- readaim.com
- 0
উত্তর::সূচনা: ব্রিটিশ সমাজ ও সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো তাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও প্রথা। এসব প্রথা কেবল অতীতের স্মৃতিচিহ্ন নয়, বরং বর্তমান সমাজের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। ইতিহাসের গভীর শিকড় থেকে জন্ম নেওয়া এই প্রথাগুলো ব্রিটিশদের জাতীয় পরিচয়, সামাজিক সংহতি এবং আইনি কাঠামোর ভিত্তি স্থাপন করে।
শাব্দিক অর্থ: ‘প্রথা’ শব্দটি এসেছে ‘প্র’ (বিশেষ বা অতিরিক্ত) এবং ‘স্থা’ (স্থিতি বা অবস্থান) থেকে। এর শাব্দিক অর্থ হলো ‘একটি বিশেষ বা অতিরিক্ত অবস্থান বা রীতি যা দীর্ঘকাল ধরে সমাজে প্রচলিত আছে’। ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Custom’ এসেছে ল্যাটিন শব্দ ‘consuetudo’ থেকে, যার অর্থ ‘অভ্যাস’ বা ‘রীতি’।
প্রথা হলো কোনো সমাজে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত এমন এক ধরনের রীতিনীতি বা নিয়ম, যা অলিখিত ও অপ্রাতিষ্ঠানিক হলেও সমাজের বেশিরভাগ মানুষ তা মেনে চলে। এটি কোনো আইন দ্বারা বাধ্যতামূলক নয়, বরং সামাজিক স্বীকৃতি ও অভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। প্রথা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মৌখিকভাবে বা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়। এটি সমাজের আচার-ব্যবহার, বিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং জীবনযাত্রার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। যেমন, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, উৎসব-পার্বণ, বিবাহরীতি বা অতিথি আপ্যায়নের নিয়মগুলো প্রথার উদাহরণ।
বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক প্রথাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সংজ্ঞা দেওয়া হলো:
১। অগবার্ন ও নিমকফ: তাদের মতে, “প্রথা হল সেইসব কার্যপ্রণালী যা সমাজের সদস্যদের কাছে স্বীকৃত এবং গৃহীত।” (Ogburn and Nimkoff: “Customs are the ways of doing things that are socially accepted and approved by the members of the society.”)
২। সিসেরো: তিনি প্রথাকে “ঐতিহ্য ও দীর্ঘদিনের অভ্যাসের সমষ্টি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। (Cicero: “Custom is the sum of traditions and long-standing habits.”)
৩। অ্যারিস্টটল: তিনি প্রথাকে “আইনের বাইরে মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণের একটি শক্তিশালী মাধ্যম” বলেছেন। (Aristotle: “Custom is a powerful means of controlling human behavior outside of law.”)
৪। লুথার গুলিক: তার মতে, “প্রথা হচ্ছে সেই সামাজিক অভ্যাস ও আচরণ যা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে প্রচলিত এবং স্বীকৃত।” (Luther Gulick: “Customs are the social habits and behaviors that are prevalent and recognized within a specific group.”)
৫। এমিল ডুর্খেইম: তিনি প্রথাকে “সামাজিক সংহতির একটি অপরিহার্য উপাদান” হিসেবে দেখেছেন, যা সমাজের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করে। (Émile Durkheim: “Custom is an essential element of social solidarity that strengthens the relationships among the members of the society.”)
৬। অক্সফোর্ড ডিকশনারি: এটি প্রথাকে “একটি সম্প্রদায়ের বা স্থানের মানুষের দ্বারা দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত এবং ব্যাপকভাবে প্রচলিত আচরণ বা অনুশীলন” হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে। (Oxford Dictionary: “Custom is a traditional and widely accepted way of behaving or doing something that is specific to a particular society, place, or time.”)
৭। ম্যাক্স ওয়েবার: তিনি প্রথাকে “দীর্ঘদিনের অভ্যাসের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সামাজিক কার্যকলাপের একটি সাধারণ প্যাটার্ন” বলেছেন। (Max Weber: “Custom is a regular pattern of social action based on long-standing habit.”)
