• Digital Tools
      • Image to PDF
    • MASTERS
      • 📚 রাষ্ট্রবিজ্ঞান
        • ১। সাম্প্রতিক রাষ্ট্রচিন্তা
        • ২। সামাজিক পরিবর্তন ও রাজনৈতিক উন্নয়ন
        • ৩। বাংলাদেশের রাজনীতি ইসু ও প্রবণতাসমূহ
        • ৪। শাসনের সমস্যাবলি
        • ৫। নিরাপত্তা অধ্যয়ন
        • ৬। বাংলাদেশের দলীয় রাজনীতি
        • ৭। ভূ-রাজনীতি ও বাংলাদেশ
      • 📚 সমাজবিজ্ঞান
        • ১। সমসাময়িক সমাজবিজ্ঞানের তত্ত্ব
        • ২। মার্কসীয় সমাজবিজ্ঞান
        • ৩। উন্নয়ন ও অনুন্নয়নের সমাজবিজ্ঞান
        • ৪। সংখ্যালঘুর সমাজবিজ্ঞান
        • ৫। জনসংখ্যা, রাজনীতি ও উন্নয়ন
        • ৬। দারিদ্র্যের সমাজবিজ্ঞান
        • ৭। তুলনামূলক সমাজকাঠামো
      • 📚 সমাজকর্ম
        • ১। সামাজিক প্রশাসন
        • ২। উচ্চতর সামাজিক গবেষণা ও পরিসংখ্যান
        • ৩। শিল্প সম্পর্ক ও শ্রম আইন
        • ৪। সংশোধন ও সংশোধনমূলক সেবা
        • ৫। নারী ও পরিবার কল্যাণ
        • ৬। শিশু, যুব ও প্রবীণ কল্যাণ
        • ৭। সমাজকর্মের নির্দেশনা ও কাউন্সেলিং
      • 📚 ইতিহাস
        • ১। ইতিহাস তত্ত্ব ও গবেষণা পদ্ধতি
        • ২। ইউরোপ ও আমেরিকার ইতিহাস (১৯১৯খ্রিস্টাব্দ থেকে)
        • ৩। দক্ষিণ এশিয়ার জাতীয়তাবাদ ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (উনিশ ও বিশ শতক)
        • ৪। বাংলার সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিকসমূহ (নির্বাচিত বিষয়সমূহ)
        • ৫। বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ থেকে বর্তমান)
        • ৬। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ১৯৪৭ থেকে (বাংলাদেশ ব্যতীত)
        • ৭। আন্তর্জাতিক আইন
      • 📚 ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
        • ১। ইসলামের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাস
        • ২। বাংলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থতিক ইতিহাস (১২০০-১৭৬৫ খ্রি:)
        • ৩। মুসলিম ভারতের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ইতিহাস (৭১২-১৭৬৫)
        • ৪। তুরস্ক, ইরান ও আফগানিস্তানের ইতিহাস
        • ৫। আধুনিক মিশর ও উত্তর আফ্রিকার আরব রাষ্ট্রসমূহ
        • ৬। পশ্চিম এশিয়ার আরব রাষ্ট্রসমূহের ইতিহাস
        • ৭। দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানদের ইতিহাস (১৭৬৫-১৯৭১)
      • 📚বাংলা
        • ১। বাংলা কবিতা
        • ২। বাংলা উপন্যাস
        • ৩। বাংলা ছোটগল্প
        • ৪। বাংলা নাটক
        • ৫। বাংলা প্রবন্ধ
        • ৬। বাংলাদেশের সাহিত্য: কবিতা, গল্প, উপন্যাস এবং প্রবন্ধ
        • ৭। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য
      • 📚 দর্শন
        • ১। ভাষা দর্শন
        • ২। রূপতত্ত্ব ও অস্তিত্ববাদ
        • ৩। জি.ই. ম্যুর এবং রাসেলের দর্শন
        • ৪। প্রয়োগবাদ ও মানবতাবাদ
        • ৫। জ্ঞানবিদ্যা ও অধিবিদ্যা
        • ৬। আল-গাজালি ও ইবনে রুশদের দর্শন
        • ৭। সুফিবাদ
        • ৮। বৌদ্ধ দর্শন
        • ৯। বাঙালির দর্শন (আধুনিক ও সমকালীন)
        • ১০। সমকালীন রাষ্ট্রদর্শন
      • 📚 ব্যবস্থাপনা
        • ১। ব্যবস্থাপনা চিন্তাধারা
        • ২। আন্তর্জাতিক ব্যবসায়
        • ৩। ব্যবসায় গবেষণা
