- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শান্তি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৮৫ সালে সার্ক (SAARC) প্রতিষ্ঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমস্যার কারণে সার্ক প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।
SAARC-এর ব্যর্থতাসমূহ:-
১। রাজনৈতিক বিরোধ: সার্কের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার কারণ হলো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক বিরোধ। বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের টানাপোড়েন সার্কের কার্যক্রমকে অনেক ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত করেছে। দ্বিপাক্ষিক বিরোধ আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
২। পারস্পরিক অবিশ্বাস: সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ঘাটতি সার্কের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। অনেক সময় রাষ্ট্রগুলো আঞ্চলিক স্বার্থের চেয়ে নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় যৌথ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ে।
৩। দুর্বল অর্থনৈতিক সহযোগিতা: সার্কের অন্যতম লক্ষ্য ছিল সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য বৃদ্ধি করা। কিন্তু সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রত্যাশিত মাত্রায় বৃদ্ধি পায়নি। বিভিন্ন শুল্ক বাধা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও নীতিগত পার্থক্যের কারণে অর্থনৈতিক একীকরণ দুর্বল রয়েছে।
৪। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দুর্বলতা: সার্ক বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও চুক্তি গ্রহণ করলেও সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক সীমাবদ্ধতা দেখা গেছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং কার্যকর বাস্তবায়ন ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে অনেক উদ্যোগ সফল হয়নি।
৫। ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিরোধ সার্কের কার্যক্রমে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে। দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে অনেক সার্ক সম্মেলন স্থগিত হয়েছে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার গতি কমে গেছে।
৬। দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো: সার্কের সাংগঠনিক কাঠামো তুলনামূলকভাবে দুর্বল। সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অর্থায়ন ও কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকায় এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো শক্তিশালী আঞ্চলিক সংগঠনে পরিণত হতে পারেনি।
৭। অভিন্ন নীতির অভাব: সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক অবস্থা ও বৈদেশিক নীতিতে পার্থক্য রয়েছে। এসব পার্থক্যের কারণে অনেক বিষয়ে অভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
৮। নিরাপত্তাজনিত সমস্যা: সন্ত্রাসবাদ, সীমান্ত বিরোধ, অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো নিরাপত্তা সমস্যাগুলো সার্কের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছে। এসব বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা সবসময় গড়ে ওঠেনি।
৯। আঞ্চলিক বাণিজ্যের সীমাবদ্ধতা: সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্যের পরিমাণ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় কম। অবকাঠামোগত দুর্বলতা, যোগাযোগ সমস্যা ও বাণিজ্যিক বাধার কারণে অর্থনৈতিক সহযোগিতা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।
১০। নিয়মিত শীর্ষ সম্মেলনের অভাব: সার্কের শীর্ষ সম্মেলন নিয়মিত অনুষ্ঠিত না হওয়ায় সংগঠনের কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নতুন উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে এই অনিয়ম নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
উপসংহার: সার্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক বিরোধ, পারস্পরিক অবিশ্বাস, দুর্বল বাস্তবায়ন ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে এটি প্রত্যাশিত সফলতা অর্জন করতে পারেনি। তবুও আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের জন্য সার্কের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে।