- readaim.com
- 0
উত্তর::ভূমিকা: যৌনাচার পরিবাহিত রোগ বা সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ (STDs) হলো এক ধরনের সংক্রমণ, যা প্রধানত অসুরক্ষিত যৌন যোগাযোগের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়ায়। এগুলো শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যেই নয়, বরং মানসিক এবং সামাজিক জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলে। এই রোগগুলো সম্পর্কে সচেতনতা এবং সঠিক জ্ঞান অত্যন্ত জরুরি। সঠিক প্রতিরোধ ও চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগগুলোর বিস্তার রোধ করা সম্ভব।
শাব্দিক অর্থ: ‘যৌনাচার’ বলতে যৌন সম্পর্ককে বোঝায়, ‘বাহিত’ বলতে পরিবাহিত হওয়া বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়াকে বোঝায় এবং ‘রোগ’ বলতে অসুস্থতাকে বোঝায়। তাই, যৌনাচার পরিবাহিত রোগ বলতে এমন রোগ বোঝায়, যা প্রধানত যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায়।
যৌনাচার পরিবাহিত রোগ, সংক্ষেপে এসটিডি (STD), হলো বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ, যা প্রধানত যোনি, পায়ু বা মুখ দিয়ে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায়। এই সংক্রমণগুলো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা পরজীবীর কারণে হতে পারে। এই রোগগুলো অসুরক্ষিত যৌন মিলনের মাধ্যমে যেমন ছড়াতে পারে, তেমনি রক্ত, বীর্য, যোনি তরল বা বুকের দুধের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এদের মধ্যে কিছু রোগ খুবই সাধারণ এবং সহজে নিরাময়যোগ্য, আবার কিছু রোগ মারাত্মক এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
বিভিন্ন চিকিৎসা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থা এ বিষয়ে সংজ্ঞা প্রদান করেছে। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা উল্লেখ করা হলো:
১। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO): বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, “যৌন সংক্রমণ (Sexually Transmitted Infections – STIs) হলো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক এবং পরজীবীর কারণে সৃষ্ট এমন সংক্রমণ, যা অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।” (According to the World Health Organization, “Sexually transmitted infections (STIs) are infections that can be transmitted through unprotected sexual contact, caused by viruses, bacteria, fungi, and parasites.”)
২। আমেরিকান একাডেমি অফ ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানস (AAFP): এএএফপি-এর মতে, “যৌন সংক্রমণ রোগ (STDs) হলো এমন রোগ, যা যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়ায়। এই রোগগুলো অনেক ধরনের হতে পারে এবং এদের লক্ষণ ও উপসর্গ ভিন্ন হতে পারে।” (According to the American Academy of Family Physicians, “Sexually transmitted diseases (STDs) are illnesses that are passed from one person to another through sexual contact. There are many different types of STDs, and they can have different signs and symptoms.”)
৩। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC): সিডিসি-এর মতে, “যৌনবাহিত সংক্রমণ (STIs) হলো সেইসব সংক্রমণ, যা যৌন যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়ায়। কিছু STI-এর কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে, যার ফলে একজন ব্যক্তি নিজেও জানতে পারে না যে সে সংক্রমিত।” (According to the Centers for Disease Control and Prevention, “Sexually transmitted infections (STIs) are infections that are spread through sexual contact. Some STIs have no symptoms, so a person may not even know they are infected.”)
৪। মেরিয়াম-ওয়েবস্টার ডিকশনারি: এই ডিকশনারি অনুসারে, “যৌনবাহিত রোগ হলো এমন একটি রোগ যা প্রধানত যৌন কার্যকলাপের মাধ্যমে ছড়ায়।” (According to Merriam-Webster Dictionary, “A sexually transmitted disease is a disease that is transmitted primarily by sexual activity.”)
৫। ইউনিসেফ (UNICEF): ইউনিসেফ-এর মতে, “যৌনবাহিত রোগ হলো এমন রোগ, যা অসুরক্ষিত যৌন আচরণের মাধ্যমে ছড়ায়। এর মধ্যে ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস উভয়ই অন্তর্ভুক্ত।” (According to UNICEF, “Sexually transmitted diseases are diseases spread through unprotected sexual behaviour. They include both bacterial and viral types.”)
৬। মায়ো ক্লিনিক (Mayo Clinic): মায়ো ক্লিনিকের মতে, “যৌনবাহিত রোগ (STDs) বা যৌনবাহিত সংক্রমণ (STIs) হলো সেই সংক্রমণ, যা যৌন যোগাযোগের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ে। এটি যোনি, পায়ু বা মুখ দিয়ে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।” (According to Mayo Clinic, “Sexually transmitted diseases (STDs) or sexually transmitted infections (STIs) are infections that are passed from one person to another through sexual contact. This can happen through vaginal, anal or oral sex.”)
