- readaim.com
- 0
উত্তর::ভূমিকা: বেকারত্বের শাব্দিক অর্থ হলো কর্মহীনতা বা কাজ না থাকা। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তি তার যোগ্যতা, দক্ষতা এবং আগ্রহ অনুযায়ী কাজ করতে চায় কিন্তু খুঁজে পায় না। সহজ ভাষায়, যখন কোনো কর্মক্ষম ব্যক্তি প্রচলিত বেতন কাঠামোতে কাজ করতে ইচ্ছুক হওয়া সত্ত্বেও কোনো কাজ পায় না, তখন তাকে বেকার বলা হয় এবং এই অবস্থাকে বেকারত্ব বলে। এটি মূলত অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা যা দেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতিকে প্রতিফলিত করে।
১. অগবার্ন ও নিমকফ (Ogburn and Nimkoff): তাঁরা বেকারত্বকে একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখেছেন এবং বলেছেন, যখন একজন ব্যক্তি কাজ করতে সক্ষম ও ইচ্ছুক থাকা সত্ত্বেও উপযুক্ত কাজ খুঁজে পায় না, তখন সে বেকার।
২. কার্ল মার্কস (Karl Marx): মার্কসীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বেকারত্ব হলো পুঁজিবাদী ব্যবস্থার একটি অনিবার্য ফল। তিনি বিশ্বাস করতেন যে পুঁজিবাদের মধ্যে বেকারত্ব একটি “শিল্পের রিজার্ভ আর্মি” (Industrial Reserve Army) তৈরি করে, যা শ্রমিকদের মজুরি কম রাখতে সাহায্য করে।
৩. এমিল ডুর্খেইম (Émile Durkheim): ডুর্খেইম বেকারত্বকে সমাজের একটি স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখেছেন এবং এটিকে সামাজিক সংহতি নষ্ট করার একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
৪. ম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber): ওয়েবার বেকারত্বকে সামাজিক স্তরায়ন এবং কর্মসংস্থান বাজারের কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাঁর মতে, সামাজিক শ্রেণী এবং মর্যাদা বেকারত্বের কারণ হতে পারে।
৫. অক্সফোর্ড ডিকশনারি (Oxford Dictionary): অক্সফোর্ড ডিকশনারি অনুসারে, বেকারত্ব হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তি কর্মসংস্থানের সন্ধান করছে কিন্তু কোনো কাজ পাচ্ছে না। (The state of being unemployed, especially involuntarily.)
৬. ডিমক ও ডিমক (Dimok and Dimok): তাঁদের মতে, বেকারত্ব হচ্ছে এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে কাজ করার আগ্রহ এবং যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তি কাজ পায় না।
৭. এল.ডি. হোয়াইট (L.D. White): হোয়াইটের মতে, বেকারত্ব বলতে এমন একটি অবস্থা বোঝায় যেখানে একজন ব্যক্তি তার পেশাগত দক্ষতা অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ পায় না।
উপরের সংজ্ঞাগুলোর আলোকে আমরা বলতে পারি যে, বেকারত্ব হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে একজন সুস্থ, কর্মক্ষম এবং প্রচলিত বেতন কাঠামোতে কাজ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ খুঁজে পায় না।
উপসংহার: বেকারত্ব একটি বহুমুখী সমস্যা যা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। এটি কেবল কাজের অভাব নয়, বরং আত্মসম্মান, মানসিক চাপ এবং সামাজিক বৈষম্যের কারণও। একটি দেশের উন্নয়নের জন্য বেকারত্ব মোকাবিলা করা অপরিহার্য। বেকারত্ব হ্রাস করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি এবং দক্ষতা বিকাশের ওপর জোর দেওয়া উচিত।
বেকারত্ব হলো কর্মক্ষম ব্যক্তির কাজ করার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কাজের অভাব।
২০২৩ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের জরিপ অনুযায়ী, বিশ্বে যুব বেকারত্বের হার ১৫% ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) এর তথ্যমতে, ২০২৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ৪% ছাড়িয়ে যেতে পারে। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বেকারত্ব কমানো একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ।

