- readaim.com
- 0
উত্তর::উপস্থাপনা: রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে মানুষ কীভাবে বসবাস করত এবং কেনই বা তারা রাষ্ট্র নামক একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করল – এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অনুসন্ধানে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ হলো সামাজিক চুক্তি মতবাদ। এই মতবাদ অনুসারে, রাষ্ট্র কোনো ঐশ্বরিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং জনগণের সচেতন সম্মতি ও চুক্তির মাধ্যমে এর উদ্ভব হয়েছে। প্রকৃতির রাজ্যে বসবাসকারী মানুষেরা নিজেদের কিছু অসুবিধা দূর করে উন্নত ও নিরাপদ জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়ে এই চুক্তি সম্পাদন করে।
১। মতবাদের মূলভিত্তি: সামাজিক চুক্তি মতবাদের মূল ভিত্তি হলো, রাষ্ট্র ঈশ্বর বা কোনো দৈবশক্তি দ্বারা সৃষ্টি হয়নি এবং এটি বলপ্রয়োগের মাধ্যমেও গঠিত হয়নি। বরং, রাষ্ট্রের উৎস হলো মানুষের সম্মিলিত ইচ্ছা এবং পারস্পরিক সম্মতি। এই মতবাদ অনুসারে, রাষ্ট্র গঠনের পূর্বে মানুষ এক প্রাকৃতিক অবস্থায় বসবাস করত, যা প্রকৃতির রাজ্য নামে পরিচিত। সেই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই মানুষ নিজেদের মধ্যে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলো।
২। প্রকৃতির রাজ্য: প্রকৃতির রাজ্য বলতে সেই সময়কে বোঝানো হয় যখন কোনো রাষ্ট্র, সরকার বা আইন ছিল না। এই রাজ্যের জীবনযাত্রা কেমন ছিল, তা নিয়ে দার্শনিকদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। কেউ এটিকে বিশৃঙ্খল ও অসহনীয় বলেছেন, আবার কেউ এটিকে শান্তিময় ও স্বাধীন বলে বর্ণনা করেছেন। তবে সকলেই একমত যে, এই অবস্থায় মানুষের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ ছিল না, যা কিছু সমস্যার সৃষ্টি করেছিল।
৩। চুক্তির প্রয়োজনীয়তা: প্রকৃতির রাজ্যে আইন, বিচারক এবং শাসন বিভাগের অনুপস্থিতির কারণে মানুষের জীবন ও সম্পত্তি সর্বদা ঝুঁকির মধ্যে থাকত। শক্তিশালী মানুষ দুর্বলদের উপর অত্যাচার করত এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার মতো কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এই নিরাপত্তাহীনতা, বিশৃঙ্খলা এবং অসুবিধাগুলো দূর করে একটি সুসংহত ও নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্যই মানুষ একটি চুক্তির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিল এবং রাষ্ট্র গঠন করতে সম্মত হয়েছিল।
৪. টমাস হবসের ধারণা: ইংরেজ দার্শনিক টমাস হবস তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘লেভিয়াথান’-এ প্রকৃতির রাজ্যের এক ভয়াবহ চিত্র অঙ্কন করেছেন। তাঁর মতে, প্রকৃতির রাজ্যে প্রত্যেকেই ছিল স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক এবং ক্ষমতার জন্য ক্ষুধার্ত। সেখানে জীবন ছিল “একাকী, দরিদ্র, নোংরা, পাশবিক এবং ক্ষণস্থায়ী”। এই অসহনীয় অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য মানুষ নিজেদের সমস্ত অধিকার একজন সার্বভৌম শাসকের হাতে অর্পণ করে এবং বিনিময়ে নিরাপত্তা লাভ করে।
৫। জন লকের ধারণা: আরেকজন প্রভাবশালী ইংরেজ দার্শনিক জন লক প্রকৃতির রাজ্যকে হবসের মতো ভয়াবহ বলে মনে করেননি। তাঁর মতে, প্রকৃতির রাজ্য ছিল শান্তি ও সম্প্রীতির, যেখানে মানুষের প্রাকৃতিক অধিকার (জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তি) বিদ্যমান ছিল। কিন্তু সেখানে এই অধিকারগুলো রক্ষা করার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট আইন, নিরপেক্ষ বিচারক এবং কার্যকর কর্তৃপক্ষ ছিল না। তাই এই অধিকারগুলোকে আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত করার জন্যই মানুষ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন করে।
