- readaim.com
- 0
উত্তর::ভূমিকা: সাজকর্ম পদ্ধতি, বা Organizational Method, হলো একটি সুবিন্যস্ত প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো কাজ বা লক্ষ্যকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে পরিকল্পিতভাবে সম্পাদন করা হয়। এটি কেবল একটি ধারণাই নয়, বরং এটি একটি বাস্তব কৌশল যা ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক জীবনে কার্যকারিতা ও দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। এই পদ্ধতি অনুসরণ করে আমরা জটিল কাজগুলোকেও সহজ করে তুলতে পারি এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাফল্যের সঙ্গে তা সম্পন্ন করতে পারি।
শাব্দিক অর্থ: সাজকর্ম হলো কোনো কিছুকে সাজানো বা সুশৃঙ্খলভাবে সাজানোর প্রক্রিয়া, এবং পদ্ধতি হলো কোনো কাজ করার একটি নির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত উপায়। সুতরাং, শাব্দিক অর্থে, সাজকর্ম পদ্ধতি মানে হলো কোনো কাজকে সুশৃঙ্খলভাবে সাজিয়ে করার উপায়।
সাজকর্ম পদ্ধতি হলো একটি কাঠামোবদ্ধ কৌশল যা কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ, সংস্থান, এবং সময়কে পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো সর্বোচ্চ দক্ষতা, কার্যকারিতা, এবং উৎপাদশীলতা নিশ্চিত করা। এই পদ্ধতি প্রতিটি কাজকে ধাপে ধাপে, সুচিন্তিতভাবে এবং একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলে সম্পূর্ণ করতে সহায়তা করে। এটি শুধু বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট কাজ থেকে শুরু করে জটিল প্রকল্প পরিচালনায়ও সমানভাবে কার্যকর।
বিভিন্ন গবেষক এবং পণ্ডিতগণ সাজকর্ম পদ্ধতির সংজ্ঞা দিয়েছেন, যার মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা নিচে তুলে ধরা হলো:
১। এল.ডি. হোয়াইট (L.D. White) বলেন, সাজকর্ম পদ্ধতি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণের জন্য একটি কর্ম কাঠামো ও তার মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে। (It is a process of establishing a working structure and the relationship within it for the purpose of achieving a specified goal.)
২। অধ্যাপক ফিফনার ও প্রেসথাস (P. Fiffner and Presthus)-এর মতে, সাজকর্ম পদ্ধতি হলো একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি কৌশলগত ও যৌক্তিক কাঠামো যার মধ্যে কাজ ও ব্যক্তিরা সমন্বিত হয়। (It is a strategic and logical framework for the coordination of work and individuals to achieve a specific objective.)
৩। উড্রো উইলসন (Woodrow Wilson) এই পদ্ধতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, এটি এমন একটি পদ্ধতি যা প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করে একটি কার্যকর ও দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলতে সাহায্য করে। (It is a method that helps to build an effective and efficient administrative structure by freeing administration from political influence.)
৪। সাইমন, স্মিথবার্গ ও থাম্পসন (Simon, Smithburg and Thompson) বলেন, সাজকর্ম পদ্ধতি হলো মানব ও বস্তুগত সম্পদকে একত্রিত করে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সফল করার জন্য একটি সুশৃঙ্খল উপায়। (It is an orderly way of bringing together human and material resources to accomplish a specific objective.)
৫। ডিমক ও ডিমক (Dimok and Dimok)-এর মতে, সাজকর্ম পদ্ধতি হলো কোনো কাজের প্রকৃতি, ব্যক্তি এবং তাদের দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় সাধনের প্রক্রিয়া। (It is a process of coordinating the nature of work, individuals, and their responsibilities.)
৬। জে, এ. ডিগ বলেন, এটি এমন একটি পদ্ধতি যা কোনো সংস্থার লক্ষ্য অর্জনের জন্য তার বিভিন্ন বিভাগ ও কার্যবলীর মধ্যে একটি শক্তিশালী সমন্বয় গড়ে তোলে। (It is a method that builds a strong coordination among the various departments and functions of an organization to achieve its goals.)
