- readaim.com
- 0
উত্তর::ভূমিকা: স্বল্পকালীন উৎপাদন তত্ত্বে স্থির উপকরণের সাথে পরিবর্তনীয় উপকরণের অনুপাত পরিবর্তনের ফলে উৎপাদনের যে পরিবর্তন ঘটে, তাকে উৎপাদনের পর্যায় হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়। পরিবর্তনীয় অনুপাত বিধি অনুসারে, উৎপাদনের এই প্রক্রিয়াকে মোট উৎপাদন (TP), গড় উৎপাদন (AP) এবং প্রান্তিক উৎপাদন (MP)-এর সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনটি স্বতন্ত্র পর্যায়ে ভাগ করা হয়। এই পর্যায়গুলো একজন উৎপাদককে উপকরণের কাম্য ব্যবহার ও সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্রে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।
আমরা তিনটি উৎপাদনের পর্যায়ের আলোকে উৎপাদনের আপেক্ষককে বর্ণনা করা যায়। আর সেই তিনটি পর্যায় হলো –
উপরের/বামপার্শের চিত্রে ভূমি অক্ষে পরিবর্তনশীল উপকরণ L এবং লম্ব অক্ষে উৎপাদন নির্দেশিত হয়েছে। এ চিত্র থেকে আমরা উৎপাদনের তিনটি পর্যায় আলোচনা করতে পারি। চিত্রে TP হলো মোট উৎপাদন রেখা এবং AP ও MP যথাক্রমে শ্রমের গড় ও প্রান্তিক উৎপাদন রেখা।
- ক) ক্রমবর্ধমান উৎপাদন পর্যায়/প্রথম পর্যায়।
- খ) ক্রমহ্রাসমান উৎপাদন পর্যায়/ দ্বিতীয় পর্য়ায়।
- গ) ঋণাত্নক উৎপাদন পর্যায়/তৃতীয় পর্যায়।
আমরা নিচে একটি চিত্রের মাধ্যমে তিনটি পর্যায় ব্যাখ্যা করা হলো –


ক) ক্রমবর্ধমান উৎপাদন পর্যায়/প্রথম পর্যায়: ভূমি অক্ষে পরিবর্তনীয় উপাদানকে প্রথম দিকে বাড়াতে থাকলে TP ক্রম বর্ধমান হারে বাড়ে। সে জন্য TP রেখা প্রথমে অধিক হারে উপরে উঠতে থাকে। I বিন্দুতে এসে TP রেখা মোড় নেয়। অতএব, TP ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ার পরে অস্থাটি হল I বিন্দু। I বিন্দুর পরে TP বাড়ে ঠিকই, কিন্তু তা ক্রমবর্ধমাহারে বাড়ে। এই I বিন্দুকে গাণিতিক ভাষায় “হার বিপরীতকরণ বিন্দু” (Point of Inflexion) বলা হয়। I বিন্দুতে ক্রমবর্ধমান হার থেকে ক্রমহ্রাসমান হারে উৎপাদন বৃদ্ধির পরিবর্তন ঘটে। I বিন্দুর সাথে সম্পর্ক রেখে
বিন্দুতে MP সর্বোচ্চ হয়। চিত্রে মোট উৎপাদন রেখার N বিন্দুতে গড় উৎপাদন সর্বোচ্চ হয়, যা চিত্রে
বিন্দু দ্বারা দেখানো হয়েছে। এই
বিন্দুতে AP এবং MP সমান থাকে। এই AP এবং MP সমান হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত উৎপাদন পর্যায়কে প্রথম পর্যায় বলে।
খ) ক্রমহ্রাসমান উৎপাদন পর্যায়/ দ্বিতীয় পর্য়ায়: AP এবং MP সমান হবার পর যদি উৎপদক পরিবর্তনশীল উপকরণ বাড়াতে থাকে, তাহলে TP বাড়বে ঠিকই তবে তা ক্রমহ্রাসমান হারে বড়তে থাকবে। এর ফলে এ পর্যায়ে MP ক্রমেই করতে থাকে। M বিন্দুতে মোট উৎপাদন যখন সর্বাধিক হবে, তখন
বিন্দুতে প্রান্তিক উৎপাদন MP শূন্য। TP এর সর্বচ্চো অবস্থা এবং MP এর শূন্য হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত অবস্থাটি হল উৎপাদনের দ্বিতীয় পর্যায়।
গ) ঋণাত্নক উৎপাদন পর্যায়/তৃতীয় পর্যায়: দ্বিতীয় পর্যায়ে পরিবর্তনীয় উপাদানকে আরও বাড়ানো হলে মোট উৎপাদন TP কমতে থাকে। M বিন্দুতে পৌছানোর পূর্ব পর্যন্ত TP বাড়ে। কিন্তু M বিন্দুর পর TP কমতে থাকে। এ অবস্থায় MP ঋণাত্নক হয়। ঋনাত্নক প্রান্তিক উৎপাদন নির্দেশক উৎপাদন পর্যায়টি তৃতীয় পর্যায় হিসেবে বিবেচিত।
কাম্যউৎপাদন পর্যায়:- উৎপাদনের এই তিনটি পর্যায় বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একজন উৎপাদকের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম পর্যায়ে স্থির উপকরণের তুলনায় পরিবর্তনীয় উপকরণ কম থাকায় উৎপাদন দক্ষতার সাথে পরিচালিত হয় না। অন্যদিকে, তৃতীয় পর্যায়ে অতিরিক্ত পরিবর্তনীয় উপকরণ নিয়োগের ফলে মোট উৎপাদন কমে যায়, যা লোকসানের কারণ হয়। সুতরাং, উপকরণের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করার জন্য উৎপাদক সর্বদা উৎপাদনের দ্বিতীয় পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে সচেষ্ট থাকে।
উপসংহার: স্বল্পকালীন উৎপাদন প্রক্রিয়ায়, একজন যৌক্তিক উৎপাদকের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়টি (ক্রমহ্রাসমান উৎপাদন পর্যায়)-ই হলো কাম্য উৎপাদন পর্যায়। এই পর্যায়ে, পরিবর্তনীয় উপকরণের দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে মোট উৎপাদন সর্বোচ্চ হয় (যদিও ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়ে) এবং প্রান্তিক উৎপাদন ধনাত্মক থাকে। প্রথম পর্যায়ে অপূর্ণ দক্ষতা এবং তৃতীয় পর্যায়ে লোকসানের ঝুঁকি থাকায়, সর্বোচ্চ মুনাফা ও উপকরণের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে উৎপাদককে এই দ্বিতীয় পর্যায়েই উৎপাদন কার্যক্রম সীমিত রাখা উচিত।