৬. জ্যাঁ-জ্যাক রুশোর ধারণা: ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ-জ্যাক রুশো প্রকৃতির রাজ্যকে একটি স্বর্গীয় অবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, আদিম মানুষ ছিল স্বাধীন, সুখী এবং সরল জীবনযাপন করত। কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পত্তির ধারণা মানুষের মধ্যে বৈষম্য ও সংঘাতের জন্ম দেয়, ফলে সেই সুখের অবসান ঘটে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এবং সকলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মানুষ নিজেদের অধিকার কোনো একক ব্যক্তির কাছে নয়, বরং ‘সাধারণ ইচ্ছার’ (General Will) কাছে সমর্পণ করে একটি রাষ্ট্র গঠন করে।
৭। চুক্তির প্রকৃতি: সামাজিক চুক্তির প্রকৃতি ছিল কিছুটা ভিন্ন ভিন্ন। হবসের মতে, জনগণ তাদের সমস্ত অধিকার безоговорочно একজন শাসকের হাতে তুলে দিয়েছিল। অন্যদিকে, লকের মতে, জনগণ তাদের সমস্ত অধিকার সমর্পণ করেনি, বরং প্রাকৃতিক অধিকারগুলো রক্ষার শর্তে সরকারের হাতে শাসন ক্ষমতা অর্পণ করেছিল। রুশোর মতে, জনগণ তাদের অধিকার নিজেদের তৈরি সমষ্টিগত সংস্থার অর্থাৎ সাধারণ ইচ্ছার কাছে অর্পণ করেছিল।
৮। সার্বভৌমত্বের ধারণা: এই মতবাদ সার্বভৌমত্বের ধারণাকে স্পষ্ট করে। হবসের তত্ত্বে, সার্বভৌম ক্ষমতা থাকে একজন শাসকের হাতে এবং তিনি চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী। জন লকের তত্ত্বে, সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের হাতেই থাকে এবং সরকার জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে। রুশোর তত্ত্বে, সার্বভৌমত্ব হলো ‘সাধারণ ইচ্ছা’, যা অবিচ্ছেদ্য এবং অ হস্তান্তরযোগ্য। জনগণই এখানে সার্বভৌম ক্ষমতার চূড়ান্ত উৎস।
৯। সরকারের ভূমিকা: সামাজিক চুক্তি মতবাদ অনুসারে, সরকারের মূল ভূমিকা হলো জনগণের জীবন, স্বাধীনতা এবং সম্পত্তি রক্ষা করা। সরকার জনগণের সম্মতির উপর ভিত্তি করে গঠিত হয় এবং তার ক্ষমতা সীমিত। যদি কোনো সরকার জনগণের অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয় বা স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে, তবে জনগণের সেই সরকারের পরিবর্তন করার বা তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার অধিকার রয়েছে বলে জন লক মনে করেন।
১০। ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদের সমর্থন: এই মতবাদ ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদকে জোরালোভাবে সমর্থন করে। রাষ্ট্র গঠনের পূর্বে ব্যক্তি ছিল এবং ব্যক্তির প্রয়োজনেই রাষ্ট্র গঠিত হয়েছে। সুতরাং, রাষ্ট্র ব্যক্তির জন্য, ব্যক্তি রাষ্ট্রের জন্য নয়। ব্যক্তির অধিকার ও স্বাধীনতাকে রক্ষা করাই রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। এই ধারণাটি আধুনিক উদারনৈতিক গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে।
১১। ঐশ্বরিক মতবাদের বিরোধিতা: সামাজিক চুক্তি মতবাদ সরাসরি রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত ঐশ্বরিক মতবাদকে অস্বীকার করে। ঐশ্বরিক মতবাদ অনুসারে, রাষ্ট্র ঈশ্বরের সৃষ্টি এবং রাজা হলেন পৃথিবীতে ঈশ্বরের প্রতিনিধি। কিন্তু সামাজিক চুক্তি মতবাদ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে, রাষ্ট্র কোনো ঐশ্বরিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি মানুষের নিজেদের প্রয়োজনে, নিজেদের সম্মতিতে তৈরি একটি মানবীয় প্রতিষ্ঠান। এই ধারণাটি মধ্যযুগের ধর্মীয় প্রভাব থেকে রাজনীতিকে মুক্ত করতে সাহায্য করেছিল।
