- readaim.com
- 0
উত্তর::ভূমিকা: উত্তর::ভূমিকা: আমাদের চারপাশে যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে, তার একটি সামগ্রিক হিসাব হলো জাতীয় আয়। এটি কোনো দেশের অর্থনৈতিক সুস্থতা ও সমৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। একটি দেশের মোট উৎপাদন, আয় এবং ব্যয়ের একটি সমন্বিত চিত্র তুলে ধরে এই ধারণাটি। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, একটি নির্দিষ্ট সময়ে, সাধারণত এক বছরে, একটি দেশের সকল নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের মোট অর্থনৈতিক কার্যকলাপের আর্থিক মূল্যই হলো জাতীয় আয়।
শাব্দিক অর্থ: জাতীয় আয়কে ইংরেজিতে বলা হয় ‘National Income’। ‘National’ শব্দের অর্থ ‘জাতীয়’ বা ‘দেশ সম্পর্কিত’ এবং ‘Income’ শব্দের অর্থ ‘আয়’। সুতরাং, এর শাব্দিক অর্থ হলো একটি দেশের মোট আয়।
জাতীয় আয় হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) কোনো দেশের সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে উৎপাদিত চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার মোট আর্থিক মূল্য। এর মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত পণ্য ও সেবা এবং বিদেশে কর্মরত নাগরিকদের উপার্জিত আয় অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা দেশের মোট অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে নির্দেশ করে।
বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ জাতীয় আয়ের সংজ্ঞা বিভিন্নভাবে প্রদান করেছেন। নিচে তাদের কয়েকটি সংজ্ঞা প্রদান করা হলো :
১।অধ্যাপক স্যামুয়েলসন (Prof. Samuelson) বলেছেন, “অর্থনৈতিকভাবে পরিমাপকৃত একটি দেশের দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্মের বার্ষিক সর্বমোট প্রবাহই জাতীয় আয়। সংজ্ঞাটিকে প্রসারিত করে বলা যায়, জাতীয় আয় একটি প্রবাহমান ধারা, যার মধ্যে সন্নিবিষ্ট আছে উৎপাদন সম্পন্ন প্রবাহ বা সমাজের মোট ব্যয় প্রবাহ এবং উৎপাদন কাজে নিযুক্ত উপকরণসমূহের আয়ের প্রবাহ।
২।ইয়ং (Young): তার মতে, জাতীয় আয় হলো একটি দেশের উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণের জন্য প্রদত্ত মোট আয়ের সমষ্টি। (National income is the total of all factor incomes earned by the residents of a country during a specified period.)
৩।ফিশার (Fisher): তিনি জাতীয় আয়কে উপার্জনের পরিবর্তে ভোগের ওপর ভিত্তি করে সংজ্ঞায়িত করেছেন। তার মতে, “জাতীয় আয় হলো সেই সমস্ত চূড়ান্ত সেবা যা একটি নির্দিষ্ট বছরে ভোগ করা হয়।” (National income is the final services rendered by the individuals in a year.)
৪।সিমোন কুজনেটস্ (Simon Kuznets): নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, “জাতীয় আয় হলো একটি দেশের উৎপাদন ব্যবস্থার চূড়ান্ত আউটপুট।” তিনি একটি দেশের অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতা পরিমাপের ক্ষেত্রে আধুনিক জিডিপি (GDP) এবং জিএনআই (GNI) ধারণার ভিত্তি স্থাপন করেন। (National income is the final product of the economic system.)
৫।জাতীয় আয় নির্ধারণ কমিটি (National Income Committee) – ভারত: ভারতের জাতীয় আয় নির্ধারণ কমিটি অনুসারে, “একটি নির্দিষ্ট সময়ে, একটি দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম থেকে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মোট মূল্য, দ্বৈত গণনা বাদ দিয়ে, হলো জাতীয় আয়।” (The national income is the total value of goods and services produced in a country during a particular period, without duplication.)
