- readaim.com
- 0
উত্তর::ভূমিকা: ভারসাম্য বলতে এমন একটি অবস্থা বোঝানো হয় যেখানে কোনো কিছুর মধ্যে কোনো পরিবর্তন হয় না। অর্থনীতিতে, এটি এমন একটি বাজার পরিস্থিতিকে বোঝায় যেখানে চাহিদা এবং যোগান একে অপরের সমান হয়। এই অবস্থায়, বাজারের উপর কোনো চাপ থাকে না যা দাম বা পরিমাণ পরিবর্তন করতে পারে। চাহিদার পরিবর্তন, যোগান বা উভয়ই ভারসাম্যের উপর প্রভাব ফেলে এবং নতুন ভারসাম্য দাম ও পরিমাণ সৃষ্টি করে।
শাব্দিক অর্থ: ভারসাম্যের ইংরেজি রূপ হলো Equilibrium। শব্দটি ল্যাটিন ভাষা থেকে এসেছে, যেখানে ‘aequus’ অর্থ সমান এবং ‘libra’ অর্থ দাঁড়িপাল্লা। অর্থাৎ, শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো সমান ওজন বা সমতা।
সাধারণ ভাষায়, বাজার ভারসাম্য বলতে এমন একটি অবস্থাকে বোঝায় যেখানে ক্রেতারা একটি নির্দিষ্ট দামে যে পরিমাণ পণ্য কিনতে ইচ্ছুক, বিক্রেতারা সেই একই দামে ঠিক সেই পরিমাণ পণ্য বিক্রি করতে ইচ্ছুক। এই দামে, বাজারে কোনো অতিরিক্ত চাহিদা (shortage) বা অতিরিক্ত যোগান (surplus) থাকে না। এর ফলে, দাম স্থির থাকে।
বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ বাজার ভারসাম্যের বিভিন্ন সংজ্ঞা দিয়েছেন। কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা নিচে দেওয়া হলো-
১।আলফ্রেড মার্শাল (Alfred Marshall): “বাজার ভারসাম্য হলো একটি স্থিতি যেখানে চাহিদা ও যোগান একে অপরের সমান হয় এবং এর ফলে বাজার দামের কোনো পরিবর্তন ঘটে না।”
২।পি. এ. স্যামুয়েলসন (P. A. Samuelson): “ভারসাম্য হলো একটি স্থিতি যেখানে অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর কোনো পরিবর্তন হয় না এবং যা একটি নির্দিষ্ট সময়ে অপরিবর্তিত থাকে।”
৩।এডাম স্মিথ (Adam Smith): তিনি ‘অদৃশ্য হাত’ (invisible hand) ধারণার মাধ্যমে দেখিয়েছিলেন যে বাজার শক্তিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভারসাম্য সৃষ্টি করে।
৪।জন মেন্যার্ড কেইনস (John Maynard Keynes): কেইনস সামষ্টিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে ভারসাম্যকে সংজ্ঞায়িত করেছেন, যেখানে সমষ্টিগত চাহিদা ও সমষ্টিগত যোগান সমান হয়।
৫।কেনেথ অ্যারো (Kenneth Arrow): অ্যারো এবং জেরার্ড ডেব্রু তাদের সাধারণ ভারসাম্য তত্ত্বের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে একটি প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিতে একাধিক বাজারের মধ্যে ভারসাম্য থাকতে পারে।
৬।জর্জ স্টিগলার (George Stigler): “ভারসাম্য হলো একটি স্থিতি যেখানে সমস্ত বাজারের কার্যকলাপ একটি স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছেছে এবং যেখানে কেউ তার অর্থনৈতিক আচরণ পরিবর্তন করতে ইচ্ছুক নয়।”
৭।লিয়োনেল রবিন্স (Lionel Robbins): “ভারসাম্য হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে সম্পদের বণ্টন সর্বাধিক দক্ষ এবং যেখানে ক্রেতা ও বিক্রেতার চাহিদা মিলে যায়।”
