- readaim.com
- 0
যে সমস্ত حَرْف বা অব্যয় শুধু মাত্র اسم এর পূর্বে বসে উহার শেষ অক্ষরে জের প্রদান করে, তাকে حرف جَار বলা হয়।
আরবী ব্যাকরণের নিয়ম অনূযায়ী حرف جَار সর্বমোট সতের(১৭)টি। নিম্নে حرف جَار উদাহরণসহ উল্লেখ করা হল-
ক্র. | حرف | উদাহরণ | مَعنى – অর্থ |
1 | ب | ضَرَبْتُ با لْخَشْبَةِ | আমি লাঠি দ্বারা মেরেছি |
2 | ت | تَاللهِ لاَفْعَلَنَّ كَذَا | আল্লাহর শপথ নিশ্চয় আমি এরূপ করব |
3 | ك | خَالِدٌ كَالاَسَدِ | খালেদ সিংহের ন্যায় |
4 | ل | اَلْمُسْلِمُ اَخٌ لِلْمُسْلِمِ | এক মুসল মান অপর মুসলমানের ভাই |
5 | و | وَاللهِ لاَتُشْرِك بِهِ | আল্লাহর শপথ! তার সাথে কোন শিরক করনা |
6 | مُنْذُ | مَارَأيْتُه مُنْذُ يَوْمَ الْجُمْعَةِ | আমি তাকে জুমাবার হতে দেখছি না |
7 | مُذْ | اَتَدَرَّسُ مُذْ دَهْرَيْنِ | আমি দুই যুগ ধরে পড়া-শোনা করছি |
8 | خَلاَ | جَاءَنِى الْقَوْمُ خَلاَ زَيْدٍ | যায়েদ ব্যতিত গোত্রের সকলে আমার কাছে এসেছে |
9 | رُبَّ | رُبَّ رَجُلٍ كَرِيْمٍ لَقِيْتُه | আমি অল্প সংখ্যক ভদ্রলোকের সাথে সাক্ষাৎ পেয়েছি |
10 | حَاشَا | جَاءَنِى الْقَوْمُ حَاشَا خَلِدٍ | খালেদ ছাড়া সম্প্রদায়ের সকলে আমার কাছে এসেছে |
11 | مِنْ | سِرْتُ مِنَ الْبَصْرَةِ اِلى الْكُوْفَةِ | আমি বসরা থেকে কুফা পর্যন্ত ভ্রমন করেছি |
12 | عَدَا | جَاءَنِى الْقَوْمُ عَدَا زَيْدٍ | যায়েদ ব্যাতিত দলটি এসেছে |
13 | فِى | اَبِى فِى الْبَيْتِ | আমার আব্বা ঘরে আছেন |
14 | عَنْ | رُوِىَ عَنْ اَبِى هُرَ يْرَةَ | হযরত আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত |
15 | عَلَى | اَلْقَلَمُ عَلَى الطَّاوِلَةِ | কলমটি টেবিলের উপর |
16 | حَتَّى | اَكلْتُ السَّمَكَةَ حَتَّى رَاسِهَا | আমি মাছটি মাথাসহ খেয়েছি |
17 | اِلَى | صُمْتُ اِلَى اللَّيْلِ | আমি রাত পর্যন্ত রোজা রেখেছি |
উপরে উল্লিখিত حرف جَار গুলিকে আরবী ভাষা লিখতে ও বলতে বিভিন্নভাবে ব্যাবহার হয়ে থাকে। حرف جَار যে সকল অর্থে ব্যাবহার হয়ে থাকে তার বিস্তারিত আলোচনা করা হল-
(১) ب এর ব্যবহার:-
১। করো সাথে থাকা অথবা সঙ্গ দেওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন- আমি যায়েদের সাথে চরলাম। مَرَرْتُ بِزَيْدٍ
