- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিধ্বস্ত পৃথিবীর অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর দারিদ্র্য বিমোচনের প্রত্যয় নিয়ে ১৯৪৪ সালে বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এটি একটি অন্যতম প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই এক অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
বিশ্বব্যাংকের কাঠামো ও কার্যাবলী:
১। সাংগঠনিক কাঠামো: বিশ্বব্যাংক মূলত পাঁচটি সহযোগী সংস্থা নিয়ে গঠিত একটি বিশালাকার আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। এই সংস্থাগুলো হলো আইবিআরডি (IBRD), আইডিএ (IDA), আইএফসি (IFC), মিগা (MIGA) এবং আইসিএসআইডি (ICSID)। এদের মধ্যে আইবিআরডি এবং আইডিএ-কে যৌথভাবে বিশ্বব্যাংক বলা হয়। এই সামগ্রিক কাঠামোর মাধ্যমে সংস্থাটি সদস্য দেশগুলোর সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই ঋণ, অনুদান, কারিগরি সহায়তা এবং বিনিয়োগের নিশ্চয়তা প্রদান করে বিশ্ব অর্থনীতিকে সচল রাখে।
২। পরিচালনা পর্ষদ: বিশ্বব্যাংকের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী অংশ হলো এর গভর্নর সভা বা বোর্ড অব গভর্নরস। প্রতিটি সদস্য দেশ থেকে একজন করে গভর্নর এই সভায় প্রতিনিধিত্ব করেন, যা সাধারণত দেশের অর্থমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হন। এই পর্ষদ ব্যাংকের মূল নীতি, নতুন সদস্য গ্রহণ এবং বার্ষিক বাজেট অনুমোদন করে। এদের অধীনে একটি নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ থাকে, যা ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যাবলী ও ঋণ প্রস্তাবসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদারকি করে।
৩। উন্নয়ন তহবিল: বিশ্বব্যাংকের অন্যতম প্রধান কাজ হলো উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশাল অঙ্কের তহবিল সরবরাহ করা। রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং গভীর সমুদ্র বন্দরের মতো বড় বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পে এই ব্যাংক সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে থাকে। অনুন্নত দেশগুলো যাতে পুঁজির অভাবে তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থামিয়ে না রাখে, সেই উদ্দেশ্যে এই তহবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৪। দারিদ্র্য বিমোচন: বিশ্বব্যাংকের মূল লক্ষ্য ও আদর্শের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বিশ্বজুড়ে চরম দারিদ্র্য দূরীকরণ। এই উদ্দেশ্যে সংস্থাটি বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোকে অত্যন্ত কম সুদে বা সম্পূর্ণ সুদমুক্ত ঋণ এবং অনুদান প্রদান করে থাকে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে এই অর্থ ব্যয় করা হয়। এর ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়।
৫। কারিগরি সহায়তা: আর্থিক ঋণ প্রদানের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক সদস্য দেশগুলোকে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক পরামর্শ সেবা দিয়ে থাকে। কোনো দেশের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন খাতের সংস্কার প্রক্রিয়ায় বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞরা সরাসরি অংশ নেন। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যাতে দক্ষতার সাথে বাস্তবায়িত হতে পারে, সেজন্য স্থানীয় জনবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজটিও এই ব্যাংক অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পরিচালনা করে।
৬। বেসরকারি বিনিয়োগ: শুধু সরকারি খাতই নয়, সদস্য দেশগুলোর বেসরকারি খাতের উন্নয়নেও বিশ্বব্যাংক তার অঙ্গ সংস্থা আইএফসি-র মাধ্যমে কাজ করে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর সম্ভাবনাময় বেসরকারি শিল্প কারখানায় সরাসরি মূলধন বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দেওয়া এর অন্যতম কাজ। এর ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, উদ্যোক্তা শ্রেণীর বিকাশ ঘটে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা অনেক গুণ বৃদ্ধি পায়।