উপরের সংজ্ঞাগুলির আলোকে আমরা ভারসাম্যকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারি: ভারসাম্য হলো একটি গতিশীল অবস্থা যেখানে বিভিন্ন উপাদান বা শক্তি একে অপরের সঙ্গে এমনভাবে সম্পর্কযুক্ত থাকে যাতে সামগ্রিক ব্যবস্থাটি স্থিতিশীল, সুসংহত এবং কার্যকরী থাকে।
১।চাহিদার বৃদ্ধি: যখন কোনো পণ্যের চাহিদা অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি পায়, যেমন কোনো নতুন প্রযুক্তি বাজারে আসার কারণে, তখন বর্তমান মূল্যে ক্রেতাদের চাহিদা বিক্রেতাদের সরবরাহের চেয়ে বেশি হয়ে যায়।ফলে বাজারে পণ্যের সংকট দেখা দেয় এবং বিক্রেতারা উচ্চ মূল্য ধার্য করে।এর ফলস্বরূপ, মূল্য এবং বিক্রিত পণ্যের পরিমাণ উভয়ই বৃদ্ধি পায়।এটি একটি নতুন ভারসাম্য বিন্দু তৈরি করে, যেখানে পূর্বের তুলনায় মূল্য ও পরিমাণ উভয়ই বেশি হয়।
২।চাহিদার হ্রাস: যখন কোনো পণ্যের চাহিদা কমে যায়, উদাহরণস্বরূপ, কোনো স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকির কারণে ফাস্ট ফুডের চাহিদা হ্রাস পেলে, বর্তমান মূল্যে বিক্রেতাদের সরবরাহ ক্রেতাদের চাহিদার চেয়ে বেশি হয়।ফলে বাজারে পণ্যের উদ্বৃত্ত দেখা দেয়।এই উদ্বৃত্ত পণ্য বিক্রি করার জন্য বিক্রেতারা মূল্য কমাতে বাধ্য হয়, যার ফলে মূল্য এবং পরিমাণ উভয়ই কমে যায়।এটি অর্থনীতিতে একটি নতুন ভারসাম্য বিন্দু তৈরি করে যেখানে মূল্য ও পরিমাণ দুটোই পূর্বের তুলনায় কম হয়।
৩।যোগানের বৃদ্ধি: যখন কোনো পণ্যের যোগান বৃদ্ধি পায়, যেমন কৃষি উৎপাদনে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বা সরকারি ভর্তুকির কারণে, তখন বর্তমান মূল্যে বিক্রেতারা ক্রেতাদের চাহিদার চেয়ে বেশি পণ্য সরবরাহ করতে পারে।এর ফলে বাজারে পণ্যের প্রাচুর্য দেখা দেয়।এই অতিরিক্ত যোগান বিক্রি করতে বিক্রেতারা পণ্যের মূল্য কমিয়ে দেয়, যার ফলস্বরূপ ভারসাম্য মূল্য হ্রাস পায় কিন্তু বিক্রিত পণ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।এটি বাজারের জন্য একটি নতুন ভারসাম্য অবস্থা তৈরি করে।

৪।যোগানের হ্রাস: যখন কোনো কারণে কোনো পণ্যের যোগান কমে যায়, যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধির কারণে, তখন বর্তমান মূল্যে ক্রেতাদের চাহিদা বিক্রেতাদের সরবরাহের চেয়ে বেশি হয়ে যায়।এর ফলে বাজারে পণ্যের সংকট দেখা দেয়।এই সংকট মোকাবিলায় বিক্রেতারা পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে, যার ফলে ভারসাম্য মূল্য বৃদ্ধি পায় কিন্তু বিক্রিত পণ্যের পরিমাণ হ্রাস পায়।এটি একটি নতুন ভারসাম্য বিন্দু তৈরি করে যেখানে উচ্চ মূল্য এবং কম পরিমাণ বিরাজ করে।
৫।চাহিদা ও যোগানের যুগপৎ বৃদ্ধি: যখন একই সাথে কোনো পণ্যের চাহিদা ও যোগান উভয়ই বৃদ্ধি পায়, তখন এর প্রভাব কিছুটা জটিল হতে পারে।এক্ষেত্রে বিক্রিত পণ্যের পরিমাণ অবশ্যই বৃদ্ধি পাবে।তবে, মূল্যের উপর এর প্রভাব নির্ভর করে চাহিদা ও যোগানের আপেক্ষিক পরিবর্তনের মাত্রার উপর।যদি চাহিদা বৃদ্ধি যোগান বৃদ্ধির চেয়ে বেশি হয়, তাহলে ভারসাম্য মূল্য বৃদ্ধি পাবে।আর যদি যোগান বৃদ্ধি চাহিদা বৃদ্ধির চেয়ে বেশি হয়, তাহলে ভারসাম্য মূল্য হ্রাস পাবে।