২। দিয়া বা দ্বারা অর্থে ব্যবহৃত হওয়া। যেমন- আমি কলম দ্বারা লিখেছি। كَتَبْتُ بِالْقَلَمِ, আমি লাঠির সাহায্যে মেরেছি। ضَرَبْتُ بِالْخَشْبَةِ
৩। মাধ্যম বা কারণ বর্ণনার্থে ব্যবহার হওয়া। যেমন- নিশ্চয় তোমরা তোমাদের গো-বৎস পূজার মাধ্যমে নিজেদের আত্নার উপর যুলুম করেছ। اِنَّكُمْ ظَلَمْتُمْ اَنْفُسَكُمْ بِاِتَّخَاذِكُمُ الْعِجْلَ
৪। সাথে বা সঙ্গে অর্থে ব্যবহার হওয়া। যেমন- রনজু তার দলের সঙ্গে বের হয়েছে। خَرَجَ بَكْرٌ بِعَشِيْرَتِه
৫। বিনিময় বা বদল অর্থে ব্যবহারের জন্য। যেমন- আমি এটা পাঁচ দিরহামের বিনিময় বিক্রয় করেছি। اِشْتَرَيْتُ بِمِائَةِ دِرْهَمٍ
অথবা, ঘোড়াটি ১০০ দিরহামের বিনিময়ে খরিদ করেছি। اِشْتَرَيْتُ الثَّوْبَ بِخَمْسٍ دِ رَاهَمَ
৬। শপথ বা প্রতিজ্ঞা অর্থে ব্যবহার হওয়া। যেমন- আল্লাহর শপথ আমি অবশ্যই তা করব। بِاللهِ لاَفْعَلَنَّ كَذَا
৭। সহ অর্থে ব্যবহার হওয়া। যেমন- আমি ঘোড়াটি জিনসহ ক্রয় করেছি। اِسْتَرَيْتُ الْفَرَسَ بِسُرْجِه
৮। কারণ বা প্রার্থনা অর্থে ব্যবহার হওয়া। যেমন-লোকটির প্রতি দয়া কর। اِرْحَمْ بِرَجُلٍ গরিবের প্রতি দয়া কর। اِرحَمْ بِفَقِيْرٍ
৯। স্থান বা কাল বুঝানো অর্থে ব্যবহার হওয়া। যেমন-
আমি মসজিদে বসেছি। جَلَسْتُ بِالْمَسْجِدِ
খালেদ ঢাকায় আছে। خَالِدٌ بِدَاكَا,
যায়েদ শহরে আছে। زَيْدٌ بِالْبَلَدِ
১০। কোন কিছুর পরিবর্তে ব্যবহার হওয়া। যেমন-আল্লাহ জান্নাতের বিনিময়ে মুমিনদের কিনে নিয়েছেন। اِشْرَى اللهُ الْمُؤْمِنِيْنَ بِالْجَنَّةِ
১১। من বা হতে অর্থে ব্যাবহার হওয়া। যেমন-তারা নদীর পানি হতে পান করেছে। شَرِبْنَ بِمَاءِ الْبَحْرِ
১২। عن বা সম্পর্ক অর্থে ব্যবহার হওয়া। যেমন- প্রশ্নকারী আরবী সম্পর্কে প্রশ্ন করেছে। سَأَلَ سَائِلٌ بِعَرْبِيَّةِ
১৩। অংশ বোঝানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার হওয়া। যেমন-ঝর্ণাধারা হতে কিছু অংশ আল্লাহর বান্দাগণ পান করবে। عَيْنًا يَشْرَبُ بِهَا عِنْادُ اللهِ
১৪। عَلَى বা উপরে অর্থে ব্যবহার হওয়া। যেমন- কিছু লোক আছে, যদি আপনি তাদেরকে প্রচুর সম্পদের আমানতদার বানান। مَنْ اِنْ تَأَمُنْهُ بِقِنْطَارٍ
