- readaim.com
- 0
উত্তর।। মুখবন্ধ: রাজনৈতিক দর্শনের ইতিহাসে ইংরেজ দার্শনিক জন লকের সামাজিক চুক্তি মতবাদ এক যুগান্তকারী সংযোজন। রাষ্ট্র কীভাবে উৎপত্তি লাভ করলো এবং শাসকের সাথে জনগণের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত, এই মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর তিনি তার লেখনীতে তুলে ধরেছেন। এই মতবাদ কেবল একটি তত্ত্ব নয়, বরং এটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার মূল ভিত্তি স্থাপন করেছে। লকের এই চিন্তা আজও বিশ্বের অগণিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনায় এটি এক অপরিহার্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
সপ্তদশ শতাব্দীর প্রভাবশালী ইংরেজ দার্শনিক জন লক (১৬৩২-১৭০৪) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “Two Treatises of Government”-এ সামাজিক চুক্তি মতবাদটি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, রাষ্ট্র ঈশ্বরের সৃষ্টি নয় বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমেও তৈরি হয়নি। বরং প্রকৃতির রাজ্যে বসবাসকারী মানুষেরা স্বেচ্ছায় নিজেদের মধ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্র গঠন করেছে। প্রকৃতির রাজ্যে মানুষের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির মতো কিছু প্রাকৃতিক অধিকার থাকলেও তা প্রয়োগ করার কোনো সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ ছিল না। এই অসুবিধা দূর করে অধিকারগুলোকে সুরক্ষিত করার জন্যই মানুষ পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সরকার প্রতিষ্ঠা করে। লকের তত্ত্বটি মূলত সীমিত ও নিয়মতান্ত্রিক সরকারের এক শক্তিশালী ভিত্তি।
জন লকের সামাজিক চুক্তি মতবাদের বৈশিষ্ট্য:-
১। প্রকৃতির রাজ্য: জন লকের মতে, রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে বাস করত। এই রাজ্যটি ছিল প্রাক-রাজনৈতিক, কিন্তু প্রাক-সামাজিক নয়। অর্থাৎ, সেখানে সমাজ ছিল কিন্তু কোনো সুসংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বা সরকার ছিল না। টমাস হবসের বর্ণিত প্রকৃতির রাজ্যের মতো এটি কেবলই যুদ্ধ বা নৈরাজ্যের অবস্থা ছিল না, বরং এটি ছিল পারস্পরিক শান্তি, সদিচ্ছা ও সহযোগিতার একটি পরিবেশ যেখানে মানুষ প্রাকৃতিক আইন দ্বারা পরিচালিত হতো।
২। প্রাকৃতিক আইন: লকের প্রকৃতির রাজ্য কোনো আইনবিহীন স্থান ছিল না। এটি প্রাকৃতিক আইন (Natural Law) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো। এই আইন কোনো মানুষের তৈরি আইন নয়, বরং এটি ছিল विवेक ও যুক্তির উপর প্রতিষ্ঠিত এক সার্বজনীন নৈতিক নিয়ম। এই আইন অনুযায়ী, সকল মানুষ সমান এবং স্বাধীন, তাই কারও অন্যের জীবন, স্বাস্থ্য, স্বাধীনতা বা সম্পত্তি নষ্ট করার অধিকার নেই। প্রত্যেকেই এই আইন মানতে বাধ্য ছিল।
৩। মানব প্রকৃতি: জন লক মানব প্রকৃতি সম্পর্কে এক উচ্চ ধারণা পোষণ করতেন। তিনি মনে করতেন, মানুষ স্বভাবতই যুক্তিবাদী, সামাজিক এবং সহানুভূতিশীল জীব। মানুষ একে অপরের সাথে সহযোগিতা করে এবং শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চায়। মানুষের এই ইতিবাচক স্বভাবের কারণেই প্রকৃতির রাজ্যে বিশৃঙ্খলা থাকলেও তা সার্বক্ষণিক যুদ্ধের রূপ নেয়নি। মানুষ নিজেদের বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য চুক্তিবদ্ধ হতে চেয়েছিল।
