• Home
  • Class 0-12
  • Masters
  • Honours
  • Degree
  • Grammar
    • Bangla Grammar
    • English Grammar
    • Arabic Grammar
  • Computer
    • MS Word
  • Jobs Study
    • BCS
    • Bank
    • Primary
    • Govt. job
    • Nibandhon
    • Medical Admission
    • University Admission
    • Army/Police/BDR/Anchar
  • Jobs
  • News
  • Tools
    • আনা গন্ডা ক্যালকুলেটর
    • Copyable PDF maker
    •  PDF to Excel
    •  Word to PDF
    • Add and remove PDF watermark
    • Add Page Numbers
    • Merge PDF files
    • Organize PDF
    • PDF to image
    • PDF to PowerPoint
    • PDF to Word
    • PowerPoint to PDF
    • Remove PDF Pages
    • Rotate PDF
    • Separate PDF | Split
    • Image to PDF
    • Home
    • Class 0-12
    • Masters
    • Honours
    • Degree
    • Grammar
      • Bangla Grammar
      • English Grammar
      • Arabic Grammar
    • Computer
      • MS Word
    • Jobs Study
      • BCS
      • Bank
      • Primary
      • Govt. job
      • Nibandhon
      • Medical Admission
      • University Admission
      • Army/Police/BDR/Anchar
    • Jobs
    • News
    • Tools
      • আনা গন্ডা ক্যালকুলেটর
      • Copyable PDF maker
      •  PDF to Excel
      •  Word to PDF
      • Add and remove PDF watermark
      • Add Page Numbers
      • Merge PDF files
      • Organize PDF
      • PDF to image
      • PDF to PowerPoint
      • PDF to Word
      • PowerPoint to PDF
      • Remove PDF Pages
      • Rotate PDF
      • Separate PDF | Split
      • Image to PDF
  • mdreadaim@gmail.com
  • Bangladesh
Login
Read Aim

Read Aim

  • Home
  • Class 0-12
  • Masters
  • Honours
  • Degree
  • Grammar
    • Bangla Grammar
    • English Grammar
    • Arabic Grammar
  • Computer
    • MS Word
  • Jobs Study
    • BCS
    • Bank
    • Primary
    • Govt. job
    • Nibandhon
    • Medical Admission
    • University Admission
    • Army/Police/BDR/Anchar
  • Jobs
  • News
  • Tools
    • আনা গন্ডা ক্যালকুলেটর
    • Copyable PDF maker
    •  PDF to Excel
    •  Word to PDF
    • Add and remove PDF watermark
    • Add Page Numbers
    • Merge PDF files
    • Organize PDF
    • PDF to image
    • PDF to PowerPoint
    • PDF to Word
    • PowerPoint to PDF
    • Remove PDF Pages
    • Rotate PDF
    • Separate PDF | Split
    • Image to PDF
  • readaim.com
  • 0

প্রশ্ন:- সেন্ট টমাস একুইনাসের জ্ঞানতত্ত্ব ব্যাখ্য কর।

উত্তর::ভূমিকা: সেন্ট টমাস একুইনাসের জ্ঞানতত্ত্ব মধ্যযুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক ধারণা। তিনি অ্যারিস্টটলীয় দর্শন এবং খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্বের মধ্যে একটি সুন্দর সমন্বয় ঘটান। তাঁর মতে, জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া মানুষের মন এবং ইন্দ্রিয় উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি বিশ্বাস করতেন যে ঈশ্বর হলেন চূড়ান্ত সত্য এবং মানুষের জ্ঞান সেই সত্যের দিকে পরিচালিত হতে পারে। একুইনাসের এই জ্ঞানতত্ত্ব মধ্যযুগের ধর্মীয় ও দার্শনিক চিন্তাধারাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। 🧠

সেন্ট টমাস একুইনাসের জ্ঞানতত্ত্ব: -

সেন্ট টমাস একুইনাসের জ্ঞানতত্ত্ব হলো জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া এবং তার সত্যতা নিয়ে একটি সুসংহত দার্শনিক আলোচনা। এটি প্রধানত অ্যারিস্টটলের দর্শন দ্বারা প্রভাবিত হলেও, একুইনাস এটিকে খ্রিস্টান ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে একীভূত করেছেন। তিনি মনে করতেন, মানুষের জ্ঞান দুইটি উৎস থেকে আসে: ইন্দ্রিয়লব্ধ অভিজ্ঞতা এবং ঐশ্বরিক প্রকাশ। ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে আমরা বস্তু জগৎ সম্পর্কে ধারণা পাই, আর যুক্তি ও বুদ্ধির সাহায্যে সেই ধারণাগুলোকে বিশ্লেষণ করি। এর মাধ্যমে আমরা সার্বিক সত্যের দিকে অগ্রসর হই।