ت হরফটিকে আমরা শুধু একটি অর্থে ব্যবহার করে থাকি। আর তা হল قَسْمِ বা কছম/শপথ অর্থে। উদাহরণ:- আল্লাহর শপথ! আমি খালেদকে সাহায্য করবই। تَاللهِ لاَفْعَلَنَّ هَذَا, আল্লাহর কসম আমি ইহা করবই। تَاللهِ لاَفْعَلَنَّ هَذَا
(৩) ك এর ব্যবহার:-
ক. কোন কিছুর সাদৃশ্য অর্থে ব্যবহার হওয়া। যেমন-খালেদ সিংহের ন্যায়। خَالِدُ كَالاَسَدِ
খ. زِيَادَة বা অতিরিক্ত অর্থে ব্যবহার হওয়া। যেমন-তার মতন কিছু নেই। لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءً উক্ত বাক্যে كَمِثْلِ এর كَটি অতিরিক্ত যা বাক্যে কোন প্রাকার অর্থ প্রদান করেনি।
গ. تَعْلِيْلُ বা কারণ অর্থে ব্যবহার হওয়া। যেমন- তোমাদের প্রভুকে স্বরণ করুণ, কারণ তিনি তোমাদেরকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন। اُذْكُرْ رَبَّكَ كَمَا هَدَاكُمْ
ঘ. আবার কখনও ك টি اسم হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন-মহিলাগণ বিগলিত বরফ সাদৃশ্য দাঁত দিয়ে হাসে। يَضْحَكْنَ كَالْبَرْدِ الْمُنْهِمِ
ঙ. عَلَى বা উপরে অর্থে ব্যবহার হওয়া। যেমন- কেউ প্রশ্ন করল كَيْفَ اَصْبَحْتَ–তোমার ভোর কেমন হল। উত্তরে সে বলল-كَخَيْرٍ অথবা عَلَى خَيْرٍ–ভাল অবস্থার উপর।
1. اِخْتِصَاص/নির্দিষ্ট করা অর্থে ব্যবহৃত হওয়া। যেমন-বেহেশত মুমিনদের জন্য নির্দিষ্ট। اَلْجَنَّةُ لِلْمُؤْ مِنِيْنَ , আর কাফিরদের জন্য জেলখানা নির্দিষ্ট। وَالسِجنُ لِلْكَافِرِيْنَ .
2. مِلْكٌ/মালিকানা অর্থে ব্যবহৃত হওয়া। যেমন-আকাশ ও যমিনের মাঝে যা কিছু আছে, তা আল্লাহর মালিকানায়। لِلهِ مَافِى السَّمَوَاتِ وَالْاَرْضِ.
3. اِسْتِحْقَاقِ/অধিকার প্রতিষ্ঠার্থে ব্যবহৃত হওয়া। যেমন- اَلْحَمْدُ لِلهِ -সমস্ত প্রশংসার অধিকারী আল্লাহ। لِلهِ الْمَشْرقِ وَالْمَغْرِبِ -পূর্ব ও পশ্চিম সবিই আল্লাহর জন্য।
4. সাবাব বা কারণ বর্ণার্থে ব্যবহৃত হওয়া। যেমন- ضَرَ بْتُهُ لتَأدِيْبِهِ -আমি তাকে আদব শিক্ষার জন্য মেরেছি।
5. কোন ব্যক্তি বা বস্তুর পরিমাণ বর্ণার্থে ব্যবহৃত হওয়া। যেমন-কাফিররা তাদের কুফরির পরিমাণে শস্তি পাবে। يُعَذِّبُ الْكُفَّارُ لِكُفْرِهِمْ.
6. কোন শপথ অর্থে ব্যবহৃত হওয়া। যেমনা- لِلهِ لاَشْرِبَنَّ خَالِدًا –আল্লাহর শপথ আমি খালিদকে মারবই।
7. تَعَجُّبْ/বিশ্বয় অর্থে ব্যবহৃত হওয়া। যেমন-হায় আল্লাহ! তুমি। لِلهِ اَنْتَ .
