- readaim.com
- 0
উত্তর::ভূমিকা:- মানুষ সমাজে বসবাস করে এবং এই সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কিছু নিয়মকানুন তৈরি করা হয়। যখন কেউ সেই নিয়ম ভাঙে, তখন তাকে এর ফল ভোগ করতে হয়। এই ফল ভোগ করাকেই সাধারণভাবে আমরা শাস্তি বলে থাকি। শাস্তি একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা ন্যায়বিচার, প্রতিরোধ এবং সংশোধন সহ বিভিন্ন উদ্দেশ্য পূরণের জন্য সহজভাবে বলতে গেলে, শাস্তি হলো কোনো ভুল কাজ বা অপরাধের জন্য কাউকে দুঃখ দেওয়া বা তার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলা। এটি হতে পারে শারীরিক, মানসিক, ব্যবহৃত হয়। আসুন, সহজ ভাষায় আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করি।
আর্থিক বা অন্য কোনো ধরনের। শাস্তির মূল উদ্দেশ্য হলো অপরাধীকে তার ভুলের জন্য অনুতপ্ত করা, অন্যদের একই কাজ করা থেকে বিরত রাখা এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
সাধারণভাবে আমরা শাস্তি বলতে বুঝি কোনো অন্যায় কাজের ফলস্বরূপ ভোগান্তি। যখন কেউ চুরি করে, মিথ্যা বলে বা অন্য কোনো খারাপ কাজ করে, তখন তাকে এর পরিণতিস্বরূপ তিরস্কার, জরিমানা, কারাদণ্ড বা অন্য কোনো ধরনের কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়। আমাদের মনে এই ধারণা বদ্ধমূল যে খারাপ কাজের ফল খারাপই হবে এবং শাস্তি সেই খারাপ ফলেরই একটি অংশ।
বিভিন্ন বিজ্ঞানী, মনীষী, গবেষক ও অধ্যাপক শাস্তি সম্পর্কে বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। নিচে তাদের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সংজ্ঞা ইংরেজি নামসহ উল্লেখ করা হলো:
১.জেমস ফিটসজেমস স্টিফেন (James Fitzjames Stephen): “শাস্তি হলো আইনের শাসনের অধীনে ইচ্ছাকৃতভাবে দুঃখ দেওয়া, যা অপরাধীকে বা অন্যদের অনুরূপ অপরাধ করা থেকে বিরত রাখার জন্য প্রয়োগ করা হয়।” (Punishment is the intentional infliction of suffering on a wrongdoer under the authority of law, for the purpose of deterring the wrongdoer or others from committing similar offenses.)
২.ইমানুয়েল কান্ট (Immanuel Kant): “শাস্তি হলো ন্যায়বিচারের একটি অপরিহার্য অংশ এবং এটি কেবলমাত্র এই কারণে আরোপ করা উচিত যে ব্যক্তি অপরাধ করেছে।” (Punishment is a categorical imperative of justice and should be inflicted solely because a person has committed a crime.)
৩. জেরেমি বেন্থাম (Jeremy Bentham): “শাস্তির লক্ষ্য হলো বৃহত্তর সুখ অর্জন করা, অর্থাৎ এটি এমনভাবে প্রয়োগ করা উচিত যাতে এটি অপরাধীকে সংশোধন করে এবং অন্যদের অপরাধ করা থেকে বিরত রাখে।” (The object of punishment is the attainment of greater happiness, that is, it should be inflicted in such a way as to reform the offender and deter others from committing similar offenses.)
৪. এমিল ডুরখেইম (Émile Durkheim): “শাস্তি হলো সমাজের নৈতিক অনুভূতিগুলির একটি অভিব্যক্তি এবং এটি সামাজিক সংহতি বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয়।” (Punishment is essentially an expression of the moral sentiments of society and is necessary for the maintenance of social solidarity.)
৫. মিশেল ফুকো (Michel Foucault): “শাস্তি হলো ক্ষমতার একটি কৌশল যা সমাজের মধ্যে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়।” (Punishment is a technique of power that is used to maintain order and control within society.)