৪. স্বাভাবিক অধিকার: লকের দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু হলো স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক অধিকারের ধারণা। তিনি বলেন, মানুষ জন্মগতভাবে কিছু неотъемле্য (inalienable) অধিকার নিয়ে জন্মায়, যা রাষ্ট্র বা সমাজ তৈরি করে না, বরং রক্ষা করে। এই অধিকারগুলো হলো জীবন, স্বাধীনতা এবং সম্পত্তির অধিকার। এই অধিকারগুলো মানুষের ব্যক্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং কোনো অবস্থাতেই এগুলো কেড়ে নেওয়া যায় না, কারণ এগুলো স্বয়ং প্রকৃতি বা ঈশ্বর প্রদত্ত।
৫। জীবনের অধিকার: লকের মতে, প্রতিটি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার হলো প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক অধিকার। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে জীবন দিয়েছেন এবং তা রক্ষা করার দায়িত্বও তারই। আত্মহত্যা করা যেমন প্রাকৃতিক আইনের বিরোধী, তেমনি অন্য কোনো ব্যক্তির জীবন কেড়ে নেওয়াও একটি গুরুতর অপরাধ। রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্যই হলো জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একে সব ধরনের হুমকি থেকে রক্ষা করা।
৬। স্বাধীনতার অধিকার: লকের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক অধিকার হলো স্বাধীনতার অধিকার। এর অর্থ হলো, প্রাকৃতিক আইনের সীমার মধ্যে থেকে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করতে পারবে এবং তাকে অন্য কোনো ব্যক্তির ইচ্ছার অধীন থাকতে হবে না। তবে এই স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতা নয়। এটি এমন এক স্বাধীনতা যা অন্যের সমান অধিকারে হস্তক্ষেপ করে না। নিয়ন্ত্রিত এবং শৃঙ্খলিত স্বাধীনতাই ছিল লকের দর্শনের মূল কথা।
৭। সম্পত্তির অধিকার: জন লক সম্পত্তির অধিকারকে একটি মৌলিক প্রাকৃতিক অধিকার হিসেবে গণ্য করেছেন। তাঁর মতে, পৃথিবী ঈশ্বর প্রদত্ত হলেও, মানুষ যখন নিজের শ্রম দিয়ে প্রকৃতি থেকে কোনো কিছু আহরণ করে, তখন তা তার ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হয়। অর্থাৎ, শ্রমই হলো সম্পত্তির উৎস। এই অধিকারটি ব্যক্তির জীবন ও স্বাধীনতার সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য। সরকার জনগণের সম্পত্তি রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে তার বৈধতা হারায়।
৮। প্রকৃতির রাজ্যের অসুবিধা: প্রকৃতির রাজ্য শান্তিপূর্ণ হলেও সেখানে তিনটি বড় অসুবিধা বিদ্যমান ছিল। প্রথমত, প্রাকৃতিক আইন থাকলেও তা সকলের কাছে পরিষ্কার ছিল না এবং এর কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ছিল না। দ্বিতীয়ত, আইন প্রয়োগ করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট এবং নিরপেক্ষ কর্তৃপক্ষ ছিল না। তৃতীয়ত, আইন ভঙ্গকারীকে শাস্তি প্রদান করার বা রায় কার্যকর করার মতো কোনো শক্তি ছিল না। এই সমস্যাগুলোর কারণে অধিকার ভোগ করা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
৯। চুক্তির কারণ: প্রকৃতির রাজ্যের উল্লিখিত অসুবিধাগুলো দূর করার জন্যই মানুষ একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির অধিকারগুলো অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় মানুষ বুঝতে পারে যে, একটি সংগঠিত কর্তৃপক্ষ থাকা প্রয়োজন। অধিকারগুলোকে আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত করার আশায় এবং একটি সুশৃঙ্খল সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে একটি চুক্তি সম্পাদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
১০। দুইটি চুক্তি: জন লকের মতবাদে দুইটি চুক্তির ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যদিও তিনি তা স্পষ্টভাবে বলেননি। প্রথম চুক্তির মাধ্যমে প্রকৃতির রাজ্যে বসবাসকারী জনগণ একত্রিত হয়ে একটি সমাজ বা রাষ্ট্র (Commonwealth) গঠন করে। দ্বিতীয় চুক্তির মাধ্যমে সেই সমাজ তাদের অধিকার রক্ষার শর্তে একটি সরকারকে ক্ষমতা অর্পণ করে। এর মাধ্যমে জনগণ শাসকের হাতে নিজেদের সব ক্ষমতা তুলে দেয় না, বরং নির্দিষ্ট শর্তে ক্ষমতা প্রদান করে।
