• Home
  • Class 0-12
  • Grammar
    • Bangla Grammar
    • English Grammar
    • Arabic Grammar
  • Computer
    • MS Word
  • Jobs Study
    • BCS
    • Bank
    • Primary
    • Govt. job
    • Nibandhon
    • Medical Admission
    • University Admission
    • Army/Police/BDR/Anchar
  • Jobs
  • News
  • Digital Tools
    • Home
    • Class 0-12
    • Grammar
      • Bangla Grammar
      • English Grammar
      • Arabic Grammar
    • Computer
      • MS Word
    • Jobs Study
      • BCS
      • Bank
      • Primary
      • Govt. job
      • Nibandhon
      • Medical Admission
      • University Admission
      • Army/Police/BDR/Anchar
    • Jobs
    • News
    • Digital Tools
  • mdreadaim@gmail.com
  • Read at Home
Login > Register
Read Aim
Read Aim
  • Home
  • Class 0-12
  • Grammar
    • Bangla Grammar
    • English Grammar
    • Arabic Grammar
  • Computer
    • MS Word
  • Jobs Study
    • BCS
    • Bank
    • Primary
    • Govt. job
    • Nibandhon
    • Medical Admission
    • University Admission
    • Army/Police/BDR/Anchar
  • Jobs
  • News
  • Digital Tools
  • readaim.com
  • 0

প্রশ্ন:- মানব প্রকৃতির রাজ্য ও সামাজিক চুক্তির ক্ষেত্রে হবস ও রুশোর মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা কর।

উত্তর।। মুখবন্ধ: রাজনৈতিক দর্শনের ইতিহাসে মানব প্রকৃতির অবস্থা এবং সামাজিক চুক্তির ধারণা দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই দুটি ধারণার উপর ভিত্তি করে টমাস হবস ও জ্যাঁ-জ্যাক রুশো সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি তত্ত্ব প্রদান করেছেন। রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে কেমন ছিল এবং কী কারণে তারা চুক্তিবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্র গঠন করল, এই মৌলিক প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তাদের দুজনের চিন্তাধারার পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। হবস যেখানে মানব প্রকৃতিকে দেখেছেন হতাশাব্যঞ্জক ও নৈরাজ্যপূর্ণ দৃষ্টিতে, রুশো সেখানে একে দেখেছেন সরল ও শান্তিপূর্ণ হিসেবে, যা তাদের সামাজিক চুক্তির ধারণাকেও ভিন্ন পথে চালিত করেছে।

মানব প্রকৃতির রাজ্য ও সামাজিক চুক্তির ক্ষেত্রে হবস ও রুশোর মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা -

১। মানব প্রকৃতির ধারণা: টমাস হবসের মতে, প্রকৃতির রাজ্যের মানুষ ছিল স্বভাবতই আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর এবং ক্ষমতালোভী। তার বিখ্যাত উক্তি অনুযায়ী, মানুষের জীবন ছিল “নিঃসঙ্গ, দরিদ্র, নোংরা, পাশবিক এবং ক্ষণস্থায়ী”। মানুষ একে অপরের সাথে এক চিরস্থায়ী যুদ্ধ লিপ্ত থাকত, যেখানে প্রত্যেকেই প্রত্যেকের শত্রু। অন্যদিকে, জ্যাঁ-জ্যাক রুশো মানব প্রকৃতিকে দেখেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিতে। রুশোর মতে, আদিম মানুষ ছিল একাকী, সরল এবং সুখী। সে ছিল ‘অভিজাত বর্বর’ (Noble Savage), যার মধ্যে কোনো হিংসা, বিদ্বেষ বা লোভ ছিল না এবং সে প্রকৃতির বুকে স্বাধীনভাবে বিচরণ করত।

