- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে এ দেশের নাগরিকগণ রাজনৈতিক মূল্যবোধ, বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করে। বাঙালি সংস্কৃতি, দীর্ঘ ঔপনিবেশিক ইতিহাস এবং সমকালীন সামাজিক প্রেক্ষাপট এ দেশের রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের অনন্য প্রকৃতি নির্ধারণ করেছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের প্রকৃতি:
১। পরিবারের ভূমিকা: রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের প্রাথমিক ও সবচেয়ে প্রভাবশালী মাধ্যম হলো পরিবার। শৈশব থেকেই শিশুরা পরিবারের সিনিয়র সদস্যদের রাজনৈতিক আলোচনা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং মতামত শুনে বড় হয়। পারিবারিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দ পরবর্তী জীবনে ব্যক্তির রাজনৈতিক চিন্তাধারা গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে। এ দেশে পারিবারিক ঐতিহ্য প্রায়শই রাজনৈতিক আনুগত্য নির্ধারণের প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করে।
২। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা: বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত জাতীয় ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং নাগরিক অধিকার সম্পর্কিত অধ্যায়গুলো শিক্ষার্থীদের মনে দেশপ্রেম জাগ্রত করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, শিক্ষকবৃন্দের আদর্শ এবং সহপাঠীদের সাথে মুক্ত আলোচনা তরুণদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সহায়তা করে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই একজন নাগরিককে সচেতন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে রূপান্তর করে।
৩। গণমাধ্যমের প্রভাব: বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সংবাদপত্র, টেলিভিশন এবং বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। নাগরিকগণ প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমের সাহায্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের কর্মকাণ্ড এবং বিরোধী দলের কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে পারে। বিভিন্ন টকশো, বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন এবং সামাজিক মাধ্যমের মুক্ত আলোচনা জনমত গঠনে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে। তথ্য আদান-প্রদানের এই মাধ্যমটি সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও সক্রিয় করে তোলে।
৪। ধর্মীয় মূল্যবোধ: বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষের জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন ও মূল্যবোধ অত্যন্ত গভীর প্রভাব বিস্তার করে আছে। ধর্মীয় সমাবেশ, ওয়াজ-মাহফিল, জুমার খুতবা কিংবা বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের মাধ্যমে প্রায়শই সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তা প্রচারিত হয়। অনেক সময় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ধর্মীয় অনুভূতির সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা করে। ফলে সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে ধর্মীয় মূল্যবোধ একটি অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
৫। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির মূল ভিত্তি এবং সবচেয়ে শক্তিশালী উপাদান হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। স্বাধীনতার ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব এবং বীর শহীদদের আত্মত্যাগ এ দেশের মানুষের রাজনৈতিক চেতনার সাথে মিশে আছে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলই নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সপক্ষে দাবি করে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে। তরুণ প্রজন্মের মনে দেশপ্রেমের বীজ বপন করতে এবং জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করতে এই চেতনা সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
৬। ছাত্ররাজনীতির ঐতিহ্য: বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ে, বিশেষ করে ৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সক্রিয় ছাত্ররাজনীতি তরুণদের নেতৃত্ব গুণাবলী বিকাশ এবং রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংগঠনের কর্মকাণ্ড, মিছিল-মিটিং এবং আন্দোলনের মাধ্যমে সরাসরি রাজনীতির পাঠ গ্রহণ করে। এই ছাত্ররাজনীতিই এ দেশের মূলধারার রাজনীতির জন্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি করার প্রধান নার্সারি হিসেবে কাজ করে।