৬. সিডনি শ্যুট (Sidney Shoham): “শাস্তি হলো একটি সামাজিক নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া যা নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের উপর বেদনাদায়ক বা অপছন্দনীয় পরিণতি আরোপ করে সমাজের মূল্যবোধ ও নিয়মকানুনকে শক্তিশালী করে।” (Punishment is a social control mechanism through which society reinforces its values and norms by imposing painful or unpleasant consequences on those who violate its rules.)
৭.ডুরখেইম (Durkheim): “শাস্তি হলো সমাজের একটি অনুষ্ঠান, যা নৈতিক ঐক্য বজায় রাখে।” (Punishment is a social institution that maintains moral unity.)
৮.বেন্টাম (Bentham): “শাস্তি হলো অপরাধের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে একটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।” (Punishment is a necessary tool to reduce the harmful effects of crime.)
৯.ফ্রয়েড (Freud): “শাস্তি হলো অপরাধীর অপরাধবোধ থেকে মুক্তির উপায়।” (Punishment is a way to relieve the guilt of the offender.)
১০.স্কিনার (Skinner): “শাস্তি হলো আচরণ নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল।” (Punishment is a technique for behavior control.)
১১.ফুকো (Foucault): “শাস্তি হলো ক্ষমতা প্রদর্শনের একটি মাধ্যম।” (Punishment is a means of demonstrating power.)
উপরের সংজ্ঞাগুলির আলোকে আমরা শাস্তি কে এভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারি: শাস্তি হলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত বিধি ভঙ্গের প্রতিক্রিয়ায় আরোপিত এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে অপরাধীকে তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত করা, অন্যদের অনুরূপ অপরাধ করা থেকে নিবৃত্ত করা এবং সমাজে ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা হয়।
শাস্তির বিভিন্ন ধরন:-
মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নিয়মনীতি প্রণয়ন করা হয়। যখন কেউ সেই নিয়মনীতি ভঙ্গ করে, তখন তাকে শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়। শাস্তি কেবল অপরাধীকে সংশোধন করার উদ্দেশ্যেই দেওয়া হয় না, বরং সমাজের অন্যান্য সদস্যদেরকেও অপরাধ করা থেকে বিরত রাখে। বিভিন্ন যুগে, বিভিন্ন সমাজে শাস্তির রূপ ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। এই প্রবন্ধে আমরা শাস্তির বিভিন্ন ধরন নিয়ে আলোচনা করব।
১.শারীরিক শাস্তি (Physical Punishment): এটি শাস্তির প্রাচীনতম রূপ। এখানে অপরাধীকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। যেমন – বেত্রাঘাত, কারাবাস, অঙ্গচ্ছেদ ইত্যাদি। প্রাচীনকালে এই ধরনের শাস্তি বহুল প্রচলিত ছিল। এমনকি উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়েও অনেক দেশে ছোটখাটো অপরাধের জন্য শারীরিক শাস্তির বিধান ছিল। তবে বর্তমানে মানবাধিকারের ধারণার বিকাশের সাথে সাথে এই ধরনের শাস্তির প্রয়োগ অনেক কমে এসেছে। কিছু রক্ষণশীল সমাজে এখনও এর প্রচলন দেখা যায়।
২.অর্থনৈতিক শাস্তি (Economic Punishment): এই ধরনের শাস্তিতে অপরাধীকে আর্থিকভাবে দণ্ডিত করা হয়। যেমন – জরিমানা, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা ইত্যাদি। এই শাস্তি মূলত সেইসব অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে আর্থিক লাভের উদ্দেশ্য থাকে। জরিমানার পরিমাণ অপরাধের গুরুত্ব এবং অপরাধীর আর্থিক অবস্থার উপর নির্ভর করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অর্থনৈতিক শাস্তি অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