৭। ডোয়াইট ওয়াল্ডো (Dwight Waldo) বলেন, সাজকর্ম পদ্ধতি হলো একটি পরিকল্পিত কাঠামো যার মাধ্যমে ক্ষমতা, দায়িত্ব এবং কাজকে সঠিকভাবে বিন্যস্ত করা হয়। (It is a planned structure through which power, responsibilities, and work are properly arranged.)
উপরের সংজ্ঞাগুলির আলোকে আমরা বলতে পারি, সাজকর্ম পদ্ধতি হলো একটি পরিকল্পিত এবং সুশৃঙ্খল কাঠামো, যা কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য মানবসম্পদ, বস্তুগত সম্পদ এবং কার্যাবলীর মধ্যে একটি কার্যকরী সমন্বয় স্থাপন করে।
১। ব্যক্তি বা ব্যক্তিবিশেষ: ব্যক্তি সমাজকর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সেই ব্যক্তি, যার জন্য এই সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এই ব্যক্তি হতে পারে একজন শিশু, একজন বয়স্ক মানুষ, একজন অসুস্থ ব্যক্তি, বা যেকোনো অসহায় মানুষ, যিনি তার ব্যক্তিগত বা সামাজিক সমস্যা সমাধানে সহায়তা খুঁজছেন। সমাজকর্মীর প্রধান লক্ষ্য হলো এই ব্যক্তির সমস্যাকে গভীর ভাবে বোঝা এবং তার ব্যক্তিগত চাহিদা ও সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে কার্যকরী সমাধান খুঁজে বের করা। ব্যক্তির স্বকীয়তা, সম্মান এবং অধিকার রক্ষা করা এই প্রক্রিয়ার একটি অপরিহার্য অংশ। এই উপাদান ছাড়া ব্যক্তি সমাজকর্মের কোন অস্তিত্বই নেই।
২। সমাজকর্মী: সমাজকর্মী হলেন সেই পেশাদার ব্যক্তি যিনি ব্যক্তি সমাজকর্মের পদ্ধতি ও কৌশল সম্পর্কে সুশিক্ষিত এবং প্রশিক্ষিত। তিনি কেবল একজন সহায়তাকারী নন, বরং একজন পেশাদার বন্ধু, যিনি ব্যক্তির সমস্যাকে বস্তুনিষ্ঠভাবে বিশ্লেষণ করতে পারেন। একজন দক্ষ সমাজকর্মী তার জ্ঞান, দক্ষতা, এবং পেশাদার নীতিবোধ ব্যবহার করে ব্যক্তির সঙ্গে একটি শক্তিশালী সম্পর্ক স্থাপন করেন। এই সম্পর্ক ব্যক্তিকে তার ব্যক্তিগত সমস্যার গভীরে যেতে এবং তা থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করে।
৩। সমস্যা বা অসুবিধা: এটি হলো সেই চ্যালেঞ্জ বা সঙ্কট যা একজন ব্যক্তি অনুভব করেন এবং যার জন্য তিনি সহায়তা চান। এই সমস্যা শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, বা পারিবারিক হতে পারে। একজন সমাজকর্মীর কাজ হলো সমস্যার মূল কারণ নির্ণয় করা, কেবল এর বাহ্যিক লক্ষণগুলো নয়। সমস্যার সঠিক বিশ্লেষণ ব্যক্তি সমাজকর্মের সাফল্যের জন্য অত্যাবশ্যক। সমস্যাকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে না পারলে কোন সমাধানই কার্যকর হতে পারে না।
৪। পরিবেশ বা পরিস্থিতি: ব্যক্তি একা থাকে না, সে তার চারপাশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশের অংশ। এই পরিবেশ ব্যক্তির সমস্যা সৃষ্টিতে বা তার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি প্রতিকূল পারিবারিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক চাপ, বা সামাজিক বৈষম্য ব্যক্তির সমস্যাকে আরও জটিল করতে পারে। সমাজকর্মীর কাজ হলো ব্যক্তির পরিবেশকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করা এবং কীভাবে সেই পরিবেশ ব্যক্তির সমস্যার ওপর প্রভাব ফেলছে তা বোঝা। পরিবেশের পরিবর্তনও সমস্যার সমাধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