২। প্রকৃতির রাজ্যের স্বরূপ: হবসের দৃষ্টি অনুযায়ী, প্রকৃতির রাজ্য ছিল এক কথায় অরাজকতার রাজ্য। সেখানে কোনো আইন, বিচার বা নৈতিকতার অস্তিত্ব ছিল না। ‘জোর যার মুল্লুক তার’ – এই নীতিই ছিল সেখানকার বাস্তবতা। প্রতিনিয়ত মৃত্যুভয় এবং নিরাপত্তাহীনতা মানুষকে তাড়িয়ে বেড়াত, যা এক অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। এর বিপরীতে, রুশোর প্রকৃতির রাজ্য ছিল শান্তিময় ও সম্প্রীতির। মানুষ সেখানে কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক কাঠামো ছাড়াই இயற்கার নিয়মে সুখে জীবনযাপন করত। সেখানে কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল না, তাই কোনো সংঘাতেরও অবকাশ ছিল না।

৩। সংঘাতের কারণ: হবস মনে করেন, প্রকৃতির রাজ্যে সংঘাতের মূল কারণ ছিল তিনটি: প্রতিযোগিতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং খ্যাতি লাভের আকাঙ্ক্ষা। মানুষ সীমিত সম্পদের জন্য একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করত, নিজের নিরাপত্তা নিয়ে সর্বদা শঙ্কিত থাকত এবং অন্যের উপর আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করতে চাইত। রুশোর মতে, প্রকৃতির রাজ্যে সংঘাতের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। সংঘাতের উদ্ভব হয় মূলত ব্যক্তিগত সম্পত্তির ধারণার বিকাশের ফলে। যখনই একজন মানুষ এক টুকরো জমিকে বেড়া দিয়ে বলল ‘এটা আমার’, এবং অন্যরা তা বিশ্বাস করল, তখন থেকেই সমাজে বৈষম্য ও সংঘাতের সূচনা হয়।

৪. চুক্তির প্রেরণা: হবসের তত্ত্বে, প্রকৃতির রাজ্যের ভয়াবহ এবং অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়াই ছিল সামাজিক চুক্তির মূল প্রেরণা। জীবন ও আত্মরক্ষার তাগিদে মানুষ নিজেদের মধ্যকার এই অনন্ত যুদ্ধ বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। এই ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা থেকে পরিত্রাণ পেতেই তারা একটি চুক্তিতে উপনীত হতে বাধ্য হয়। রুশোর ক্ষেত্রে, চুক্তির প্রেরণা ভয় থেকে নয়, বরং সভ্যতার বিকাশের ফলে উদ্ভূত সমস্যা থেকে এসেছে। ব্যক্তিগত সম্পত্তির উদ্ভব, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং মানুষের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হওয়ায় সেই আদিম সরলতা ও সুখ নষ্ট হয়ে যায়। এই হারানো স্বাধীনতা ও সাম্যকে একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর মাধ্যমে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই মানুষ চুক্তিবদ্ধ হয়।

৫. চুক্তির পক্ষসমূহ: হবসের সামাজিক চুক্তিতে, জনগণ নিজেদের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদন করে। তারা তাদের সমস্ত প্রাকৃতিক অধিকার একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী একজন সার্বভৌম শাসকের হাতে তুলে দেয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই চুক্তিতে সার্বভৌম শাসক কোনো পক্ষ নয়। জনগণ নিজেদের মধ্যে চুক্তি করে শাসককে ক্ষমতা অর্পণ করে, কিন্তু শাসক জনগণের কাছে কোনো প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ থাকেন না। রুশোর চুক্তিতে, জনগণ প্রত্যেকে প্রত্যেকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় এবং তাদের সমস্ত অধিকার ‘সাধারণ ইচ্ছা’র (General Will) কাছে সমর্পণ করে। এখানে কোনো একক শাসক নেই, বরং জনগণই সমষ্টিগতভাবে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হয়।

