার অভাব প্রায়শই লক্ষ্য করা যায়। কোনো ভুল বা অনিয়মের জন্য অনেক সময় কাউকে জবাবদিহি করতে হয় না। এই জবাবদিহিতার অভাব দুর্নীতি এবং অদক্ষতাকে উৎসাহিত করে। একটি স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল প্রশাসনই কেবল জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে।

১৪। রাজনৈতিক ভূমিকা: রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রশাসনের ওপর অনেক সময় অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করে, যা পেশাদারিত্বকে ব্যাহত করে। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা হ্রাস করে। একটি কার্যকর উন্নয়ন প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং প্রশাসনের মধ্যে একটি স্পষ্ট বিভাজন থাকা আবশ্যক।

১৫। আমালাদের মানসিকতার পরিবর্তন: প্রশাসনের শীর্ষ থেকে নিম্ন স্তর পর্যন্ত আমলাদের মানসিকতার পরিবর্তন আনা জরুরি। তাদের নিজেদেরকে কেবল নিয়মের ধারক না ভেবে জনগণের সেবক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এই মানসিকতার পরিবর্তন আনতে পারলে প্রশাসনের সামগ্রিক গুণগত মান ও সেবা প্রদানের সক্ষমতা বাড়বে।

১৬। উপযুক্ত নেতৃত্ব সৃষ্টি: প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে এমন নেতৃত্বের প্রয়োজন, যারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এবং জনগণের সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেন। উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাবে অনেক সময় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়।

আমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি:-

১। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা: বাংলাদেশের প্রশাসনে ফাইল চালাচালি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতা একটি প্রধান সমস্যা। কোনো একটি ছোট কাজের জন্যও একাধিক দপ্তরের অনুমোদন প্রয়োজন হয়, যা প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প সময়মতো শুরু করা বা শেষ করা যায় না। উদাহরণস্বরূপ, একটি সেতু বা রাস্তা নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে বাজেট অনুমোদন পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে ফাইল আটকে থাকে, যা প্রকল্পের ব্যয় এবং সময় উভয়ই বাড়িয়ে তোলে। এই ব্যবস্থা একটি দ্রুত ও কার্যকর সেবা প্রদানকারী উন্নয়ন প্রশাসনের ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

২। রাজনৈতিক প্রভাব: প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক আনুগত্য প্রায়শই বেশি গুরুত্ব পায়। এতে অনেক ক্ষেত্রে অদক্ষ বা অনুপযুক্ত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন, যা প্রশাসনের সামগ্রিক কার্যকারিতা হ্রাস করে। রাজনৈতিক চাপ বা নির্দেশনায় অনেক সময় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই ধরনের প্রভাব প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা হ্রাস করে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা কঠিন করে তোলে।

৩। দুর্নীতি: বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্নীতি। সরকারি প্রকল্পে বাজেট থেকে অর্থ আত্মসাৎ, ঘুষ লেনদেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার একটি সাধারণ ঘটনা। এর ফলে প্রকল্পগুলোর গুণগত মান খারাপ হয়, অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয় এবং জনগণের ট্যাক্সের টাকা অপচয় হয়। একটি সত্যিকারের উন্নয়ন প্রশাসন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়, কিন্তু বাংলাদেশে এ ধরনের ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি কার্যকর নয়। দুর্নীতির এই ব্যাপকতা জনগণের আস্থা কমিয়ে দেয় এবং উন্নয়নের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করে।

৪। সমন্বয়ের অভাব: বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব বাংলাদেশের প্রশাসনের একটি বড় দুর্বলতা। একটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একাধিক মন্ত্রণালয়, যেমন- সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগকে একসাথে কাজ করতে হয়। কিন্তু তাদের মধ্যে যথাযথ সমন্বয় না থাকলে কাজের গতি মন্থর হয়, তথ্যের আদান-প্রদানে সমস্যা হয় এবং অনেক সময় একই কাজ একাধিকবার করা হয়। এই সমন্বয়হীনতা কেবল সময় ও অর্থের অপচয় ঘটায় না, বরং সামগ্রিক উন্নয়নের গতিকেও মন্থর করে।

৫। দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো: বাংলাদেশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান, যেমন- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি), প্রায়শই তাদের কার্যকারিতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে সমালোচিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং কার্যকর উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

৬। জনবিচ্ছিন্নতা: প্রশাসনের কিছু অংশের সঙ্গে সাধারণ জনগণের দূরত্ব এখনো অনেক বেশি। সরকারি সেবা নিতে আসা মানুষ প্রায়শই হয়রানি, দীর্ঘসূত্রিতা এবং অতিরিক্ত খরচের শিকার হয়। এই জনবিচ্ছিন্নতা প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা কমিয়ে দেয় এবং প্রশাসনকে জনগণের প্রকৃত সেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে বাধা দেয়। একটি উন্নয়নমুখী প্রশাসনের জন্য জনগণের সাথে সরাসরি ও কার্যকর সংযোগ থাকা অপরিহার্য।