৭। হেলথলাইন (Healthline): হেলথলাইন অনুসারে, “যৌনবাহিত রোগ হলো এক ধরনের সংক্রমণ যা যৌন কার্যকলাপের মাধ্যমে ছড়ায়, যেখানে একজন আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে জীবাণু বা ভাইরাস অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করে।” (According to Healthline, “A sexually transmitted disease is a type of infection that is spread through sexual activity, where germs or viruses from an infected person’s body enter another person’s body.”)
যৌনাচার পরিবাহিত রোগ হলো সেই সকল সংক্রমণ, যা প্রধানত অসুরক্ষিত যৌন যোগাযোগের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে সংক্রমিত হয়, এবং যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক বা পরজীবীর কারণে হতে পারে। এই রোগগুলোর বিস্তার প্রতিরোধের জন্য সচেতনতা, নিরাপদ যৌন আচরণ এবং সঠিক চিকিৎসা অপরিহার্য।
AIDS সম্পর্কিত আমার ধারণার বর্ণনা:-
১। এইচআইভি ও এইডস: এইচআইভি (Human Immunodeficiency Virus) হলো সেই ভাইরাস যা এইডস সৃষ্টি করে। এই ভাইরাস মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রধান অংশ, বিশেষ করে সিডি৪ (CD4) কোষগুলোকে আক্রমণ করে। এই সিডি৪ কোষগুলো আমাদের শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। যখন এই কোষগুলো ধ্বংস হয়ে যায়, তখন শরীর প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং বিভিন্ন opportunistic সংক্রমণ দ্বারা আক্রান্ত হয়। এই অবস্থার চূড়ান্ত রূপই হলো এইডস (Acquired Immunodeficiency Syndrome)।
২। সংক্রমণের কারণসমূহ: এইচআইভি প্রধানত কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। এর মধ্যে রয়েছে রক্ত, বীর্য, যোনিরস, এবং বুকের দুধ। অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক হলো সংক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়াও, এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সিরিঞ্জ বা সূঁচ ব্যবহার করলে, কিংবা সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ করলে এই রোগ ছড়াতে পারে। গর্ভবতী মায়ের এইচআইভি থাকলে তা থেকে শিশুর মধ্যেও সংক্রমণ হতে পারে। তবে, এটি শুধুমাত্র স্বাভাবিক স্পর্শ, হ্যান্ডশেক, বা একই টয়লেট ব্যবহারের মাধ্যমে ছড়ায় না।
৩। লক্ষণসমূহ ও পর্যায়: এইচআইভি সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণত ফ্লু-এর মতো হয়, যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, এবং ক্লান্তি। এই লক্ষণগুলো কয়েক সপ্তাহ পর অদৃশ্য হয়ে যায়। এরপর ভাইরাসটি সুপ্ত অবস্থায় থাকে, যা বছরের পর বছর স্থায়ী হতে পারে। এই সুপ্ত অবস্থায় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না, কিন্তু ভাইরাসটি শরীরের ভেতর সিডি৪ কোষগুলোকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করতে থাকে। রোগের শেষ পর্যায়ে, যখন প্রতিরোধ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন বিভিন্ন মারাত্মক সংক্রমণ এবং ক্যান্সার দেখা দেয়, যা এইডস-এর চূড়ান্ত লক্ষণ।
৪। রোগ নির্ণয় পদ্ধতি: এইচআইভি সংক্রমণ নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত হলো রক্ত পরীক্ষা। ELISA (Enzyme-Linked Immunosorbent Assay) এবং Western blot পরীক্ষাগুলো অ্যান্টিবডি শনাক্ত করে। বর্তমানে, Rapid test কিটগুলো দ্রুত ফলাফল দেয়। এই পরীক্ষাগুলো ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরের তৈরি অ্যান্টিবডি বা সরাসরি ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত করে। সংক্রমণের পর সাধারণত ২ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। সময় মতো পরীক্ষা করা এবং রোগ নির্ণয় করা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি যত দ্রুত ধরা পড়ে, চিকিৎসা তত কার্যকর হয়।
৫। চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা: এইডস-এর কোনো সম্পূর্ণ নিরাময় নেই, তবে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (ART) দিয়ে এর চিকিৎসা করা হয়। এই থেরাপি ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি রোধ করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। নিয়মিত এবং সঠিক ART গ্রহণ করলে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। এই চিকিৎসা সিডি৪ কোষের সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে এবং ভাইরাল লোড (রক্তে ভাইরাসের পরিমাণ) কমিয়ে দেয়, যা সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকিও কমিয়ে দেয়।