৬. সার্বভৌমত্বের অবস্থান: হবসের দর্শনে সার্বভৌমত্ব অবিভাজ্য, অসীম এবং এককেন্দ্রীক। সার্বভৌম শাসকের ক্ষমতা চূড়ান্ত এবং তার আদেশই আইন। জনগণ একবার ক্ষমতা স্থানান্তর করার পর তা আর ফিরিয়ে নিতে পারে না এবং শাসকের বিরোধিতা করার কোনো অধিকার তাদের থাকে না। তিনি মূলত নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রকে সমর্থন করেছেন। রুশোর মতে, সার্বভৌমত্ব জনগণের সমষ্টিগত ইচ্ছার মধ্যেই নিহিত, যা ‘সাধারণ ইচ্ছা’ নামে পরিচিত। এই সার্বভৌমত্ব অবিচ্ছেদ্য এবং অহস্তান্তরযোগ্য। জনগণ তাদের সার্বভৌম ক্ষমতা কোনো শাসকের হাতে তুলে দেয় না, বরং নিজেরাই এর ধারক ও বাহক। এটি মূলত জনপ্রিয় সার্বভৌমত্বের ধারণা।

৭. অধিকারের প্রকৃতি: হবসের মতে, প্রকৃতির রাজ্যে মানুষের একমাত্র অধিকার ছিল আত্মরক্ষার অধিকার, যা ছিল মূলত যা খুশি তাই করার স্বাধীনতা। সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে মানুষ তাদের এই প্রাকৃতিক অধিকার সার্বভৌম শাসকের হাতে তুলে দেয় শুধুমাত্র জীবনের নিরাপত্তা লাভের বিনিময়ে। শাসকের বিরুদ্ধে জনগণের কোনো অধিকার থাকে না। রুশোর তত্ত্বে, মানুষ চুক্তির মাধ্যমে তাদের প্রাকৃতিক স্বাধীনতা হারায় ঠিকই, কিন্তু বিনিময়ে তারা রাজনৈতিক বা পৌর স্বাধীনতা লাভ করে। মানুষ ‘সাধারণ ইচ্ছা’র অধীনে থেকে মূলত নিজের দ্বারাই শাসিত হয়, তাই তাদের স্বাধীনতা খর্ব হয় না, বরং একটি নৈতিক ও যৌক্তিক রূপ লাভ করে।

৮. সরকারের ভূমিকা: হবসের কাছে সরকারের মূল এবং একমাত্র কাজ হলো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং জনগণের জীবনকে নিরাপদ রাখা। সরকার এক্ষেত্রে চরম ক্ষমতার অধিকারী এবং তার সিদ্ধান্তের উপর কোনো প্রশ্ন তোলা যায় না। সরকারের মূল ভিত্তি হলো ভয়। রুশোর কাছে সরকারের ভূমিকা হলো ‘সাধারণ ইচ্ছা’র বাস্তবায়নকারী বা কার্যনির্বাহক হিসেবে কাজ করা। সরকার জনগণের প্রতিনিধি এবং ‘সাধারণ ইচ্ছা’র বিরুদ্ধে গেলে জনগণ সেই সরকারকে পরিবর্তন করার অধিকার রাখে। সরকারের বৈধতার ভিত্তি হলো জনগণের সম্মতি।

৯. স্বাধীনতার ধারণা: হবসের কাছে স্বাধীনতা মানে হলো বাহ্যিক প্রতিবন্ধকতার অনুপস্থিতি। প্রকৃতির রাজ্যে এই স্বাধীনতা ছিল চরম, কিন্তু অর্থহীন কারণ তা ছিল নিরাপত্তাহীন। রাষ্ট্রের অধীনে স্বাধীনতা মানে হলো আইনের সীমার মধ্যে থেকে কাজ করার সুযোগ। রুশোর কাছে প্রকৃত স্বাধীনতা হলো নৈতিক স্বাধীনতা, অর্থাৎ নিজের তৈরি আইন মেনে চলা। যখন কোনো ব্যক্তি ‘সাধারণ ইচ্ছা’র আনুগত্য করে, তখন সে আসলে নিজের বৃহত্তর ইচ্ছারই আনুগত্য করে এবং এভাবেই সে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন হয়। তার বিখ্যাত উক্তি, “মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মায়, কিন্তু সর্বত্র সে শৃঙ্খলিত”।