৬।চাহিদা ও যোগানের যুগপৎ হ্রাস: যখন কোনো পণ্যের চাহিদা ও যোগান উভয়ই একই সাথে হ্রাস পায়, তখন বিক্রিত পণ্যের পরিমাণ নিশ্চিতভাবে কমে যাবে।মূল্যের উপর এর প্রভাব নির্ভর করে চাহিদার হ্রাস এবং যোগানের হ্রাসের আপেক্ষিক মাত্রার উপর।যদি চাহিদার হ্রাস যোগানের হ্রাসের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে ভারসাম্য মূল্য হ্রাস পাবে।বিপরীতভাবে, যদি যোগানের হ্রাস চাহিদার হ্রাসের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে ভারসাম্য মূল্য বৃদ্ধি পাবে।
৭।চাহিদার বৃদ্ধি ও যোগানের হ্রাস: যখন চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং একই সাথে যোগান হ্রাস পায়, তখন ভারসাম্য মূল্য অবশ্যই বৃদ্ধি পাবে।কারণ উভয় পরিবর্তনই মূল্য বৃদ্ধির দিকে চালিত করে।তবে, বিক্রিত পণ্যের পরিমাণের উপর এর প্রভাব নির্ভর করে দুটি পরিবর্তনের আপেক্ষিক মাত্রার উপর।যদি চাহিদা বৃদ্ধি যোগানের হ্রাসের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে পরিমাণ বাড়বে।আর যদি যোগানের হ্রাস চাহিদা বৃদ্ধির চেয়ে বেশি হয়, তাহলে পরিমাণ কমবে।
৮।চাহিদার হ্রাস ও যোগানের বৃদ্ধি: যখন চাহিদা হ্রাস পায় এবং একই সাথে যোগান বৃদ্ধি পায়, তখন ভারসাম্য মূল্য অবশ্যই হ্রাস পাবে।কারণ উভয় পরিবর্তনই মূল্য হ্রাসের দিকে চালিত করে।তবে, বিক্রিত পণ্যের পরিমাণের উপর এর প্রভাব নির্ভর করে দুটি পরিবর্তনের আপেক্ষিক মাত্রার উপর।যদি চাহিদা হ্রাস যোগানের বৃদ্ধির চেয়ে বেশি হয়, তাহলে পরিমাণ কমবে।আর যদি যোগানের বৃদ্ধি চাহিদা হ্রাসের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে পরিমাণ বাড়বে।
৯।ভোক্তার রুচির পরিবর্তন: যখন ভোক্তাদের রুচি বা পছন্দ পরিবর্তিত হয়, তখন কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের চাহিদা প্রভাবিত হয়।উদাহরণস্বরূপ, যদি ফ্যাশনের পরিবর্তনের কারণে পুরোনো ধরনের পোশাকের চাহিদা কমে যায়, তাহলে সেই পোশাকের ভারসাম্য মূল্য ও পরিমাণ উভয়ই হ্রাস পাবে।অন্যদিকে, নতুন ধরনের পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধি পেলে তার মূল্য ও পরিমাণ উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।এটি বাজারের গতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
১০।আয় ও উপযোগের প্রভাব: ভোক্তার আয় বৃদ্ধি পেলে সাধারণত স্বাভাবিক পণ্যের চাহিদা বাড়ে, যার ফলে ভারসাম্য মূল্য ও পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।তবে নিকৃষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে আয় বৃদ্ধি পেলে চাহিদা কমে যায়।উপযোগের ধারণাটিও গুরুত্বপূর্ণ।যখন কোনো পণ্যের উপযোগিতা বা প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মানুষের উপলব্ধি পরিবর্তিত হয়, তখন তার চাহিদা পরিবর্তিত হয়, যা সরাসরি ভারসাম্যকে প্রভাবিত করে।