৬। প্রতিরোধের উপায়: এইডস প্রতিরোধের জন্য সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ যৌন অভ্যাস গ্রহণ করা, যেমন কনডম ব্যবহার করা, এই রোগের সংক্রমণ রোধে অত্যন্ত কার্যকর। সিরিঞ্জ এবং সূঁচের মতো বস্তু অন্যের সাথে শেয়ার না করাও গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভবতী মায়ের এইচআইভি থাকলে, ART চিকিৎসা গ্রহণ করে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব। এছাড়াও, যৌন রোগ সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং নিয়মিত পরীক্ষা করানো এইচআইভি প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
৭। সামাজিক ও মানসিক প্রভাব: এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায়শই সামাজিক বৈষম্যের শিকার হতে হয়। অজ্ঞতা এবং ভুল ধারণার কারণে তাদের কাজ, স্কুল এবং পরিবারে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এই মানসিক চাপ তাদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে। এইডস-এর সঙ্গে বসবাস করা মানুষদের প্রতি সহানুভূতি এবং সমর্থন দেখানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্য এবং সচেতনতা ছড়িয়ে দিলে এই সামাজিক বৈষম্য কমানো সম্ভব।
৮। গর্ভধারণ ও শিশুর জন্ম: এইচআইভি আক্রান্ত গর্ভবতী মহিলারা সঠিক চিকিৎসা নিলে তাদের শিশুদের মধ্যে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি প্রায় শূন্যের কাছাকাছি আনা যায়। যদি মা ART চিকিৎসা গ্রহণ করেন, তবে গর্ভাবস্থায় এবং প্রসবের সময় শিশুর সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। প্রসবের পর শিশুকেও কয়েক সপ্তাহ ART দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে সিজারিয়ান সেকশন করার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং বুকের দুধের পরিবর্তে formula milk ব্যবহারের উপদেশ দেওয়া হয় যাতে সংক্রমণ ছড়ানোর কোনো সুযোগ না থাকে।
৯। যৌনরোগের সাথে সম্পর্ক: অন্যান্য যৌনরোগ (STDs) যেমন সিফিলিস, গনোরিয়া, এবং হার্পিস এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এই রোগগুলো যৌনাঙ্গে ঘা বা ক্ষত সৃষ্টি করে, যা এইচআইভি ভাইরাসকে সহজে শরীরে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। তাই, যেকোনো যৌনরোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। যৌনরোগ সম্পর্কে সচেতনতা এবং এর দ্রুত চিকিৎসা এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
১০। রক্তদান ও নিরাপত্তা: রক্তদান করার সময় বা গ্রহণ করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। রক্ত গ্রহণের আগে এইচআইভি স্ক্রিনিং করা বাধ্যতামূলক। রক্তদানের সময় ব্যবহৃত সমস্ত যন্ত্রপাতি অবশ্যই জীবাণুমুক্ত এবং একবার ব্যবহারের পর ফেলে দিতে হয়। এই নিয়মগুলো মেনে চললে রক্ত সংক্রমণের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়ানোর ঝুঁকি প্রায় নেই বললেই চলে। প্রতিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এই ধরনের নিয়ম কঠোরভাবে পালন করা হয়।
১১। পরীক্ষার গুরুত্ব: নিয়মিত এইচআইভি পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যারা উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সময়ের আগে রোগ ধরা পড়লে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়, যা রোগের অগ্রগতি রোধ করে এবং ব্যক্তির জীবনকাল বাড়ায়। পরীক্ষা করানো শুধুমাত্র নিজের জন্য নয়, বরং অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানো রোধ করার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই জানা যায় যে আপনি এইচআইভি আক্রান্ত কি না।
১২। ভুল ধারণা ও গুজব: এইডস সম্পর্কে সমাজে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করে যে এটি একই টয়লেট ব্যবহার, একই প্লেটে খাওয়া, বা মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়, যা সম্পূর্ণ ভুল। এই ভুল ধারণাগুলো এইডস আক্রান্তদের প্রতি বৈষম্য তৈরি করে। সঠিক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে এই ভুল ধারণাগুলো দূর করা সম্ভব। সঠিক তথ্য মানুষকে আরও সচেতন এবং সহানুভূতিশীল করে তোলে।
১৩। চিকিৎসার খরচ: অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপির (ART) খরচ অনেক দেশে বেশ বেশি হতে পারে। তবে, বিশ্বের অনেক সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা এই চিকিৎসার খরচ কমানোর জন্য কাজ করছে। কিছু দেশে সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে ART সরবরাহ করা হয়। এই পদক্ষেপগুলো দরিদ্র এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এইডস রোগীদের জন্য জীবন রক্ষার সুযোগ তৈরি করছে।