সেন্ট টমাস একুইনাসের জ্ঞানতত্ত্বের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ: -

১. জ্ঞান অভিজ্ঞতালব্ধ: একুইনাসের মতে, মানুষের সকল জ্ঞানের শুরু হয় ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতার মাধ্যমে। তিনি বিশ্বাস করতেন যে মন জন্মগতভাবে কোনো ধারণার অধিকারী নয়; বরং, এটি একটি “ট্যাবুলারাসা” বা ফাঁকা স্লেটের মতো। ইন্দ্রিয়গুলো বাইরের জগতের বস্তু থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এবং এই তথ্যগুলোই মনের মধ্যে ধারণার জন্ম দেয়। উদাহরণস্বরূপ, আমরা একটি আপেল দেখি, তার রঙ, আকার, স্বাদ ও গন্ধ অনুভব করি, এবং এই সব অভিজ্ঞতার সমষ্টি থেকেই আপেল সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান তৈরি হয়। সুতরাং, অভিজ্ঞতা ছাড়া কোনো জ্ঞান সম্ভব নয়।

২. ইন্দ্রিয় ও বুদ্ধি: জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়ায় ইন্দ্রিয় ও বুদ্ধি একে অপরের পরিপূরক। ইন্দ্রিয়গুলো বাহ্যিক বস্তু সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য সরবরাহ করে, যা বুদ্ধি সেই তথ্যগুলোকে বিশ্লেষণ করে এবং সাধারণ ধারণায় পরিণত করে। একটি শিশু যখন প্রথমবার একটি বল দেখে, তার চোখ বলটির গোলাকার আকৃতি ও রঙ দেখতে পায়। তার বুদ্ধি এই গোলাকার আকৃতি ও রঙের ধারণাগুলোকে একত্রিত করে এবং “বল” নামক একটি সাধারণ ধারণা তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় ইন্দ্রিয়গুলো হলো তথ্যের প্রবেশদ্বার আর বুদ্ধি হলো সেই তথ্যের প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র।

৩. প্রতিনিধিত্বমূলক বাস্তবতা: একুইনাস মনে করতেন, আমাদের জ্ঞান বাইরের জগতের বস্তুকে প্রতিনিধিত্ব করে। এর মানে হলো, আমাদের মনে যে ধারণাগুলো তৈরি হয়, সেগুলো সরাসরি বস্তুর প্রতিচ্ছবি না হলেও, বস্তুর মৌলিক রূপ বা সারমর্মকে ধারণ করে। উদাহরণস্বরূপ, যখন আমরা একটি ঘোড়া দেখি, আমাদের মনে ঘোড়ার একটি ধারণা তৈরি হয়, যা সব ঘোড়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলোকে তুলে ধরে। এই ধারণাটি কেবল একটি নির্দিষ্ট ঘোড়ার নয়, বরং সকল ঘোড়ার সারমর্মকে প্রকাশ করে। এটিই জ্ঞানকে বস্তুনিষ্ঠ করে তোলে।

৪. বুদ্ধির সক্রিয় ভূমিকা: জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে বুদ্ধির সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। একুইনাস মানুষের মনকে কেবল নিষ্ক্রিয় গ্রাহক হিসেবে দেখেননি, বরং একে একটি সক্রিয় শক্তি হিসেবে দেখতেন। তিনি মনে করতেন, মানুষের বুদ্ধি ইন্দ্রিয়লব্ধ তথ্যকে বিশ্লেষণ করে, বিমূর্ত করে এবং সার্বিক ধারণা তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াকে তিনি বিমূর্তায়ন (abstraction) বলেছেন। যেমন, আমরা যখন অনেকগুলো ত্রিভুজ দেখি, তখন আমাদের বুদ্ধি তাদের আকার, রঙ, এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বাদ দিয়ে শুধু “তিনটি বাহু” এবং “তিনটি কোণ” এই মৌলিক ধারণাটি বের করে আনে। এটিই ত্রিভুজের সাধারণ ধারণা।