৩.সামাজিক শাস্তি (Social Punishment): যখন কোন ব্যক্তি সমাজের norms বা রীতিনীতি ভঙ্গ করে, তখন সমাজ তাকে বিভিন্নভাবে শাস্তি দিতে পারে। যেমন – সামাজিকভাবে বয়কট করা, নিন্দা করা, পদাবনতি ঘটানো ইত্যাদি। এই ধরনের শাস্তি ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ও আত্মসম্মানের উপর আঘাত হানে। অনেক সময় এই শাস্তি শারীরিক বা অর্থনৈতিক শাস্তির চেয়েও বেশি কষ্টকর হতে পারে। বিভিন্ন সামাজিক জরিপে দেখা গেছে, সামাজিক অপবাদ অনেক সময় অপরাধীকে পুনরায় অপরাধ করতে উৎসাহিত করে।
৪.মানসিক শাস্তি (Psychological Punishment): এই ধরনের শাস্তিতে অপরাধীর মানসিক কষ্টের কারণ ঘটানো হয়। যেমন – ভয় দেখানো, অপমান করা, নিঃসঙ্গ করে রাখা ইত্যাদি। কারাবাসের সময় অনেক বন্দী এই ধরনের মানসিক কষ্টের শিকার হন। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, মানসিক শাস্তি দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং অপরাধীর মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটাতে পারে।
৫.শ্রমমূলক শাস্তি (Labor Punishment): এই শাস্তিতে অপরাধীকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে শারীরিক শ্রম করতে হয়। যেমন – রাস্তা পরিষ্কার করা, নির্মাণ কাজে সাহায্য করা ইত্যাদি। এই ধরনের শাস্তি একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় কাজে সাহায্য করে, তেমনি অপরাধীকে তার ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ দেয়। উনিশ শতকে অনেক ঔপনিবেশিক দেশে এই ধরনের শাস্তির প্রচলন ছিল।
৬.প্রবেশাধিকার সীমিতকরণ (Restriction of Access): কিছু ক্ষেত্রে অপরাধীকে নির্দিষ্ট স্থানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। যেমন – কোন স্টেডিয়ামে দর্শক হিসেবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাসের উপর নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি। এই ধরনের শাস্তি সাধারণত সেইসব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় যেখানে অপরাধীর উপস্থিতি অন্যদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
৭.প্রবেশন (Probation): এটি একটি শর্তসাপেক্ষ মুক্তি। এখানে অপরাধীকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভালো আচরণের অঙ্গীকারে মুক্তি দেওয়া হয়। এই সময়কালে তাকে কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে থাকতে হয় এবং কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হতে পারে। বিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে উন্নত দেশগুলোতে এই ধরনের শাস্তি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
৮.প্যারোল (Parole): এটি কারাবাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি। প্যারোলের ক্ষেত্রেও অপরাধীকে কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। কারা কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় ভালো আচরণের জন্য বন্দীকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।
৯.সাময়িক বরখাস্ত (Suspension): সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা নিয়ম ভঙ্গ করলে তাদেরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হতে পারে। এটি এক ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক শাস্তি।
১০.লাইসেন্স বাতিল (License Revocation): কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে, যেমন – ড্রাইভিং লাইসেন্স, পেশাদারী লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে। এটি অপরাধীর জীবনযাত্রার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
১১.অনলাইন নিষেধাজ্ঞা (Online Restriction): বর্তমানে সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীকে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
১২.পুনর্বাসন (Rehabilitation): এটি শাস্তির একটি আধুনিক ধারণা। এখানে অপরাধীকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। যেমন – বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ইত্যাদি। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পুনর্বাসনমূলক পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদী অপরাধ কমাতে সহায়ক।