১১।সম্পর্কিত পণ্যের মূল্য: কোনো পণ্যের ভারসাম্য মূল্য ও পরিমাণ অন্যান্য সম্পর্কিত পণ্যের মূল্যের উপরও নির্ভরশীল।যেমন, যদি কফি’র মূল্য বৃদ্ধি পায়, তাহলে চায়ের চাহিদা বেড়ে যেতে পারে, যা চায়ের ভারসাম্য মূল্য ও পরিমাণ উভয়ই বৃদ্ধি করবে।এটি বিকল্প পণ্যের ক্ষেত্রে ঘটে।অন্যদিকে, যদি গাড়ির মূল্য কমে যায়, তাহলে পেট্রোলের চাহিদা বেড়ে যেতে পারে, যা পেট্রোলের ভারসাম্য মূল্য ও পরিমাণ বাড়িয়ে দেবে।এটি পরিপূরক পণ্যের ক্ষেত্রে ঘটে।
১২।প্রযুক্তিগত পরিবর্তন: প্রযুক্তির উন্নতি উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ করে তোলে, যার ফলে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায়।এটি বিক্রেতাদের জন্য আরও বেশি পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব করে তোলে, যার ফলে যোগান বৃদ্ধি পায়।উদাহরণস্বরূপ, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ফার্ম আগের চেয়ে কম খরচে বেশি কম্পিউটার উৎপাদন করতে পারে।এর ফলে কম্পিউটার বাজারে ভারসাম্য মূল্য হ্রাস পায় এবং বিক্রিত পণ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
১৩।উৎপাদন ব্যয়ের পরিবর্তন: যখন কাঁচামালের মূল্য বা শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পায়, তখন উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়।এর ফলে বিক্রেতারা পূর্বের মূল্যে কম পণ্য সরবরাহ করতে পারে, অর্থাৎ যোগান হ্রাস পায়।এর প্রতিক্রিয়ায়, ভারসাম্য মূল্য বৃদ্ধি পায় এবং বিক্রিত পণ্যের পরিমাণ হ্রাস পায়।অন্যদিকে, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পেলে যোগান বৃদ্ধি পায়, যা ভারসাম্য মূল্য হ্রাস করে এবং পরিমাণ বাড়ায়।
১৪।সরকারি নীতিমালার প্রভাব: সরকারের বিভিন্ন নীতি, যেমন কর আরোপ বা ভর্তুকি প্রদান, ভারসাম্যকে সরাসরি প্রভাবিত করে।কোনো পণ্যের উপর কর আরোপ করলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যার ফলে যোগান হ্রাস পায় এবং ভারসাম্য মূল্য বৃদ্ধি পায়।এর বিপরীতে, যদি সরকার কোনো পণ্যে ভর্তুকি দেয়, তাহলে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায়, যা যোগান বৃদ্ধি করে এবং ভারসাম্য মূল্য হ্রাস করে।
১৫।ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার প্রভাব: ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়েরই ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রত্যাশা বর্তমান ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।যদি ক্রেতারা ভবিষ্যতে কোনো পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করে, তাহলে তারা এখনই বেশি পণ্য কিনতে পারে, যা বর্তমান চাহিদা বৃদ্ধি করবে এবং ভারসাম্য মূল্য ও পরিমাণ বাড়িয়ে দেবে।একইভাবে, যদি বিক্রেতারা ভবিষ্যতে মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা করে, তাহলে তারা এখন কম পণ্য সরবরাহ করতে পারে।