৫. বিশেষ জ্ঞান থেকে সার্বিক জ্ঞান: একুইনাসের জ্ঞানতত্ত্ব অনুসারে, জ্ঞান বিশেষ থেকে সার্বিকের দিকে অগ্রসর হয়। আমরা প্রথমে একটি নির্দিষ্ট বা বিশেষ বস্তু সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করি, যেমন: “এই আপেলটি লাল”। এরপর, এই ধরনের অসংখ্য অভিজ্ঞতা থেকে আমরা একটি সার্বিক ধারণায় উপনীত হই, যেমন: “সকল আপেলই ফল”। এই প্রক্রিয়াটি হলো আরোহমূলক যুক্তি (inductive reasoning) এর একটি রূপ। এটিই আমাদের জ্ঞানের ভিত্তি তৈরি করে, যা পরবর্তীতে আমরা অন্য বস্তুর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করতে পারি।

৬. যুক্তি ও বিশ্বাস: একুইনাস যুক্তি ও বিশ্বাসকে জ্ঞান অর্জনের দুটি ভিন্ন কিন্তু সামঞ্জস্যপূর্ণ পথ হিসেবে দেখতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে যুক্তি দিয়ে আমরা বস্তু জগৎ ও ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে কিছু জ্ঞান লাভ করতে পারি। তবে, ধর্মীয় বিশ্বাস বা ঐশ্বরিক প্রকাশ (divine revelation) এর মাধ্যমে আমরা এমন কিছু জ্ঞান লাভ করি যা শুধু যুক্তি দিয়ে বোঝা সম্ভব নয়। যেমন, ত্রিত্ববাদের ধারণা (Trinity) হলো একটি বিশ্বাসের বিষয়, যা যুক্তি দিয়ে সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। তাই, যুক্তি ও বিশ্বাস একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পরিপূরক।

৭. অ্যারিস্টটলীয় প্রভাব: একুইনাসের জ্ঞানতত্ত্বে অ্যারিস্টটলের দর্শনের গভীর প্রভাব রয়েছে। তিনি অ্যারিস্টটলের “ফর্ম” (form) ও “ম্যাটার” (matter) এর ধারণা গ্রহণ করেন। একুইনাসের মতে, বস্তুর “ফর্ম” বা রূপই হলো তার সারমর্ম বা মূল প্রকৃতি, যা আমাদের বুদ্ধি বিমূর্ত করে। যেমন, একটি কাঠের টেবিলের “ম্যাটার” হলো কাঠ, কিন্তু তার “ফর্ম” হলো টেবিলত্ব, যা তাকে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনকারী বস্তু হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। এই ফর্ম বা রূপটিই আমাদের জ্ঞানের বিষয়বস্তু।

৮. ঐশ্বরিক আলোকন নয়: অগাস্টিনের মতো সেন্ট টমাস একুইনাস মনে করতেন না যে মানুষের জ্ঞান ঈশ্বরের ঐশ্বরিক আলোকনের উপর নির্ভরশীল। অগাস্টিন বিশ্বাস করতেন যে মানুষ যখন কোনো চিরন্তন সত্য উপলব্ধি করে, তখন ঈশ্বর সরাসরি তার মনকে আলোকিত করেন। একুইনাস এই ধারণাটির পরিবর্তে অ্যারিস্টটলীয় “সক্রিয় বুদ্ধি” (active intellect) এর ধারণাটি গ্রহণ করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে মানুষের নিজস্ব সক্রিয় বুদ্ধিই ইন্দ্রিয়লব্ধ তথ্যকে বিমূর্ত করে সার্বিক ধারণা তৈরি করতে সক্ষম, এর জন্য সরাসরি ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।

৯. জ্ঞানের ভিত্তি: একুইনাসের মতে, জ্ঞানের ভিত্তি হলো বস্তুর সারমর্ম। যখন আমরা কোনো বস্তু সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করি, তখন আমরা সেই বস্তুর বাহ্যিক বা পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্যগুলো নয়, বরং তার মৌলিক ও অপরিবর্তনীয় সারমর্মকে উপলব্ধি করি। উদাহরণস্বরূপ, আমরা যখন একটি মানুষ সম্পর্কে জানি, তখন আমরা তার উচ্চতা, চুলের রঙ, বা পোশাকের মতো পরিবর্তনশীল বিষয়গুলো নিয়ে নয়, বরং “মানুষত্ব” (humanity) নামক তার মৌলিক সারমর্মটি নিয়ে জ্ঞান লাভ করি। এই সারমর্মই হলো আমাদের জ্ঞানের মূল বিষয়।