১৩.নিবর্তনমূলক শাস্তি (Deterrent Punishment): এই শাস্তির উদ্দেশ্য হলো অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে অন্যদের একই ধরনের অপরাধ করা থেকে বিরত রাখা। শাস্তির কঠোরতা এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
১৪.প্রতিশোধমূলক শাস্তি (Retributive Punishment): এই ধরনের শাস্তির মূল ধারণা হলো “চোখের বদলে চোখ”। অপরাধী যে ধরনের ক্ষতি করেছে, তাকে সেই ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন করা। যদিও আধুনিক আইনে এই ধরনের শাস্তির প্রচলন কম, তবে জনমনে এর প্রভাব এখনও দেখা যায়।
১৫.ক্ষতিপূরণ (Compensation): অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীকে ভুক্তভোগীকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এটি ভুক্তভোগীর ক্ষয়ক্ষতি পূরণে সহায়ক।
১৬.সৃজনশীল শাস্তি (Creative Punishment): সাম্প্রতিককালে কিছু অভিনব ধরনের শাস্তির প্রচলন দেখা যায়, যেখানে অপরাধীকে সমাজের জন্য ইতিবাচক কিছু কাজ করতে বাধ্য করা হয়। যেমন – পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, বয়স্কদের সাহায্য করা ইত্যাদি।
১৭.সামাজিক সেবা (Community Service): এই শাস্তিতে অপরাধীকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সমাজের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে হয়। যেমন – হাসপাতাল বা স্কুলে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করা।
১৮.গৃহবন্দী (House Arrest): কিছু ক্ষেত্রে অপরাধীকে তার বাড়িতেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্দী রাখা হয় এবং ইলেকট্রনিক ট্যাগের মাধ্যমে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
১৯.মৃত্যুদণ্ড (Capital Punishment): এটি শাস্তির চরম রূপ। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কিছু দেশে এখনও এই শাস্তি প্রচলিত আছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করে।
২০.নির্বাসন (Exile): ঐতিহাসিককালে এই শাস্তি প্রচলিত ছিল, যেখানে অপরাধীকে তার দেশ থেকে বহিষ্কার করা হতো। বর্তমানে এর প্রচলন তেমন নেই।
২১.প্রতিকারমূলক ন্যায়বিচার (Restorative Justice): এটি শাস্তির একটি আধুনিক ধারণা, যেখানে অপরাধী, ভুক্তভোগী এবং সমাজের অন্যান্য সদস্যরা একসাথে বসে অপরাধের কারণ ও প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে এবং সমাধানের পথ খোঁজে।
উপসংহার:- শাস্তির ধারণা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে। প্রাচীনকালে যেখানে শারীরিক শাস্তিই ছিল প্রধান, বর্তমানে অপরাধীকে সংশোধনের উপর বেশি জোর দেওয়া হয়। বিভিন্ন ধরনের শাস্তির নিজস্ব উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা রয়েছে। একটি ন্যায়সঙ্গত ও কার্যকর বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য অপরাধের প্রকৃতি ও গুরুত্ব বিবেচনা করে সঠিক শাস্তির প্রয়োগ অপরিহার্য।
শারীরিক শাস্তি, অর্থনৈতিক শাস্তি, সামাজিক শাস্তি, মানসিক শাস্তি, শ্রমমূলক শাস্তি, প্রবেশাধিকার সীমিতকরণ, প্রবেশন, প্যারোল, সাময়িক বরখাস্ত, লাইসেন্স বাতিল, অনলাইন নিষেধাজ্ঞা, পুনর্বাসন, নিবর্তনমূলক শাস্তি, প্রতিশোধমূলক শাস্তি, ক্ষতিপূরণ, সৃজনশীল শাস্তি, সামাজিক সেবা, গৃহবন্দী, মৃত্যুদণ্ড, নির্বাসন, প্রতিকারমূলক ন্যায়বিচার।
২০২১ সালের ইউনাইটেড নেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের ৩৩% দেশে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করা হয়েছে। ১৯৮৭ সালে ফিলিপাইনে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহাল করা হলেও ২০০৬ সালে তা আবার বন্ধ হয়। ভারতে ২০১৫ সালে যৌন অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির আইন করা হয়। বাংলাদেশে ২০২০ সালে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মাধ্যমে অনলাইন অপরাধের শাস্তি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