        • ৪। কৌশলগত ব্যবস্থাপনা
        • ৫। ব্যবস্থাপনা তথ্য পদ্ধতি
        • ৬। প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন
        • ৭। ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনা
      • 📚 হিসাববিজ্ঞান
        • ১। প্রায়োগিক হিসাববিজ্ঞান তত্ত্ব
        • ২। উচ্চতর উৎপাদন ব্যয় হিসাববিজ্ঞান
        • ৩। কৌশলগত ব্যবস্থাপনা হিসাববিজ্ঞান
        • ৪। কৌশলগত ব্যবস্থাপনা
        • ৫। কর্পোরেট গভর্ন্য্যান্স
        • ৬। কর্পোরেট আর্থিক প্রর্তিবেদন
        • ৭। কর্পোরেট কর পরিকল্পনা
    • Member Account
    • Member Login
    • Member Logout
    • Member Profile
    • Member Registration
    • Members
    • MS Word
    • PDF to image converter
    • Reset Password
    • SYLLABUS 0-12 NCTB BD
    • DEGREE
      • স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (আবশ্যিক)
      • ডিগ্রী রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
        • ১ম বর্ষ ডিগ্রী রাষ্ট্রবিজ্ঞান
          • রাজনৈতিক তত্ত্ব
    • HONOURS
      • 📚 অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
        • 📗 ১ম বর্ষ অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান (নতুন সিলেবাস)
        • 📗 ১ম বর্ষ অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান (পুরাতন সিলেবাস)
          • 🔴 স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস
          • 🔴 রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন
          • 🔴 পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা
          • 🔴 প্রধান প্রধান বৈদেশিক সরকার (UK, USA & France) ২১১৯০৫
          • 🔴 লোক প্রশাসন পরিচিতি
          • 🔴 সমাজবিজ্ঞান পরিচিতি
          • 🔴 সমাজকর্ম পরিচিতি
          • 🔴 অর্থনীতির মৌলনীতি
        • 📗 ২য় বর্ষ অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান
          • 🔴 ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক উন্নয়ন (১৭৫৭-১৯৪৭)
          • 🔴 বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থনীতি
          • 🔴 রাজনীতি ও উন্নয়নে নারী
          • 🔴 প্রাচ্যের রাষ্ট্রচিন্তা
          • 🔴 বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান
          • 🔴 বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি
          • 🔴 বাংলাদেশের অর্থনীতি
        • 📗৩য় বর্ষ অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান
          • 🔴 বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক উন্নয়ন ১৯৭১ থেকে বর্তমান
          • 🔴 আন্তর্জাতিক রাজনীতির মূলনীতি
          • 🔴 দক্ষিণ এশিয়ার সরকার ও রাজনীতি ( ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলংকা )
          • 🔴 রাজনীতি অধ্যয়নের পদ্ধতি
          • 🔴 শান্তি এবং সংঘাত অধ্যায়ন পরিচিতি
          • 🔴 বাংলাদেশের লোক প্রশাসন
          • 🔴 গবেষণা পদ্ধতি ও পরিসংখ্যান
          • 🔴 রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান
        • 📗 ৪র্থ বর্ষ অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান
          • 🔴 রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিবর্তন ও ধারাবাহিকতা
