- readaim.com
- 0
উত্তর::ভূমিকা: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য যুগে যুগে বিবর্তিত হয়েছে, আর এর তত্ত্বগুলোও সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তিত হয়েছে। ক্লাসিক্যাল তত্ত্বগুলো বাণিজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেছে, কিন্তু আধুনিক তত্ত্বগুলো তাদের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে নতুন নতুন দিক উন্মোচন করেছে। এই দুটি ধারার মধ্যেকার পার্থক্যগুলো বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতিকে আরও গভীরভাবে অনুধাবন করতে সাহায্য করে।
১।শ্রমের ভূমিকা: ক্লাসিক্যাল তত্ত্ব, যেমন অ্যাডাম স্মিথের নিরঙ্কুশ সুবিধা (Absolute Advantage) এবং ডেভিড রিকার্ডোর তুলনামূলক সুবিধা (Comparative Advantage) মূলত শ্রমের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তারা মনে করতেন, উৎপাদনের একমাত্র উপাদান হলো শ্রম। একটি দেশ কোন পণ্য উৎপাদনে অন্য দেশের চেয়ে কম শ্রম ব্যবহার করলে সেই পণ্যে তার নিরঙ্কুশ সুবিধা রয়েছে, আর যদি কোনো দেশ অন্য দেশের চেয়ে কম সুযোগ ব্যয় বা তুলনামূলক কম শ্রমে কোনো পণ্য উৎপাদন করতে পারে, তাহলে তার তুলনামূলক সুবিধা রয়েছে। এই তত্ত্বগুলো উৎপাদনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যেমন পুঁজি, প্রযুক্তি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ভূমিকা উপেক্ষা করেছিল।
২।উৎপাদনের উপাদান: আধুনিক তত্ত্ব, যেমন হেক্শ্চার-ওলিন মডেল (Heckscher-Ohlin Model), ক্লাসিক্যাল তত্ত্বের এক-উপাদান বিশিষ্ট ধারণার বিপরীতে একাধিক উপাদানের গুরুত্ব তুলে ধরে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, একটি দেশের তুলনামূলক সুবিধা তার প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান উৎপাদনের উপাদান (factor endowments), যেমন শ্রম এবং পুঁজির প্রাচুর্যের উপর নির্ভরশীল। উদাহরণস্বরূপ, শ্রম-বহুল দেশগুলো শ্রম-নিবিড় পণ্য উৎপাদনে এবং পুঁজি-বহুল দেশগুলো পুঁজি-নিবিড় পণ্য উৎপাদনে সুবিধা ভোগ করে।
৩।বাণিজ্যের কারণ: ক্লাসিক্যাল তত্ত্বের মূল কথা ছিল উৎপাদন দক্ষতার পার্থক্য। অর্থাৎ, বিভিন্ন দেশের উৎপাদন ক্ষমতার পার্থক্যের কারণেই বাণিজ্য সংঘটিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি দেশ তুলনামূলক কম শ্রমে চা উৎপাদন করতে পারে এবং অন্য একটি দেশ তুলনামূলক কম শ্রমে পোশাক তৈরি করতে পারে, তাহলে তারা একে অপরের সঙ্গে বাণিজ্য করবে। কিন্তু, আধুনিক তত্ত্বগুলো দেখায় যে কেবল উৎপাদন দক্ষতার পার্থক্য নয়, বরং উৎপাদনের উপাদানের ভিন্নতা এবং প্রযুক্তির পার্থক্যও বাণিজ্যের মূল কারণ।
৪।বাণিজ্য প্রতিরূপ: ক্লাসিক্যাল তত্ত্বগুলো সাধারণত দুটি দেশ এবং দুটি পণ্যের একটি সরল মডেল ব্যবহার করে বাণিজ্যের ধরন ব্যাখ্যা করে। এই মডেলগুলো বাস্তব বিশ্বের জটিলতাকে পুরোপুরি প্রতিফলিত করতে পারে না। আধুনিক তত্ত্ব, যেমন স্টোলপার-স্যামুয়েলসন তত্ত্ব এবং লিওন্টিফ প্যারাডক্স, আরও জটিল এবং বাস্তব-ভিত্তিক মডেল ব্যবহার করে। এই তত্ত্বগুলো বহুপক্ষীয় বাণিজ্য, পণ্যের ভিন্নতা এবং বাজারের অসম্পূর্ণতার মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে।