৬।অধ্যাপক পিগুর (Prof. Piguae) মতে, “জাতীয় আয় হল একটি সম্প্রদায়ের বিদেশের আয়সহ সকল বস্তুগত আয়ের যে অংশ, যা অর্থের মাধ্যমে পরিমাপ করা যায়।”
৭।অধ্যাপক ফিশারের (Prof. Fisher) মতে, “জাতীয় আয় হল নির্দিষ্ট সময়ে সমাজের মোট ভোগ বিনিয়োগ ব্যয়ের সমষ্টি।” এখানে তিনি নিট ব্যয়যোগ্য আয়কে জাতীয় আয় বুঝিয়েছেন।
৮।অধ্যাপক মার্শালের (Prof. Marshall) মতে, “কোন দেশের শ্রম ও মূলধনসহ প্রাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে যে পরিমাণ বস্তুগত ও অবস্তুগত দ্রব্য ও সেবাকর্মগুলো উৎপাদন করে তার সমষ্টিকে জাতীয় আয় বলে।”
উপসংহার: জাতীয় আয় হলো একটি দেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড। এটি কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং একটি দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য, অগ্রগতি এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান পরিমাপের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। এর মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। একটি সুস্থ অর্থনীতি কেবল উচ্চ জাতীয় আয় নয়, বরং এর সুষম বণ্টনের ওপরও নির্ভরশীল।
১।অমুদ্রায়িত লেনদেন: আমাদের সমাজে অনেক অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ঘটে, যার কোনো আর্থিক মূল্য ধরা হয় না। যেমন, গৃহস্থালি কাজ, বাড়ির সদস্যদের জন্য রান্না করা, বাগান করা বা শিশুদের যত্ন নেওয়া, ইত্যাদি। এই কাজগুলো সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এগুলো জাতীয় আয়ের হিসাবের মধ্যে আসে না, কারণ এগুলো কোনো আর্থিক বিনিময়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় না। ফলে দেশের অর্থনৈতিক কার্যকলাপের একটি বড় অংশ হিসাবে বাদ পড়ে যায়, যা জাতীয় আয়ের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়।
২।মূল্যের ভিন্নতা: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্যের দামের মধ্যে পার্থক্য থাকে। যেমন, কোনো একটি নির্দিষ্ট পণ্য গ্রাম ও শহরের বাজারে ভিন্ন দামে বিক্রি হতে পারে। জাতীয় আয় হিসাব করার সময় এই ভিন্ন ভিন্ন দামের কারণে পণ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে জাতীয় আয় পরিমাপের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট ও সঠিক চিত্র পাওয়া যায় না, যা হিসাবের ত্রুটি বাড়িয়ে দেয়।
৩।তথ্য সংগ্রহের সমস্যা: একটি দেশের অর্থনৈতিক তথ্য সংগ্রহ করা একটি বিশাল এবং জটিল কাজ। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যেখানে অনেক ছোট ছোট ব্যবসা বা অনানুষ্ঠানিক খাত থাকে, সেখানে সঠিক তথ্য পাওয়া খুবই কঠিন। অনেকেই তাদের আয়ের হিসাব ঠিক মতো রাখেন না অথবা কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য তথ্য গোপন করেন। ফলে সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, যা জাতীয় আয়ের পরিমাপকে প্রভাবিত করে।
৪।দ্বৈত গণনা: জাতীয় আয়ের হিসাব করার সময় একটি পণ্য বা সেবার মূল্য একাধিকবার গণনা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেমন, একটি রুটি তৈরির জন্য প্রথমে গমের মূল্য, তারপর আটার মূল্য এবং সবশেষে রুটির মূল্য হিসাব করা হলে তা দ্বৈত গণনা বলে বিবেচিত হবে। এই সমস্যা দূর করার জন্য কেবল চূড়ান্ত পণ্যের মূল্য ধরা হয়, কিন্তু বাস্তবে এই বিষয়টি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা সব সময় সম্ভব হয় না, যা হিসাবকে ত্রুটিপূর্ণ করে তোলে।
৫।অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির আকার: উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অনানুষ্ঠানিক বা অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির (যেমন, ফুটপাতের দোকান, ছোট কারুশিল্প ইত্যাদি) আকার অনেক বড়। এই খাতের লেনদেনগুলো সাধারণত কোনো সরকারি নথিপত্রে লিপিবদ্ধ হয় না এবং এর কোনো সঠিক হিসাবও থাকে না। ফলে জাতীয় আয়ের হিসাব করার সময় এই বিশাল অংশটি বাদ পড়ে যায়, যা দেশের অর্থনৈতিক কার্যকলাপের একটি অসম্পূর্ণ চিত্র দেয়।