          • 🔴 বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন
          • 🔴 সরকারি নীতি পরিচিতি
          • 🔴 পূর্ব এশিয়ার সরকার ও রাজনীতি চীন, জাপান ও দিক্ষণ কোরিয়া
          • 🔴 পরিবেশ ও উন্নয়ন
          • 🔴 বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক
          • 🔴 বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া
          • 🔴 বিশ্বায়ন, আঞ্চলিকতাবাদ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান
      • 📚 অনার্স সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
        • ১ম বর্ষ অনার্স সমাজবিজ্ঞান
          • ১। প্রারম্ভিক সমাজবিজ্ঞান ২১২০০১
          • সামাজিক ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা ২১২০০৩
          • রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান ২১২০০৫
          • সামাজিক সমস্যা ২১২০০৭
          • স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস ২১১৫০১
          • রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি ২১১৯০৯
          • অর্থনীতির মূলনীতি ২১১৯০৯
        • ২য় বর্ষ অনার্স সমাজবিজ্ঞান
          • 💞 প্ররম্ভিক নৃ-বিজ্ঞান
          • 💞 ধ্রুপদী সমাজচিন্তা
          • 💞 সামাজিক পরিসংখ্যান
          • 💞 গবেষণা পদ্ধতি
          • 💞 রাজনৈতিক সংগঠন এবং যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা
          • 💞 বাংলাদেশের অর্থনীতি
        • ৩য় বর্ষ অনার্স সমাজবিজ্ঞান
          • 🌳ধ্রুপদী সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব
          • 🌳গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান
          • 🌳ধর্মের সমাজবিজ্ঞান ২৩২০০৫
          • 🌳সামাজিক অসমতা
          • 🌳 সমাজ ও সম্প্রদায়
          • 🌳বাংলাদেশের সমাজ কাঠামো
          • 🌳নগর সমাজবিজ্ঞান
          • 🌳সমাজ মনোবিজ্ঞান
        • ৪র্থ বর্ষ অনার্স সমাজবিজ্ঞান
          • 📢 জেন্ডার, সমাজ ও উন্নয়ন
          • 📢 উন্নয়নের সমাজবিজ্ঞান
          • 📢 সামাজিক জনবিজ্ঞান
          • 📢 পরিবেশ সমাজবিজ্ঞান
          • 📢 বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান
          • 📢 সামাজিক পরিবর্তন
          • 📢 বিচ্যুতি ও অপরাধ
          • 📢 শিল্প সমাজবিজ্ঞান
          • কৃষক সমাজ ২৪২০১৭
    • HOME
      • About
      • Blog
      • Contact
      • News
      • Privacy
    • GRAMMAR
      • Arabic Grammar
      • Bangla Grammar
      • English Grammar
    • JOB STUDY
      • Army/Police/BDR/Anchar
      • Bank
      • BCS
      • Govt. job
      • Medical Admission
      • Nibandhon
      • Primary
      • University Admission
      • Bangla
      • English
      • Math
      • General Knowledge Bangladesh
      • General Knowledge International
      • Computer & IT
      • Biology
      • Chemistry
      • Physics
      • Ethics, Values ​​and Good Governance
      • Geography/Environment/Disaster Management
    • JOBS
      • BRAC NGO Job Circular New All Jobs Notice 2023
      • Jobs CANADA
      • Jobs INDIA
      • Jobs USA
Read Aim
Read Aim Read Aim
  • readaim.com
  • 0