১৬।জনসংখ্যার পরিবর্তন: জনসংখ্যার আকার এবং গঠন কোনো পণ্যের মোট চাহিদা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।যদি কোনো অঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তাহলে বিভিন্ন পণ্যের মোট চাহিদা বৃদ্ধি পাবে, যা তাদের ভারসাম্য মূল্য এবং পরিমাণ বৃদ্ধি করবে।যেমন, একটি ছোট শহরে যখন একটি নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়, তখন নতুন কর্মীদের আগমনের ফলে সেখানে স্থানীয় বাজারের পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
১৭।প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব: বন্যা, খরা বা ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায়শই কৃষি পণ্য বা অন্যান্য পণ্যের উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়।এটি যোগানের উপর একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যার ফলে যোগান হ্রাস পায়।ফলস্বরূপ, ভারসাম্য মূল্য বৃদ্ধি পায় এবং বিক্রিত পণ্যের পরিমাণ হ্রাস পায়।এই ধরনের ঘটনাগুলো প্রায়শই স্বল্পমেয়াদী হলেও এদের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
উপসংহার: চাহিদা ও যোগানের পরিবর্তন অর্থনীতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।এই পরিবর্তনগুলো বাজারে পণ্যের মূল্য ও পরিমাণের উপর প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলে, যা নতুন ভারসাম্য বিন্দু তৈরি করে।এই গতিশীলতা বোঝা আমাদের অর্থনীতির কার্যকারিতা এবং বাজারের বিভিন্ন শক্তি কীভাবে কাজ করে তা জানতে সাহায্য করে।ভারসাম্য কোনো স্থির অবস্থা নয়, বরং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া যা ক্রমাগত পরিবর্তনশীল।
🎨 চাহিদার বৃদ্ধি 💰 চাহিদার হ্রাস 📦 যোগানের বৃদ্ধি 📉 যোগানের হ্রাস ➕ চাহিদা ও যোগানের যুগপৎ বৃদ্ধি ➖ চাহিদা ও যোগানের যুগপৎ হ্রাস ⬆️ চাহিদার বৃদ্ধি ও যোগানের হ্রাস ⬇️ চাহিদার হ্রাস ও যোগানের বৃদ্ধি ✨ ভোক্তার রুচির পরিবর্তন 💵 আয় ও উপযোগের প্রভাব 🔗 সম্পর্কিত পণ্যের মূল্য ⚙️ প্রযুক্তিগত পরিবর্তন 💸 উৎপাদন ব্যয়ের পরিবর্তন 📜 সরকারি নীতিমালার প্রভাব 🔮 ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার প্রভাব 🧑🤝🧑 জনসংখ্যার পরিবর্তন 🌪️ প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব।
অ্যাডাম স্মিথ তার “দ্য ওয়েলথ অফ নেশনস” গ্রন্থে অদৃশ্য হাতের (Invisible Hand) ধারণাটি প্রবর্তন করেন, যা অনেকটা বাজার ভারসাম্যের স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়ার প্রতি ইঙ্গিত দেয়। ১৮৯০ সালে আলফ্রেড মার্শাল তার “প্রিন্সিপালস অফ ইকোনমিক্স” বইয়ে চাহিদা ও যোগান রেখার পারস্পরিক ছেদনের মাধ্যমে ভারসাম্যের ধারণাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন।১৯৩০ সালের মহামন্দার সময় চাহিদা হ্রাসের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট এই ভারসাম্য তত্ত্বের বাস্তব প্রমাণ ছিল।সাম্প্রতিক সময়ে, ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট ভোটের পর ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য হ্রাস পাওয়া বা ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারীর সময় মাস্কের চাহিদা বৃদ্ধি এই তত্ত্বের বাস্তব উদাহরণ।