৭। পিয়ার গ্রুপ: বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী এবং সমবয়সীদের দল বা পিয়ার গ্রুপ মানুষের রাজনৈতিক মতামত গঠনে শক্তিশালী প্রভাব ফেলে। আড্ডা, গল্প বা অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় তরুণরা প্রায়শই সমকালীন রাজনীতি, নির্বাচন এবং দেশের অর্থনীতি নিয়ে নিজেদের মতামত বিনিময় করে। এই পারস্পরিক মতবিনিময়ের ফলে অনেকে নিজের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে বন্ধুদের মতাদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়ে। সমবয়সীদের গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও সিদ্ধান্তকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে থাকে।
৮। উপদলীয় কোন্দল: বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলীয় কোন্দল এবং অভ্যন্তরীণ উপদলীয় মেরুকরণ রাজনৈতিক সামাজিকীকরণকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন উপদলের আধিপত্য বিস্তারের লড়াই সাধারণ কর্মীদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে তরুণেরা অনেক সময় সুস্থ রাজনৈতিক আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক অন্ধ আনুগত্য ও ক্ষমতার রাজনীতিকে আপন করে নেয়। এই উপদলীয় সংস্কৃতির কারণে সমাজে সহনশীলতার অভাব এবং রাজনৈতিক সহিংসতার প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়।
৯। ব্যক্তিত্ব উপাসনা: এ দেশের রাজনীতিতে নীতি বা আদর্শের চেয়ে ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের প্রতি অন্ধ আনুগত্য বা ব্যক্তিত্ব উপাসনার প্রবণতা বেশ লক্ষণীয়। সাধারণ মানুষ প্রায়শই দলের মূল নেতার ব্যক্তিত্ব, পারিবারিক পরিচিতি ও বক্তৃতার জাদুতে মুগ্ধ হয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়। দলের সব স্তরের নেতা-কর্মী একক নেতার নির্দেশ বা ইচ্ছাকে চূড়ান্ত বলে গণ্য করে। এই সংস্কৃতির কারণে প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রের চেয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক আনুগত্য রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।
১০। রাজনৈতিক সহিংসতা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি অন্ধকার ও দুঃখজনক দিক হলো হরতাল, ধর্মঘট এবং প্রায়শই ঘটে যাওয়া সহিংসতা। ছোটবেলা থেকেই এ দেশের নাগরিকরা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার তীব্র সংঘাত এবং রাজপথের সহিংস রূপ দেখে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। এই পরিবেশ সাধারণ মানুষের মনে রাজনীতি সম্পর্কে এক ধরনের ভয়, ক্ষোভ ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দেয়। ফলস্বরূপ, মধ্যবিত্ত সমাজ ও সাধারণ নাগরিকদের একটি বড় অংশ সক্রিয় রাজনীতি থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পছন্দ করে।
১১। সুশীল সমাজ: বিভিন্ন অরাজনৈতিক সংগঠন, মানবাধিকার সংস্থা, বুদ্ধিজীবী সমাজ এবং পেশাজীবী সংগঠনগুলো দেশের সুশীল সমাজ বা সিভিল সোসাইটি হিসেবে পরিচিত। তারা বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে নিরপেক্ষ মতামত প্রকাশ করে শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানায়। সুশীল সমাজের এই গঠনমূলক সমালোচনা এবং নাগরিক অধিকার বিষয়ক সেমিনারগুলো সাধারণ মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে। জনগণের রাজনৈতিক জ্ঞান পরিমার্জিত ও পরিপক্ব করতে সুশীল সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১২। অর্থনৈতিক অবস্থা: একজন মানুষের অর্থনৈতিক শ্রেণী বা অবস্থান তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সাধারণত তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক সাহায্য, কর্মসংস্থান ও মৌলিক চাহিদা পূরণের প্রতিশ্রুতি দেখে রাজনৈতিক দল নির্বাচন করে। অন্যদিকে, উচ্চবিত্ত ও ব্যবসায়ী শ্রেণী তাদের ব্যবসায়ের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করে। অর্থনৈতিক বৈষম্য এ দেশের মানুষের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং চিন্তাধারার গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়।
১৩। গ্রামীণ বনাম শহর: বাংলাদেশের গ্রামীণ ও শহরের মানুষের রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের প্রকৃতির মধ্যে স্পষ্ট এবং দৃশ্যমান পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। গ্রামীণ সমাজে এখনও ব্যক্তিকেন্দ্রিক সম্পর্ক, স্থানীয় মাতব্বর, বংশীয় মর্যাদা এবং ধর্মীয় প্রভাব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রধান ভূমিকা রাখে। পক্ষান্তরে, শহরের শিক্ষিত ও চাকুরিজীবী সমাজ অনেক বেশি তথ্যনির্ভর, স্বাধীনচেতা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ইস্যুতে সচেতন থাকে। এই ভৌগোলিক ও পরিবেশগত তারতম্য নাগরিকদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা তৈরি করে থাকে।
