- readaim.com
- 0
উত্তর::উপস্থাপনা: ঊনবিংশ শতাব্দীর ইংরেজ আইনবিদ জন অস্টিন প্রদত্ত সার্বভৌমত্বের ধারণাটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী সংযোজন। তাঁর “আইনশাস্ত্রের উপর বক্তৃতা” (Lectures on Jurisprudence, 1832) নামক গ্রন্থে তিনি এই তত্ত্বের বিশদ ব্যাখ্যা দেন। অস্টিনের মতে, সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ, চূড়ান্ত এবং অবাধ ক্ষমতা, যা এক বা একাধিক নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে এবং সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ অন্য কারো প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে না, বরং সমাজের অধিকাংশ মানুষ তাদের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে। তাঁর এই আইনগত ও দৃষ্টবাদী তত্ত্বটি পরবর্তীকালে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হলেও এর ঐতিহাসিক ও তাত্ত্বিক গুরুত্ব অপরিসীম।
১। নির্দিষ্ট মানবীয় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ: অস্টিনের তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রতিটি স্বাধীন রাজনৈতিক সমাজে একজন নির্দিষ্ট মানবীয় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা সার্বভৌম বিদ্যমান থাকে। এই সার্বভৌম একজন ব্যক্তি বা একটি সংস্থা হতে পারে, যাকে সকলে মান্য করে কিন্তু তিনি কাউকে মান্য করতে বাধ্য নন। এই ধারণাটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুকে চিহ্নিত করতে সাহায্য করে এবং এটি সুস্পষ্ট ও বাস্তবধর্মী। তবে সমালোচকদের মতে, আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে, যেখানে ক্ষমতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বণ্টিত, সেখানে এমন একজন নির্দিষ্ট সার্বভৌমকে খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
২। সার্বভৌমের আদেশই আইন: অস্টিনের তত্ত্বের একটি মূল ভিত্তি হলো “সার্বভৌমের আদেশই আইন” (Law is the command of the sovereign)। এর অর্থ হলো, সার্বভৌম যা আদেশ করেন, তাই আইনে পরিণত হয় এবং তা অমান্য করলে শাস্তির বিধান থাকে। এই ধারণাটি আইনের একটি সুস্পষ্ট এবং সহজবোধ্য সংজ্ঞা প্রদান করে, যা আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের প্রক্রিয়াকে বুঝতে সাহায্য করে। কিন্তু এই সংজ্ঞা প্রথা, রীতিনীতি এবং বিচারকের দ্বারা সৃষ্ট আইনের মতো বিষয়গুলোকে আইনের উৎস হিসেবে অস্বীকার করে, যা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
৩। সার্বভৌম ক্ষমতা অবিভাজ্য: অস্টিন মনে করতেন যে, সার্বভৌম ক্ষমতাকে ভাগ করা যায় না। ক্ষমতা ভাগ করলে সার্বভৌমত্বের বিনাশ ঘটে। তাঁর মতে, একটি রাষ্ট্রে কেবল একটিই চূড়ান্ত ক্ষমতার উৎস থাকতে পারে। এই ধারণাটি রাষ্ট্রের একতাকে নির্দেশ করে এবং অখণ্ডতাকে গুরুত্ব দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থায়, যেখানে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টিত থাকে, সেখানে অস্টিনের এই অবিভাজ্যতার ধারণাটি অচল বলে প্রমাণিত হয়।
৪। সার্বভৌম ক্ষমতা অবাধ ও অসীম: অস্টিনের সার্বভৌমের ক্ষমতা আইনগতভাবে চূড়ান্ত, অবাধ এবং অসীম। তাঁর উপর কোনো প্রকার আইনগত সীমাবদ্ধতা আরোপ করা যায় না, কারণ তিনি নিজেই সকল আইনের উৎস। এই ধারণাটি রাষ্ট্রের চূড়ান্ত কর্তৃত্বকে প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু বাস্তবে কোনো শাসকই চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী হতে পারে না। জনমত, ধর্মীয় বিশ্বাস, নৈতিকতা, প্রথা এবং আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা শাসকের ক্ষমতা সর্বদা সীমাবদ্ধ থাকে।