প্রশ্ন:- নেপালের রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলনের পর্যায়গুলো ব্যাখ্যা কর।

উত্তর।।উপস্থাপনা: ঐতিহাসিকভাবে নেপাল একসময় বিশ্বের একমাত্র হিন্দু রাজতন্ত্র ছিল। তবে দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসনের জেরে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ জমা হতে থাকে। এই ক্ষোভ থেকেই শুরু হয় নেপালের রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলন, যা বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে দেশটিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। এই আন্দোলন ছিল নেপালী জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার এক ঐতিহাসিক লড়াই। এটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বিভক্ত ছিল, যা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

নেপালের রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলনের পর্যায়গুলো: -

প্রারম্ভিক অসন্তোষ ও প্রস্তুতি (১) ১৯৫০-এর দশক থেকেই নেপালে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে মৃদু আওয়াজ উঠতে শুরু করে, যদিও তা ছিল মূলত শিক্ষিত ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই সময়েই নেপালী কংগ্রেস পার্টির মতো রাজনৈতিক দলগুলো গোপনে বা সীমিত পরিসরে সংগঠিত হতে থাকে। তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি নির্বাচিত সরকার কায়েম করা। এই প্রাথমিক পর্যায়টি ছিল দীর্ঘ আন্দোলনের জন্য তাত্ত্বিক ভিত্তি ও সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির সময়, যখন ছোট ছোট বিক্ষোভ ও প্রচারণার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির কাজ চলেছিল। এই সময়কালে রানা বংশের পতন হলেও রাজকীয় ক্ষমতা আরও সুসংহত হতে থাকে, যা পরবর্তীকালে বৃহত্তর আন্দোলনের জন্ম দেয়।

পঞ্চায়েত ব্যবস্থার প্রবর্তন ও বিরোধিতা (২) ১৯৬০ সালে রাজা মহেন্দ্র ক্ষমতা দখল করে সরাসরি শাসন শুরু করেন এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু করেন। এই ব্যবস্থা ছিল মূলত রাজতন্ত্রের অধীনে নিয়ন্ত্রিত একটি নামমাত্র গণতান্ত্রিক কাঠামো। এর প্রতিক্রিয়ায় নেপালী রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষ করে নেপালী কংগ্রেস, ভারতে নির্বাসিত হয়ে বা দেশের অভ্যন্তরে গোপন আস্তানায় থেকে প্রতিবাদ ও আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকে। এই সময়কালে তাদের মূল লক্ষ্য ছিল পঞ্চায়েত ব্যবস্থার অপসারণ এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা। আন্দোলনকারীরা ছোট ছোট প্রতিবাদের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে, যা ছিল মূলত আত্মগোপন ও সীমিত প্রতিরোধের যুগ।

ছাত্র আন্দোলন ও শিক্ষা সংস্কারের দাবি (৩) ১৯৭০-এর দশকে নেপালের ছাত্র সমাজ রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলনে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। ছাত্ররা কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবিই নয়, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং রাজকীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধেও সোচ্চার হয়ে ওঠে। এই সময়কার আন্দোলনগুলো ছিল স্বতঃস্ফূর্ত এবং ব্যাপক, যা কাঠমান্ডু এবং অন্যান্য প্রধান শহরগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রদের এই সক্রিয়তা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে আরও জোরদার করে। এই ছাত্র আন্দোলনগুলো প্রায়শই পুলিশের কঠোর হাতে দমন করা হলেও, তা নেপালের রাজনৈতিক পটভূমিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে এবং রাজতন্ত্রের ভিত নাড়িয়ে দেয়।

১৯৮০ সালের গণভোট ও রাজতন্ত্রের কৌশল (৪) ১৯৮০ সালে ক্রমবর্ধমান গণ-আন্দোলনের মুখে রাজা বীরেন্দ্র রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য একটি গণভোটের আয়োজন করতে বাধ্য হন। গণভোটের বিষয় ছিল: হয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় সংস্কার আনা হবে, নয়তো বহুদলীয় ব্যবস্থা চালু করা হবে। যদিও বিরোধী দলগুলো মনে করেছিল তারা জয়ী হবে, কিন্তু সরকারি কারসাজির মাধ্যমে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা সামান্য সংস্কারের পর টিকে যায়। এই ফলাফল বিরোধী দলগুলোকে হতাশ করলেও তাদের আন্দোলনের স্পৃহাকে থামাতে পারেনি। বরং এটি তাদের আরও ঐক্যবদ্ধ হতে এবং আরও কঠোর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হতে প্রেরণা যোগায়, কারণ তারা বুঝতে পারে যে রাজতন্ত্র সহজে ক্ষমতা ছাড়বে না।

