- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: কর্তব্য হলো এমন একটি নৈতিক দায়িত্ব যা প্রতিটি মানুষকে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে পালন করতে হয়। এটি আমাদের আচরণ ও সিদ্ধান্তকে নিয়ন্ত্রণ করে, সমাজে শান্তি ও সুবিচার বজায় রাখতে সাহায্য করে। কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই মানুষ তার মূল্যবান অবদান রাখে এবং একটি সুন্দর সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে।
কর্তব্যের শাব্দিক অর্থ: “কর্তব্য” শব্দটি সংস্কৃত “কৃৎ” (করা) + “তব্য” (যোগ্য) থেকে এসেছে, যার অর্থ “যা করা উচিত” বা “দায়িত্বপালন”।
কর্তব্যের পরিচয়: কর্তব্য হলো নৈতিক, সামাজিক বা আইনি বাধ্যবোধ যা একজন ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনে প্রেরণা দেয়। এটি ব্যক্তির বিবেক, ধর্ম, সমাজ ও রাষ্ট্র দ্বারা প্রভাবিত হয়। আমরা সাধারণত কর্তব্য বলতে বুঝি—পারিবারিক দায়িত্ব, সামাজিক নিয়ম মেনে চলা, দেশের প্রতি ভালোবাসা বা পেশাগত দায়িত্ব। যেমন—শিক্ষকের কর্তব্য ছাত্রদের জ্ঞান দেওয়া, ডাক্তারের কর্তব্য রোগীর সেবা করা ইত্যাদি।
১। ইমানুয়েল কান্ট (Immanuel Kant): “কর্তব্য হলো নৈতিক আইনের প্রতি আনুগত্য, যা বিবেকের আদেশ অনুসারে পালন করা উচিত।” (“Duty is the necessity of acting out of respect for the moral law.”)
২। মহাত্মা গান্ধী (Mahatma Gandhi): “কর্তব্য হলো সত্য ও অহিংসার পথে চলা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো।” (“Duty is the path of truth and non-violence, standing against injustice.”)
৩। জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill): “কর্তব্য হলো এমন কাজ যা সর্বাধিক মানুষের সর্বাধিক কল্যাণ নিশ্চিত করে।” (“Duty is an action that ensures the greatest good for the greatest number.”)
৪। স্বামী বিবেকানন্দ (Swami Vivekananda): “কর্তব্য পালনই হলো ঈশ্বরের সেবা, কারণ প্রতিটি কাজই পবিত্র যদি তা নিঃস্বার্থভাবে করা হয়।” (“Duty is worship of God, for every selfless action is sacred.”)
৫। আরিস্টটল (Aristotle): “কর্তব্য হলো ন্যায়পরায়ণতা ও সদগুণের প্রকাশ।” (“Duty is the expression of justice and virtue.”)
৬। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore): “কর্তব্য হলো স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বের সমন্বয়।” (“Duty is the harmony of freedom and responsibility.”)
উপরের সংজ্ঞাগুলোর আলোকে বলা যায়, “কর্তব্য হলো নৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব যা বিবেক ও ন্যায়ের ভিত্তিতে পালন করা হয়।”
কর্তব্য মানুষের জীবনকে সুশৃঙ্খল ও অর্থবহ করে তোলে। এটি ব্যক্তিকে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ রাখে এবং একটি সুন্দর বিশ্ব গঠনে সহায়তা করে। কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই মানুষ প্রকৃতপক্ষে মহৎ হয়।
“কর্তব্য হলো নৈতিক বাধ্যবোধে সম্পাদিত দায়িত্ব।”
২০২০ সালের গ্যালাপ জরিপে দেখা গেছে, ৭৮% মানুষ মনে করে কর্তব্য পালন সমাজের উন্নতির মূল চাবিকাঠি। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার ঘোষণায়ও ব্যক্তিগত ও সামাজিক দায়িত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতে ২০১৫ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, ৬৫% যুবক কর্তব্যকে নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে যুক্ত করে।