8. عَلَى/উপরে অর্থে ব্যবহৃত হওয়া। يَخِرُّوْنَ لِلْاَذْقٌانِ -অর্থাৎ, عَلَى الاَذْقَانِ – যেমন-তারা চিবুকের উপর লুটিয়ে পড়ে।
9. فى/মধ্যে অর্থে ব্যবহৃত হওয়া। যেমন- كَتَبْتُه لِغُرَّةِ نِسْيَانِ অর্থৎ, كَتَبْتُه فِىْ غُرَّةٍ – আমি তা অসাবধানতায় লিখেছি।
10. وكة/সময় বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হওয়া। যেমন-মহরমের প্রথম তারিখে লিখেছি। كَتَبْتُ لاَوَّلِ مُحَرَّمِ .
NB:- ل বর্ণটি সাধারণত (ِ)যের বিশিষ্ট হয়। তবে حرف ندَا এরপরে হলে তা (َ)যবর বিশিষ্ট হয়। যেমন-يَالَزَيْدٍ এভাবে ل এর সাথে যমির হলে لটি (َ)যবর বিশিষ্ট হয়। যেমন-لَهُمْ-لَهُ ইত্যাদি।
ক. যখন قسم বা শপত অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন- وَاللهِ لاَذْهَبْنَ -আল্লাহর শপথ! আমি যাবই।
খ. و কে যখন تَقْليْل বা কম বোঝানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। যেমন- وَعَا لِمٍ يَعْمَلُ بِعِلْمِه -খুব কম শাসকই স্বীয় ন্যায় বিচার অনুযায়ী কাজ করে। وَاَمِيْرٍ يَعْمَلُ بِعَدَالَتِه.
গ. تَكْثِيْرُ বা অধিক বুঝানোর জন্য و কে ব্যবহার করা হয়। যেমন- وَرَجُلٍ عَلِمٍ لَقِيْتُه – আমি অনেক বিজ্ঞান লোকের সাথে সাক্ষাত করেছি। وَزَمَانٍ قَدْ مَضَى বলতে অনেক যুগ অতিবাহিত হয়ে গেছে।
NB:- وَاو টি اسم যাহের বা প্রকাশ্য اسم এর সাথে ব্যবহৃত হয়। সর্বনামের সাথে ব্যবহৃত হয় না।
ক. مُنْذُ ও مُذْ যখন সময়ের শুরু বা অতীত কালের সময়ের প্রারম্ভ বুঝাতে ব্যবহার করা হয়। যেমন- مُنْذُ يَوْمِ الْجُمْعَةِ/مَارَأَيْتُه مُذْ অর্থাৎ, আমি তাকে জুমার দিন থেকে দেখছি না। আর উক্ত বাক্যে তাকে না দেখার সূচনা কাল يَوْمِ الْجُمْعَةِ বা শুক্রবারের দিন।
খ. مُنْذُ ও مُذْ যখন جَمِيْعُ الْمُدَّتِ/পূর্ণ সময় বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। যেমন- مُنْذُ يَؤْمَيْنِ/مَارَأَيْتهُ مُذْ অর্থ, আমি তাকে দুইদিন যবত দেখছি না। আলোচ্য বাক্যে না দেখার পূর্ণ সময় দুই দিন।
গ. مُنْذُ ও مُذْ যখন ظَرْف বা অধিকরণ হিসেবে বর্তমান কালের জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন- مَارَأَيْتُه مُذْ اَوْ مُنْذُ يَوْمِنَا অর্থ, আমি তাকে আজ পর্যন্ত দেখিনি।
ঘ. مُنْذُ ও مُذْ যখন অনেক পূর্বে অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন- مُنْذُ ايَّامٍ/مَاتَ اَبُوْهُ مُذْ অর্থ, অনেক দিন পূর্বে তার আব্বা মারাগেছে।
- رُبَّ – যখন স্বল্প বা কম অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন-আমি খুব কম সংখ্যক জ্ঞানী লোকের সাক্ষাৎ পেয়েছি। رُبَّ رَجُلٍ عَالِمٍ لَقِيْتُه , অনেক আলেম ফারায়েজ বিদ্যা জানে না। رُتَّ عَا لِمٍ لاَيَعْلَمُ عِلْمَ الْفَرَائِضِ.