বামপন্থী শক্তির উত্থান ও সহযোগিতা (৫) আশির দশকের শেষের দিকে নেপালের রাজনীতিতে বামপন্থী দলগুলো, বিশেষ করে বিভিন্ন কমিউনিস্ট গোষ্ঠী, একটি শক্তিশালী অবস্থানে আসতে শুরু করে। তারা রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেপালী কংগ্রেসের সাথে কৌশলগতভাবে সহযোগিতা শুরু করে, যা আন্দোলনে নতুন শক্তি ও ব্যাপকতা নিয়ে আসে। এই সময়কার আন্দোলনগুলো ছিল মূলত শহরকেন্দ্রিক এবং শ্রমিক-কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এই দুটি প্রধান রাজনৈতিক ধারার জোটবদ্ধতা রাজতন্ত্রের উপর সম্মিলিত চাপ বাড়াতে সহায়ক হয় এবং বৃহত্তর গণ-আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে।

প্রথম জন আন্দোলন এর সূচনা (৬) ১৯৯০ সালে নেপালী কংগ্রেস এবং বামপন্থী দলগুলোর জোট (ইউনাইটেড লেফট ফ্রন্ট) ব্যাপক বিক্ষোভের ডাক দেয়, যা ইতিহাসে জন আন্দোলন ১ নামে পরিচিত। এই আন্দোলন ছিল নেপালের রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের প্রথম বড় ধরনের প্রকাশ। দেশের বিভিন্ন স্থানে লাখ লাখ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে আসে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের দাবি জানায়। বিক্ষোভ থামাতে রাজকীয় বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়ন সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা পিছু হটেনি। রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ এই আন্দোলন নেপালের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা।

সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা (৭) ১৯৯০ সালের গণ আন্দোলনের তীব্রতা রাজা বীরেন্দ্রকে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করে। তিনি পঞ্চায়েত ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ঘোষণা দেন এবং একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের অনুমতি দেন। এই সংবিধানের মাধ্যমে নেপালে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজা কেবল দেশের আনুষ্ঠানিক প্রধান হিসেবে থাকেন এবং প্রকৃত ক্ষমতা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে আসে। এই অর্জন ছিল নেপালী জনগণের এক বিশাল বিজয় এবং আন্দোলনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

মাওবাদী বিদ্রোহের শুরু (৮) ১৯৯০ সালের আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র এলেও দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সামাজিক অন্যায় দূর হয়নি। এই হতাশা এবং পার্লামেন্টারি রাজনীতির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ১৯৯৬ সালে নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী) সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে। তাদের লক্ষ্য ছিল রাজতন্ত্র এবং পার্লামেন্টারি ব্যবস্থা উভয়কেই উৎখাত করে একটি কমিউনিস্ট গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। এই বিদ্রোহ দ্রুত দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে তা নেপালের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নেয়।

রাজ পরিবার হত্যাকাণ্ড ও সংকট (৯) ২০০১ সালের ১ জুন এক মর্মান্তিক ঘটনায় রাজা বীরেন্দ্র সহ রাজ পরিবারের প্রায় সমস্ত সদস্য নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডটি নেপালের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চরম সংকটের মুখে ফেলে দেয়। হত্যাকাণ্ডের পর রাজা জ্ঞানেন্দ্র সিংহাসনে আরোহণ করেন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও রহস্য রয়েছে, তবে এর ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে যায় এবং জনগণের মধ্যে রাজতন্ত্রের প্রতি সন্দেহ ও অবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়।

রাজা জ্ঞানেন্দ্রের সরাসরি ক্ষমতা গ্রহণ (১০) মাওবাদী বিদ্রোহ মোকাবিলার অজুহাতে ২০০২ এবং ২০০৫ সালে রাজা জ্ঞানেন্দ্র দুই দফায় নির্বাচিত সরকারকে বরখাস্ত করে সরাসরি ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি নিজেকে কার্যত নির্বাহী প্রধান ঘোষণা করেন এবং জরুরি অবস্থা জারি করেন। এই পদক্ষেপটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের মূলনীতির পরিপন্থী ছিল এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করে। রাজার এই স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভকে আরও তীব্র করে তোলে এবং দ্বিতীয় একটি বড় আন্দোলনের পটভূমি তৈরি করে।