১০. জ্ঞানের প্রকৃতি: একুইনাসের মতে, জ্ঞান হলো মনের মধ্যে বস্তুর রূপ ধারণ করা। এর মানে হলো, যখন আমরা কোনো কিছু জানি, তখন সেই বস্তুর সারমর্ম বা তার রূপটি আমাদের মনের মধ্যে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিচ্ছবি তৈরি করে। এই প্রতিচ্ছবিটি বাস্তব বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটিই আমাদের জ্ঞানকে সত্য করে তোলে। যখন আমরা একটি ফুলের কথা ভাবি, তখন সেই ফুলের রূপটি আমাদের মনে থাকে, যা আমাদের বাস্তব ফুলের জ্ঞানকে প্রকাশ করে। এই রূপের ধারণাই জ্ঞানকে বস্তুনিষ্ঠ করে।

১১. বুদ্ধিবৃত্তিক ধারণা: একুইনাস বিশ্বাস করতেন যে জ্ঞান অর্জন প্রক্রিয়া বুদ্ধিবৃত্তিক ধারণা (intellectual concept) তৈরির উপর নির্ভরশীল। ইন্দ্রিয়গুলো বাহ্যিক তথ্য সরবরাহ করলেও, এই তথ্যগুলো বুদ্ধিবৃত্তিক ধারণায় পরিণত না হওয়া পর্যন্ত তা প্রকৃত জ্ঞান হিসেবে গণ্য হয় না। একটি শিশু যখন “কুকুর” শব্দটি শেখে, সে প্রথমে বিভিন্ন ধরনের কুকুর দেখে। তার বুদ্ধি এই সব কুকুরের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো (যেমন, চারটি পা, একটি লেজ) একত্রিত করে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ধারণা তৈরি করে। এই ধারণাই তাকে যেকোনো কুকুরকে চিনতে সাহায্য করে।

১২. সত্যের প্রকৃতি: একুইনাসের মতে, সত্য হলো মনের সাথে বাস্তবতার সামঞ্জস্য। এর অর্থ হলো, যখন আমাদের মনে থাকা কোনো ধারণা বাস্তব জগতের সাথে মিলে যায়, তখন সেই ধারণাটি সত্য হয়। উদাহরণস্বরূপ, “বৃষ্টি হচ্ছে” এই বাক্যটি সত্য হবে যদি বাস্তবে বৃষ্টি পড়ে। যদি বৃষ্টি না পড়ে, তাহলে বাক্যটি মিথ্যা হবে। এই ধরনের সত্যকে তিনি “সামঞ্জস্যমূলক সত্য” (correspondence theory of truth) বলেছেন। এটি হলো জ্ঞানের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করার একটি উপায়।

১৩. জ্ঞানের স্তর: একুইনাস জ্ঞানকে বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত করেছেন। প্রথম স্তর হলো ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞান, যা আমাদের ইন্দ্রিয়গুলো থেকে আসে। দ্বিতীয় স্তর হলো বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, যা ইন্দ্রিয়লব্ধ তথ্যকে বিশ্লেষণ করে এবং কার্যকারণ সম্পর্ক স্থাপন করে। তৃতীয় স্তর হলো ঐশ্বরিক জ্ঞান, যা বিশ্বাসের মাধ্যমে এবং ঐশ্বরিক প্রকাশের মাধ্যমে লাভ করা যায়। তিনি মনে করতেন, এই স্তরগুলো একে অপরের পরিপূরক এবং একটি স্তর থেকে আরেকটি স্তরে উন্নীত হওয়া যায়। এই স্তরবিন্যাস জ্ঞান অর্জনের একটি সুশৃঙ্খল পথ দেখায়।

১৪. মনোবিজ্ঞান ও জ্ঞান: একুইনাসের জ্ঞানতত্ত্ব মনোবিজ্ঞানের সাথেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। তিনি মানুষের মনকে একটি শক্তি বা ক্ষমতা হিসেবে দেখতেন, যা ইন্দ্রিয়লব্ধ তথ্যকে প্রক্রিয়াকরণ করে জ্ঞান তৈরি করে। তিনি ইন্দ্রিয়গুলোকে ‘বাহ্যিক’ (external) ও ‘অভ্যন্তরীণ’ (internal) দুটি ভাগে ভাগ করেছেন। বাহ্যিক ইন্দ্রিয়গুলো সরাসরি বস্তু থেকে তথ্য সংগ্রহ করে, আর অভ্যন্তরীণ ইন্দ্রিয়গুলো (যেমন কল্পনাশক্তি ও স্মৃতি) সেই তথ্যগুলোকে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ করে। এই মনোবিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়াকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

