- readaim.com
- 0
প্রশ্ন:- সামরিক হস্তক্ষেপ কি?
Or, সামরিক হস্তক্ষেপ কাকে বলে?
Or, সামরিক হস্তক্ষেপের সজ্ঞা দাও।
Or, সামরিক হস্তক্ষেপ বলতে কি বুঝ?
উত্তর::ভূমিকা: রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কখনো কখনো সামরিক বাহিনী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে পড়ে। যখন সামরিক বাহিনী রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা শাসন ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার করে, তখন তাকে সামরিক হস্তক্ষেপ বলা হয়। এটি অনেক দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।
সামরিক হস্তক্ষেপের পরিচয়:-
সামরিক হস্তক্ষেপ বলতে বোঝায়, যখন একটি দেশের সামরিক বাহিনী সংবিধান নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কার্যক্রম, সরকার পরিচালনা বা ক্ষমতার পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে। এ ধরনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী কখনো সরকারকে প্রভাবিত করে, আবার কখনো সরাসরি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্বল প্রতিষ্ঠান, সংঘাত বা সংকটের মতো পরিস্থিতিতে সামরিক হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটতে পারে।
সামরিক হস্তক্ষেপের শাব্দিক অর্থ:-
সামরিক হস্তক্ষেপ শব্দটি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত—“সামরিক” ও “হস্তক্ষেপ”। সামরিক অর্থ হলো সেনাবাহিনী বা প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত এবং হস্তক্ষেপ অর্থ হলো কোনো বিষয়ে প্রবেশ করা বা প্রভাব বিস্তার করা। তাই সামরিক হস্তক্ষেপের শাব্দিক অর্থ হলো রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক বিষয়ে সামরিক বাহিনীর প্রবেশ বা প্রভাব বিস্তার।
১। স্যামুয়েল পি. হান্টিংটন (Samuel P. Huntington): Huntington-এর মতে, “Military intervention in politics refers to the phenomenon concerning the involvement of military officers in politics and political decision-making.” অর্থাৎ, সামরিক হস্তক্ষেপ হলো এমন একটি ঘটনা, যেখানে সামরিক কর্মকর্তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে পড়ে।
২। মরিস ডুভার্জার (Maurice Duverger): Duverger-এর মতে, সামরিক হস্তক্ষেপ হলো এমন একটি রাজনৈতিক ঘটনা যেখানে সামরিক প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার করে। এটি সাধারণত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
৩। স্যামুয়েল ফাইনার (S. E. Finer): Finer-এর মতে, “The military intervene in politics when they use their organized force and authority to influence political affairs.” অর্থাৎ, সামরিক বাহিনী যখন তাদের সংগঠিত শক্তি ও কর্তৃত্ব ব্যবহার করে রাজনৈতিক বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করে, তখন তাকে সামরিক হস্তক্ষেপ বলা হয়।
৪। কার্ল ফ্রেডরিখ (Carl J. Friedrich): Friedrich-এর মতে, রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠান যখন তার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে অন্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে, তখন তা রাজনৈতিক ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সামরিক হস্তক্ষেপ এর একটি উদাহরণ।
৫। এরিক নর্ডলিঙ্গার (Eric A. Nordlinger): Nordlinger-এর মতে, সামরিক হস্তক্ষেপ হলো এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে সামরিক বাহিনী রাজনৈতিক কর্তৃত্বের ওপর প্রভাব বিস্তার করে এবং নিজেদের স্বার্থ বা ধারণা অনুযায়ী রাজনৈতিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে।
৬। লুসিয়ান পাই (Lucian W. Pye): Pye-এর মতে, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হলে সামরিক বাহিনী অনেক সময় নিজেদেরকে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করে এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ভূমিকা গ্রহণ করে।
উপরের সংজ্ঞা ও ধারণাগুলোর আলোকে বলা যায়, সামরিক হস্তক্ষেপ হলো এমন একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, যেখানে সামরিক বাহিনী তার স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা দায়িত্বের বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ক্ষমতা প্রয়োগ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে।
উপসংহার: সামরিক হস্তক্ষেপ রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও শাসনব্যবস্থার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কমাতে সহায়তা করে। তাই রাষ্ট্র পরিচালনায় সাংবিধানিক কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।