১১। সম্মতির শাসন: লকের সামাজিক চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সম্মতির ধারণা। তাঁর মতে, কোনো সরকারই জনগণের সম্মতি ছাড়া শাসন করার বৈধ অধিকার লাভ করতে পারে না। জনগণই হলো সকল ক্ষমতার উৎস এবং তারা স্বেচ্ছায় সরকারকে শাসন করার অধিকার প্রদান করে। এই সম্মতি হতে পারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ। এই ধারণাই আধুনিক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি স্থাপন করেছে, যেখানে শাসিতদের সম্মতিতেই শাসক শাসন করে।
১২। সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন: চুক্তি সম্পাদনের পর রাষ্ট্রের যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে লক সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। যেহেতু প্রত্যেক ব্যক্তির আলাদাভাবে সম্মতি দেওয়া বাস্তবে সম্ভব নয়, তাই সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তই সকলের সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হবে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন মানে সংখ্যালঘুদের অধিকার হরণ করা নয়। বরং এটি একটি কার্যকর শাসন ব্যবস্থা পরিচালনার বাস্তবসম্মত উপায়, যা রাষ্ট্রের ঐক্য বজায় রাখে।
১৩। ক্ষমতা হস্তান্তর: চুক্তির মাধ্যমে মানুষ তাদের প্রাকৃতিক অধিকারগুলো পুরোপুরি সরকারের হাতে তুলে দেয় না। তারা কেবল প্রাকৃতিক আইনকে ব্যাখ্যা করা, প্রয়োগ করা এবং আইন ভঙ্গকারীকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা সরকারের হাতে অর্পণ করে। জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির মতো মৌলিক অধিকারগুলো তারা নিজেদের কাছেই রাখে। এই ক্ষমতা হস্তান্তর ছিল শর্তহীন নয়, বরং জনগণের অধিকার রক্ষার শর্তে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।
১৪। শর্তাধীন ক্ষমতা: জন লকের মতে, জনগণ সরকারকে শর্তসাপেক্ষে ক্ষমতা প্রদান করে। মূল শর্তটি হলো, সরকারকে অবশ্যই জনগণের জীবন, স্বাধীনতা এবং সম্পত্তি রক্ষা করতে হবে। যদি সরকার এই শর্ত ভঙ্গ করে বা জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে চুক্তিও ভঙ্গ হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে সরকারের আর শাসন করার কোনো নৈতিক বা আইনগত ভিত্তি থাকে না। এটিই স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ।
১৫। সীমিত সরকার: লকের তত্ত্ব একটি সীমিত সরকারের ধারণা দেয়। সরকার নিরঙ্কুশ বা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী নয়। তার ক্ষমতা আইনের দ্বারা সীমাবদ্ধ এবং জনগণের অধিকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সরকারকে অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত আইনের মাধ্যমে শাসন করতে হবে, খামখেয়ালিভাবে নয়। সরকারের মূল কাজ হলো জনগণের অধিকার রক্ষা করা, এর বাইরে সরকারের তেমন কোনো ভূমিকা নেই। এই ধারণাটিই পরবর্তীতে সাংবিধানিকতাবাদের জন্ম দেয়।
১৬। সরকারের উদ্দেশ্য: জন লকের মতবাদ অনুসারে, সরকারের একমাত্র এবং প্রধান উদ্দেশ্য হলো জনগণের মঙ্গল সাধন করা। বিশেষভাবে বললে, জনগণের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির মতো প্রাকৃতিক অধিকারগুলোকে সুরক্ষিত রাখাই সরকারের অস্তিত্বের মূল কারণ। যে সরকার জনগণের অধিকার রক্ষা করতে পারে না বা তাদের কল্যাণে কাজ করে না, সেই সরকারের শাসন করার কোনো অধিকারই থাকে না। জনগণের কল্যাণই হলো সর্বোচ্চ আইন।