১৫. ঈশ্বর ও জ্ঞান: একুইনাসের জ্ঞানতত্ত্বের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ঈশ্বরকে জানা। তিনি মনে করতেন, যেহেতু ঈশ্বর হলেন সকল সত্যের উৎস, তাই মানুষের জ্ঞান যত উন্নত হয়, ততই সে ঈশ্বরের দিকে অগ্রসর হয়। তিনি যুক্তি দিয়ে ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন, যা “ঈশ্বরের অস্তিত্বের পাঁচটি পথ” (Five Ways) নামে পরিচিত। এই পাঁচটি পথে তিনি বস্তু জগৎ থেকে ঈশ্বরের অস্তিত্বের দিকে অগ্রসর হয়েছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে, মানুষের জ্ঞান কেবল বস্তু জগৎ নিয়েই নয়, বরং তার চেয়েও উচ্চতর ঐশ্বরিক সত্যের দিকে পরিচালিত হয়।

১৬. ঐশ্বরিক প্রকাশ: একুইনাসের মতে, ঐশ্বরিক প্রকাশ (Divine Revelation) হলো জ্ঞানের একটি বিশেষ উৎস। মানুষের বুদ্ধি ও যুক্তি দিয়ে সব সত্য জানা সম্ভব নয়। কিছু সত্য, যেমন ঈশ্বরের প্রকৃতি বা মানুষের পরিত্রাণ, শুধুমাত্র ঈশ্বরের সরাসরি প্রকাশের মাধ্যমে জানা সম্ভব। এই প্রকাশ বাইবেল বা ধর্মীয় ঐতিহ্যের মাধ্যমে আসে। তিনি মনে করতেন, ঐশ্বরিক প্রকাশ মানবীয় যুক্তির বিরোধী নয়, বরং এটি যুক্তির সীমাবদ্ধতাকে পূর্ণ করে এবং আমাদের জ্ঞানকে আরও গভীর করে তোলে।

১৭. সার্বজনীনতা: একুইনাসের জ্ঞানতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সার্বজনীন ধারণা (universal concept)। তিনি বিশ্বাস করতেন, আমাদের বুদ্ধি কেবল বিশেষ বস্তু নিয়েই কাজ করে না, বরং সেই বিশেষ বস্তু থেকে সার্বজনীন বা সাধারণ ধারণা তৈরি করে। যেমন, আমরা যখন অনেকগুলো সাদা বস্তু দেখি, তখন আমাদের বুদ্ধি সেই সব বস্তুর সাধারণ বৈশিষ্ট্যটি অর্থাৎ “শুভ্রতা” নামক একটি সার্বজনীন ধারণা তৈরি করে। এই ধরনের সার্বজনীন ধারণাই আমাদের জ্ঞানকে সংগঠিত এবং অর্থবহ করে তোলে।

১৮. জ্ঞানের মূল্য: একুইনাস জ্ঞানকে মানুষের জীবনের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান মনে করতেন। তাঁর মতে, জ্ঞান মানুষকে তার নিজস্ব প্রকৃতি এবং মহাবিশ্বে তার অবস্থান বুঝতে সাহায্য করে। এটি মানুষকে নৈতিকভাবে উন্নত হতে এবং ঈশ্বরের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে সহায়তা করে। জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমেই মানুষ সত্য ও মঙ্গলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। তাই, জ্ঞান কেবল একটি বুদ্ধিবৃত্তিক অনুশীলন নয়, বরং মানুষের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক জীবনের জন্য অপরিহার্য।

উপসংহার: সেন্ট টমাস একুইনাসের জ্ঞানতত্ত্ব মধ্যযুগের দর্শনকে নতুন পথে চালিত করেছে। তিনি যুক্তি ও বিশ্বাসের মধ্যে এক সুন্দর ভারসাম্য তৈরি করে দেখিয়েছেন যে জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতা থেকে শুরু হয়ে বুদ্ধির মাধ্যমে সার্বিক সত্যের দিকে অগ্রসর হয়। তাঁর দর্শন মানুষের জ্ঞানকে শুধুমাত্র বস্তু জগৎ নিয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে ঈশ্বরের মতো চূড়ান্ত সত্যের দিকেও প্রসারিত করে। একুইনাসের এই জ্ঞানতত্ত্ব আজও দার্শনিক ও ধর্মতাত্ত্বিকদের কাছে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। 

