- readaim.com
- 0
উত্তর::ভূমিকা: আমাদের এই সুন্দর পৃথিবী নানা ধরনের পরিবর্তন ও বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে টিকে আছে। এই পরিবর্তনগুলো কখনো প্রাকৃতিক, আবার কখনো মানবসৃষ্ট। জলবায়ু পরিবর্তন তেমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ঘটনা, যা বর্তমানে পৃথিবীবাসীর জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, বরং এটি আমাদের অর্থনীতি, সমাজ এবং জীবনযাত্রার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। এই নিবন্ধে আমরা জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করব।
১। অগবার্ন ও নিমকফ (Ogburn and Nimkoff): জলবায়ু পরিবর্তনকে প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট কারণে আবহাওয়াগত উপাদানের দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।
২। অক্সফোর্ড ডিকশনারি (Oxford Dictionary): অক্সফোর্ড ডিকশনারি অনুসারে, জলবায়ু পরিবর্তন হলো একটি নির্দিষ্ট স্থানে বা সমগ্র পৃথিবীতে আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী ও সুস্পষ্ট পরিবর্তন, যা সাধারণত মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে ঘটে। (The term climate change refers to a significant and lasting change in the weather patterns of a specific region or the entire Earth, often caused by human activities.)
৩। ডিমক ও ডিমক (Dimock and Dimock): তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন হলো কোনো স্থানের গড় আবহাওয়ার দশ বা তার বেশি সময়ের পরিবর্তন, যার মধ্যে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং বাতাসের গতিবেগ উল্লেখযোগ্য। (Climate change is the change in the average weather of a place over a period of ten years or more, including significant changes in temperature, rainfall, and wind speed.)
৪। সাইমন, স্মিথবার্গ ও থাম্পসন (Simon, Smithburg and Thompson): তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন হলো পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী ও বৈশ্বিক পরিবর্তন, যা গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমনের কারণে ঘটছে। (Climate change is a long-term, global shift in the Earth’s climate system, primarily driven by the emission of greenhouse gases.)
৫। হ্যারল্ড জে. লাস্কি (Harold J. Laski): লাস্কি মনে করতেন, জলবায়ু পরিবর্তন হলো মানব সমাজের ওপর পরিবেশগত একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব, যা প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট উভয় কারণেই হতে পারে। (Climate change is a long-term environmental effect on human society, which can be caused by both natural and man-made factors.)
৬। কার্ল মার্কস (Karl Marx): মার্কস জলবায়ু পরিবর্তনকে সরাসরি সংজ্ঞায়িত না করলেও তিনি প্রকৃতির ওপর মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। তার মতে, উৎপাদন ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রকৃতির ওপর যে প্রভাব ফেলে, তা জলবায়ু পরিবর্তনের একটি অংশ। (Marx did not directly define climate change, but he discussed the effects of human economic activities on nature. According to him, the impact of changes in the production system on nature is a part of climate change.)
উপরের সংজ্ঞাগুলোর আলোকে আমরা বলতে পারি, জলবায়ু পরিবর্তন হলো পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী ও ধারাবাহিক পরিবর্তন, যা প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি শিল্পায়ন ও নগরায়ণের মতো মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে ঘটে। এর প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ে এবং আবহাওয়ার ধরনে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়।
উপসংহার: জলবায়ু পরিবর্তন আজ এক বৈশ্বিক বাস্তবতা, যা কোনো একক দেশ বা জাতির সমস্যা নয়। এটি মোকাবিলা করার জন্য সম্মিলিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস ব্যবহার করা এবং বৃক্ষরোপণ বাড়ানোর মতো পদক্ষেপগুলো এই সংকট থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত পরিবেশের প্রতি সচেতন থাকা এবং ছোট ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমে এই পৃথিবীকে ভবিষ্যতের জন্য আরও বাসযোগ্য করে তোলা।
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেল (IPCC) এর ষষ্ঠ মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুসারে, ১৯৯০ সাল থেকে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের ঘনত্ব ৪০% এর বেশি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল কার্বন প্রজেক্টের ২০১৯ সালের এক জরিপে দেখা যায়, ১৯৫০ সাল থেকে কার্বন নির্গমনের প্রায় অর্ধেকই হয়েছে গত ৩০ বছরে। ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫° সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে না পারলে পরিবেশের ভারসাম্য চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন।

