- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: রাজনৈতিক অধিকার হলো একটি দেশের নাগরিকদের এমন সব অধিকার, যা তাদের রাষ্ট্রীয় ও সরকারি কাজে অংশগ্রহণ করতে সাহায্য করে। এটি গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি এবং নাগরিকদের স্বাধীনতা ও সমতার প্রতীক। এই অধিকার ছাড়া কোনো জনগণ প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন হতে পারে না।
রাজনৈতিক অধিকারের পরিচয়:-
“রাজনৈতিক অধিকার” শব্দটি দুটি অংশে বিভক্ত—
- “রাজনৈতিক” অর্থ রাষ্ট্র বা সরকার সম্পর্কিত।
- “অধিকার” অর্থ বৈধ দাবি বা সুযোগ।
সুতরাং, রাজনৈতিক অধিকার বলতে রাষ্ট্রীয় বিষয়ে নাগরিকের বৈধ দাবি বা অংশগ্রহণের সুযোগকে বোঝায়।
রাজনৈতিক অধিকার হলো এমন অধিকার, যা নাগরিকদেরকে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়। যেমন—ভোট দেওয়া, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ইত্যাদি। আমরা সাধারণভাবে মনে করি, রাজনৈতিক অধিকার মানে ভোট দেওয়ার অধিকার। কিন্তু এটি শুধু ভোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ, সরকারি নীতির সমালোচনা করা এবং রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতাও এর অন্তর্ভুক্ত।
১. অধ্যাপক হ্যারল্ড লাস্কি: “রাজনৈতিক অধিকার হলো সেই অধিকার, যা নাগরিকদেরকে রাষ্ট্রের শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম করে।” (“Political rights are those rights which enable citizens to participate in the governance of the state.”)
২. জন লক: “রাজনৈতিক অধিকার হলো মানুষের প্রাকৃতিক অধিকার, যা সরকার গঠন ও পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে।” (“Political rights are the natural rights of individuals to influence the formation and alteration of government.”)
৩। জাঁ-জাঁক রুসো: “এটি হলো সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে অর্জিত অধিকার, যেখানে নাগরিক রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার অংশীদার হয়।” (“It is the right acquired through the social contract, where citizens become partakers in the sovereign power of the state.”)
৪। ম্যাক্স ওয়েবার: “রাজনৈতিক অধিকার হলো কর্তৃত্ব ও শাসনব্যবস্থায় নাগরিকের আইনগত অংশগ্রহণ।” (“Political rights are the legal participation of citizens in authority and governance.”)
৫। আইজাইয়া বার্লিন: “এটি স্বাধীনতার একটি রূপ, যেখানে ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।” (“It is a form of liberty where individuals can influence state decisions.”)
৬। অধ্যাপক ডেভিড হেল্ড: “গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনৈতিক অধিকার হলো নাগরিকদের সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা।” (“In a democratic society, political rights are the capacity of citizens to engage in collective decision-making.”)
উপরের সংজ্ঞাগুলোর আলোকে আমরা বলতে পারি, “রাজনৈতিক অধিকার হলো নাগরিকের এমন সব আইনগত ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা, যা তাকে সরকারি কাজে অংশ নেওয়া, ভোট দেওয়া, নির্বাচিত হওয়া এবং রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে সাহায্য করে।”
শেষকথা: রাজনৈতিক অধিকার ছাড়া কোনো দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এটি নাগরিকদেরকে রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত রাখে এবং শাসনব্যবস্থাকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সময়ে মানুষ এই অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছে, যেমন—১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বা ১৯৯০ এর গণঅভ্যুত্থান। তাই, রাজনৈতিক অধিকার কেবল একটি অধিকার নয়, এটি নাগরিকের মর্যাদার প্রতীক।
“রাজনৈতিক অধিকার হলো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় নাগরিকের অংশগ্রহণের আইনগত সুযোগ।”
বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অধিকারের অবস্থা নিয়ে “ফ্রিডম হাউস ২০২৩” জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৪৩% দেশে পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। ১৯৭৫ সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত লাতিন আমেরিকায় রাজনৈতিক অধিকারের উন্নতি হলেও এশিয়ায় কিছু দেশে এখনও সীমিত। বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর থেকে ভোটাধিকার বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এখনও প্রশ্ন তোলে।