৫। পদ্ধতি বা কৌশল: ব্যক্তি সমাজকর্মে ব্যবহৃত পদ্ধতি ও কৌশলগুলি সমস্যা সমাধানের জন্য একটি কাঠামো তৈরি করে। এর মধ্যে রয়েছে সাক্ষাৎকার, পর্যবেক্ষণ, নথি বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন কাউন্সেলিং কৌশল। একজন সমাজকর্মী ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পদ্ধতি নির্বাচন করেন। এই পদ্ধতিগুলো বিজ্ঞানভিত্তিক এবং প্রমাণ-ভিত্তিক হওয়া উচিত যাতে সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায়। সঠিক পদ্ধতি ব্যবহার করে সমাজকর্মী এবং ব্যক্তি উভয়েই একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দিকে অগ্রসর হতে পারেন।
৬। সম্পর্ক স্থাপন: ব্যক্তি সমাজকর্মের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো সমাজকর্মী এবং সেবাগ্রহীতার মধ্যে একটি শক্তিশালী এবং বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক স্থাপন। এই সম্পর্ককে প্রায়শই “সাহায্যকারী সম্পর্ক” বলা হয়। এই সম্পর্কের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের সমস্যাগুলি খোলামেলাভাবে প্রকাশ করতে সাহস পায় এবং সমাজকর্মীর উপর নির্ভর করতে পারে। সম্পর্কটি শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং সহানুভূতির উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, যা ব্যক্তিকে তার নিজস্ব শক্তি ও দুর্বলতা উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। এই সম্পর্কের গুণগত মানই প্রায়শই পুরো প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ধারণ করে।
৭। আবেগিক সমর্থন: ব্যক্তি যখন কঠিন সমস্যার মধ্য দিয়ে যায়, তখন তার মানসিক এবং আবেগিক সমর্থন প্রয়োজন হয়। সমাজকর্মী এই সমর্থন প্রদান করেন, যা ব্যক্তিকে তার আবেগ প্রকাশ করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এই সমর্থন ব্যক্তিকে এটি বুঝতে সাহায্য করে যে সে একা নয় এবং তার সমস্যাগুলি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। আবেগিক সমর্থন ব্যক্তিকে নতুন করে আশা এবং শক্তি খুঁজে পেতে সাহায্য করে, যা তাকে সমস্যার মোকাবিলা করতে উদ্বুদ্ধ করে।
৮। সম্পদের ব্যবহার: সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন ধরনের বাহ্যিক সম্পদ ব্যবহার করা হয়। এই সম্পদগুলো আর্থিক সাহায্য, চিকিৎসা সেবা, আইনি পরামর্শ, বা শিক্ষা হতে পারে। একজন সমাজকর্মী এই সম্পদগুলো চিহ্নিত করেন এবং ব্যক্তিকে সেগুলো পেতে সহায়তা করেন। সমাজকর্মীর কাজ হলো কেবল সমস্যা সমাধান করা নয়, বরং ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত সহায়তা নিশ্চিত করা। সঠিক সময়ে সঠিক সম্পদ ব্যবহার করলে তা সমস্যার সমাধানে খুব কার্যকর হতে পারে।
৯। স্বকীয়তা ও সম্মান: ব্যক্তি সমাজকর্মের একটি মৌলিক নীতি হলো ব্যক্তির স্বকীয়তা এবং মর্যাদাকে সর্বদা সম্মান করা। সমাজকর্মী ব্যক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণকে উৎসাহিত করেন এবং তার নিজস্ব মতামতের প্রতি গুরুত্ব দেন। ব্যক্তির জীবন এবং তার সমস্যা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তারই। সমাজকর্মীর ভূমিকা হলো ব্যক্তিকে সঠিক তথ্য এবং পরামর্শ দিয়ে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করা, কিন্তু তার উপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া নয়। এই নীতি ব্যক্তিকে তার আত্মবিশ্বাস এবং স্বাবলম্বিতা বাড়াতে সাহায্য করে।
১০। মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ: সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়াটি কতটুকু কার্যকর হচ্ছে তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা জরুরি। সমাজকর্মী এবং ব্যক্তি উভয়ই মিলে সমস্যা সমাধানের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। যদি দেখা যায় যে বর্তমান কৌশল কাজ করছে না, তাহলে নতুন কৌশল বা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি ব্যক্তি সমাজকর্মের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা নিশ্চিত করে যে প্রদত্ত সেবাগুলি কার্যকর এবং উপকারী হচ্ছে।