১২। গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন: এই মতবাদ আধুনিক গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছে। “জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস” – এই গণতান্ত্রিক ধারণাটি সামাজিক চুক্তি মতবাদের মূল কথা। জনগণের সম্মতিতেই সরকার গঠিত ও পরিচালিত হয়, এই ধারণাটি সর্বপ্রথম এই মতবাদের মাধ্যমেই জনপ্রিয়তা লাভ করে। এটি স্বৈরতন্ত্রের পরিবর্তে প্রতিনিধিত্বমূলক বা গণতান্ত্রিক শাসনের পক্ষে একটি শক্তিশালী দার্শনিক যুক্তি উপস্থাপন করে।
১৩। সমালোচনামূলক দিক (ঐতিহাসিকতা): সমালোচকরা বলেন, এই মতবাদের কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। ইতিহাসে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না যেখানে একদল মানুষ একত্রিত হয়ে চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন করেছে। প্রকৃতির রাজ্য, প্রাকৃতিক অধিকার বা সামাজিক চুক্তির ধারণাগুলো সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং অনুমানভিত্তিক। এটিকে একটি দার্শনিক অনুমান বলা যেতে পারে, ঐতিহাসিক সত্য নয়।
১৪. সমালোচনামূলক দিক (বাস্তবতা): বাস্তবে, মানুষ জন্মগতভাবেই সামাজিক ও রাজনৈতিক জীব। মানুষ কখনোই সমাজ বা রাষ্ট্র ছাড়া একা বসবাস করেনি। অ্যারিস্টটলের মতে, যে সমাজে বাস করে না, সে হয় পশু না হয় দেবতা। তাই প্রকৃতির রাজ্য থেকে চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রে প্রবেশের ধারণাটি মানুষের সামাজিক প্রকৃতির পরিপন্থী এবং এটি একটি অবাস্তব কল্পনা মাত্র।
১৫। অধিকারের ধারণা সংক্রান্ত ত্রুটি: এই মতবাদে বলা হয়েছে, প্রকৃতির রাজ্যে মানুষের কিছু প্রাকৃতিক অধিকার ছিল। কিন্তু সমালোচকদের মতে, রাষ্ট্র ও আইনের অনুপস্থিতিতে অধিকারের ধারণা অর্থহীন। কারণ অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা। যেখানে কোনো স্বীকৃতি দেওয়ার কর্তৃপক্ষই নেই, সেখানে অধিকারের অস্তিত্ব থাকতে পারে না। এটি একটি যৌক্তিক অসংগতি।
১৬। চুক্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন: যদি ধরেও নেওয়া হয় যে, বহু বছর আগে কোনো এক প্রজন্ম চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন করেছিল, তবে সেই চুক্তি পরবর্তী প্রজন্মগুলোর উপর কীভাবে বাধ্যতামূলক হবে? এক প্রজন্মের করা চুক্তি অন্য প্রজন্মকে মানতে বাধ্য করা অযৌক্তিক এবং এটি তাদের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপের সামিল। এই প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক উত্তর এই মতবাদে পাওয়া যায় না।
১৭। বিপজ্জনক প্রভাব: হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদ চরম স্বৈরতন্ত্রকে সমর্থন করে, কারণ তিনি জনগণকে তাদের সমস্ত অধিকার শাসকের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেছেন। এটি শাসকের অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতাকে বৈধতা দেয়, যা জনগণের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। স্বৈরাচারী শাসকেরা এই মতবাদকে নিজেদের ক্ষমতার পক্ষে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পায়।
১৮। মতবাদের তাৎপর্য ও প্রভাব: এতসব সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও, সামাজিক চুক্তি মতবাদের রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। এটি রাষ্ট্রের উপর থেকে ধর্মীয় প্রভাব দূর করে একে একটি মানবীয় ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সাহায্য করেছে। এই মতবাদই প্রথম জনগণের সার্বভৌমত্বের ধারণা দেয় এবং স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দার্শনিক ভিত্তি তৈরি করে।
১৯। আমেরিকান ও ফরাসি বিপ্লবে প্রভাব: সামাজিক চুক্তি মতবাদের প্রভাব বিশ্ব ইতিহাসে সুস্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। ১৭৭৬ সালের আমেরিকার স্বাধীনতা ঘোষণা এবং ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের পেছনে এই মতবাদের গভীর প্রভাব ছিল। উভয় ক্ষেত্রেই শাসকের স্বৈরাচারী আচরণের বিরুদ্ধে জনগণের অধিকারের কথা বলা হয়েছে, যা জন লকের দর্শনের দ্বারা অনুপ্রাণিত।
