- readaim.com
- 0
উত্তর::সূচনা: সামরিক শাসন হলো একটি দেশের শাসনব্যবস্থা যেখানে সেনাবাহিনী সরাসরি ক্ষমতা দখল করে এবং সাধারণ নাগরিক সরকারকে প্রতিস্থাপন করে। এটি সাধারণত জরুরি অবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সময় প্রতিষ্ঠিত হয়। সামরিক শাসনে নাগরিক অধিকার সীমিত হয় এবং শাসনক্ষমতা কঠোর হাতে পরিচালিত হয়।
সামরিক শাসন:-
“সামরিক” শব্দটি সেনাবাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ করে, আর “শাসন” অর্থ হলো পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণ। সুতরাং, সামরিক শাসন বলতে সেনাবাহিনীর হাতে দেশের শাসনভার ন্যস্ত হওয়াকে বোঝায়।
সামরিক শাসন এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সামরিক বাহিনীর হাতে চলে যায়। এতে সংবিধান স্থগিত, নির্বাচন বাতিল এবং নাগরিক স্বাধীনতা হ্রাস পায়। সাধারণত এটি অস্থায়ীভাবে আরোপ করা হয়, তবে অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়। আমরা সাধারণত সামরিক শাসনকে একটি নেতিবাচক শাসনব্যবস্থা হিসেবে দেখি, যেখানে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র হ্রাস পায়। মানুষ মনে করে, এ ধরনের শাসনে জবরদস্তি, সেন্সরশিপ এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়ন বাড়ে।
১. স্যামুয়েল হান্টিংটন: “সামরিক শাসন হলো যখন সেনাবাহিনী সরাসরি রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব গ্রহণ করে এবং বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দেয়।” (Military rule is when the armed forces directly assume state authority and weaken civilian institutions.)
২. এরিক নর্ডলিঙ্গার: “এটি এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে সামরিক নেতৃত্ব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং বেসামরিক সরকারের ভূমিকা খর্ব করে।”
(It is a system where military leadership makes political decisions and diminishes the role of civilian government.)
৩. মরিস জ্যানোউইটজ: “সামরিক শাসন হলো একটি অস্থায়ী শাসনব্যবস্থা, যা রাজনৈতিক সংকটকালে সেনাবাহিনী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়।” (Military rule is a temporary governance system established by the army during political crises.)
৪. আলফ্রেড স্টেপান: “এটি এমন একটি শাসন যেখানে সেনাবাহিনী সংবিধানকে অগ্রাহ্য করে নিজেদের আইন জারি করে।” (It is a governance where the military imposes its own laws, disregarding the constitution.)
৫. ফিনার: “সামরিক শাসন হলো একটি জবরদখলমূলক শাসন, যেখানে সেনাবাহিনী জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে ক্ষমতা দখল করে।” (Military rule is a coercive governance where the army seizes power, ignoring public will.)
৬. ডেভিড বেয়েস: “এটি একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা, যেখানে সেনাবাহিনী রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে।” (It is an authoritarian system where the military establishes state control.)
উপরের সংজ্ঞাগুলোর আলোকে বলা যায়, সামরিক শাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে সেনাবাহিনী সরাসরি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করে, বেসামরিক সরকারকে অপসারণ করে এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করে।
শেষ কথা: সামরিক শাসন সাধারণত অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির ফলাফল। এটি অস্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য হুমকিস্বরূপ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সামরিক শাসনের অভিজ্ঞতা মিশ্র—কোনো ক্ষেত্রে এটি স্থিতিশীলতা এনেছে, আবার কোথাও তা নাগরিক স্বাধীনতা হরণ করেছে।
“সামরিক শাসন হলো সেনাবাহিনীর হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত হওয়ার ব্যবস্থা।”
বিশ্বে সামরিক শাসনের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো—
- ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি হয়, যা ১৯৭১ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।
- মিয়ানমারে ১৯৬২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত চলমান সামরিক শাসন ছিল, যা আংশিকভাবে এখনও প্রভাব বিস্তার করে।
- ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানে পারভেজ মোশাররফের সামরিক শাসন ২০০৮ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
২০২১ সালে মিয়ানমারে ফের সামরিক অভ্যুত্থান হয়, যা গণতন্ত্রপন্থীদের ওপর নিষ্পেষণ বাড়িয়েছে।
গ্লোবাল ডেমোক্রেসি ইনডেক্স (২০২৩) অনুযায়ী, সামরিক শাসনাধীন দেশগুলোতে গণতন্ত্রের স্কোর সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে।