১১। সামাজিক ন্যায়: ব্যক্তি সমাজকর্মের একটি বৃহত্তর লক্ষ্য হলো সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা। সমাজকর্মী কেবল একজন ব্যক্তির সমস্যা নিয়ে কাজ করেন না, বরং সেই সমস্যাগুলির মূল কারণগুলিও অনুসন্ধান করেন, যা প্রায়শই সামাজিক বৈষম্য বা অবিচার থেকে উদ্ভূত হয়। সমাজকর্মী সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেন এবং ব্যক্তির অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হন। এই উপাদানটি ব্যক্তি সমাজকর্মকে শুধু একটি ব্যক্তিগত সেবা থেকে সামাজিক আন্দোলনের দিকে নিয়ে যায়।
১২। গোপনীয়তা রক্ষা: ব্যক্তি সমাজকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো ব্যক্তির সমস্ত তথ্য এবং আলোচনা গোপন রাখা। এটি ব্যক্তিকে তার ব্যক্তিগত এবং সংবেদনশীল সমস্যাগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে উৎসাহিত করে। সমাজকর্মী এই গোপনীয়তা বজায় রাখেন যাতে ব্যক্তি তার উপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে। শুধুমাত্র যদি কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকে অথবা ব্যক্তির জীবন বিপন্ন হয়, তখনই এই গোপনীয়তা ভঙ্গ করা যেতে পারে। গোপনীয়তা রক্ষা না হলে ব্যক্তি সমাজকর্মের মূল ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায়।
১৩। পেশাদারিত্ব: একজন সমাজকর্মীর পেশাদারিত্ব এই প্রক্রিয়ার সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট পেশাদার নীতি, আচরণবিধি এবং নৈতিকতা মেনে চলা। পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করে যে সমাজকর্মী তার দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে এবং সর্বোচ্চ সততার সাথে পালন করছেন। একজন পেশাদার সমাজকর্মী নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে তার দক্ষতা বৃদ্ধি করেন এবং নতুন নতুন কৌশল সম্পর্কে সচেতন থাকেন।
১৪। সময়ের ব্যবহার: ব্যক্তি সমাজকর্মের প্রতিটি প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করা হয়। এটি নিশ্চিত করে যে সমস্যা সমাধানের কাজ নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এবং কার্যকরীভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। সময়ের সঠিক ব্যবহার ব্যক্তিকে তার লক্ষ্য অর্জনে উৎসাহিত করে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে।
১৫। লক্ষ্য নির্ধারণ: ব্যক্তি সমাজকর্মের শুরুতে সমাজকর্মী এবং ব্যক্তি মিলে একটি সুস্পষ্ট এবং অর্জনযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। এই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় ব্যক্তির চাহিদা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী। একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়া প্রক্রিয়াটি দিশাহীন হতে পারে। এই লক্ষ্যগুলো ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে নেওয়া হয়, যাতে ব্যক্তি সহজে অগ্রগতি দেখতে পায় এবং উৎসাহিত হয়।
১৬। সক্ষমতা বৃদ্ধি: ব্যক্তি সমাজকর্মের একটি মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তির নিজস্ব সক্ষমতা এবং স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধি করা। সমাজকর্মী কেবল সমস্যা সমাধান করেন না, বরং ব্যক্তিকে এমন দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করেন যাতে ভবিষ্যতে সে নিজেই তার সমস্যা মোকাবিলা করতে পারে। এই উপাদানটি ব্যক্তিকে স্থায়ীভাবে শক্তিশালী করে তোলে।