প্রথা হলো কোনো সমাজে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এমন এক ধরনের অলিখিত, অনানুষ্ঠানিক ও স্বতঃস্ফূর্ত নিয়ম, যা সমাজের মানুষের আচার-আচরণ, বিশ্বাস এবং মূল্যবোধকে প্রভাবিত করে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি সমাজের সদস্যদের পারস্পরিক স্বীকৃতি ও অভ্যাসের মাধ্যমে টিকে থাকে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বাহিত হয়।
১। ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতা: ব্রিটিশরা তাদের ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতাকে অত্যন্ত সম্মান করে। বহু শতাব্দী ধরে চলে আসা প্রথাগুলো তাদের ইতিহাসের জীবন্ত দলিল। এসব প্রথা সমাজের স্থিতিশীলতা বজায় রাখে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সাংস্কৃতিক জ্ঞান ও মূল্যবোধ প্রবাহিত করে। উদাহরণস্বরূপ, রাজপরিবারের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা, যেমন – সিংহাসন আরোহণ বা বিবাহের মতো ঘটনাগুলো অতীতের সঙ্গে বর্তমানের সেতুবন্ধন তৈরি করে। এই ধারাবাহিকতা তাদের জাতীয় পরিচয়কে সুদৃঢ় করে এবং এক ধরনের মানসিক নিরাপত্তা প্রদান করে।
২। সামাজিক সংহতি: প্রথাগুলো ব্রিটিশ সমাজে এক ধরনের সামাজিক সংহতি ও ঐক্য গড়ে তোলে। বিভিন্ন ধরনের প্রথাগত অনুষ্ঠান ও উৎসব, যেমন – ক্রিসমাস, গাই ফকস নাইট, বা রয়্যাল টি পার্টি, মানুষকে একত্রিত করে। এসব অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ একে অপরের সঙ্গে মিশে, যা সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করে। এর ফলে, তারা নিজেদেরকে একটি বৃহত্তর সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে অনুভব করে, যা সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহযোগিতা বৃদ্ধি করে।
৩। আইনি ব্যবস্থা ও সংবিধান: ব্রিটেনের আইনি ব্যবস্থায় প্রথা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি অলিখিত সংবিধানের একটি অংশ, যা কমন ল নামে পরিচিত। শত শত বছর ধরে আদালতের রায় এবং সংসদীয় প্রথা ব্রিটিশ আইনের ভিত্তি তৈরি করেছে। এই প্রথাগুলো লিখিত আইনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ এবং সমাজের স্থিতিশীলতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। এই অলিখিত সংবিধান ব্রিটিশদের কাছে খুবই মূল্যবান, কারণ এটি নমনীয় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তনশীল।
৪। জাতীয় পরিচয় ও গর্ব: প্রথাগুলো ব্রিটিশদের মধ্যে এক ধরনের জাতীয় গর্ব এবং পরিচয়ের অনুভূতি তৈরি করে। যেমন – ইউনিফর্ম পরিহিত বাছি গার্ড, বা ঐতিহাসিক রয়্যাল প্যালেসের মতো বিষয়গুলো তাদের জাতীয় প্রতীক। এসব প্রথা তাদের অতীত গৌরব, সামরিক শক্তি এবং সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। এই জাতীয় গর্ব ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেম এবং নিজেদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা তৈরি করে।
৫। শিক্ষাব্যবস্থায় প্রথা: ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থায় প্রথাগত মূল্যবোধ ও শিষ্টাচারের ওপর জোর দেওয়া হয়। পাবলিক স্কুলগুলোতে নির্দিষ্ট ধরনের পোশাক, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং দলবদ্ধ হয়ে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলা হয়। এই প্রথাগুলো কেবল একাডেমিক শিক্ষা নয়, বরং একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি ব্রিটিশ সমাজের কাঠামোগত ভিত্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৬। শিষ্টাচার ও আচরণ: ব্রিটিশ সমাজে প্রথাগত শিষ্টাচার ও আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট সামাজিক পরিস্থিতিতে কীভাবে আচরণ করতে হয়, তার অলিখিত নিয়মকানুন সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুশৃঙ্খলতা বজায় রাখে। যেমন – লাইনে দাঁড়ানো, ‘প্লিজ’ এবং ‘থ্যাংক ইউ’ ব্যবহার করা, এবং ব্যক্তিগত দূরত্ব বজায় রাখা ইত্যাদি প্রথাগুলো দৈনন্দিন জীবনে শৃঙ্খলা নিয়ে আসে। এই ধরনের আচরণগত প্রথাগুলো সামাজিক মিথস্ক্রিয়াকে মসৃণ করে।