৫।প্রযুক্তির প্রভাব: ক্লাসিক্যাল তত্ত্বগুলো প্রযুক্তির ভূমিকা প্রায় পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে, কারণ তারা শিল্প বিপ্লবের প্রাথমিক যুগের ধারণা নিয়ে গঠিত। এই তত্ত্বগুলোতে প্রযুক্তিকে একটি বহিরাগত এবং স্থির উপাদান হিসাবে ধরা হতো। কিন্তু আধুনিক তত্ত্ব, বিশেষত নতুন বাণিজ্য তত্ত্ব (New Trade Theory) এবং পণ্য জীবনচক্র মডেল (Product Life Cycle Model), প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং তার বিস্তারের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। এই তত্ত্বগুলো ব্যাখ্যা করে যে কীভাবে নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং এর বাণিজ্যিকীকরণ একটি দেশের জন্য সাময়িক তুলনামূলক সুবিধা তৈরি করে।
৬।পণ্য ও উপযোগ: ক্লাসিক্যাল তত্ত্বগুলো পণ্যের উপযোগ (utility) এবং ক্রেতার পছন্দের (consumer preference) মতো বিষয়গুলো নিয়ে খুব বেশি আলোচনা করেনি। তারা কেবল উৎপাদনের ব্যয় বা সরবরাহ (supply) দিকের উপর জোর দিয়েছে। অন্যদিকে, আধুনিক তত্ত্ব, যেমন আন্তঃশিল্প বাণিজ্য (Intra-industry Trade) এবং একচেটিয়া প্রতিযোগিতা (Monopolistic Competition), পণ্যের ভিন্নতা (product differentiation) এবং ভোক্তার পছন্দের উপর ভিত্তি করে বাণিজ্যের কারণ ব্যাখ্যা করে। এই তত্ত্বগুলো দেখায় যে একই শিল্পের দেশগুলোর মধ্যে কেন বাণিজ্য ঘটে।
৭।বাণিজ্যের লাভ: ক্লাসিক্যাল তত্ত্ব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ফলে অংশগ্রহণকারী সব দেশই লাভবান হয়, কারণ তারা এমন পণ্য উৎপাদনে বিশেষায়িত হতে পারে যেখানে তাদের তুলনামূলক সুবিধা রয়েছে। তবে, আধুনিক তত্ত্বগুলো দেখায় যে বাণিজ্যের লাভ সব দেশের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হয় না। কিছু দেশে উৎপাদনের উপাদানগুলির মালিক, যেমন শ্রম এবং পুঁজির মালিকরা, অন্যদের তুলনায় বেশি লাভবান হতে পারে। এর ফলে আয় বৈষম্য বাড়তে পারে।
৮।বাজারের ধরন: ক্লাসিক্যাল তত্ত্বগুলো সাধারণত পূর্ণাঙ্গ প্রতিযোগিতার (perfect competition) বাজারকে ধরে নিয়েছিল, যেখানে অগণিত ক্রেতা ও বিক্রেতা থাকে এবং কোনো একক প্রতিষ্ঠান বাজারের দামকে প্রভাবিত করতে পারে না। কিন্তু আধুনিক তত্ত্ব, বিশেষত নতুন বাণিজ্য তত্ত্ব, একচেটিয়া প্রতিযোগিতা এবং অলিগোপলি (oligopoly) বাজারের অস্তিত্ব স্বীকার করে। এই বাজারগুলোতে কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান পণ্যের দাম এবং সরবরাহকে প্রভাবিত করতে পারে।
৯।বাণিজ্যের নীতি: ক্লাসিক্যাল তত্ত্বগুলো মুক্ত বাণিজ্য (free trade) নীতির পক্ষে ছিল, কারণ তারা বিশ্বাস করত যে এটি সব দেশের জন্যই সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিয়ে আসে। তারা সরকারের হস্তক্ষেপকে অনুৎসাহিত করত। আধুনিক তত্ত্বগুলো সরকারের নীতিগত হস্তক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরে। যেমন, কৌশলগত বাণিজ্য নীতি (Strategic Trade Policy) অনুযায়ী, সরকার কিছু নির্দিষ্ট শিল্পে ভর্তুকি বা শুল্কের মাধ্যমে সেই শিল্পগুলোর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা বাড়াতে পারে।
১০।মূল্যের ভূমিকা: ক্লাসিক্যাল তত্ত্বগুলো শ্রমের ব্যয়ের ভিত্তিতে পণ্যের বিনিময় মূল্য নির্ধারণ করত। তারা মনে করত যে পণ্যের মূল্য তার উৎপাদনে ব্যবহৃত শ্রমের পরিমাণ দ্বারা নির্ধারিত হয়। কিন্তু আধুনিক তত্ত্বগুলোতে, বিশেষত রিক্রিয়ার-স্যামুয়েলসন তত্ত্ব, উৎপাদনের উপাদানগুলোর মূল্য (factor prices) যেমন মজুরি এবং পুঁজির দামের উপর জোর দেওয়া হয়। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ফলে উৎপাদকের উপাদানগুলোর মূল্যে সমতা আসতে পারে।