২০। আধুনিক রাষ্ট্রদর্শনে প্রাসঙ্গিকতা: বর্তমান বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা во многом সামাজিক চুক্তি মতবাদের উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। আধুনিক সংবিধানগুলোকে এক ধরনের সামাজিক চুক্তি হিসেবে দেখা যেতে পারে, যেখানে নাগরিক এবং রাষ্ট্রের মধ্যে ক্ষমতা ও দায়িত্বের বণ্টন নির্দিষ্ট করা থাকে। নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা এবং সরকারের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এই মতবাদেরই আধুনিক রূপ।
২১। সার্বজনীন আবেদনের গুরুত্ব: এই মতবাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর সার্বজনীন আবেদন। এটি কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা ধর্মের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি যৌক্তিক ধারণা উপস্থাপন করে। রাষ্ট্র যে জনগণের সম্মিলিত ইচ্ছার প্রতিফলন এবং এর মূল উদ্দেশ্য যে জনগণের কল্যাণ সাধন করা – এই মৌলিক বার্তাটি আজও বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে প্রাসঙ্গিক এবং মানুষকে অধিকার সচেতন করে তোলে।
উপসংহার সামাজিক চুক্তি মতবাদ রাষ্ট্রের উৎপত্তির কোনো ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা না হলেও এটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দর্শন। এই মতবাদ দেখিয়েছে যে, রাষ্ট্র জনগণের সম্পত্তি এবং সরকারের ক্ষমতা জনগণের সম্মতির উপর নির্ভরশীল। এটি স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্র ও ব্যক্তিস্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করেছে। তাই, একটি কাল্পনিক ধারণা হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসে এর গুরুত্ব এবং অবদান অনস্বীকার্য।
- 📜 ১। মতবাদের মূলভিত্তি:
- 🏛️ ২। প্রকৃতির রাজ্য:
- 🤝 ৩। চুক্তির প্রয়োজনীয়তা:
- 👑 ৪। টমাস হবসের ধারণা:
- ⚖️ ৫। জন লকের ধারণা:
- 🕊️ ৬। জ্যাঁ-জ্যাক রুশোর ধারণা:
- ✍️ ৭। চুক্তির প্রকৃতি:
- 🛡️ ৮। সার্বভৌমত্বের ধারণা:
- 🏛️ ৯। সরকারের ভূমিকা:
- 👤 ১০। ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদের সমর্থন:
- ⛪ ১১। ঐশ্বরিক মতবাদের বিরোধিতা:
- 🗳️ ১২। গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন:
- 🤔 ১৩। সমালোচনামূলক দিক (ঐতিহাসিকতা):
- 🚶♂️ ১৪। সমালোচনামূলক দিক (বাস্তবতা):
- ❓ ১৫। অধিকারের ধারণা সংক্রান্ত ত্রুটি:
- 🔗 ১৬। চুক্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন:
- ⚠️ ১৭। বিপজ্জনক প্রভাব:
- ✨ ১৮। মতবাদের তাৎপর্য ও প্রভাব:
- 🗳️ ১৯। আমেরিকান ও ফরাসি বিপ্লবে প্রভাব:
- 🌐 ২০। আধুনিক রাষ্ট্রদর্শনে প্রাসঙ্গিকতা:
- ❤️ ২১। সার্বজনীন আবেদনের গুরুত্ব:
সামাজিক চুক্তি মতবাদের বিকাশ ঘটেছিল মূলত সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকে ইউরোপের জ্ঞানদীপ্তি বা Age of Enlightenment-এর সময়। টমাস হবসের বিখ্যাত গ্রন্থ “লেভিয়াথান” প্রকাশিত হয় ১৬৫১ সালে, যা ইংল্যান্ডের গৃহযুদ্ধের (১৬৪২-১৬৫১) ভয়াবহ অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে রচিত। জন লকের “Two Treatises of Government” (১৬৮৯) ইংল্যান্ডের গৌরবময় বিপ্লব (১৬৮৮)-এর পর প্রকাশিত হয়, যা সীমিত ও সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরে। জ্যাঁ-জ্যাক রুশোর “The Social Contract” (১৭৬২) ফরাসি বিপ্লবের (১৭৮৯) অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। এই মতবাদগুলো কোনো জরিপের উপর ভিত্তি করে তৈরি না হলেও, এগুলো তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে সহায়ক হয়েছিল।

