- readaim.com
- 0
উত্তর।।প্রস্তাবনা: রাষ্ট্রবিজ্ঞান মানব সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যয়ন ক্ষেত্র, যা রাষ্ট্র, সরকার, রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করে। এটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করে কিভাবে একটি দেশ পরিচালিত হয়, নাগরিকদের অধিকার কী, এবং শাসক ও শাসিতের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত। এই বিজ্ঞানের মাধ্যমে আমরা রাজনৈতিক তত্ত্ব, আইন ও নীতির গভীরে প্রবেশ করি।
শাব্দিক অর্থ:-
রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে ইংরেজিতে Political Science বলা হয়। এই শব্দটি গ্রিক শব্দ “polis” থেকে এসেছে, যার অর্থ “নগর-রাষ্ট্র” বা “শহর”। আর “Science” মানে “জ্ঞান” বা “বিজ্ঞান”। সুতরাং, আক্ষরিক অর্থে রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো নগর-রাষ্ট্র সম্পর্কিত জ্ঞান বা বিজ্ঞান।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো সমাজবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা যা রাষ্ট্র, সরকার, রাজনীতি, ক্ষমতা, সরকারি নীতি এবং রাজনৈতিক আচরণ নিয়ে গবেষণা করে। এটি কেবল বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়েই আলোচনা করে না, বরং অতীত এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতিও বিশ্লেষণ করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক প্রক্রিয়াগুলোকে বোঝা, ব্যাখ্যা করা এবং প্রয়োজনে সেগুলোর উন্নতি সাধনের পথ খুঁজে বের করা।
সাধারণভাবে আমরা যখন রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে চিন্তা করি, তখন আমাদের মনে আসে দেশের শাসনব্যবস্থা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নির্বাচন, আইন-কানুন, নেতা-নেত্রী এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক। আমরা ভাবি কীভাবে সরকার জনগণের জন্য কাজ করে, কীভাবে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকে, অথবা কীভাবে অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারিত হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান এই সমস্ত বিষয়গুলোকেই একটি কাঠামোর মধ্যে এনে সুসংগঠিতভাবে আলোচনা করে।
১।অ্যারিস্টটল (Aristotle): “রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান যা নগর-রাষ্ট্রের কল্যাণ নিয়ে আলোচনা করে।” (Political Science is the master science that deals with the welfare of the city-state.)
২।গার্নার: “রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো রাষ্ট্র ও সরকার সম্পর্কিত বিজ্ঞান।” (Political science is the science of state and government.)
৩।ল্যাসওয়েল (Harold Lasswell): “রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো কে কী পায়, কখন পায় এবং কীভাবে পায় তার অধ্যয়ন।” (Political Science is the study of who gets what, when, and how.)
৫।ডেভিড ইস্টন (David Easton): “রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো সমাজের জন্য কর্তৃত্বমূলকভাবে মূল্যবোধের বন্টন।” (Political Science is the authoritative allocation of values for a society.)
৬।ড. জে. সি. জোহরি (Dr. J. C. Johari): “রাষ্ট্রবিজ্ঞান এমন এক বিজ্ঞান যা রাষ্ট্রের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ, রাজনৈতিক তত্ত্ব, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে।” (Political Science is a science which deals with the state in the past, present and future, political theories, political institutions and international relations.)
৭।অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি (Oxford English Dictionary): “রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো রাষ্ট্র, সরকার, এবং রাজনীতির তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিক নিয়ে অধ্যয়ন।” (Political Science is the study of the theoretical and practical aspects of the state, government, and politics.)
উপরোক্ত সংজ্ঞাগুলোর আলোকে আমরা বলতে পারি যে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো সমাজবিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা যা রাষ্ট্র, সরকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক আচরণ, জননীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে পদ্ধতিগতভাবে অধ্যয়ন করে। এটি কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং কীভাবে একটি সুসংগঠিত ও কার্যকর রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় এবং সমাজের জন্য মূল্যবোধের সুষ্ঠু বন্টন নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়েও দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান মানব সমাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি আমাদের রাজনৈতিক কাঠামো, ক্ষমতা সম্পর্ক এবং নাগরিক হিসেবে আমাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। এই জ্ঞান আমাদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন হতে, সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নত সমাজ গঠনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে সাহায্য করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান ছাড়া আধুনিক সমাজ ও রাষ্ট্রের কার্যকারিতা বোঝা অসম্ভব।
রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতি সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানই হলো রাষ্ট্রবিজ্ঞান।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো সামাজিক বিজ্ঞানের একটি শাখা যা রাষ্ট্র, সরকার এবং রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করে। গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলকে এর জনক বলা হয়। এর মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক তত্ত্ব, তুলনামূলক রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং জনপ্রশাসন। এটি নাগরিকদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও অধিকার সম্পর্কে জ্ঞান দান করে।