১১।অর্থনীতিতে প্রভাব: ক্লাসিক্যাল তত্ত্বগুলো প্রধানত বাণিজ্যের ফলে সৃষ্ট উৎপাদনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সম্পদের সর্বোত্তম বণ্টনের উপর গুরুত্বারোপ করত। আধুনিক তত্ত্বগুলো বাণিজ্যের আরও বিস্তৃত প্রভাবগুলো বিবেচনা করে, যেমন আয় বৈষম্য, নতুন প্রযুক্তি এবং জ্ঞানের বিস্তার, এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। তারা দেখায় যে কীভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য একটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো এবং সামাজিক পরিস্থিতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
১২।উপযোগের ধারণা: ক্লাসিক্যাল তত্ত্বগুলো ব্যক্তিগত উপযোগের পরিবর্তে সামাজিক উপযোগ এবং উৎপাদন খরচের উপর বেশি মনোযোগ দেয়। তারা ধরে নেয় যে সব দেশের ক্রেতাদের পণ্যের প্রতি একই রকম আগ্রহ বা পছন্দ থাকে। অন্যদিকে, আধুনিক তত্ত্বগুলো ব্যক্তিগত এবং দেশের উপযোগের ভিন্নতার উপর জোর দেয়। লিন্ডের তত্ত্ব (Linder’s Theory) অনুসারে, কোনো দেশ সেই সব পণ্যের বাণিজ্য বেশি করে, যেসব পণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা (Domestic Demand) একই ধরনের হয়। এটি ভোক্তাদের পছন্দকে বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হিসেবে গণ্য করে।
১৩।বাণিজ্যের সীমাবদ্ধতা: ক্লাসিক্যাল তত্ত্বগুলো বাণিজ্যের সীমাবদ্ধতা (বাধা) নিয়ে খুব বেশি আলোচনা করেনি। তারা সাধারণত ধরে নেয় যে দেশগুলোর মধ্যে অবাধে বাণিজ্য হয়। কিন্তু আধুনিক তত্ত্ব, যেমন স্টোলপার-স্যামুয়েলসন মডেল, আমদানিকারক শিল্পের সুরক্ষা এবং উৎপাদনের উপাদানগুলোর গতিশীলতা (factor mobility) সীমিত হওয়ার কারণে বাণিজ্যের কিছু সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে।
১৪।বাজারের ক্ষমতা: ক্লাসিক্যাল তত্ত্বগুলোতে বাজারের ক্ষমতা (market power) বা একটি বড় কোম্পানির বাজারে প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা নিয়ে কোনো ধারণা ছিল না। তারা সবাইকেই দাম গ্রহণকারী (price taker) হিসেবে ধরে নিত। কিন্তু আধুনিক তত্ত্ব, বিশেষত নতুন বাণিজ্য তত্ত্ব, দেখায় যে কিছু বড় কোম্পানি তাদের বাজারের ক্ষমতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধরনকে প্রভাবিত করতে পারে। তারা নিজেদের ব্র্যান্ড, স্কেল ইকোনমি এবং পেটেন্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে।
১৫।শ্রমের গতিশীলতা: ক্লাসিক্যাল তত্ত্বগুলো সাধারণত ধরে নেয় যে শ্রম এবং পুঁজি দেশের সীমানার মধ্যে স্থির থাকে, এবং কেবল পণ্যই এক দেশ থেকে অন্য দেশে চলাচল করে। তবে, আধুনিক তত্ত্বগুলো শ্রম এবং পুঁজির আন্তর্জাতিক গতিশীলতার (international mobility of labor and capital) গুরুত্ব স্বীকার করে। বিশেষত নতুন অর্থনৈতিক ভূগোল (New Economic Geography) তত্ত্বগুলো দেখায় যে কীভাবে মানুষ ও পুঁজির চলাচলের ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে অর্থনৈতিক কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত হতে পারে।