- رُبَّ – যখন অধিক বেশি অর্থে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ:- رُبَّ رَجُلٍ ظَا لِمٍ لَقِيْتُه -অর্থাৎ, আমি অনেক অত্যাচারী লোকের সাথে সাক্ষাত করেছি। رُبَّ طَالِبٍ يَنْجَحُ بِالدَّ رَجَةِ الْاُوْلى -অর্থাৎ,খুব কম ছাত্রই প্রথম বিভাগে পাশ করে।
উপরের তিনটি (عَدَا – خَلَا – حَاشَا) حَرْفِ جَارْ ব্যতীত/ছাড়া অর্থে ব্যবহহৃত হয়। উদাহরণ:- جَاءَ الطُّلَّابُ كُلَّهُمْ عَدَا خَا لِدٍ/خَلَاَخَالِدٍ/حَاشَا خَلِدٍ অর্থাৎ, খালিদ ব্যতিত সব ছাত্র এসছে।
(৯) مِنْ এর ব্যবহার:-
*A. কোন স্থানের সূচনা থেকে এরূপ বুঝাতে مِنْ এর ব্যবহার। উদাহরণ:- আমি বসরা থেকে কুফা পর্যন্ত ভ্রমণ করেছি। سِرْتُ مِنَ الْبَصْرَتِ اِلَى الْكُوْفَةِ.
*B. কোন কালের সূচনা থেকে বুঝাতে مِنْ এর ব্যাবহার। উদাহরণ:- যায়েদ জুমার দিন থেকে অসুস্থ্য। زَيْدٌ مَرِيْضٌ مِنْ يَوْمِ الْجُمْعَةِ.
*C. مِنْ যখন কিছু অংশ বুঝাতে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ:- আমি কিছু দিরহাম গ্রহণ করেছি। اَخَذْتُ مِنَ الدَّرَاهِمِ.
*D. مِنْ কে যখন বর্ণনা অর্থে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ:- তোমরা মূর্তি পূজা থেকে বিরত থাক। فَا جْتَنِبُوْا الرِّجْسَ مِنْ الاْوْثَانِ এখানে مِنْ দ্বারা رِجْسُ অর্থাৎ, পূজার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
*E. مِنْ কে যখন بَدْلٌ (পরিবর্তে)অর্থে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ:- তেমরা কি? পরকালের জীবনের পরিবর্তে; দুনিয়ার জীবনে তুষ্ট হলে। اَرْضِيْتُمْ بِا لْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الْاَ خِرَةِ.
*F. مِنْ কে কিছু অর্থে ব্যবহার করা। উদাহরণ:- এমন কিছু লোক আছে যারা বলে আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি। وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَّقُوْلُ اَمَنَّا بِاللهِ.
*G. مِنْ কে যখন সময় বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ:- যুমার দিন যখন নামাযের জন্য আহ্বান করা হয়। اِذَا نُوْدِىَ لِلصَّلَوةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمْعَةِ.
*H. مِنْ কে যখন পর্যন্ত অর্থে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ:- তোমাকে তিনদিন পর্যন্ত দেখছি না। مَااَرَاكَ مِنْ ثَلَاثَةِ اَيَّامٍ.
*I. مِنْ কে কোন কোন বাক্যে অতিরিক্ত হিসেবে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ:- তিনি তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করে দিবেন। يَغْفِرْلَكُمْ مِنْ ذُنُوْ بِكُمْ.