১৪। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভূমিকা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এইডস প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তারা সচেতনতা বাড়াতে, পরীক্ষা সহজ করতে এবং চিকিৎসার খরচ কমাতে কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে এইডস-এর মহামারী পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা। এই সংস্থা এইডস-এর গবেষণা, নতুন ওষুধের অনুমোদন এবং আন্তর্জাতিক স্তরে নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৫। এইডস ও অন্যান্য রোগ: এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন opportunistic সংক্রমণ দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এই সংক্রমণগুলো এমন যে একটি সুস্থ মানুষের শরীরে সহজে প্রবেশ করতে পারে না। যেমন, যক্ষ্মা (TB), নিউমোনিয়া এবং কিছু ধরনের ক্যান্সার এইডস রোগীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এইচআইভি চিকিৎসা এই ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি কমিয়ে দেয় এবং জীবন রক্ষা করে।
১৬। রোগের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব: এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির জীবনে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যগত প্রভাব থাকতে পারে, যেমন কিডনি রোগ, হৃদরোগ, এবং স্নায়বিক সমস্যা। নিয়মিত চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এই সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সঠিক খাদ্য, ব্যায়াম এবং মানসিক সুস্থতা এই রোগের সঙ্গে লড়াই করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
১৭। গবেষণা ও ভবিষ্যৎ: বিজ্ঞানীরা এইচআইভি-র নিরাময় এবং প্রতিরোধের জন্য নতুন গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে, এইডস-এর জন্য কোনো টিকা নেই, তবে বিজ্ঞানীরা এটি তৈরির জন্য চেষ্টা করছেন। ভবিষ্যতে, হয়তো সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব হবে, যা এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি বড় সাফল্য হবে। এই গবেষণাগুলো নতুন ওষুধ এবং চিকিৎসার পদ্ধতি আবিষ্কারের পথ প্রশস্ত করবে।
উপসংহার: এইডস একটি জটিল রোগ হলেও সঠিক সচেতনতা, প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে এর সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষা, নিরাপদ জীবনযাপন এবং আক্রান্ত ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ এই মহামারী নিয়ন্ত্রণে আমাদের সকলকে সাহায্য করতে পারে। এইডস সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের সকলের দায়িত্ব।
যৌনাচার পরিবাহিত রোগ হলো এমন একটি সংক্রমণ, যা প্রধানত অসুরক্ষিত যৌন কার্যকলাপের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ে।
- 💖 এইচআইভি ও এইডস
- 🩺 সংক্রমণের কারণসমূহ
- 🦠 লক্ষণসমূহ ও পর্যায়
- 💉 রোগ নির্ণয় পদ্ধতি
- 💊 চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা
- 🛡️ প্রতিরোধের উপায়
- 🤝 সামাজিক ও মানসিক প্রভাব
- 🤰 গর্ভধারণ ও শিশুর জন্ম
- 🔍 যৌনরোগের সাথে সম্পর্ক
- 🩸 রক্তদান ও নিরাপত্তা
- ✅ পরীক্ষার গুরুত্ব
- 🚫 ভুল ধারণা ও গুজব
- 💰 চিকিৎসার খরচ
- 🌍 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভূমিকা
- 🤒 এইডস ও অন্যান্য রোগ
- ⏳ রোগের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব
- 🔬 গবেষণা ও ভবিষ্যৎ
২০১৫ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক জরিপ অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৩৫.৭ কোটি মানুষ চারটি নিরাময়যোগ্য যৌনাচার পরিবাহিত রোগে (ক্ল্যামাইডিয়া, গনোরিয়া, সিফিলিস এবং ট্রাইকোমোনিয়াসিস) আক্রান্ত হয়। ২০১৮ সালে, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) জানায় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২.৬ কোটি নতুন যৌনবাহিত সংক্রমণ (STIs) ঘটেছে। এইচআইভি/এইডস বিশ্বজুড়ে একটি মারাত্মক সমস্যা, ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ৩.৮ কোটি মানুষ এইচআইভি-তে আক্রান্ত ছিল। এসব রোগ মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়ানো এবং সময় মতো চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