একনজরে উত্তর দেখুন

১. 💡 জ্ঞান অভিজ্ঞতালব্ধ
২. 🤝 ইন্দ্রিয় ও বুদ্ধি
৩. 🖼️ প্রতিনিধিত্বমূলক বাস্তবতা
৪. 🧠 বুদ্ধির সক্রিয় ভূমিকা
৫. ⬆️ বিশেষ জ্ঞান থেকে সার্বিক জ্ঞান
৬. 🙏 যুক্তি ও বিশ্বাস
৭. 🏛️ অ্যারিস্টটলীয় প্রভাব
৮. 🕯️ ঐশ্বরিক আলোকন নয়
৯. 🔑 জ্ঞানের ভিত্তি
১০. 🌿 জ্ঞানের প্রকৃতি
১১. ✍️ বুদ্ধিবৃত্তিক ধারণা
১২. 🎯 সত্যের প্রকৃতি
১৩. 🪜 জ্ঞানের স্তর
১৪. 🧐 মনোবিজ্ঞান ও জ্ঞান
১৫. ✝️ ঈশ্বর ও জ্ঞান
১৬. 📖 ঐশ্বরিক প্রকাশ
১৭. 🌎 সার্বজনীনতা
১৮. 💎 জ্ঞানের মূল্য

প্রশ্নটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

সেন্ট টমাস একুইনাস ১২২৫ খ্রিস্টাব্দে ইতালির রকাসেকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মধ্যযুগের অন্যতম প্রভাবশালী দার্শনিক ও ধর্মতাত্ত্বিক। ১৩ শতকে তিনি ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অ্যারিস্টটলের দর্শনকে খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্বের সাথে একীভূত করার জন্য কাজ করেন। এই সময়ের মধ্যে, অ্যারিস্টটলের অনেক গ্রন্থ আরবি থেকে ল্যাটিনে অনূদিত হয়, যা একুইনাসের কাজকে প্রভাবিত করে। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “সুমা থিওলজিকা” (Summa Theologica), যা ১২৬৬ থেকে ১২৭৩ সালের মধ্যে রচিত, তার দর্শন ও ধর্মতত্ত্বের একটি সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে। এই গ্রন্থে তিনি তার জ্ঞানতত্ত্ব, ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ এবং অন্যান্য ধর্মতাত্ত্বিক বিষয়গুলো আলোচনা করেছেন। ১৩২৩ সালে পোপ জন ২২ তাকে সন্ত ঘোষণা করেন। সেন্ট টমাস একুইনাসের দর্শন মধ্যযুগের ধর্মতত্ত্ব ও দর্শনের একটি নতুন যুগের সূচনা করে, যা স্কলাস্টিসিজম নামে পরিচিত।

Tags: একুইনাসের জ্ঞানতত্ত্বসেন্ট টমাস একুইনাসসেন্ট টমাস একুইনাসের জ্ঞানতত্ত্ব
  • Previous সেন্ট টমাস একুইনাসের রাষ্ট্রদর্শন সংক্ষেপে আলোচনা কর।
  • Next সেন্ট অগাস্টিনের ন্যায়বিচার তত্ত্ব আলোচনা কর।
Read Aim

SUBSCRIBE

    JOB CIRCULAR

    • Media/Ads/Event Mngnt (145)
    • Medical/Pharmaceutical (123)
    • NGO/Organization (323)
    • Production/Operation (142)
    • Research/Consultancy (85)
    • Secretary/Receptionist (188)
    • Security/Support Service (99)
    • Others (59)

    LEARNING & EARNING

    • English Article
    • Bearded Dragon
    • Cats
    • Dogs
    • Guinea Pigs
    • Insurance
    • Lawyer
    • Rabbits
    • Earn Money Online
    • Others

    CATEGORIES

    • Computer (12)
    • DEGREE (4)
    • English Article (27)
    • GRAMMAR (138)
    • Health Tips (2)
    • Honours (1083)
    • Jobs (16)
    • Jobs Study (33)
    • News (1562)
    • PDF BOOK (78)

    RECENT POST

    মানব নিরাপত্তার প্রধান হুমকিসমূহ আলোচনা কর।
    পরিবেশগত নিরাপত্তা ধারণাটির সংজ্ঞা দাও। এই নিরাপত্তা কী দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে? ব্যাখ্যা কর।
    বাংলাদেশে স্বাস্থ্যহীনতার কারণ ও প্রতিকারসমূহ আলোচনা কর।
    বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার হুমকিসমূহ কী কী? আলোচনা কর।

    2025 All Rights Reserved readaim.com

    • Contact
    • About
    • Privacy
    • Blog
    • READ AIM