- readaim.com
- 0
উত্তর::ভূমিকা: এখানে আপনি একটি অর্থনৈতিক ধারণার সংজ্ঞা ও প্রাসঙ্গিক তথ্য জানতে চেয়েছেন। অর্থনীতির অন্যতম মৌলিক এই ধারণাটি হলো চাহিদা সূচি (Demand Schedule)। এটি একটি নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য বিভিন্ন মূল্যে একজন ক্রেতা কী পরিমাণ ক্রয় করতে ইচ্ছুক, তার একটি তালিকা।
শাব্দিক অর্থ: চাহিদা সূচি দুটি শব্দের সমন্বয়, ‘চাহিদা’ এবং ‘সূচি’। ‘চাহিদা’ বলতে কোনো পণ্য বা সেবা পাওয়ার ইচ্ছা এবং তা ক্রয়ের সামর্থ্যকে বোঝায়। আর ‘সূচি’ মানে হলো একটি সুবিন্যস্ত তালিকা। সুতরাং, শাব্দিক অর্থে এটি চাহিদার একটি তালিকা।
অর্থনীতিতে, চাহিদা সূচি হলো একটি তালিকা বা ছক যা একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি পণ্যের বিভিন্ন সম্ভাব্য দামের সাথে সেই দামে একজন ভোক্তা বা বাজারের সকল ভোক্তা কী পরিমাণ পণ্য ক্রয় করতে ইচ্ছুক, তার সম্পর্ক দেখায়। এটি মূলত চাহিদা বিধির একটি সংখ্যাগত প্রকাশ। অর্থাৎ, এটি দেখায় যে অন্যান্য সব শর্ত অপরিবর্তিত থাকলে, কোনো পণ্যের দাম বাড়লে চাহিদা কমে যায় এবং দাম কমলে চাহিদা বেড়ে যায়।
১।আলফ্রেড মার্শাল (Alfred Marshall): “চাহিদা সূচি হলো এমন একটি সারণি যা বিভিন্ন মূল্যে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য ক্রয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করে।” (A demand schedule is a list of the various quantities of a commodity that would be bought at different prices.)
২।পি. সি. এল. গুডম্যান (P. C. L. Goodman): “চাহিদা সূচি হলো এমন একটি তালিকা যা বিভিন্ন মূল্যে একটি নির্দিষ্ট পণ্য বা সেবার বিভিন্ন পরিমাণ চাহিদার চিত্র তুলে ধরে।” (A demand schedule is a table showing the relationship between the price of a good and the quantity demanded.)
৩।রবার্ট এল. হাইলব্রোনার (Robert L. Heilbroner): “চাহিদা সূচি হলো মূল্যের প্রতিটি স্তরে একটি পণ্যের চাহিদার পরিমাণকে নির্দেশ করে এমন একটি ছক।” (The demand schedule is a tabulation showing the quantity of a commodity demanded at each of the various prices.)
৪।স্যামুয়েলসন (Paul A. Samuelson): “চাহিদা সূচি হলো বিভিন্ন দামে কোনো পণ্যের ক্রেতাদের ইচ্ছা ও সামর্থ্যের একটি ছক।” (A demand schedule is a table showing the quantities of a commodity that buyers are willing and able to purchase at different prices.)
৫।বেনহ্যাম (F. C. Benham): “চাহিদা সূচি হলো একটি নির্দিষ্ট বাজারে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিভিন্ন মূল্যে একটি পণ্যের চাহিদার পরিমাণ দেখানোর একটি সারণি।” (A demand schedule is a table showing the quantity of a commodity that will be demanded at different prices in a particular market at a given time.)
