- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার ইতিহাসে রূপকল্প, ২০২১ একটি গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের ও আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করা।
রূপকল্প, ২০২১-এর পরিচয়:
রূপকল্প, ২০২১ (Vision 2021) হলো বাংলাদেশের একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা, যার লক্ষ্য ছিল ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা। এটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে বিশেষ গুরুত্ব পায় এবং পরবর্তীতে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
রূপকল্প, ২০২১-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১। ডিজিটাল বাংলাদেশ: রূপকল্প, ২০২১-এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিস্তার ঘটিয়ে একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে সরকারি সেবা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গঠন করে জনগণের জীবনকে সহজ ও আধুনিক করার বিষয়টি এতে গুরুত্ব পায়।
২। অর্থনৈতিক উন্নয়ন: রূপকল্প, ২০২১-এর গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করা এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। শিল্প, কৃষি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরির পরিকল্পনা করা হয়।
৩। মধ্যম আয়ের দেশ: রূপকল্প, ২০২১-এর একটি বড় লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা। জনগণের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা করা হয়। একটি স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
৪। শিক্ষা উন্নয়ন: রূপকল্প, ২০২১-এ শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শিক্ষার প্রসার, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ দক্ষ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব নয়।
৫। দারিদ্র্য হ্রাস: দারিদ্র্য কমানো ও মানুষের জীবনমান উন্নত করা রূপকল্প, ২০২১-এর অন্যতম লক্ষ্য ছিল। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
৬। বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো উন্নয়ন: দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
৭। সুশাসন প্রতিষ্ঠা: রূপকল্প, ২০২১-এ সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। জনগণের জন্য কার্যকর প্রশাসন তৈরি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দক্ষ করার মাধ্যমে একটি উন্নত শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখা হয়।
৮। সামাজিক উন্নয়ন: নারী উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বৈষম্য কমানোর বিষয়গুলোও রূপকল্প, ২০২১-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন করে সকল শ্রেণির মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
উপসংহার: রূপকল্প, ২০২১ বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর মাধ্যমে অর্থনীতি, প্রযুক্তি, শিক্ষা, অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন চিন্তার অংশ হিসেবে রূপকল্প, ২০২১ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।