৬।মূল্যস্ফীতির প্রভাব: মুদ্রাস্ফীতির কারণে সময়ের সাথে সাথে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। যখন জাতীয় আয় হিসাব করা হয়, তখন যদি মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনা না করা হয়, তবে তা প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখাতে ব্যর্থ হয়। কারণ, মূল্যস্ফীতির ফলে যদি পণ্যের দাম বাড়ে, তবে জাতীয় আয় সংখ্যাগতভাবে বেশি দেখা যেতে পারে, কিন্তু বাস্তবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বা জীবনযাত্রার মান হয়তো বাড়ে না।
৭।অবচয় গণনা: উৎপাদনের সময় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো ব্যবহারের কারণে ধীরে ধীরে সেগুলোর মান কমে যায়। এই ক্ষয়পূরণ বা অবচয় জাতীয় আয় থেকে বাদ দেওয়া উচিত। কিন্তু অবচয়ের সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা একটি কঠিন কাজ, কারণ বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোর অবচয়ের হার ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। অবচয় সঠিকভাবে হিসাব না করতে পারলে মোট জাতীয় আয় (Gross National Income) এবং নিট জাতীয় আয় (Net National Income) এর মধ্যে পার্থক্য ভুলভাবে নির্ণিত হয়।
৮।অবৈধ কার্যকলাপ: অবৈধ কার্যকলাপ যেমন মাদক ব্যবসা, চোরাচালান, এবং কালোবাজারির মাধ্যমে অর্জিত আয় সাধারণত জাতীয় আয়ের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। এই ধরনের কার্যকলাপের মাধ্যমে প্রচুর অর্থ লেনদেন হলেও এগুলো সরকারি হিসাবের বাইরে থেকে যায়। ফলে অর্থনীতির একটি বড় অংশ আড়ালে থেকে যায়, যা জাতীয় আয়ের পরিমাপকে অসম্পূর্ণ করে তোলে।
৯।সেবার মান পরিমাপের সমস্যা: সেবামূলক খাতের যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা সরকারি সেবার মান পরিমাপ করা অত্যন্ত কঠিন। একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মান বেড়েছে কিনা তা শুধু খরচ দিয়ে বোঝা যায় না। শিক্ষার গুণগত মান, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বৃদ্ধি বা মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে কিনা, তা সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করা যায় না। ফলে এসব সেবার প্রকৃত মূল্য জাতীয় আয়ের হিসাবে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না।
১০।ভোক্তা পণ্য বনাম মূলধন পণ্য: ভোক্তা পণ্য এবং মূলধন পণ্যের মধ্যে পার্থক্য করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। যেমন, একটি গাড়ি যদি কোনো পরিবার কেনে তবে তা ভোক্তা পণ্য, কিন্তু যদি কোনো ট্যাক্সি কোম্পানি কেনে তবে তা মূলধন পণ্য। এই ধরনের পার্থক্য সঠিকভাবে করতে না পারলে দ্বৈত গণনার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা জাতীয় আয়ের হিসাবকে জটিল করে তোলে।
১১।অর্থনৈতিক বৈষম্য: জাতীয় আয় শুধুমাত্র একটি দেশের মোট অর্থনৈতিক অবস্থার চিত্র দেয়, কিন্তু এটি মানুষের মধ্যে আয়ের বৈষম্য সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয় না। একটি দেশের মাথাপিছু আয় বেশি হলেও সেই আয় মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেয় না। তাই জাতীয় আয় পরিমাপের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্য বোঝা সম্ভব হয় না।
১২।পরিবেশগত ক্ষতি: জাতীয় আয় পরিমাপ করার সময় উৎপাদনের কারণে পরিবেশের যে ক্ষতি হয়, তা বিবেচনা করা হয় না। যেমন, একটি শিল্প কারখানার উৎপাদিত পণ্যের মূল্য জাতীয় আয়ের হিসাবে ধরা হয়, কিন্তু সেই কারখানা থেকে নির্গত দূষণের কারণে পরিবেশের যে ক্ষতি হয়, তা বাদ দেওয়া হয় না। ফলে জাতীয় আয় বেশি দেখা গেলেও তা দেশের পরিবেশের প্রকৃত অবস্থা বা স্থায়িত্বকে প্রতিফলিত করে না।
১৩।বৈদেশিক বিনিময় হার: বিভিন্ন দেশের জাতীয় আয় তুলনা করার জন্য বৈদেশিক বিনিময় হার ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বিনিময় হার প্রায়শই অস্থিতিশীল থাকে এবং বাজারের চাহিদা ও যোগানের উপর নির্ভর করে ওঠানামা করে। ফলে বিভিন্ন দেশের জাতীয় আয়ের তুলনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক তুলনামূলক চিত্রটি ভুলভাবে উপস্থাপিত হতে পারে।