১০. চুক্তির স্থায়িত্ব: হবসের চুক্তি একবার সম্পাদিত হলে তা চিরস্থায়ী এবং অপরিবর্তনীয়। জনগণ তাদের ক্ষমতা একবার শাসকের হাতে তুলে দিলে তা আর ফিরিয়ে নিতে পারে না। এমনকি শাসক অত্যাচারী হলেও তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার অধিকার জনগণের নেই, কারণ এর অর্থ হবে পুনরায় প্রকৃতির রাজ্যের ভয়াবহতায় ফিরে যাওয়া। রুশোর চুক্তি ততটাই স্থায়ী যতটা ‘সাধারণ ইচ্ছা’ ক্রিয়াশীল থাকে। যদি সরকার ‘সাধারণ ইচ্ছা’কে প্রতিনিধিত্ব করতে ব্যর্থ হয় এবং জনগণের অধিকার হরণ করে, তবে জনগণ সেই চুক্তি বাতিল করে নতুন সরকার গঠন করার অধিকার রাখে।

১১. মানব প্রকৃতির পরিবর্তন: হবসের তত্ত্বে, সামাজিক চুক্তির পরেও মানুষের મૂળ প্রকৃতি অর্থাৎ স্বার্থপরতা ও আত্মকেন্দ্রিকতার কোনো পরিবর্তন হয় না। শুধুমাত্র সার্বভৌম শক্তির ভয় মানুষকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখে। আইন ও শাস্তির ভয় না থাকলে মানুষ আবার তার পুরনো রূপে ফিরে যাবে। রুশোর মতে, সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে মানুষ পরিবর্তিত হয়। সে তার আদিম প্রবৃত্তি ছেড়ে যুক্তিবাদী ও নৈতিক জীবে পরিণত হয়। রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে সে বৃহত্তর সমাজের কল্যাণের কথা ভাবতে শেখে এবং তার মধ্যে নাগরিক গুণাবলীর বিকাশ ঘটে।

১২. সাম্যের ধারণা: হবসের জন্য, প্রকৃতির রাজ্যে মানুষ দৈহিক ও মানসিক শক্তির দিক থেকে প্রায় সমান ছিল, যা তাদের একে অপরকে হত্যা করার ক্ষমতা দিত এবং এ কারণেই সংঘাত অনিবার্য ছিল। রাষ্ট্রে আইনের চোখে সবাই সমান, কিন্তু রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সাম্যের উপর তিনি গুরুত্ব দেননি। রুশোর কাছে, প্রকৃতির রাজ্যে মানুষ ছিল অর্থনৈতিকভাবে সমান কারণ সেখানে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল না। সামাজিক চুক্তির উদ্দেশ্যই হলো এমন একটি সমাজ গঠন করা যেখানে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং কোনো নাগরিক অন্যের উপর আধিপত্য বিস্তার করার মতো ধনী বা নিজেকে বিক্রি করে দেওয়ার মতো গরীব হবে না।

১৩. আইনের উৎস: হবসের ব্যবস্থায়, আইনের একমাত্র উৎস হলো সার্বভৌম শাসকের ইচ্ছা বা আদেশ। সার্বভৌম যা বলবেন, তাই আইন এবং তা মানতে সকলে বাধ্য। এখানে প্রাকৃতিক বা ঐশ্বরিক আইনের কোনো স্থান নেই, যদি তা সার্বভৌমের আদেশের পরিপন্থী হয়। রুশোর ব্যবস্থায়, আইনের উৎস হলো ‘সাধারণ ইচ্ছা’। আইন হলো জনগণের সম্মিলিত ইচ্ছার প্রকাশ, যা সকলের কল্যাণের জন্য প্রণীত হয়। কোনো আইন তখনই বৈধ হবে যখন তা ‘সাধারণ ইচ্ছা’র প্রতিফলন ঘটাবে এবং তা সকল নাগরিকের উপর সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।

