- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: “অস্তিত্ববাদই মানবতাবাদ“ (Existentialism is a Humanism) কথাটি ফরাসি দার্শনিক জঁ–পল সার্ত্রের (Jean-Paul Sartre) ১৯৪৫ সালের বিখ্যাত বক্তৃতা ও গ্রন্থের মূল বার্তা। সার্ত্রের এ ধারণার মূল কথা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. অস্তিত্ব সারবত্তার পূর্বগামী (Existence precedes essence): জীবজন্তু বা জড়বস্তুর ক্ষেত্রে প্রথমে তার উদ্দেশ্য বা সারবত্তা (Essence) তৈরি হয়, তারপর তা বাস্তবে আসে। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি উল্টো—মানুষ আগে পৃথিবীতে আগমন করে বা অস্তিত্ব লাভ করে, তারপর সে নিজের চিন্তা, কাজ ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজের পরিচয় ও জীবনকে রূপ দেয়।
২. পরম ব্যক্তিস্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা: অস্তিত্ববাদ মানুষকে কোনো পূর্বনির্ধারিত ঐশ্বরিক বা সামাজিক শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে না। মানুষ তার কাজের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন। তবে সার্ত্রের মতে, এই পরম স্বাধীনতার সঙ্গে আসে পরম দায়বদ্ধতা। একজন ব্যক্তি যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, সে তার নিজের পাশাপাশি পুরো মানবজাতির জন্য একটি আদর্শ বেছে নেয়।
৩. নিষ্ক্রিয়তা নয়, কর্মমুখী মানবতাবাদ: অনেক সমালোচক মনে করতেন অস্তিত্ববাদ মানুষকে হতাশা ও নিষ্ক্রিয়তার দিকে ঠেলে দেয়। সার্ত্র এর প্রতিবাদে দেখান যে, অস্তিত্ববাদ মূলত কর্মমুখী। মানুষ যা করে, সে সেটাই। তাই নিজের জীবনকে অর্থপূর্ণ করতে হলে মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে যেতে হয়।
৪. মানুষের মর্যাদার পুন প্রতিষ্ঠাদান: ঐতিহ্যবাহী মানবতাবাদ যেমন মানুষকে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গণ্য করে, অস্তিত্ববাদও ঠিক একইভাবে মানুষকে তার নিজের ভাগ্যের মূল স্থপতি হিসেবে ঘোষণা করে। মানুষের কোনো মূল্যবোধ আগে থেকে তৈরি থাকে না; বরং মানুষ নিজেই নিজের মূল্যবোধ তৈরি করে।
সংক্ষেপে, অস্তিত্ববাদ মানুষকে অসহায় বা ভাগ্যচালিত হিসেবে দেখে না; বরং মানুষকে নিজের জীবনের সৃষ্টিকর্তা বানিয়ে তার স্বাধীনতা ও দায়িত্বকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়। মানুষের এই স্বতন্ত্র মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং দায়িত্বকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠার কারণেই “অস্তিত্ববাদই মানবতাবাদ“।