১৭। বিপ্লবের অধিকার: জন লকের সামাজিক চুক্তি মতবাদের সবচেয়ে বৈপ্লবিক দিকটি হলো জনগণের বিপ্লবের অধিকার। যদি সরকার চুক্তি ভঙ্গ করে জনগণের অধিকার হরণ করে এবং স্বৈরাচারী শাসকে পরিণত হয়, তবে সেই সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার বা তাকে পরিবর্তন করার চূড়ান্ত অধিকার জনগণের রয়েছে। কারণ জনগণই ক্ষমতার মূল উৎস। এই অধিকার স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের আত্মরক্ষার সর্বশেষ উপায়।
১৮। আইন বিভাগ: জন লক সরকারের ক্ষমতাকে তিনটি ভাগে ভাগ করার কথা বলেছেন, যার মধ্যে আইন বিভাগকে (Legislative) তিনি সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী বলে মনে করতেন। এই বিভাগের প্রধান কাজ হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের সম্মতির ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন করা। এই আইন হবে সুস্পষ্ট এবং সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। আইন বিভাগের ক্ষমতা জনগণের দেওয়া ক্ষমতার উর্ধ্বে নয় এবং এটিকেও প্রতিষ্ঠিত নৈতিক নিয়ম মেনে চলতে হবে।
১৯। শাসন বিভাগ: সরকারের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো শাসন বিভাগ (Executive)। এই বিভাগের দায়িত্ব হলো আইন বিভাগ কর্তৃক প্রণীত আইনকে কার্যকর করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা। লকের মতে, শাসন বিভাগ আইন বিভাগের অধীনস্থ থাকবে এবং আইন অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রক্ষা করার জন্য তিনি ফেডারেল (Federative) নামক আরেকটি বিভাগের কথা উল্লেখ করেছেন।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, জন লকের সামাজিক চুক্তি মতবাদ কেবল একটি ঐতিহাসিক তত্ত্ব নয়, বরং এটি আধুনিক সভ্যতার এক আলোকবর্তিকা। এই মতবাদই প্রথম সফলভাবে প্রমাণ করে যে, সরকার জনগণের সেবক, প্রভু নয় এবং জনগণের সম্মতিই হলো সরকারের ক্ষমতার একমাত্র বৈধ উৎস। জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির অধিকারকে প্রাকৃতিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি মানবাধিকারের ধারণাকে শক্তিশালী করেছেন। তাঁর সীমিত সরকার ও বিপ্লবের অধিকারের ধারণা আজও বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
📜 ১। প্রকৃতির রাজ্য
⚖️ ২। প্রাকৃতিক আইন
🙂 ৩। মানব প্রকৃতি
✨ ৪। স্বাভাবিক অধিকার
❤️ ৫। জীবনের অধিকার
🕊️ ৬। স্বাধীনতার অধিকার
🏡 ৭। সম্পত্তির অধিকার
😕 ৮। প্রকৃতির রাজ্যের অসুবিধা
📝 ৯। চুক্তির কারণ
🤝 ১০। দুইটি চুক্তি
🗳️ ১১। সম্মতির শাসন
📊 ১২। সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন
🤲 ১৩। ক্ষমতা হস্তান্তর
📄 ১৪। শর্তাধীন ক্ষমতা
🏛️ ১৫। সীমিত সরকার
🎯 ১৬। সরকারের উদ্দেশ্য
🔥 ১৭। বিপ্লবের অধিকার
📜 ১৮। আইন বিভাগ
👑 ১৯। শাসন বিভাগ
জন লকের সামাজিক চুক্তি মতবাদটি ১৬৮৮ সালের ইংল্যান্ডের গৌরবময় বিপ্লব (Glorious Revolution) দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। এই বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। লকের বিখ্যাত গ্রন্থ “Two Treatises of Government” ১৬৮৯ সালে প্রকাশিত হয়, যা এই বিপ্লবের পক্ষে একটি শক্তিশালী দার্শনিক যুক্তি উপস্থাপন করে। তাঁর এই চিন্তাধারা পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র (১৭৭৬) এবং ফরাসি বিপ্লবের (১৭৮৯) নেতাদের ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করে। জরিপে দেখা যায়, আধুনিক গণতান্ত্রিক সংবিধানগুলোর মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত ধারাগুলোতে লকের প্রাকৃতিক অধিকার তত্ত্বের সুস্পষ্ট প্রতিফলন রয়েছে, যা তাঁর মতবাদের কালোত্তীর্ণ আবেদন প্রমাণ করে।

