- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: আরবি ব্যাকরণ অনুযায়ী, একটি বিশেষ্যকে (اسم) অন্য একটি বিশেষ্যের সাথে সম্বন্ধ বা সংযুক্ত করাকে ইযাফত (الإضافة) বলে। এর মাধ্যমে প্রথম শব্দটি (মুযাফ) দ্বিতীয়টির (মুযাফ ইলাইহি) মালিকানাধীন বা অংশ হিসেবে গণ্য হয়। সাধারণত প্রথম শব্দটির অর্থ সুনির্দিষ্ট করতে এবং সম্বন্ধ স্থাপনের জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
*আভিধানিক অর্থ:-
اِضَافَةْ শব্দটি বাবে افعال এর মাসদার হতে নির্গত।যার শাব্দিক অর্থ হচ্ছে-
- সম্বন্ধ স্থাপন করা,
- সম্পর্ক স্থাপন করা,
- মেহমানদারি করা ইত্যাদি।
*পারিভাষিক সজ্ঞা:-
قَوءدُ الْعَرَبِية বা আরবী ব্যাকরণের পরিভাষায় যখন কোন একটি اسم কে অন্য একটি اسم এর প্রতি সম্বন্ধ করা হয় তখন তাকে, اِضَافَةْ বলা হয়। ইদাফাত করার সময় যাকে যাকে সম্বন্ধ করা হয় তাকে مُضَافْ আর যার প্রতি সম্বন্ধ করা হয় তাকে, مُضَافْ اِلَيْهِ বলা হয়।
উদাহরণ:- كِتَابُ زَيْدٍ- যায়েদের কিতাব। এখানে كِتَابُ শব্দকে زَيْدٍ এর প্রতি সম্পর্কিত করা হয়েছে।আর তাই كِتَابُ হচ্ছে مُضَافْ আর زَيْدٍ হচ্ছে مُضَافْ اِلَيْهِ, সহজভাবে বলতে গেলে; এখানে বই হচ্ছে মুদাফ, আর কিতাব হচ্ছে মুদাফ ইলাই।
*কাওয়ায়েদুল লুগাতিল আরাবিয়াহ গ্রন্থকার বলেন- উহ্য(গোপন)حرف جر এর মাধ্যমে দুই اسم এর মধ্যকার সম্পর্ককে اِضَافَةْ বলাহ হয়।
*মাবাদিউল আরাবিয়াত গ্রন্থে বলা হয়েছে- একটি اسم কে অন্য একটি اسم এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করাকে اِضَافَةْ বলা হয়।
*হেদায়াতুননাহু গ্রন্থে বলা হয়েছে- কোন শব্দকে অন্য শব্দের সাথে প্রকাশ্য কিংবা অপ্রকাশ্য حرف جر (হরফেযার) এর মাধ্যমে সম্বন্ধ স্থাপন করাকে, اِضَافَةْ বলা হয়।যেমন-
خُطْبَةُ الْقَائِدِ-নেতার ভাষণ। আলোচ্য বাক্যে خُطْبَةُ শব্দটি الْقَائِدِ শব্দের প্রতি اِضَافَةْ করা হয়েছে বলে বুঝা যাচ্ছে।
NB:- مُضَافْএর প্রথমে/আগে কখনো “ال” হয় না। مُضَافْএর শেষেও কখনো تَنْوِ يْن হয় না।
اِضَافَةْ এর প্রকারভেদ:-
اِضَافَةْ কে প্রথমন দুই ভাগে ভাগ করা যায়।যথা-
১। اِضَافَةْ لَفْظِيَّةْ/শব্দগত اِضَافَةْ
২। اِضَافَةْ مَعْنَوِيَّة/অর্থগত اِضَافَةْ
১। اِضَافَةْ لَفْظِيَّةْ/শব্দগত اِضَافَةْ:- এটা এমন ধরণের اِضَافَةْ যার مُضَافْটি সিফাতের সীগাহ হয়ে তার مَعْمُوْل এর পুতি اِضَافَةْ হয়ে থাক্। এখানে مَعْمُوْل দ্বারা فَاعِل এবং مَفْعُول بِهِ উদ্দেশ্য করা হয়েছে।
উদাহরণ- هُو ضَارِبُ زَيْدٍ- এখানে ضَارِبُ শব্দটি সীফাত এর সীগাহ, যা مُضَافْ রূপে ব্যবহার হয়েছে।
২। اِضَافَةْ مَعْنَوِيَّة/অর্থগত اِضَافَةْ:- যে اِضَافَةْ এর মধ্যে مُضَافْটি সিফাতের সীগাহ হয় না বরং তার مَفْعُول এর দিকে اِضَافَةْ হয়, তাকে اِضَافَةْ مَعْنَوِيَّة বলা হয়।
اِضَافَةْ مَعْنَوِيَّة আবার তিন প্রকার। যথা-
- اِضَافَةْ لَامِيَة:- مُضَافْ ও مُضَافْ اِلَيْهِ এর মধ্যে لام গোপন থাকলে তাকে اِضَافَةْ لَامِيَة বলে। যেমন- كِتَابُ خَالِدٍ হতে كِتَابُ لِخَالِدٍ. উক্ত বাক্যের মধ্যে لام উহ্য ছিল।
- اِضَافَةْ فِيَّة:- مُضَافْ এবং مُضَافْ اِلَيْهِ উভয়ের মাঝে গোপন থাকলে তাকে, اِضَافَةْ فِيَّة বলা হয়। যেমন- صَلَوَةُ الَّيْلِ-রাতের সালাত।থেকে صَلَوَةُ فِى الَّيْلِ এর মধ্যে فِى উহ্য আছে।
- اِضَافَةْ مِنِّيَّة:- যে সকল اِضَافَةْ এ مُضَافْ এবং مُضَافْ اِلَيْهِ এর উহ্য(গোপন) থাকে তাকে اِضَافَةْ مِنِّيَّة বলা হয়। যেমন- خَاتَمُ فِضَّةِ এই বাক্যের মাধ্যে من লুকায়িত আছে। যথা- خَاتَمُ مِنْ فِضَّةِ.
উপসংহার:- অথএব আমরা এ কথা প্রতিয়মান হই যে, আরবী ভাসায় প্রথমে مُضَافْ এবং পরে مُضَافْ اِلَيْهِ হয়। কিন্তু বাংলা বাক্যাংশে প্রথমে مُضَافْ اِلَيْهِ এবং পরে مُضَافْ হয়।যেমন- মানিকের কলম। শিক্ষকের বই। বাবার বই ইত্যাদি।