৫। জনগণের স্বভাবজাত আনুগত্য: অস্টিনের তত্ত্বানুযায়ী, সমাজের অধিকাংশ মানুষ সার্বভৌমের প্রতি স্বভাবজাতভাবেই আনুগত্য প্রদর্শন করে। এই আনুগত্যই সার্বভৌমত্বের ভিত্তি তৈরি করে। এই ধারণাটি শাসক ও শাসিতের মধ্যে একটি স্থিতিশীল সম্পর্ককে নির্দেশ করে, যা রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য। তবে এই ‘স্বভাবজাত আনুগত্য’ ধারণাটি অস্পষ্ট। মানুষ ভয়ের কারণে, অভ্যাসের বশে নাকি উপযোগিতার কথা ভেবে আনুগত্য করে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
৬। আইন ও নৈতিকতার পৃথকীকরণ: অস্টিন আইনকে নৈতিকতা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক করেছেন। তাঁর মতে, আইন ভালো না মন্দ, তা বিবেচ্য বিষয় নয়; আইন সার্বভৌম কর্তৃক আদিষ্ট কিনা, সেটাই মূল বিষয়। এই দৃষ্টবাদী (Positivist) দৃষ্টিভঙ্গি আইনকে একটি নিরপেক্ষ বিজ্ঞান হিসেবে অধ্যয়নের সুযোগ করে দেয়। কিন্তু আইনকে নৈতিকতা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করলে তা স্বৈরাচারী শাসনের পথকে প্রশস্ত করতে পারে এবং আইনের মানবিক আবেদনকে অস্বীকার করে।
৭. আন্তর্জাতিক আইনের অস্বীকৃতি: অস্টিনের তত্ত্ব আন্তর্জাতিক আইনকে প্রকৃত আইন হিসেবে স্বীকার করে না। কারণ আন্তর্জাতিক আইনের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের আদেশ এবং শাস্তির ভয় নেই। তিনি একে কেবল ‘ইতিবাচক নৈতিকতা’ (Positive Morality) বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু আধুনিক বিশ্বে রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য এবং রাষ্ট্রগুলো তা মানতে বাধ্য থাকে। তাই অস্টিনের এই ধারণা বর্তমান প্রেক্ষাপটে গ্রহণযোগ্য নয়।
৮। গণতন্ত্রের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ: অস্টিনের সার্বভৌমত্বের ধারণা গণতন্ত্রের মূল ভাবনার পরিপন্থী। গণতন্ত্রে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস এবং সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক বলে মনে করা হয়, যা ‘জনপ্রিয় সার্বভৌমত্ব’ নামে পরিচিত। কিন্তু অস্টিনের তত্ত্বে একজন নির্দিষ্ট মানবীয় ঊর্ধ্বতনকে ক্ষমতার অধিকারী করা হয়েছে, যা জনগণের ভূমিকাকে অস্বীকার করে এবং স্বৈরতন্ত্রকে সমর্থন যোগায়।
৯। প্রথাগত আইনের উপেক্ষা: অস্টিনের তত্ত্ব প্রথাগত আইনকে (Customary Law) সরাসরি অস্বীকার করে। তাঁর মতে, প্রথা কেবল তখনই আইনে পরিণত হয় যখন সার্বভৌম তা অনুমোদন করেন। কিন্তু স্যার হেনরি মেইনের মতো ঐতিহাসিক আইনবিদরা দেখিয়েছেন যে, বহু প্রাচীন সমাজে প্রথাই ছিল আইনের প্রধান উৎস এবং রাষ্ট্র বা সার্বভৌমের অস্তিত্ব ছাড়াই আইন কার্যকর ছিল। তাই অস্টিনের এই ধারণা ঐতিহাসিকভাবে সঠিক নয়।
১০। ক্ষমতার উৎস ব্যাখ্যায় ব্যর্থতা: অস্টিনের তত্ত্ব সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস কী, তা সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে না। তিনি শুধু বলেন যে, একজন নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু সেই কর্তৃপক্ষ কীভাবে এই ক্ষমতা অর্জন করলো, তার কোনো যৌক্তিক বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা তিনি দেন না। তিনি কেবল ক্ষমতার অস্তিত্বকে স্বীকার করে নিয়েছেন, তার বৈধতার ভিত্তি নিয়ে আলোচনা করেননি।