১৪। বিদেশী সংস্কৃতি: বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে ইন্টারনেট এবং বিদেশী বিনোদন মাধ্যমের ব্যাপক প্রসারের ফলে দেশের তরুণদের মূল্যবোধে পরিবর্তন আসছে। বিশ্বরাজনীতি, মানবাধিকার এবং উন্নত বিশ্বের গণতান্ত্রিক চর্চা দেখে এ দেশের নতুন প্রজন্ম দেশীয় রাজনীতিকে মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে। তবে বিদেশী সংস্কৃতির অতিমাত্রায় প্রভাব অনেক সময় দেশীয় ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতি তরুণদের উদাসীন করে তোলে। এই মিশ্র প্রভাবের ফলে এ দেশের রাজনৈতিক সামাজিকীকরণে একটি নতুন মাত্রার সৃষ্টি হয়েছে।
১৫। নারী সচেতনতা: বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশে নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভূতপূর্ব উন্নয়নের ফলে তাদের রাজনৈতিক সচেতনতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পোশাক শিল্পের বিকাশ এবং ক্ষুদ্রঋণের প্রসারের কারণে গ্রামীণ ও শহরের নারীরা এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন। জাতীয় নির্বাচনগুলোতে নারীদের বিপুল উপস্থিতি এবং ভোট প্রদানের হার প্রমাণ করে যে তারা এখন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয়। রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে নারীদের এই অংশগ্রহণ দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সামাজিকীকরণকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
১৬। প্রযুক্তির ব্যবহার: স্মার্টফোন এবং সুলভ ইন্টারনেটের কল্যাণে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষ এখন মুহূর্তের মধ্যেই রাজনৈতিক খবরাখবর পেয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো এখন মাঠপর্যায়ের সভার পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাদের প্রচারণা ও এজেন্ডা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছে। সাধারণ নাগরিকরা ঘরে বসেই সরকারের কাজের সমালোচনা করতে পারছে এবং নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরছে। এই প্রযুক্তিভিত্তিক জোয়ার এ দেশের আমজনতাকে অত্যন্ত দ্রুত ও কার্যকরভাবে রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের আওতায় নিয়ে এসেছে।
১৭। স্থানীয় সরকার: ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা পরিষদের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো তৃণমূল মানুষের রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের বড় ক্ষেত্র। এই নির্বাচনগুলোতে প্রার্থীরা জনগণের খুব কাছাকাছি যান এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি স্থানীয় উন্নয়নের দাবিতে মুখর হয়। গ্রামীণ মানুষেরা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নেতৃত্বের গুণাবলী, ভোটাধিকারের গুরুত্ব এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান লাভ করে। তৃণমূল পর্যায়ের এই সক্রিয় অংশগ্রহণই জাতীয় রাজনীতির মজবুত ভিত্তি হিসেবে কাজ করে থাকে।
১৮। রাজনৈতিক সচেতনতা: বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের তুলনায় অত্যন্ত প্রখর এবং প্রশংসনীয়। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে এ দেশের মানুষ রাজনীতি নিয়ে মেতে উঠতে ভালোবাসে। দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ দ্রুত ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে নিজেদের দাবি আদায় করে নেয়। এই সহজাত ও গভীর রাজনৈতিক সচেতনতাই এ দেশের সমাজব্যবস্থাকে সদা গতিশীল এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার রাখে।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের প্রকৃতি যেমন ঐতিহ্যবাহী, তেমনই বহুমাত্রিক ও পরিবর্তনশীল। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস যেমন এর ইতিবাচক দিক, তেমনি সহিংসতা ও অন্ধ দলীয় আনুগত্য এর অন্যতম সীমাবদ্ধতা। তবে বর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ এবং তরুণ ও নারী সমাজের ক্রমবর্ধমান সচেতনতা এ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে দিন দিন আরও পরিপক্ব করে তুলছে। একটি সুস্থ, সহনশীল ও উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে এই সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার ইতিবাচক রূপান্তর অত্যন্ত জরুরি।