দ্বিতীয় জন আন্দোলন এর প্রস্তুতি (১১) রাজা জ্ঞানেন্দ্রের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে নেপালের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো, যারা প্রায়শই একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ত, তারা একটি অভূতপূর্ব ঐক্য গড়ে তোলে। এই দলগুলো সাত-দলীয় জোট (সেভেন পার্টি অ্যালায়েন্স – এসপিএ) গঠন করে এবং মাওবাদীদের সাথেও একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। তাদের অভিন্ন লক্ষ্য ছিল: রাজার ক্ষমতা খর্ব করা এবং পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। এই জোটবদ্ধতা দ্বিতীয় জন আন্দোলনের (জন আন্দোলন ২) সূচনা করে, যা ছিল রাজতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক।

দ্বিতীয় জন আন্দোলন এর তীব্রতা (১২) ২০০৬ সালের এপ্রিলে সাত-দলীয় জোট এবং মাওবাদীরা যৌথভাবে দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট ও বিক্ষোভের ডাক দেয়, যা জন আন্দোলন ২ নামে পরিচিত। এই আন্দোলন প্রথমটির চেয়েও বেশি ব্যাপক ও তীব্র ছিল। লাখ লাখ মানুষ দিনের পর দিন রাস্তায় অবস্থান নেয় এবং কারফিউ উপেক্ষা করে মিছিল করে। আন্দোলনকারীরা রাজার ক্ষমতা ত্যাগের দাবিতে অনড় ছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানায় এবং রাজার উপর চাপ সৃষ্টি করে।

রাজকীয় ক্ষমতা প্রত্যাহার ও পার্লামেন্ট পুনরুদ্ধার (১৩) ২০০৬ সালের ১৯ দিনের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে রাজা জ্ঞানেন্দ্র নতি স্বীকার করতে বাধ্য হন। তিনি ঘোষণা করেন যে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তিনি বিলুপ্ত হওয়া পার্লামেন্টকে আবার পুনর্বহাল করেন এবং সাত-দলীয় জোটকে একটি নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানান। এই ঘটনাটি ছিল নেপালে রাজতন্ত্রের প্রকৃত ক্ষমতার চূড়ান্ত পতন। এই সময়ের পর থেকে রাজা নামমাত্র প্রধান হিসেবেও তার ক্ষমতা হারান।

রাজতন্ত্র বিলুপ্তির ঘোষণা (১৪) পুনর্বহাল হওয়া পার্লামেন্ট অবিলম্বে রাজার ক্ষমতাকে খর্ব করে একটি ঐতিহাসিক ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার মাধ্যমে নেপালকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং রাজার হাতে থাকা সমস্ত নির্বাহী ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়। এই পদক্ষেপটি নেপালে রাজতন্ত্রের চূড়ান্ত বিলুপ্তির পথ তৈরি করে, যদিও রাজা আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতাচ্যুত হননি। এই ঘোষণা ছিল নেপালের নতুন রাজনৈতিক যুগের ভিত্তিপ্রস্তর।

সাংবিধানিক সভার নির্বাচন ও প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা (১৫) ২০০৮ সালে নেপালে একটি সাংবিধানিক সভা নির্বাচনের আয়োজন করা হয়, যার প্রধান কাজ ছিল দেশের জন্য একটি নতুন সংবিধান রচনা করা। এই নির্বাচনে মাওবাদীরা সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। নবগঠিত সাংবিধানিক সভা তাদের প্রথম বৈঠকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নেপালের রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করার এবং দেশকে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়। এই ঘোষণার মাধ্যমে নেপালের প্রায় ২৪০ বছরের পুরোনো শাহ রাজবংশের শাসনের অবসান ঘটে।