ক. স্থান, কাল ও পাত্র বুঝাতে فِىْ এর ব্যবহার। উদাহরণ:-
*কোন স্থানকে বুঝাতে اَبِى فِى الْبَيْتِ অর্থ- আমার আাব্বা ঘরে আছেন। اَنَا اَسْكُنُ فِىْ دَاكَا অর্থ- আমি ঢাকা বসবাস করি।
*কোন কাল বা সময় বুঝাতে اُنْزِلَ الْقُرْاَنُ فِى شَهْرِ رَمَضَانَ অর্থ- রমযান মাসে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। اَنَا اُسَافِرُ فِى الشَّهْرِ الْقَادِمِ অর্থ- আমি আগামী মাসে সফর করব।
*فِىْ যখন কোন পাত্র বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ:- দিরহামগুলো থলিতে আছে- اَدْ رَ اهِمُ فِى الْكَيْسِ.
খ. فِىْ শব্দটি যখন কোন গুণন অর্থে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ:- চারকে পাঁচ দিয়ে গুন- اَرْ بَعَةٌ فِى خَمْسَةٍ.
গ. فِىْ কে যখন উঁচু অর্থে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ:- আমি অবশ্যই তোমাকে খেজুরের শাখার উপর শূলী দিব- وَلْاُصَلَّبَنَّكُمْ فِى جُذُ وْعِ النَّخْلِ.
ঘ.সাথে অর্থে যখন فِىْ ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ:- খালেদ সম্প্রদায়ের সাথে এসেছে- جَاءَ خَا لِدٌ فِى الْقَوْمٍ.
ঙ. فِىْ কে যখন তুলনা অর্থে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ:- জ্ঞান সমুদ্রে আমার জ্ঞান এক বিন্দু তুল্য- مَا عِلْمِى فِى بَحْرِهِ الِّا قَطْرَةٌ.
চ. فِىْ কে যখন কোন কারণ বর্ণার্থে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ:- তার অপরাধের কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে- قُتِلَ فِى ذَنْبِه.
ছ. فِىْ কে মাধ্যম অথবা দ্বারা অর্থে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ:- তুমি তোমার কাজের মাধ্যমে দূর দৃষ্টি সম্পন্ন- اَنْتَ بَصِيْرُ فِى عِمَاِكَ.
i. عَنْ যখন সম্পর্কে অর্থে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ:- আমি রনজু সম্পর্কে কিছুই জানি না- لَااَعْرِفُ عَنْ رَنْجُو شَيْئًا.
ii. عَنْকে যখন ইসম হিসেবে ব্যবহার করা হয়; এব অবস্থায় عَنْ এর পূর্বে مِنْ বসাতে হয়। উদাহরণ:- আমি তার ডান পাশে বসেছি- جَلَسْتُ مِنْ عَنْ يَمِيْنِه.
iii. عَنْ যখন হতে/থেকে অর্থে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ:- رَمَيْتُ السَّهْمَ عَنْ الْقَوْسِ– আমি ধনুক হতে তীর নিক্ষেপ করলাম।
iv. عَنْ যখন একের পর এক/ধাপে ধাপে অর্থে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ:- স্তরের পর স্তর বা ধাপের পর ধাপ- عَنْ طَبَقٌ عَنْ طَبَقٍ.
v. عَنْ কে যখন اِسْتِعْلَاء (উপর) অর্থে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ:- যে কার্পণ্য করে সে তো নিজের উপরই কার্পণ্য করে- مَنْ يَبْخَلْ فَانَّمَا يَبْخَلُ عَنْ نَفْسَه.
vi. যখন عَنْকে পক্ষ থেকে অর্থে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ:- আল্লাহ তার বান্দাদের পক্ষ থেকে তাওবা গ্রহণ করেন- يَقْبَلُ اللهُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ.
- عَلَى কে উপর অর্থে ব্যবহার করা। উদাহরণ:- আমি ছাদের উপরে উটেছি- صَعَدْتُّ عَلَى السُّقْفِ.
- عَلَى কে مَعَ (সাথে) অর্থে ব্যবহার করা। উদাহরণ:- আমি তার সাথে চললাম- مَرَرْتُ عَلَيْهِ.
- عَلَى কে যখন নিকট অর্থে ব্যবহার করা হয়। যেমন:- সে বাদশার নিকট গেল- ذَهَبَ عَلى الْمَلِكِ.