১১। যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সাথে বৈপরীত্য: অস্টিনের অবিভাজ্য সার্বভৌমত্বের ধারণা যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার (Federal System) সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর সরকারের মধ্যে ক্ষমতা ভাগ করে দেওয়া হয়। এখানে কোনো একক, নির্দিষ্ট ও অসীম ক্ষমতার অধিকারী সার্বভৌমকে খুঁজে পাওয়া যায় না। সংবিধানই এখানে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী।
১২। রাজনৈতিক সার্বভৌমত্বের অবমূল্যায়ন: অস্টিন কেবল আইনগত সার্বভৌমত্বের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন এবং রাজনৈতিক সার্বভৌমত্বকে উপেক্ষা করেছেন। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনগত সার্বভৌমের (যেমন- সংসদ) পেছনে নির্বাচকমণ্ডলী বা জনমতের আকারে রাজনৈতিক সার্বভৌম বিদ্যমান থাকে। আইনগত সার্বভৌমকে রাজনৈতিক সার্বভৌমের ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করতে হয়, যা অস্টিনের তত্ত্বে অনুপস্থিত।
১৩। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সীমাবদ্ধতা: অস্টিনের তত্ত্বটি মূলত ঊনবিংশ শতাব্দীর ইংল্যান্ডের এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থার দ্বারা প্রভাবিত। তৎকালীন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ক্ষমতাকে মাথায় রেখেই তিনি তাঁর তত্ত্বটি প্রদান করেন। তাই এটি সার্বজনীনভাবে সকল দেশের ও সকল কালের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে না, যা এর অন্যতম বড় সীমাবদ্ধতা।
১৪। বাস্তবতার সাথে অমিল: অস্টিনের সার্বভৌম ক্ষমতার অসীমতার ধারণাটি বাস্তবসম্মত নয়। ইতিহাসে দেখা যায়, কোনো শাসকই নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন না। তুরস্কের সুলতানও শরিয়ত আইন দ্বারা সীমাবদ্ধ ছিলেন। এমনকি আধুনিক যুগের স্বৈরাচারী শাসকরাও বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তাদের ক্ষমতাকে অবাধে প্রয়োগ করতে পারেন না।
১৫। অধিকারের উৎস সংক্রান্ত ধারণা: অস্টিনের মতে, সার্বভৌমই সকল অধিকারের উৎস। যেহেতু সার্বভৌমের বিরুদ্ধে কোনো আইন থাকতে পারে না, সেহেতু জনগণেরও সার্বভৌমের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত অধিকার থাকতে পারে না। এই ধারণাটি ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের ধারণার পরিপন্থী। আধুনিক রাষ্ট্রগুলোতে নাগরিকদের অধিকার সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত থাকে এবং শাসকের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করে দেয়।
১৬। সমাজের বহুত্ববাদী আকারে উপেক্ষা: আধুনিক সমাজবিজ্ঞানীরা রাষ্ট্রকে বহু সংঘের সমন্বয়ে গঠিত একটি ব্যবস্থা বলে মনে করেন। পরিবার, चर्च, ট্রেড ইউনিয়ন ইত্যাদি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়মকানুন ও কর্তৃত্ব রয়েছে, যা ব্যক্তির আনুগত্যকে প্রভাবিত করে। অস্টিনের তত্ত্ব রাষ্ট্রের চূড়ান্ত কর্তৃত্বকে স্বীকার করতে গিয়ে সমাজের এই বহুত্ববাদী (Pluralistic) स्वरूपকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করেছে।
১৭। স্বৈরতন্ত্রের সমর্থক: সমালোচকদের মতে, অস্টিনের তত্ত্ব রাষ্ট্রকে একটি দমনমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে এবং স্বৈরতন্ত্রের পথকে সুগম করে। যেহেতু সার্বভৌম ক্ষমতার উপর কোনো নৈতিক বা আইনগত সীমাবদ্ধতা নেই, তাই শাসকের পক্ষে যা খুশি তাই করার একটি তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি হয়। এটি রাষ্ট্রকে জনগণের কল্যাণের পরিবর্তে নিছক শক্তি প্রয়োগকারী যন্ত্রে পরিণত করে।