৭। বিনিয়োগের নিশ্চয়তা: যুদ্ধবিধ্বস্ত বা রাজনৈতিকভাবে অস্থির দেশগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সাধারণত পুঁজি বিনিয়োগ করতে ভয় পান। বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ‘মিগা’ এই সমস্ত দেশে অ-বাণিজ্যিক ঝুঁকি, যেমন যুদ্ধ, দাঙ্গা বা সরকারি বাজেয়াপ্তকরণের বিরুদ্ধে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বীমা বা গ্যারান্টি প্রদান করে। এই নিশ্চয়তার ফলে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো অনুন্নত দেশে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হয়, যা ঐ দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল করতে বড় ভূমিকা রাখে।
৮। জরুরী সহায়তা: প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারী কিংবা আকস্মিক অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে বিশ্বব্যাংক সদস্য দেশগুলোর পাশে দ্রুত আপদকালীন সহায়তা নিয়ে দাঁড়ায়। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং মানবিক বিপর্যয় রোধে দ্রুত তহবিল ছাড় করা হয়। এছাড়াও সাম্প্রতিক বিভিন্ন বৈশ্বিক মহামারী বা অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে সদস্য দেশগুলোর ভঙ্গুর অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে এই ব্যাংক বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে।
৯। জলবায়ু তহবিল: বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক একটি বিশাল তহবিল পরিচালনা ও অর্থায়ন করছে। পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অভিযোজন প্রক্রিয়ায় ব্যাংক অর্থায়ন করে। টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে পরিবেশ রক্ষা করে কীভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা যায়, সেই লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক উন্নয়নশীল দেশগুলোকে পরিবেশবান্ধব প্রকল্প গ্রহণে উৎসাহিত করে।
১০। গবেষণা কাজ: বিশ্বব্যাংক বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক সূচক নিয়ে নিয়মিত ব্যাপক গবেষণা পরিচালনা করে। প্রতি বছর তাদের প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট’ সহ বিভিন্ন প্রতিবেদন বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। এই সমস্ত গবেষণালব্ধ তথ্য ও উপাত্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সরকার, গবেষক এবং নীতিনির্ধারকদের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে কাজ করে।
কেন বিশ্বব্যাংক সমালোচনার সম্মুখীন হয়?
১। শর্তের বেড়াজাল: বিশ্বব্যাংক যখন কোনো দেশকে ঋণ বা অনুদান প্রদান করে, তখন তার সাথে অত্যন্ত কঠোর কিছু অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শর্ত জুড়ে দেয়। এই শর্তগুলোর মধ্যে প্রায়শই থাকে ভর্তুকি কমানো, মুদ্রা অবমূল্যায়ন, কর বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় খাত বেসরকারীকরণ। অনেক সময় এই নীতিগুলো ঋণগ্রহীতা দেশের স্থানীয় পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। ফলে সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তীব্র হয় এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
২। ভোটের বৈষম্য: বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ভোট প্রদানের প্রক্রিয়াটি গণতান্ত্রিক নয়, বরং এটি সদস্য দেশগুলোর আর্থিক অবদানের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। ধনী ও উন্নত দেশগুলো, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলো, এই ব্যাংকের সিংহভাগ শেয়ারের মালিক হওয়ায় তারাই মূল সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়া সত্ত্বেও নীতি নির্ধারণে তাদের মতামতের সঠিক প্রতিফলন ঘটে না, যা বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়।
৩। পরিবেশগত ক্ষতি: অতীতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত বেশ কিছু বৃহৎ অবকাঠামোগত প্রকল্প, যেমন বড় বাঁধ নির্মাণ বা খনি খনন, ব্যাপক পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে এনেছে। এই প্রকল্পগুলোর কারণে বিশাল বনাঞ্চল ধ্বংস হয়েছে এবং নদী ও জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পরিবেশবাদীদের মতে, বিশ্বব্যাংক অনেক সময় টেকসই উন্নয়নের কথা বললেও ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাবের বিষয়টিকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন বা বিবেচনা করে না।
৪। উদ্বাস্তু সমস্যা: বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত বিশাল সব উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে বহু এলাকার স্থানীয় মানুষ তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ বা বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বিশেষ করে আদিবাসী ও গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উপযুক্ত পুনর্বাসন বা ক্ষতিপূরণ না দিয়েই অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখোমুখি হয়েছে।