- عَلَى কে যখন মধে অবস্থান করা অর্থে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ:- যদি তোমরা সফরের মধ্যে বা অবস্থায় থাক- اِنْ كُنْتتُمْ عَلَى سَفَرٍ.
- এটি অনেক সময় اسم হিসেবও ব্যবহৃত হয়। সেক্ষেত্রে عَلَى এর পূর্বে من বসে। উদাহরণ:- আমি ঘোড়া থেকে অবতরণ করলাম- نَزَلْتُ مِنْ عَلَى الْفَرَسِ.
- عَلَى কে যখন সত্ত্বেও অর্থে ব্যবহার করা হয়। যেমন:- আল্লাহ তার বান্দাকে গুণা সত্ত্বেও তার বান্দাকে ক্ষমা করে দিবেন- يَغْفِرَ اللهُ الْعَبْدَ عَلَى ذَنْبِه.
- عَلَى কে যখন ضِدَّ/বিরুদ্ধে অর্থে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ:- রিদয় তার বিরুদ্ধে সাক্ষ দিয়েছে- بَكْرً شَهِدَ عَلَيْهِ.
- عَلَى কে যখন لُزُوْمِ/আবশ্যক অর্থে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ:- তোমার খাওয়া আবশ্যক- عَلَيْكَ انْ نَاكُلَ. তোমার যাওয়া আবশ্যক- عَلَيْكَ اَنْ تَذْهَبُ.
- عَلَى কে যখন حَسَبَ/অনুযায়ী অর্থে ব্যবহার করা। উদাহরণ:- রনজু তার অভ্যাস অনুযায়ী বসেছে- قَعَدَ بَكْرً عَلَى الْمَلِكِ.
১. حَتَّى কে সহ অর্থে ব্যবহার করা। যেমন:- আমি মাছটি মাথাসহ খেয়েছি- اَكَلْتُ السَّمَكَةَ حَتّى رأسِهَا.
২. حَتَّى কে যখন সাথে অর্থে ব্যবহার করা হয়। যেমন:- পদাতিকগণসহ হাজীগণ এসেছে- قَدِمَ الْحُجَّاجُ حَتّى الْمُشَاةِ.
৩. حَتَّى কে যখন এমনকি অর্থে ব্যবহার করা হয়। যেমন:- ছাত্ররা বের হয়ে গেছে এমনকি শিক্ষকগণও- خَرَجَ الطُّلاَّبُ حَتَّى الاَ سَاتِذَةِ.
৪. حَتَّى যখন কোন স্থানের শেষ সীমা অর্থে ব্যবহার করা হয়। যেমন:- আমি বাজার পর্যন্ত শহরটি ভ্রমণ করেছি- سِرْتُ الْبَلَدَ حَتَّى السُّوْقِ.
৫. حَتَّى যখন কোন কালের শেষ সীমা বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। যেমন:- গত রাতে আমি ভোর পর্যন্ত ঘুমিছি- نِمْتُ الْبَارِ حَةَ حَتَّى الصَّبَاحِ.
*الى কে যখন সাথে অর্থে ব্যবহার করা হয়। যেমন:- তোমরা তোমাদের মালা-মালের সাথে তাদের মালা-মাল ভক্ষণ কর না- لاَتَأ كُلُوا اَمْوَالَهُمْ اِلَى اَمْوَالِكُمْ.
*কালের শেষ সীমা বুঝাতেও الى এর ব্যবহার করা হয়। যেমন:- আমি রাত পর্যন্ত রোযা রেখেছি- صُمْتُ اِلَى اللَّيْلِ.
*কোন স্থানের শেষ সীমা বুঝাতে الى এর ব্যবহার। যেমন:- আমি বসরা থেকে কুফার শেষ পর্যন্ত ভ্রমণ করেছি- سِرْتُ مِنَ الْبَصْرَةِ اِلَى الْكُوْفَةِ.