৭। দক্ষতার অভাব: যদিও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রয়েছে, তবে তা অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত নয়। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ডেটা বিশ্লেষণ এবং উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজে বের করার মতো দক্ষতা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে অনুপস্থিত। পুরোনো আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই কাজ করার প্রবণতা এখনো অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যমান, যা আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলে না। এই অদক্ষতা সরকারি সেবা প্রদানে বিলম্ব ঘটায় এবং জনগণের ভোগান্তি বাড়ায়।

৮। বিকেন্দ্রীকরণের সীমাবদ্ধতা: প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে এখনো পর্যাপ্ত ক্ষমতা নেই। তারা কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন এবং তহবিলের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীল। এর ফলে, তারা স্থানীয় জনগণের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারে না। এই সীমাবদ্ধতা স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়নে জনগণের অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করে।

৯। জবাবদিহিতার অভাব: প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব একটি বড় সমস্যা। কোনো ভুল বা অনিয়মের জন্য অনেক সময় কাউকে জবাবদিহি করতে হয় না। এই জবাবদিহিতার অভাব দুর্নীতি এবং অদক্ষতাকে উৎসাহিত করে। একটি স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল প্রশাসনই কেবল জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

১০।মানসিকতার প্রতিবন্ধকতা: প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে জনগণের প্রতি সেবামূলক মানসিকতার অভাব এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। তাদের অনেকেই নিজেদেরকে সাধারণ মানুষের সেবক না ভেবে বরং ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে বিবেচনা করেন। এই মানসিকতা জনগণের প্রতি তাদের আচরণে প্রভাব ফেলে এবং প্রশাসনিক সেবা প্রদানের মান হ্রাস করে। এই মনোভাব পরিবর্তন না হলে একটি প্রকৃত জনমুখী উন্নয়ন প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

উপসংহার: বাংলাদেশের প্রশাসন পুরোপুরি উন্নয়নমুখী না হলেও, এটি উন্নয়নের দিকে ধাবমান। যদিও বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সমন্বয়ের অভাব এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মতো সমস্যা বিদ্যমান, তবে প্রযুক্তিগত উন্নতি, প্রশিক্ষণের সুযোগ এবং জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রশাসনিক সংস্কার, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রশাসন একটি সত্যিকারের উন্নয়ন প্রশাসনে রূপান্তরিত হতে পারে।

একনজরে উত্তর দেখুন

বাংলাদেশের প্রশাসন কতটুকু উন্নয়নমুখী:-

  • ১। পদসোপান নীতি
  • ২। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রী করণ
  • ৩। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
  • ৪। জনবিচ্ছিন্নতা
  • ৫। দক্ষতার বিকাশ
  • ৬। আইন প্রণয়ন ও কার্যকর
  • ৭। অদক্ষ প্রশাসন
  • ৮। অর্থসামাজিক অবস্থা
  • ৯। যোগাযোগ ব্যবস্থা
  • ১০। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো
  • ১১। প্রশাসনিক সংস্থা
  • ১২। সমন্বয়ের অভাব
  • ১৩। দায়িত্বশীলতার নীতি
  • ১৪। রাজনৈতিক ভূমিকা
  • ১৫। আমালাদের মানসিকতার পারিবর্তন
  • ১৬। উপযুক্ত নেতৃত্ব সৃষ্টি
Tags: বাংলাদেশের প্রশাসনবাংলাদেশের প্রশাসন কি উন্নয়ন প্রশাসন ? উত্তরের সপক্ষে যুক্তিবাংলাদেশের প্রশাসন কি উন্নয়ন প্রশাসন?
  • Previous সমাজবিজ্ঞানের পরিধি আলোচনা কর।
  • Next উন্নয়নমুখী প্রশাসনের উপাদানসমূহ আলোচনা কর।
Read Aim

SUBSCRIBE


    JOB CIRCULAR

    • Media/Ads/Event Mngnt (145)
    • Medical/Pharmaceutical (123)
    • NGO/Organization (323)
    • Production/Operation (142)
    • Research/Consultancy (85)
    • Secretary/Receptionist (188)
    • Security/Support Service (99)
    • Others (59)

    LEARNING & EARNING

    • English Article
    • Bearded Dragon
    • Cats
    • Dogs
    • Guinea Pigs
    • Insurance
    • Lawyer
    • Rabbits
    • Earn Money Online
    • Others

    CATEGORIES

    • Computer (12)
    • DEGREE (4)
    • English Article (27)
    • GRAMMAR (138)
    • Health Tips (2)
    • Honours (1082)
    • Jobs (16)
    • Jobs Study (33)
    • News (1253)
    • PDF BOOK (78)

    RECENT POST

    পাকিস্তানের গণতন্ত্রায়নের সমস্যা সমাধানের উপায় আলোচনা কর।
    ভারতে সংসদীয় গণতন্ত্রের সফলতার কারণগুলো ব্যাখ্যা কর।
    সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে নেপালের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণসমূহ আলোচনা কর।
    পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।

    2025 All Rights Reserved readaim.com

    • Contact
    • About
    • Privacy
    • Blog
    • READ AIM