১৪. রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য: হবসের জন্য রাষ্ট্রের প্রধান এবং প্রায় একমাত্র উদ্দেশ্য হলো অরাজকতা ও গৃহযুদ্ধ থেকে মানুষকে রক্ষা করে তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। রাষ্ট্র হলো একটি প্রয়োজনীয় দৈত্য (Leviathan), যা শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এর বাইরে রাষ্ট্রের আর কোনো নৈতিক বা উন্নয়নমূলক ভূমিকা নেই। রুশোর জন্য রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য আরো ব্যাপক। নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো নাগরিকদের নৈতিক উন্নয়ন ঘটানো এবং তাদের স্বাধীনতা ও সাম্যকে নিশ্চিত করা। রাষ্ট্র একটি নৈতিক প্রতিষ্ঠান যা নাগরিকদের উন্নত জীবন গঠনে সহায়তা করে।

১৫. বিপ্লবের অধিকার: হবস বিপ্লব বা বিদ্রোহের ধারণার সম্পূর্ণ বিরোধী ছিলেন। তার মতে, শাসকের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের প্রতিরোধ রাষ্ট্রকে দুর্বল করে দেবে এবং পুনরায় প্রকৃতির রাজ্যের ভয়াবহ অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। শুধুমাত্র শাসক যদি নাগরিকের জীবন রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তখনই নাগরিকের আনুগত্যের বাধ্যবাধকতা শেষ হয়ে যায়। রুশো জনগণের বিপ্লবের অধিকারকে স্বীকার করেছেন। যদি সরকার ‘সাধারণ ইচ্ছা’কে অবজ্ঞা করে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে, তবে সেই সরকারকে উচ্ছেদ করার অধিকার জনগণের রয়েছে। ফরাসি বিপ্লবের উপর রুশোর এই চিন্তার গভীর প্রভাব ছিল।

১৬. যুক্তির প্রয়োগ: হবস মানব প্রকৃতিকে বিশ্লেষণ করেছেন যান্ত্রিক এবং যুক্তিবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে। তিনি মনে করেন, মানুষ তার নিজের স্বার্থ এবং নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সম্পূর্ণ যুক্তির বশবর্তী হয়েই সামাজিক চুক্তিতে প্রবেশ করে। তার দর্শন মূলত এক ধরনের গণনাভিত্তিক স্বার্থপরতার উপর প্রতিষ্ঠিত। রুশো যুক্তির পাশাপাশি আবেগ এবং অনুভূতির উপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, আদিম মানুষ যুক্তি দিয়ে নয়, বরং সহানুভূতি এবং করুণার মতো প্রাকৃতিক অনুভূতি দ্বারা চালিত হতো। সভ্যতার বিকাশ মানুষকে যুক্তিবাদী করলেও তার স্বাভাবিক অনুভূতিকে কলুষিত করেছে।

১৭. ঐতিহাসিক ভিত্তি: হবস এবং রুশো উভয়ের তত্ত্বই কাল্পনিক এবং অনৈতিহাসিক। প্রকৃতির রাজ্য বা সামাজিক চুক্তির কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না। তারা উভয়েই রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বের একটি অবস্থাকে কল্পনা করে নিজেদের রাজনৈতিক দর্শন তৈরি করেছেন। হবস ইংল্যান্ডের গৃহযুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে তার তত্ত্বের অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। রুশোর দর্শন ছিল তৎকালীন ফরাসি সমাজের বৈষম্য এবং কৃত্রিমতার বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া।

১৮. প্রভাব ও উত্তরাধিকার: হবসের দর্শন নিরঙ্কুশ ক্ষমতার পক্ষে এক শক্তিশালী যুক্তি প্রদান করেছে এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সার্বভৌমত্বের ধারণাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। তার চিন্তাভাবনা রক্ষণশীল রাজনৈতিক ধারার উপর প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে, রুশোর দর্শন গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং সমাজতন্ত্রের মতো আধুনিক রাজনৈতিক মতবাদকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। তার ‘সাধারণ ইচ্ছা’র ধারণা জনপ্রিয় সার্বভৌমত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছে এবং ফরাসি বিপ্লবসহ পৃথিবীর বহু মুক্তি সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করেছে।