রাজা জ্ঞানেন্দ্রের বিদায় (১৬) সাংবিধানিক সভার সিদ্ধান্তের পর রাজা জ্ঞানেন্দ্রকে কাঠমান্ডুর নারায়ণহিতি প্রাসাদ ত্যাগ করতে হয়। তিনি শান্ত ও নীরবে তার প্রাসাদ ত্যাগ করে সাধারণ নাগরিক জীবন বেছে নেন। এই বিদায় নেপালের ইতিহাসে রাজতন্ত্রের সমাপ্তি এবং প্রজাতন্ত্রের আনুষ্ঠানিক সূচনার প্রতীক ছিল। এই শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয় এবং নেপালের গণতন্ত্রের পথে এক সুদূরপ্রসারী বার্তা দেয়।

নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন (১৭) রাজতন্ত্র বিলুপ্তির পর নেপালের রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ২০১৫ সালে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে। এই সংবিধানের মাধ্যমে নেপালকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ, ফেডারেল এবং গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যদিও সংবিধান প্রণয়ন নিয়ে কিছু অঞ্চলে অসন্তোষ ছিল, তবে এটি নেপালের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয় এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে দেশটিকে স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।

উপসংহার: নেপালের রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলন ছিল জনগণের দৃঢ় সংকল্প ও সম্মিলিত প্রতিবাদের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এটি কেবল ক্ষমতার হাতবদল ছিল না, বরং স্বৈরাচার থেকে স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক রাজতন্ত্র থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রজাতন্ত্রে উত্তরণের এক দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া। এই আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায় প্রমাণ করে যে, জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তি যেকোনো স্বৈরাচারী শাসনকে উৎখাত করতে সক্ষম। অবশেষে, নেপাল একটি শক্তিশালী, ধর্মনিরপেক্ষ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।

Tags: নেপালনেপালের রাজতন্ত্রনেপালের রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলনের পর্যায়গুলো ব্যাখ্যা কর।
  • Previous নেপালে মাওবাদী আন্দোলনের কারণ এবং শান্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কেআলোচনা কর।
  • Next পাকিস্তানের বর্তমান সংবিধানের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।
Read Aim

SUBSCRIBE

    JOB CIRCULAR

    • Media/Ads/Event Mngnt (145)
    • Medical/Pharmaceutical (123)
    • NGO/Organization (323)
    • Production/Operation (142)
    • Research/Consultancy (85)
    • Secretary/Receptionist (188)
    • Security/Support Service (99)
    • Others (59)

    LEARNING & EARNING

    • English Article
    • Bearded Dragon
    • Cats
    • Dogs
    • Guinea Pigs
    • Insurance
    • Lawyer
    • Rabbits
    • Earn Money Online
    • Others

    CATEGORIES

    • Computer (12)
    • DEGREE (4)
    • English Article (27)
    • GRAMMAR (138)
    • Health Tips (2)
    • Honours (1083)
    • Jobs (16)
    • Jobs Study (33)
    • News (1336)
    • PDF BOOK (78)

    RECENT POST

    উত্তর আধুনিকতাবাদের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর।
    উত্তর আধুনিকতাবাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।
    সেন্ট সাইমন ও রবার্ট ওয়েনের কাল্পনিক সমাজতন্ত্রের রূপরেখা বিশ্লেষণ কর।
    কাল্পনিক ও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের মধ্যে একটি তুলনামূলক আলোচনা কর।

    2025 All Rights Reserved readaim.com

    • Contact
    • About
    • Privacy
    • Blog
    • READ AIM
    Have any question? 01745112569 md@readaim.com Free
    • Login
    • Registration
    • Home
    • Class 0-12
    • Masters
    • Honours
    • Degree
    • Grammar
      • Bangla Grammar
      • English Grammar
      • Arabic Grammar
    • Computer
      • MS Word
    • Jobs Study
      • BCS
      • Bank
      • Primary
      • Govt. job
      • Nibandhon
      • Medical Admission
      • University Admission
      • Army/Police/BDR/Anchar
    • Jobs
    • News
    • Tools