৭। রাজতন্ত্রের গুরুত্ব: রাজতন্ত্র ব্রিটিশ প্রথার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। যদিও এর রাজনৈতিক ক্ষমতা সীমিত, তবে এটি দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং স্থিতিশীলতার প্রতীক। রাজপরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন প্রথাগত অনুষ্ঠান, দাতব্য কাজ এবং সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে জনগণের সঙ্গে এক ধরনের মানসিক সংযোগ স্থাপন করে। এটি জাতিকে একত্রিত করে এবং ব্রিটিশ পরিচয়ের একটি মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
৮। আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রথা: ব্রিটেনের আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রথাগুলো বিশ্বজুড়ে সুনামের অধিকারী। যেমন – লন্ডন সিটির আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো শত শত বছর ধরে নির্দিষ্ট কিছু প্রথা মেনে চলে আসছে, যা তাদের নির্ভরযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়িয়েছে। এসব প্রথা বাজারের স্থিতিশীলতা এবং বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। এই প্রথাগত পদ্ধতিগুলো ব্রিটিশ অর্থনীতিকে শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করে।
৯। প্রযুক্তি ও আধুনিকতার সঙ্গে সমন্বয়: আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশ্বায়নের যুগেও ব্রিটিশরা তাদের প্রথাগুলোকে প্রাসঙ্গিক রাখতে সক্ষম হয়েছে। তারা পুরোনো প্রথাগুলোকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করে, যা তরুণ প্রজন্মের কাছেও আকর্ষণীয়। উদাহরণস্বরূপ, রাজপরিবারের অনুষ্ঠানগুলো এখন টেলিভিশন এবং সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, যা বিশ্বজুড়ে দর্শক আকর্ষণ করে। এই সমন্বয় প্রথাগুলোকে বিলুপ্ত না হতে দিয়ে বরং তাদের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।
১০। নমনীয়তা ও অভিযোজন ক্ষমতা: ব্রিটিশ প্রথাগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তাদের নমনীয়তা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক প্রথা পরিবর্তিত হয়েছে বা নতুন রূপ ধারণ করেছে। এই অভিযোজন ক্ষমতা প্রথাগুলোকে অপ্রাসঙ্গিক হওয়া থেকে রক্ষা করে। যেমন – অতীতের কিছু কঠোর প্রথা এখন শিথিল করা হয়েছে যাতে সমাজের বৈচিত্র্যকে আরও ভালোভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। এই নমনীয়তা ব্রিটিশ সমাজকে গতিশীল এবং আধুনিক করে তুলেছে।
১১। সামাজিক স্থিতিশীলতা: প্রথাগুলো সমাজের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। প্রথাগত কাঠামো মানুষকে কী প্রত্যাশা করতে হবে তা বুঝতে সাহায্য করে, যা সমাজে এক ধরনের নিরাপত্তা বোধ তৈরি করে। প্রথাগুলো যদি হঠাৎ করে ভেঙে যায়, তাহলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। তাই, ব্রিটিশরা প্রথাগুলোকে ধরে রাখে যাতে তাদের সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকে এবং আকস্মিক পরিবর্তন এড়ানো যায়।
১২। রাজনৈতিক ব্যবস্থা: ব্রিটিশ সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রথা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন – প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার গঠন, পার্লামেন্টের অধিবেশন পরিচালনা, এবং স্পিকারের ভূমিকা ইত্যাদি অনেক কিছুই প্রথা দ্বারা পরিচালিত হয়। এসব প্রথা লিখিত আইন না হলেও সংসদীয় কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এসব প্রথা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
১৩। সাংস্কৃতিক বিনিময়: প্রথাগত অনুষ্ঠানগুলো প্রায়শই আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে। উদাহরণস্বরূপ, রয়্যাল অ্যাঙ্কাস্ট এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক উৎসবগুলোতে সারা বিশ্ব থেকে পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এটি কেবল দেশের অর্থনীতিকে উপকৃত করে না, বরং ব্রিটিশ সংস্কৃতিকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরে। এর মাধ্যমে অন্যান্য সংস্কৃতিও ব্রিটেনের প্রথা সম্পর্কে জানতে পারে, যা পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ায়।