১৪।আন্তর্জাতিক ঋণের প্রভাব: যখন একটি দেশ আন্তর্জাতিক ঋণ গ্রহণ করে, তখন সেই ঋণ দেশের অর্থনীতিতে সাময়িকভাবে অবদান রাখতে পারে, যা জাতীয় আয় বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু এই ঋণ ভবিষ্যতে সুদসহ পরিশোধ করতে হয়, যা দেশের অর্থনীতির ওপর একটি দীর্ঘমেয়াদী চাপ সৃষ্টি করে। জাতীয় আয়ের হিসাবে এই ঋণের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না।
১৫।জনসংখ্যার কাঠামো: একটি দেশের জনসংখ্যা কাঠামো জাতীয় আয়ের পরিমাপকে প্রভাবিত করে। যদি একটি দেশের জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, তবে মাথাপিছু আয় কম মনে হতে পারে, এমনকি যদি মোট জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, যদি একটি দেশের বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তবে উৎপাদনশীল জনসংখ্যা কমে যেতে পারে, যা জাতীয় আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
১৬।সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা: সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের অর্থনৈতিক কার্যকলাপকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। যেমন, হরতাল, রাজনৈতিক সংঘাত বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়, যা জাতীয় আয়ের হিসাবে প্রতিফলিত হয়। তবে এসব ঘটনা কতটা প্রভাব ফেলছে, তা সঠিকভাবে পরিমাপ করা কঠিন।
১৭।ভোগ ও বিনিয়োগের ভুল হিসাব: জাতীয় আয় পরিমাপের সময় মোট ভোগ এবং বিনিয়োগের সঠিক হিসাব করা কঠিন। অনেক সময় মানুষ তাদের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য উৎপাদিত পণ্য বা সেবার হিসাব রাখে না। একইভাবে, ছোট ছোট বিনিয়োগগুলো নথিবদ্ধ করা হয় না, যা জাতীয় আয়ের হিসাবে ভুল তৈরি করে।
উপসংহার: জাতীয় আয় পরিমাপের প্রক্রিয়াটি অনেক জটিল এবং বিভিন্ন ধরনের সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়। এই সমস্যাগুলো যথাযথভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব না হলে জাতীয় আয়ের হিসাব ভুল হতে পারে। তাই, কোনো দেশের অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা বোঝার জন্য শুধু জাতীয় আয়ের ওপর নির্ভর না করে অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচকগুলোও বিবেচনা করা উচিত।
১. 💸 অমুদ্রায়িত লেনদেন ২. 💲 মূল্যের ভিন্নতা ৩. 📉 তথ্য সংগ্রহের সমস্যা ৪. 🔄 দ্বৈত গণনা ৫. 🏘️ অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির আকার ৬. 📈 মূল্যস্ফীতির প্রভাব ৭. ⚙️ অবচয় গণনা ৮. 🕵️ অবৈধ কার্যকলাপ ৯. 🎓 সেবার মান পরিমাপের সমস্যা ১০. 🚗 ভোক্তা পণ্য বনাম মূলধন পণ্য ১১. ⚖️ অর্থনৈতিক বৈষম্য ১২. 🏭 পরিবেশগত ক্ষতি ১৩. 🌍 বৈদেশিক বিনিময় হার ১৪. 💰 আন্তর্জাতিক ঋণের প্রভাব ১৫. 👨👩👧👦 জনসংখ্যার কাঠামো ১৬. 🚨 সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা ১৭. 📊 ভোগ ও বিনিয়োগের ভুল হিসাব।
জাতীয় আয়ের ধারণাটি আধুনিক অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। সর্বপ্রথম ১৬৬৫ সালে উইলিয়াম পেটি “পলিটিক্যাল অ্যারিথমেটিক” গ্রন্থে ইংল্যান্ডের জাতীয় আয় পরিমাপের চেষ্টা করেন। এর পর থেকে অনেক অর্থনীতিবিদ বিভিন্ন পদ্ধতিতে জাতীয় আয় পরিমাপের চেষ্টা করেছেন। ১৯৩৪ সালে সাইমন কুজনেটসের নেতৃত্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ব্যুরো অফ ইকোনমিক রিসার্চ (NBER) প্রথম একটি আধুনিক জাতীয় আয় পরিমাপ পদ্ধতি তৈরি করে। পরবর্তীতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের অর্থনীতির অবস্থা বোঝার জন্য জাতীয় আয় পরিমাপের গুরুত্ব উপলব্ধি করে। ১৯৫৩ সালে জাতিসংঘ একটি স্ট্যান্ডার্ড পদ্ধতি চালু করে, যা বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে বিভিন্ন জরিপ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফ জাতীয় আয়ের ওপর নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করে, যা দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা মূল্যায়নে সাহায্য করে।

