- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: বিশ্বব্যাংক (World Bank) হলো একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যা মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে। ১৯৪৪ সালে ব্রেটন উডস সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ঋণ, কারিগরি সহায়তা ও নীতিগত পরামর্শ প্রদান করে।
বিশ্বব্যাংকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ:
১। দারিদ্র্য দূরীকরণ: বিশ্বব্যাংকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য হ্রাস করা। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন করা বিশ্বব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
২। অর্থনৈতিক উন্নয়ন: বিশ্বব্যাংক উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে কাজ করে। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প, কৃষি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশগুলোর উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা উন্নত করা এর অন্যতম লক্ষ্য।
৩। অবকাঠামো উন্নয়ন: সড়ক, বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। উন্নত অবকাঠামো একটি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৪। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন: বিশ্বব্যাংকের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন সাধন করা। বিদ্যালয় নির্মাণ, শিক্ষার মান বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের মাধ্যমে মানবসম্পদের বিকাশে বিশ্বব্যাংক সহায়তা করে।
৫। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা: বিশ্বব্যাংক পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
৬। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি: বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে কাজ করে। উন্নয়নমূলক অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
৭। উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন: বিশ্বব্যাংক উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঋণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। কৃষি, জ্বালানি, পরিবহন, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়া এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
৮। বেসরকারি খাতের উন্নয়ন: বিশ্বব্যাংক বেসরকারি বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে এটি ভূমিকা রাখে।
৯। সুশাসন প্রতিষ্ঠা: বিশ্বব্যাংক উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষ প্রশাসনের ওপর গুরুত্ব দেয়। দুর্নীতি কমানো, কার্যকর প্রতিষ্ঠান গঠন এবং উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
১০। বৈশ্বিক দারিদ্র্য ও বৈষম্য হ্রাস: বিশ্বব্যাংকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো বিভিন্ন দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো। পিছিয়ে থাকা দেশ ও জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
উপসংহার: বিশ্বব্যাংক বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দারিদ্র্য হ্রাস, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ বিকাশ ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গঠন করাই এর মূল লক্ষ্য।