৫। ঋণের ফাঁদ: অনেক সমালোচকের মতে, বিশ্বব্যাংকের সহজ ঋণের নীতি অনেক সময় অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ঋণের ফাঁদে ফেলে দেয়। ঋণের আসল ও চড়া সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে এই সমস্ত দেশের বাজেটের একটি বিশাল অংশ প্রতি বছর ব্যয় হয়ে যায়। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো মৌলিক খাতগুলোতে অভ্যন্তরীণ বরাদ্দ কমে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে তোলে।
৬। পাশ্চাত্যের প্রভাব: বিশ্বব্যাংকের সদর দফতর ওয়াশিংটনে অবস্থিত এবং ঐতিহ্যগতভাবে এর সভাপতি সর্বদা একজন মার্কিন নাগরিক হয়ে থাকেন। এই কারণে প্রতিষ্ঠানটির ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা মিত্রদের রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের তীব্র প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। অনেক সময় দেখা যায়, পশ্চিমা দেশগুলোর রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে থাকা দেশগুলো সঠিক যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিশ্বব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় ঋণ বা অর্থনৈতিক সহযোগিতা পেতে ব্যর্থ হয়।
৭। মুক্তবাজার নীতি: বিশ্বব্যাংক তার ওয়াশিংটন ঐকমত্যের অংশ হিসেবে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অবাধ মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং উদারীকরণের নীতি গ্রহণে বাধ্য করে। কিন্তু স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা না দিয়ে হঠাৎ বাজার উন্মুক্ত করে দেওয়ায় অনুন্নত দেশগুলোর দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়ে। এর ফলে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো স্থানীয় বাজার দখল করে নেয় এবং দেশের সম্পদ বাইরে চলে যায়, যা অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দেয়।
৮। ভুল প্রেসক্রিপশন: বিশ্বব্যাংকের অর্থনৈতিক পরামর্শ বা ‘প্রেসক্রিপশন’ সব দেশের জন্য একই রকম বা একঘেয়ে হয়ে থাকে, যা স্থানীয় বাস্তবতার পরিপন্থী। প্রতিটি দেশের নিজস্ব সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও ব্যাংক ঢালাওভাবে একই অর্থনৈতিক সংস্কার নীতি চাপিয়ে দেয়। এর ফলে অনেক দেশে অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান তো হয়ই না, উল্টো মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব ও সামাজিক অস্থিরতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
৯। স্বচ্ছতার অভাব: বিশ্বব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, ঋণ অনুমোদন এবং প্রকল্প মূল্যায়নের পদ্ধতিগুলো যথেষ্ট স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংকের উচ্চপদস্থ আমলারা সাধারণ মানুষ বা ঋণগ্রহীতা দেশের জনগণের কাছে সরাসরি দায়বদ্ধ থাকেন না। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো অনিয়ম বা ব্যর্থতা ঘটলে তার দায় কার, তা অনেক সময় অস্পষ্ট থেকে যায়, যা আন্তর্জাতিক সুশীল সমাজের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
১০। দারিদ্র্য বৃদ্ধি: যদিও বিশ্বব্যাংকের মূল স্লোগান হলো দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব গড়া, কিন্তু তাদের কিছু কাঠামোগত সমন্বয় নীতির কারণে অনেক দেশে দারিদ্র্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় কমানোর শর্তের কারণে দরিদ্র মানুষের মৌলিক সেবা প্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে ধনীরা আরও ধনী হয় এবং গরিবরা আরও প্রান্তিক সীমায় পৌঁছে যায়, যা বিশ্বব্যাংকের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।
শেষকথা: পরিশেষে বলা যায়, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের কাঠামো ও কার্যাবলীর যেমন বিশাল পরিধি রয়েছে, তেমনি এর নীতিমালার কারণে এটি তীব্র সমালোচনার মুখোমুখিও হয়। কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা ও বৈষম্য থাকা সত্ত্বেও বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং অনুন্নত দেশগুলোর উন্নয়নে এর অবদানকে অস্বীকার করার উপায় নেই। ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠানটিকে আরও বেশি গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ এবং স্থানীয় মানবিক চাহিদার প্রতি সংবেদনশীল হয়ে কাজ করতে হবে।