১৯. ব্যক্তিগত সম্পত্তি: হবসের মতে প্রকৃতির রাজ্যে ব্যক্তিগত সম্পত্তির কোনো সুরক্ষিত ধারণা ছিল না, কারণ যেকোনো শক্তিশালী ব্যক্তি অন্যের সম্পত্তি কেড়ে নিতে পারত। সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরেই আইনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার সুরক্ষিত হয়। রুশোর কাছে ব্যক্তিগত সম্পত্তির ধারণাটিই হলো সকল সামাজিক অসাম্য এবং সংঘাতের মূল। প্রকৃতির রাজ্যে এর অস্তিত্ব ছিল না বলেই শান্তি ছিল। তিনি ব্যক্তিগত সম্পত্তির পূর্ণ উচ্ছেদ না চাইলেও এর উপর সামাজিক নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছেন।

২০. ধর্মের ভূমিকা: হবস মনে করতেন, ধর্মকেও রাষ্ট্রের সার্বভৌমের অধীনে থাকা উচিত। ধর্মীয় কোনো কর্তৃপক্ষ যদি সার্বভৌমের ক্ষমতার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়, তবে তা রাষ্ট্রে বিভেদ ও অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই তিনি গির্জাকে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রাখার পক্ষে ছিলেন। রুশো এক ধরনের পৌর ধর্মের (Civil Religion) কথা বলেছেন, যা নাগরিকদের মধ্যে সামাজিক ঐক্য এবং নৈতিকতা বোধ জাগিয়ে তুলবে। এই ধর্ম হবে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য এবং সামাজিক চুক্তির পবিত্রতার প্রতি বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে।

২১. চূড়ান্ত লক্ষ্য: হবসের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল একটি স্থিতিশীল এবং সুশৃঙ্খল রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে যে কোনো মূল্যে অরাজকতা পরিহার করা হবে। তার কাছে শান্তি ও শৃঙ্খলা ছিল সর্বোচ্চ রাজনৈতিক মূল্যবোধ। রুশোর চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল এমন একটি সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা তৈরি করা, যা মানুষের হারানো প্রাকৃতিক স্বাধীনতাকে পৌর স্বাধীনতার মাধ্যমে ফিরিয়ে দেবে এবং সমাজে সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে। তার কাছে স্বাধীনতা এবং নৈতিকতাই ছিল সর্বোচ্চ মূল্যবোধ।

উপসংহার: টমাস হবস এবং জ্যাঁ-জ্যাক রুশোর সামাজিক চুক্তি তত্ত্ব মানব প্রকৃতি ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার দুটি ভিন্ন এবং বিপরীতধর্মী চিত্র তুলে ধরে। হবস যেখানে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য চরম ক্ষমতাকে অপরিহার্য মনে করেছেন, রুশো সেখানে স্বাধীনতা ও সাম্যের জন্য জনগণের সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের এই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি কেবল সপ্তদশ বা অষ্টাদশ শতকেই নয়, বরং আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনাতেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। একজন চরমপন্থী বাস্তববাদী এবং অন্যজন আদর্শবাদী চিন্তাবিদ হলেও, উভয়ের দর্শনই রাষ্ট্রের প্রকৃতি এবং নাগরিকের অধিকার সম্পর্কে আমাদের গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

