- readaim.com
- 0
প্রশ্ন:- নিরস্ত্রীকরণ বলতে কি বুঝ?
Or, নিরস্ত্রীকরণ কি?
Or, নিরস্ত্রীকরণ কাকে বলে?
Or, নিরস্ত্রীকরণের সজ্ঞা দাও।
উত্তর::ভূমিকা: বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধের ঝুঁকি কমানোর জন্য নিরস্ত্রীকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। আধুনিক বিশ্বে অতিরিক্ত অস্ত্র প্রতিযোগিতা রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে। তাই অস্ত্রের সংখ্যা ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টাকে নিরস্ত্রীকরণ বলা হয়।
নিরস্ত্রীকরণের পরিচয়:-
নিরস্ত্রীকরণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কোনো রাষ্ট্র বা গোষ্ঠী তাদের সামরিক অস্ত্র, বিশেষ করে ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের সংখ্যা কমিয়ে আনে, নিয়ন্ত্রণ করে বা সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ করে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধের সম্ভাবনা হ্রাস করা, আন্তর্জাতিক শান্তি বজায় রাখা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নিরস্ত্রীকরণ শুধু অস্ত্র ধ্বংস করাকে বোঝায় না; বরং অস্ত্র উৎপাদন, মজুদ ও ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকেও বোঝায়।
নিরস্ত্রীকরণেরশাব্দিক অর্থ:- নিরস্ত্রীকরণ শব্দটি ইংরেজি “Disarmament” শব্দের বাংলা রূপ। “Disarmament” শব্দের অর্থ হলো অস্ত্রহীন করা বা অস্ত্রের পরিমাণ কমিয়ে আনা। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি, রাষ্ট্র বা গোষ্ঠীর সামরিক শক্তি হ্রাস করার প্রক্রিয়াই হলো নিরস্ত্রীকরণ।
১। অক্সফোর্ড ডিকশনারি (Oxford Dictionary): “Disarmament means the reduction or withdrawal of a country’s military forces and weapons.” (নিরস্ত্রীকরণ হলো কোনো দেশের সামরিক বাহিনী ও অস্ত্রের পরিমাণ হ্রাস করা বা প্রত্যাহার করা।)
২। হ্যান্স মরগেনথাউ (Hans Morgenthau): “Disarmament is the reduction or abolition of armaments by agreement among states.” (নিরস্ত্রীকরণ হলো রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে অস্ত্রশস্ত্র হ্রাস বা বিলুপ্ত করার প্রক্রিয়া।)
৩। ই. এইচ. কার (E. H. Carr): “Disarmament is an essential condition for the maintenance of international peace.” (আন্তর্জাতিক শান্তি বজায় রাখার জন্য নিরস্ত্রীকরণ একটি অপরিহার্য শর্ত।)
৪। কুইন্সি রাইট (Quincy Wright): “Disarmament is the process of reducing or eliminating weapons to prevent war.” (যুদ্ধ প্রতিরোধের জন্য অস্ত্র কমানো বা বিলুপ্ত করার প্রক্রিয়াই হলো নিরস্ত্রীকরণ।)
৫। লিওন বুর্জোয়া (Léon Bourgeois): “Disarmament is the limitation of military power in the interest of peace.” (শান্তির স্বার্থে সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতাই হলো নিরস্ত্রীকরণ।)
৬। স্ট্যানলি হফম্যান (Stanley Hoffmann): “Disarmament seeks to control the means of destruction and reduce the possibility of armed conflict.” (নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্য হলো ধ্বংসাত্মক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করা এবং সশস্ত্র সংঘাতের সম্ভাবনা কমানো।)
৭। জোসেফ নাই (Joseph Nye): “Disarmament involves efforts to reduce military capabilities and enhance security through cooperation.” (নিরস্ত্রীকরণ হলো সামরিক সক্ষমতা হ্রাস এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করার প্রচেষ্টা।)
উপরের সংজ্ঞাগুলোর আলোকে বলা যায়, নিরস্ত্রীকরণ হলো এমন একটি আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রসমূহ তাদের অস্ত্রভাণ্ডার, সামরিক শক্তি ও ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা হ্রাস বা নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে।
উপসংহার: নিরস্ত্রীকরণ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। অতিরিক্ত অস্ত্র প্রতিযোগিতা কমিয়ে এটি রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি করে এবং যুদ্ধের সম্ভাবনা হ্রাস করতে সহায়তা করে। তাই নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনে নিরস্ত্রীকরণের গুরুত্ব অপরিসীম।