১৮। আইনের সরলীকরণ: অস্টিনের “আদেশমূলক” সংজ্ঞা আইনকে অত্যন্ত সরল করে দেখে। আইন শুধুমাত্র আদেশ বা নিষেধাজ্ঞার সমষ্টি নয়। আধুনিক আইন অনেক বেশি জটিল, যার মধ্যে অধিকার প্রদানকারী, ক্ষমতা প্রদানকারী এবং পদ্ধতিগত নানা নিয়ম অন্তর্ভুক্ত থাকে। অস্টিনের সংজ্ঞা আইনের এই বৈচিত্র্যময় প্রকৃতিকে ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
উপসংহার সার্বিকভাবে বিবেচনা করলে, জন অস্টিনের সার্বভৌমত্বের তত্ত্বটি নানাভাবে সমালোচিত এবং আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে হতে পারে। গণতন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক আইনের যুগে তাঁর অবাধ, অসীম ও অবিভাজ্য সার্বভৌমত্বের ধারণাটি অচল। তাসত্ত্বেও, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ও আইনশাস্ত্রে তাঁর তত্ত্বের গুরুত্বকে অস্বীকার করা যায় না। তিনি প্রথম আইনকে একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে অধ্যয়নের পথ দেখান এবং রাষ্ট্রের চূড়ান্ত আইনগত ক্ষমতার প্রকৃতি সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ও 논理पूर्ण ধারণা দেন, যা আজও আলোচনার দাবি রাখে।
- 💠 ১। নির্দিষ্ট মানবীয় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ
- 📜 ২। সার্বভৌমের আদেশই আইন
- 🔗 ৩। সার্বভৌম ক্ষমতা অবিভাজ্য
- 👑 ৪। সার্বভৌম ক্ষমতা অবাধ ও অসীম
- 🤝 ৫। জনগণের স্বভাবজাত আনুগত্য
- ⚖️ ৬। আইন ও নৈতিকতার পৃথকীকরণ
- 🌍 ৭। আন্তর্জাতিক আইনের অস্বীকৃতি
- 🗳️ ৮। গণতন্ত্রের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ
- 🏛️ ৯। প্রথাগত আইনের উপেক্ষা
- ❓ ১০। ক্ষমতার উৎস ব্যাখ্যায় ব্যর্থতা
- 🌍 ১১। যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সাথে বৈপরীত্য
- 🗣️ ১২। রাজনৈতিক সার্বভৌমত্বের অবমূল্যায়ন
- ⏳ ১৩। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সীমাবদ্ধতা
- 👁️ ১৪। বাস্তবতার সাথে অমিল
- 👨👩👧👦 ১৬। সমাজের বহুত্ববাদী আকারে উপেক্ষা
- ⛓️ ১৭। স্বৈরতন্ত্রের সমর্থক
- 📝 ১৮। আইনের সরলীকরণ
জন অস্টিন (১৭৯০-১৮৫৯) তাঁর সার্বভৌমত্বের তত্ত্বটি দিয়েছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর ইংল্যান্ডের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও আইনগত সংস্কারের প্রেক্ষাপটে। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “The Province of Jurisprudence Determined” ১৮৩২ সালে প্রকাশিত হয়, যখন ইংল্যান্ড শিল্প বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল এবং একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় আইনসভার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল। এই সময় দৃষ্টবাদী (Positivism) দর্শনের উত্থান ঘটে, যা নৈতিকতা বা প্রাকৃতিক আইনের পরিবর্তে বাস্তব ও পর্যবেক্ষণযোগ্য তথ্যের উপর গুরুত্ব দিত। অস্টিনের তত্ত্ব ছিল মূলত জেরেমি বেন্থামের উপযোগবাদ এবং টমাস হবসের চরম সার্বভৌমত্বের ধারণার সমন্বয়। তবে আমেরিকার সংবিধান (১৭৮৭) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা এবং পরবর্তীকালে ১৮৯৯ ও ১৯০৭ সালের হেগ কনভেনশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনের ক্রমবিকাশ অস্টিনের চরম সার্বভৌমত্বের ধারণাকে শুরু থেকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়।

