- readaim.com
- 0
প্রশ্ন:- ন্যায়যুদ্ধ কি?
Or, ন্যায়যুদ্ধ কাকে বলে?
Or, ন্যায়যুদ্ধ বলতে কি বুঝ?
Or, ন্যায়যুদ্ধের সজ্ঞা দাও।
উত্তর::ভূমিকা: যুদ্ধ সাধারণত ধ্বংস, ক্ষয়ক্ষতি ও অশান্তি সৃষ্টি করে। তবে ইতিহাসে এমন কিছু যুদ্ধের ধারণা পাওয়া যায়, যেগুলোকে নির্দিষ্ট নৈতিক ও ন্যায়সংগত কারণের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই নৈতিক ভিত্তিতে পরিচালিত যুদ্ধের ধারণাই ন্যায়যুদ্ধ নামে পরিচিত।
ন্যায়যুদ্ধের পরিচয়:-
ন্যায়যুদ্ধ হলো এমন একটি যুদ্ধের ধারণা, যেখানে কোনো যুদ্ধকে নৈতিক, আইনগত ও ন্যায়সংগত কারণের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়। এই ধারণা অনুযায়ী, যুদ্ধ কখনোই প্রথম বা সহজ উপায় হওয়া উচিত নয়; বরং আত্মরক্ষা, নিরপরাধ মানুষের সুরক্ষা, অন্যায় প্রতিরোধ বা ন্যায় প্রতিষ্ঠার মতো বৈধ উদ্দেশ্যে সীমিত শর্ত পূরণ করে যুদ্ধ পরিচালিত হতে পারে। ন্যায়যুদ্ধ তত্ত্ব যুদ্ধ শুরু করার ন্যায্যতা এবং যুদ্ধ পরিচালনার নৈতিক সীমারেখা নির্ধারণ করে।
ন্যায়যুদ্ধের শাব্দিক অর্থ:- ন্যায়যুদ্ধ শব্দটি ইংরেজি “Just War” শব্দের বাংলা রূপ। “Just” অর্থ হলো ন্যায়সংগত বা ন্যায্য এবং “War” অর্থ হলো যুদ্ধ। অর্থাৎ ন্যায়সংগত উদ্দেশ্য ও নৈতিক নিয়ম অনুসরণ করে পরিচালিত যুদ্ধকে ন্যায়যুদ্ধ বলা হয়।
১। সেন্ট অগাস্টিন (Saint Augustine): “An unjust peace is better than a just war.” (অন্যায় যুদ্ধের চেয়ে অন্যায় শান্তিও উত্তম।) অগাস্টিনের মতে, যুদ্ধ কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যখন তা শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়।
২। সেন্ট থমাস অ্যাকুইনাস (Saint Thomas Aquinas): “For a war to be just, three things are necessary: the authority of the sovereign, a just cause, and a rightful intention.” (একটি যুদ্ধকে ন্যায়যুদ্ধ হতে হলে তিনটি বিষয় প্রয়োজন: বৈধ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, ন্যায়সংগত কারণ এবং সঠিক উদ্দেশ্য।)
৩। মাইকেল ওয়ালজার (Michael Walzer): “War is always judged twice, first with reference to the reasons states have for fighting, and second with reference to the conduct of war itself.” (যুদ্ধকে দুইবার বিচার করা হয়; প্রথমত যুদ্ধের কারণের ভিত্তিতে এবং দ্বিতীয়ত যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতির ভিত্তিতে।)
৪। হুগো গ্রোটিয়াস (Hugo Grotius): “War is a lawful act when undertaken for the purpose of defending rights and justice.” (অধিকার ও ন্যায় রক্ষার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হলে যুদ্ধ একটি বৈধ কার্যক্রম হতে পারে।)
৫। ব্রায়ান অরেন্ড (Brian Orend): “A just war is one fought for morally acceptable reasons and conducted according to moral principles.” (ন্যায়যুদ্ধ হলো এমন যুদ্ধ, যা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য কারণে পরিচালিত হয় এবং নৈতিক নীতিমালা অনুসরণ করে।)
৬। পল রামসে (Paul Ramsey): “The just war tradition is concerned with limiting the use of force and protecting human dignity.” (ন্যায়যুদ্ধের ধারণা শক্তির ব্যবহার সীমিত করা এবং মানুষের মর্যাদা রক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত।)
৭। জেমস টার্নার জনসন (James Turner Johnson): “Just war thinking seeks to regulate the resort to war and the conduct of warfare.” (ন্যায়যুদ্ধের চিন্তাধারা যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত ও যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে।)
উপরের সংজ্ঞাগুলোর আলোকে বলা যায়, ন্যায়যুদ্ধ হলো এমন একটি যুদ্ধের ধারণা, যা বৈধ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, ন্যায়সংগত কারণ, সঠিক উদ্দেশ্য এবং মানবিক নীতিমালা অনুসরণ করে পরিচালিত হয়। এই ধারণার মূল লক্ষ্য হলো অন্যায় প্রতিরোধ, নিরপরাধ মানুষের সুরক্ষা এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা।
উপসংহার: ন্যায়যুদ্ধের ধারণা যুদ্ধকে উৎসাহিত করার পরিবর্তে যুদ্ধের নৈতিক সীমা নির্ধারণ করে। এটি মনে করে যে কোনো যুদ্ধ কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যখন তা ন্যায়সংগত উদ্দেশ্যে এবং মানবিক মূল্যবোধ বজায় রেখে পরিচালিত হয়। তাই আন্তর্জাতিক শান্তি ও মানবিক নিরাপত্তার আলোচনায় ন্যায়যুদ্ধের গুরুত্ব রয়েছে।