৬।ডিমক ও ডিমক (Dimock & Dimock): এরা সরাসরি চাহিদা সূচির সংজ্ঞা দেননি, তবে জন প্রশাসন সম্পর্কিত তাদের লেখায় চাহিদা ও সরবরাহের মতো ধারণার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।
৭।কার্ল মার্কস (Karl Marx): কার্ল মার্কস চাহিদা বা সূচির প্রচলিত অর্থনৈতিক ধারণার ওপর সরাসরি কোনো সংজ্ঞা দেননি, বরং তিনি পুঁজিবাদের অধীনে উৎপাদন ও বন্টন ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন।
৮।উড্রো উইলসন (Woodrow Wilson): তিনি অর্থনীতিবিদ বা সমাজবিজ্ঞানী ছিলেন না, বরং একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তাই তিনি চাহিদা সূচির কোনো সংজ্ঞা দেননি।
উপরোক্ত সংজ্ঞাগুলির আলোকে আমরা বলতে পারি, চাহিদা সূচি হলো একটি তালিকা বা ছক, যা একটি নির্দিষ্ট পণ্যের বিভিন্ন সম্ভাব্য মূল্যে একজন ভোক্তা বা বাজারের সকল ভোক্তা যে পরিমাণ পণ্য ক্রয় করতে প্রস্তুত, তার একটি সংখ্যাগত সম্পর্ক দেখায়।
উপসংহার: চাহিদা সূচি অর্থনীতির একটি অপরিহার্য হাতিয়ার, যা কোনো পণ্যের দাম এবং চাহিদার পরিমাণের মধ্যে বিদ্যমান বিপরীত সম্পর্ককে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। এটি কেবল একটি ছক নয়, বরং এটি ক্রেতার আচরণ, বাজারের গতিবিধি এবং মূল্য নির্ধারণের কৌশল বোঝার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। একজন ভোক্তা থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত, সবাই এই সূচি ব্যবহার করে তাদের আর্থিক সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ও কার্যকর করতে পারে। এটি অর্থনৈতিক পূর্বাভাসের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থনীতিতে, চাহিদা রেখা হলো একটি মৌলিক ধারণা যা দাম এবং চাহিদার পরিমাণের মধ্যে সম্পর্ককে চিত্রিত করে। একটি কাল্পনিক চাহিদা সূচি থেকে এই রেখাটি অঙ্কন করে আমরা সহজে বুঝতে পারি কিভাবে একটি পণ্যের দাম পরিবর্তন হলে তার চাহিদা পরিবর্তিত হয়, যা অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি।
চাহিদা সূচি:
এখানে একটি কাল্পনিক চাহিদা সূচি দেওয়া হলো:

উপরের চাহিদা সূচিটি থেকে দেখা যায় যে, যখন একটি পণ্যের দাম ৪ টাকা হয়, তখন চাহিদার পরিমাণ থাকে ২৪ একক। দাম বেড়ে যখন ৬ টাকা হয়, তখন চাহিদা কমে ২০ একক হয়। আবার দাম আরও বেড়ে ৮ টাকা হলে চাহিদা কমে ১৬ একক হয়। এবং দাম সর্বোচ্চ ১০ টাকা হলে চাহিদা কমে ১২ একক হয়। অর্থাৎ, দাম বাড়ার সাথে সাথে চাহিদার পরিমাণ হ্রাস পায়। এই বিপরীতমুখী সম্পর্ককে চাহিদার সূত্র বলা হয়।

উপরের চাহিদা রেখাটি কাল্পনিক চাহিদা সূচি অনুযায়ী অঙ্কন করা হয়েছে। এখানে ভূমি অক্ষ (X-অক্ষ) বরাবর চাহিদার পরিমাণ এবং লম্ব অক্ষ (Y-অক্ষ) বরাবর দাম দেখানো হয়েছে। রেখাটির প্রতিটি বিন্দু দাম এবং চাহিদার পরিমাণের একটি নির্দিষ্ট সমন্বয়কে নির্দেশ করে। যেমন, যখন দাম P_1 (৪ টাকা) তখন চাহিদার পরিমাণ Q_1 (২৪ একক), যা A বিন্দু দ্বারা দেখানো হয়েছে। দাম বেড়ে P_2 (৬ টাকা) হলে চাহিদার পরিমাণ কমে Q_2 (২০ একক) হয়, যা B বিন্দুতে দেখানো হয়েছে। একইভাবে, C এবং D বিন্দুতে দাম ও চাহিদার বিপরীতমুখী সম্পর্ক দেখা যায়। এই বিন্দুগুলো যোগ করে DD’ চাহিদা রেখাটি পাওয়া গেছে, যা বাম থেকে ডানদিকে নিম্নগামী হয়।
উপসংহার: একটি কাল্পনিক চাহিদা সূচি থেকে চাহিদা রেখা অঙ্কন করে আমরা দাম ও চাহিদার মধ্যে বিদ্যমান বিপরীত সম্পর্কটি সহজেই বুঝতে পারি। এই রেখাটি অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ যা বাজারে কোনো পণ্যের দাম এবং তার চাহিদার গতিবিধি বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করে।
চাহিদা সূচি হলো একটি ছক যা কোনো পণ্যের দাম এবং তার চাহিদার পরিমাণের মধ্যকার সম্পর্ককে সংখ্যায় প্রকাশ করে।

