- readaim.com
- 0
উত্তর::সূত্রপাত: রাষ্ট্রের তিনটি মূল স্তম্ভের মধ্যে বিচার বিভাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা হলো একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আদালত রাষ্ট্রের অন্যান্য বিভাগের কাজের সাংবিধানিকতা ও আইনসম্মততা যাচাই করে। এটি গণতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষার একটি অপরিহার্য হাতিয়ার।
শাব্দিক অর্থ:
“বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা” শব্দগতভাবে দুটি অংশে বিভক্ত— “বিচার বিভাগীয়” অর্থ আদালত সংক্রান্ত, এবং “পর্যালোচনা” অর্থ পুনর্বিবেচনা বা মূল্যায়ন।
বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা হলো এমন একটি আইনি প্রক্রিয়া যেখানে আদালত সরকারি বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আইন বা নীতির সাংবিধানিক বৈধতা পরীক্ষা করে। এটি রাষ্ট্রের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত করে।
১ কে.সি. হুয়ার বলেছেন, “বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা হলো আদালতের সেই ক্ষমতা যা দ্বারা তারা আইনসভা ও নির্বাহী বিভাগের কাজের সাংবিধানিক সীমা নির্ধারণ করে।” (Judicial review is the power of the courts to determine the constitutional limits of legislative and executive actions.)
২. প্রফেসর এ.ভি. ডাইসি এর মতে, “এটি আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য আদালতের একটি মাধ্যম।” (It is a means for the courts to ensure the rule of law.)
৩. মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জন মার্শাল বলেছেন, “এটি সংবিধানের সর্বোচ্চ আইন হিসেবে মর্যাদা বজায় রাখার প্রক্রিয়া।” (It is the process to uphold the Constitution as the supreme law.)
৪. ড. এম.পি. জৈন এর ভাষায়, “বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা হলো সাংবিধানিক নীতির লঙ্ঘন ঠেকানোর ঢাল।” (Judicial review is the shield against violation of constitutional principles.)
৫. বিচারপতি হামুদুর রহমান বলেছেন, “এটি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার হাতিয়ার।” (It is a tool to protect citizens’ fundamental rights.)
৬. বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, “বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা হলো উচ্চ আদালতের সেই ক্ষমতা যা দ্বারা তারা সংবিধানের লঙ্ঘনকারী কোনো আইন বা কাজকে বাতিল করতে পারে।” (Judicial review is the power of the higher judiciary to invalidate any law or action inconsistent with the Constitution.)
উপরের সংজ্ঞাগুলোর আলোকে বলা যায়, বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা হলো আদালতের সেই সাংবিধানিক ক্ষমতা, যার মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রের আইন ও কার্যক্রমের বৈধতা যাচাই করে এবং সংবিধান ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করে।
উপসংহার: বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের একটি অপরিহার্য অংশ। এটি ক্ষমতার স্বেচ্ছাচারিতা রোধ করে ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করে। এই প্রক্রিয়া রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোকে শক্তিশালী করে এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করে।
“বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা হলো আদালতের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কাজের সাংবিধানিক বৈধতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া।”
বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার ধারণা প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮০৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মার্বারি বনাম ম্যাডিসন মামলায়। বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে এই ক্ষমতা স্বীকৃত। ২০২২ সালের একটি জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ৫০০+ মামলায় বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার আবেদন করা হয়। এটি নাগরিক অধিকার রক্ষায় একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।