১৭। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ব্যক্তি সমাজকর্মের পদ্ধতি এবং তত্ত্বগুলো ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সমাজকর্মের ইতিহাস, বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন, এবং সমাজকর্মীদের পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা থেকে বর্তমান জ্ঞান ও কৌশলগুলি বিকশিত হয়েছে। ঐতিহাসিক জ্ঞান সমাজকর্মীকে বর্তমান সমস্যাগুলিকে গভীরতর দৃষ্টিকোণ থেকে বুঝতে সাহায্য করে।
১৮। গোষ্ঠী বা পরিবার: যদিও এটি ‘ব্যক্তি’ সমাজকর্ম, কিন্তু অনেক সময় ব্যক্তির সমস্যা তার পরিবার বা গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্কিত হয়। এক্ষেত্রে, সমাজকর্মী পরিবার বা গোষ্ঠীর সদস্যদেরও প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করেন। পরিবারের সমর্থন এবং অংশগ্রহণ অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানে সহায়ক হয়।
উপসংহার:- ব্যক্তি সমাজকর্মের এই উপাদানগুলো একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং সমন্বিতভাবে কাজ করে। এই প্রক্রিয়াটি কেবল একটি সেবাই নয়, বরং একটি মানবিক এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি যা ব্যক্তির জীবনের মান উন্নত করতে, তার সুপ্ত সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে এবং তাকে আরও বেশি স্বাবলম্বী করে তুলতে সাহায্য করে। এই উপাদানগুলোর সঠিক প্রয়োগ একজন সমাজকর্মীকে তার পেশাগত দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে সাহায্য করে এবং সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখে।
🌿 ১। ব্যক্তি বা ব্যক্তিবিশেষ
🤝 ২। সমাজকর্মী
⚙️ ৩। সমস্যা বা অসুবিধা
🌳 ৪। পরিবেশ বা পরিস্থিতি
🛠️ ৫। পদ্ধতি বা কৌশল
🔗 ৬। সম্পর্ক স্থাপন
🧡 ৭। আবেগিক সমর্থন
🎁 ৮। সম্পদের ব্যবহার
👑 ৯। স্বকীয়তা ও সম্মান
📊 ১০। মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ
⚖️ ১১। সামাজিক ন্যায়
🔒 ১২। গোপনীয়তা রক্ষা
👔 ১৩। পেশাদারিত্ব
⏱️ ১৪। সময়ের ব্যবহার
🎯 ১৫। লক্ষ্য নির্ধারণ
💪 ১৬। সক্ষমতা বৃদ্ধি
📜 ১৭। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
👨👩👧👦 ১৮। গোষ্ঠী বা পরিবার।
ব্যক্তি সমাজকর্মের আধুনিক যাত্রা শুরু হয় ১৯১৭ সালে, যখন মেরি রিচমন্ড তার বিখ্যাত বই Social Diagnosis প্রকাশ করেন। এই বইটি সমাজকর্মের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯২০ থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে ফ্রয়েডীয় মনস্তত্ত্বের প্রভাবে ব্যক্তি সমাজকর্মে মনো-সামাজিক পদ্ধতির (Psychosocial Approach) ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। ১৯৫০-এর দশকে হেলেন পেরলম্যান তাঁর Casework: A Problem-Solving Process বইটিতে সমস্যা-সমাধানের (Problem-Solving) ধারণাকে জনপ্রিয় করে তোলেন, যা ব্যক্তি সমাজকর্মের একটি নতুন দিক উন্মোচন করে। ১৯৬০-এর দশকে ব্যক্তি সমাজকর্মের উপর করা বিভিন্ন জরিপে দেখা যায়, সমাজকর্মীরা শুধুমাত্র সমস্যার সমাধানে নয়, বরং মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তিকে বিকশিত করার দিকেও মনোযোগ দিচ্ছেন। বর্তমানে, এটি কেবল একটি পদ্ধতি নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ পেশা হিসেবে স্বীকৃত।