১৬।বাণিজ্য শর্তাবলী: ক্লাসিক্যাল তত্ত্ব, যেমন রিকার্ডোর তত্ত্ব, বাণিজ্যের শর্তাবলী (Terms of Trade) নিয়ে খুব বেশি আলোচনা করেনি। এটি কেবল দেখায় যে বাণিজ্য কীভাবে লাভজনক হয়। আধুনিক তত্ত্ব, বিশেষত হেক্শ্চার-ওলিন তত্ত্ব, দেখায় যে বাণিজ্যের শর্তাবলী কীভাবে একটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলে। এটি আরও বলে যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ফলে একটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কীভাবে উন্নত বা অবনত হয়।
১৭।ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ক্লাসিক্যাল তত্ত্বগুলো মূলত ১৯শ শতকের শিল্প বিপ্লব এবং ঔপনিবেশিক বাণিজ্যের প্রেক্ষাপটে বিকশিত হয়েছিল। এই সময়ে, শ্রম-ভিত্তিক উৎপাদন ছিল মূল ভিত্তি। কিন্তু আধুনিক তত্ত্বগুলো ২য় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে বিকশিত হয়েছে, যেখানে পুঁজি, প্রযুক্তি এবং বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলো বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
উপসংহার: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্লাসিক্যাল এবং আধুনিক তত্ত্বগুলো একে অপরের পরিপূরক। ক্লাসিক্যাল তত্ত্বগুলো বাণিজ্যের প্রাথমিক কারণগুলোকে সরলভাবে ব্যাখ্যা করে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে, যা আজও প্রাসঙ্গিক। তবে, আধুনিক তত্ত্বগুলো বিংশ শতকের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, যেমন প্রযুক্তির প্রভাব, পণ্যের ভিন্নতা এবং বাজারের অসম্পূর্ণতার মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করে সেই ভিত্তিকে আরও সমৃদ্ধ ও বাস্তবসম্মত করেছে। এই দুটি ধারার সম্মিলিত জ্ঞানই আমাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জটিলতাকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে।
১। শ্রমের ভূমিকা। ২। উৎপাদনের উপাদান। ৩। বাণিজ্যের কারণ। ৪। বাণিজ্য প্রতিরূপ। ৫। প্রযুক্তির প্রভাব। ৬। পণ্য ও উপযোগ। ৭। বাণিজ্যের লাভ। ৮। বাজারের ধরন। ৯। বাণিজ্যের নীতি। ১০। মূল্যের ভূমিকা। ১১। অর্থনীতিতে প্রভাব। ১২। উপযোগের ধারণা। ১৩। বাণিজ্যের সীমাবদ্ধতা। ১৪। বাজারের ক্ষমতা। ১৫। শ্রমের গতিশীলতা। ১৬। বাণিজ্য শর্তাবলী। ১৭। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ইতিহাসে ক্লাসিক্যাল তত্ত্বের জন্ম ১৯শ শতকে, যখন অ্যাডাম স্মিথ ১৭৭৬ সালে তার বিখ্যাত গ্রন্থ “The Wealth of Nations” প্রকাশ করেন। এরপর ডেভিড রিকার্ডো ১৮১৭ সালে “On the Principles of Political Economy and Taxation” গ্রন্থে তুলনামূলক সুবিধার ধারণা দেন। এই তত্ত্বগুলো এক সময় বিশ্ব বাণিজ্যের প্রধান নীতি হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে, বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ১৯৫৩ সালে ওয়াশিলি লিওন্টিফের জরিপে দেখা যায় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যা কিনা পুঁজি-বহুল দেশ, শ্রম-নিবিড় পণ্য আমদানি করছিল এবং পুঁজি-নিবিড় পণ্য রপ্তানি করছিল। এটি হেক্শ্চার-ওলিন তত্ত্বের ভবিষ্যদ্বাণীর বিপরীত ছিল এবং এটি লিওন্টিফ প্যারাডক্স নামে পরিচিত। এই ঘটনা আধুনিক তত্ত্বের বিকাশের পথ প্রশস্ত করে। পরবর্তীকালে, পল ক্রুগম্যান ও কেলভিন ল্যাঙ্কার মত অর্থনীতিবিদরা নতুন বাণিজ্য তত্ত্বের জন্ম দেন, যা স্কেল ইকোনমি এবং বাজারের অসম্পূর্ণতাকে বাণিজ্যের কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করে। এই তত্ত্বগুলো ২০শ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