১৪। ঐতিহাসিক সম্মান: ব্রিটিশরা তাদের ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের এবং ঘটনার প্রতি গভীর সম্মান দেখায়, যা প্রথার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। যেমন – বিভিন্ন স্মৃতিসৌধ, আনুষ্ঠানিক স্মৃতিস্তম্ভ এবং বার্ষিক স্মারক দিবসগুলো দেশের ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এই প্রথাগুলো নতুন প্রজন্মকে তাদের পূর্বপুরুষদের ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং তাদের মধ্যে ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা তৈরি করে।
১৫। শ্রমিক শ্রেণীর প্রথা: ব্রিটেনের শ্রমিক শ্রেণীর মধ্যেও কিছু নির্দিষ্ট প্রথা প্রচলিত আছে। যেমন – পাব সংস্কৃতি, ফুটবল ম্যাচ দেখা এবং নির্দিষ্ট কিছু ছুটির দিনে পারিবারিক মিলন ইত্যাদি। এই প্রথাগুলো তাদের সামাজিক জীবনকে সমৃদ্ধ করে এবং তাদের মধ্যে এক ধরনের শ্রেণিবোধ তৈরি করে। এই প্রথাগুলো তাদের পরিচয় এবং জীবনের আনন্দকে সংজ্ঞায়িত করে।
১৬। পরিবেশগত প্রথা: প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়েও কিছু প্রথা দেখা যায়। যেমন – ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ উদ্যান তৈরি, বাগান করা এবং গ্রামাঞ্চলের সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য কিছু প্রথা প্রচলিত আছে। এসব প্রথা কেবল সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, বরং পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেও সাহায্য করে।
১৭। ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও প্রতীক: ব্রিটেনের প্রথাগত পোশাক এবং প্রতীকগুলো জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উদাহরণস্বরূপ, স্কটিশ কেল্ট এবং হাইল্যান্ড পোশাক, বা ইংল্যান্ডের সেন্ট জর্জের ক্রস ইত্যাদি। এসব প্রতীক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হয় এবং জাতীয় পরিচয়কে শক্তিশালী করে। এই ধরনের প্রতীকগুলো জনগণের মধ্যে এক ধরনের অভিন্নতা তৈরি করে।
উপসংহার: সবশেষে বলা যায়, ব্রিটেনে প্রথা মান্য করার কারণ বহুবিধ এবং গভীর। এটি কেবল অতীতকে ধরে রাখার প্রবণতা নয়, বরং এক সুসংহত, স্থিতিশীল এবং গর্বিত জাতি গঠনের মূল ভিত্তি। প্রথাগুলো ব্রিটিশ সমাজের কাঠামোকে দৃঢ় করে, সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি করে এবং তাদের জাতীয় পরিচয়কে সংজ্ঞায়িত করে।
- ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতা
- সামাজিক সংহতি
- আইনি ব্যবস্থা ও সংবিধান
- জাতীয় পরিচয় ও গর্ব
- শিক্ষাব্যবস্থায় প্রথা
- শিষ্টাচার ও আচরণ
- রাজতন্ত্রের গুরুত্ব
- আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রথা
- প্রযুক্তি ও আধুনিকতার সঙ্গে সমন্বয়
- নমনীয়তা ও অভিযোজন ক্ষমতা
- সামাজিক স্থিতিশীলতা
- রাজনৈতিক ব্যবস্থা
- সাংস্কৃতিক বিনিময়
- ঐতিহাসিক সম্মান
- শ্রমিক শ্রেণীর প্রথা
- পরিবেশগত প্রথা
- ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও প্রতীক
ব্রিটেনে প্রথা মান্য করার পেছনে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট গুরুত্বপূর্ণ। ১১০০ শতাব্দী থেকে কমন ল-এর উদ্ভব হয়, যা প্রথাভিত্তিক আইনি ব্যবস্থার সূচনা করে। ১৬৮৯ সালের বিল অফ রাইটস-এর মাধ্যমে পার্লামেন্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং রাজতন্ত্রের ক্ষমতা সীমিত হয়, যা প্রথাগত ক্ষমতার ভারসাম্যের এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত। আধুনিক যুগে, ২০২০ সালে একটি জরিপে দেখা যায়, ব্রিটিশ জনগণের ৬০% এরও বেশি মানুষ রাজতন্ত্রকে দেশের ঐতিহ্য ও প্রথার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সমর্থন করে। এটি প্রমাণ করে যে, ব্রিটিশরা এখনো তাদের ঐতিহ্যকে মূল্যবান মনে করে। ১৯৫৩ সালে দ্বিতীয় রানী এলিজাবেথের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানটি টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়, যা প্রথাকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে এবং বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