একনজরে উত্তর দেখুন
  1. ❤️ মানব প্রকৃতির ধারণা
  2. 😠 প্রকৃতির রাজ্যের স্বরূপ
  3. ⚔️ সংঘাতের কারণ
  4. 🤝 চুক্তির প্রেরণা
  5. 📝 চুক্তির পক্ষসমূহ
  6. 👑 সার্বভৌমত্বের অবস্থান
  7. ⚖️ অধিকারের প্রকৃতি
  8. 🏛️ সরকারের ভূমিকা
  9. 🕊️ স্বাধীনতার ধারণা
  10. 📜 চুক্তির স্থায়িত্ব
  11. 🧠 মানব প্রকৃতির পরিবর্তন
  12. ⚖️ সাম্যের ধারণা
  13. 📖 আইনের উৎস
  14. 🎯 রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য
  15. 🔥 বিপ্লবের অধিকার
  16. 🤔 যুক্তির প্রয়োগ
  17. 🕰️ ঐতিহাসিক ভিত্তি
  18. 🌐 প্রভাব ও উত্তরাধিকার
  19. 🏡 ব্যক্তিগত সম্পত্তি
  20. ⛪ ধর্মের ভূমিকা
  21. 🏁 চূড়ান্ত লক্ষ্য:
প্রশ্নটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

টমাস হবসের বিখ্যাত গ্রন্থ “লেভিয়াথান” (Leviathan) প্রকাশিত হয় ১৬৫১ সালে, যা ইংল্যান্ডের গৃহযুদ্ধের (১৬৪২-১৬৫১) ভয়াবহ প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছিল। এই যুদ্ধের অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা তার হতাশাবাদী দর্শনের ভিত্তি স্থাপন করে। অন্যদিকে, জ্যাঁ-জ্যাক রুশোর “দ্য সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট” (The Social Contract) প্রকাশিত হয় ১৭৬২ সালে। তার ধারণাগুলো ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের নেতাদের, বিশেষ করে ম্যাক্সিমিলিয়েন রোবসপিয়েরের মতো জ্যাকোবিন নেতাদের ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। ‘স্বাধীনতা, সাম্য ও মৈত্রী’ – বিপ্লবের এই মূলমন্ত্র রুশোর দর্শনের প্রতিধ্বনি। ঊনবিংশ শতাব্দীর বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণায় দেখা যায়, ইউরোপীয় সমাজে জাতীয়তাবাদী এবং গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশে রুশোর লেখনীর প্রভাব ছিল অপরিসীম।

Tags: মানব প্রকৃতির রাজ্য ও সামাজিক চুক্তির ক্ষেত্রে হবস ও রুশোর মধ্যে তুলনামূলক আলোচনারুশোহবসহবস ও রুশো
  • Previous “জীবন বিশ্রী-পাশবিক ও সাময়িক”- হবসের উক্তি সংক্ষেপে পর্যালোচনা কর।
  • Next  হবসের সামাজিক ‍চুক্তি মতবাদ আলোচনা কর।
Read Aim

SUBSCRIBE

    JOB CIRCULAR

    • Media/Ads/Event Mngnt (145)
    • Medical/Pharmaceutical (123)
    • NGO/Organization (323)
    • Production/Operation (142)
    • Research/Consultancy (85)
    • Secretary/Receptionist (188)
    • Security/Support Service (99)
    • Others (59)

    LEARNING & EARNING

    • English Article
    • Bearded Dragon
    • Cats
    • Dogs
    • Guinea Pigs
    • Insurance
    • Lawyer
    • Rabbits
    • Earn Money Online
    • Others

    CATEGORIES

    • Computer (12)
    • DEGREE (4)
    • English Article (27)
    • GRAMMAR (138)
    • Health Tips (2)
    • Honours (1083)
    • Jobs (16)
    • Jobs Study (33)
    • News (1336)
    • PDF BOOK (78)

    RECENT POST

    উত্তর আধুনিকতাবাদের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর।
    উত্তর আধুনিকতাবাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।
    সেন্ট সাইমন ও রবার্ট ওয়েনের কাল্পনিক সমাজতন্ত্রের রূপরেখা বিশ্লেষণ কর।
    কাল্পনিক ও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের মধ্যে একটি তুলনামূলক আলোচনা কর।

    2025 All Rights Reserved readaim.com

    • Contact
    • About
    • Privacy
    • Blog
    • READ AIM