- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভাগের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছিল পাকিস্তান, যা দুটি ভিন্ন ভৌগোলিক অংশ – পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে গঠিত ছিল। কিন্তু মাত্র চব্বিশ বছরের মাথায় ১৯৭১ সালে এই রাষ্ট্রটি ভেঙে গিয়ে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন বাংলাদেশ রূপে আত্মপ্রকাশ করে। এই বিভাজনের পেছনে ছিল গভীর অর্থনৈতিক বৈষম্য, ভাষা ও সংস্কৃতির পার্থক্য, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং সামরিক স্বৈরাচার, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল।
অর্থনৈতিক বৈষম্য: পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) ছিল পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ, কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী ধারাবাহিকভাবে এই অঞ্চলের সম্পদ শোষণ করত। কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক বরাদ্দ, শিল্প স্থাপন এবং বৈদেশিক সাহায্য বণ্টনে পূর্ব পাকিস্তানকে বঞ্চিত করা হতো। এই অর্থনৈতিক শোষণ পূর্ব বাংলার মানুষকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের অনুভূতি দিত, যেখানে পাট, চা ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় হতো, আর পূর্ব পাকিস্তান দারিদ্র্য ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছিল। এই বৈষম্য স্বাধীনতার মূল কারণগুলির মধ্যে অন্যতম। (১)
সাংস্কৃতিক সংঘাত: দুই অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাত ছিল ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকেরা উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল, যা ছিল বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর ওপর এক চরম আঘাত। বাঙালিরা তাদের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসত। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালিরা রক্তের বিনিময়ে বাংলাকে রক্ষা করে এবং এই আন্দোলনই প্রথম প্রমাণ করে যে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের চেয়ে বাঙালি সংস্কৃতি ও পরিচয় অনেক বেশি শক্তিশালী, যা স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিল। (২)
ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা: পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে প্রায় ১২০০ মাইলেরও বেশি ভারতীয় ভূখণ্ড ছিল। এই বিশাল ভৌগোলিক দূরত্ব দুই অঞ্চলের জনগণের মধ্যে মানসিক ঐক্য গড়ে তুলতে বাধা দিয়েছিল। যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল দুর্বল, এবং প্রশাসনিকভাবেও কেন্দ্র থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে দক্ষতার সাথে শাসন করা কঠিন ছিল। এই দূরত্ব এবং মাঝে ভারতীয় ভূখণ্ডের উপস্থিতি দুই অংশের মধ্যেকার সম্পর্ককে আরও জটিল ও দুর্বল করে তুলেছিল, যা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় সংহতিকে রক্ষা করতে পারেনি। (৩)
ক্ষমতা কাঠামো: পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ও সামরিক বাহিনীতে পশ্চিম পাকিস্তানিদের একচেটিয়া আধিপত্য ছিল। সরকার পরিচালনায়, উচ্চপদস্থ সরকারি চাকরিতে এবং সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পদগুলোতে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের প্রতিনিধিত্ব ছিল খুবই সামান্য। এই ক্ষমতাকেন্দ্রিক বৈষম্য বাঙালির মনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। ক্ষমতা শুধু পশ্চিম পাকিস্তানের হাতে কুক্ষিগত থাকায় পূর্ব পাকিস্তানের দাবি ও অভাব-অভিযোগ কখনোই গুরুত্ব সহকারে বিবেচিত হয়নি, যা বিভেদকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল। (৪)
সামরিক স্বৈরাচার: রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সঠিকভাবে কার্যকর হতে পারেনি, বরং সামরিক শাসন বা সামরিক প্রভাবিত শাসন বারবার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইয়ুব খানের মতো সামরিক শাসকেরা বন্দুকের জোরে ক্ষমতা ধরে রেখে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিলেন। এই সামরিক স্বৈরাচার পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বারবার দমন করেছে, যার ফলস্বরূপ মানুষের মধ্যে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা জন্ম নেয়। (৫)
স্বায়ত্তশাসনের দাবি: ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব অনুযায়ী মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলির জন্য দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের কথা ছিল, কিন্তু ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান গঠিত হয় একটি রাষ্ট্র হিসেবে। এরপর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ, এই অঞ্চলের জন্য পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে আসছিল। তারা চেয়েছিল প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র ছাড়া অন্যান্য সকল ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকুক। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তান এই দাবিকে সবসময় বিচ্ছিন্নতাবাদী চক্রান্ত হিসেবে দেখে প্রত্যাখ্যান করেছে। (৬)
৬৬ ছয় দফা: ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক উত্থাপিত ছয় দফা কর্মসূচি ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ। এই কর্মসূচিতে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য নিরসনের দাবি জানানো হয়েছিল। ছয় দফার মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদ একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা পায় এবং এটি দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। এই দাবিগুলি পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যেকার রাজনৈতিক দূরত্বকে আরও গভীর করে, কারণ পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এটিকে রাষ্ট্রের অখণ্ডতার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছিল। (৭)
৮. ভাষা আন্দোলনের প্রভাব: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর। এই আন্দোলন বাঙালিকে শিখিয়েছিল কীভাবে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হয় এবং সংগ্রাম করতে হয়। ভাষাভিত্তিক এই চেতনা পরবর্তীকালে সকল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। ভাষা আন্দোলনের সাফল্য বাঙালিকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং ভবিষ্যতের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করে তোলে। (৮)
আগরতলা ষড়যন্ত্র: ১৯৬৮ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলা বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনকে স্তব্ধ করার একটি কৌশল ছিল। কিন্তু এই মামলার কারণে শেখ মুজিবুর রহমান রাতারাতি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন। এর বিরুদ্ধে প্রবল গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টি হয়, যা সামরিক শাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটায় এবং ছয় দফা আন্দোলনকে আরও বেগবান করে। (৯)
ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান: ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান ছিল সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বাঙালির স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ। আইয়ুব খানের দমনমূলক শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-শ্রমিক-কৃষকসহ সকল স্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল। এই আন্দোলনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে আইয়ুব খানকে পদত্যাগ করতে হয় এবং আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে নিতে হয়। এই গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করে যে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ তাদের অধিকার আদায়ে যেকোনো চরম পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। (১০)
প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদাসীনতা: ১৯৭০ সালের ভয়াবহ ভোলা ঘূর্ণিঝড় এবং এতে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের চরম উদাসীনতা ও অদক্ষতা প্রকাশ করেছিল। পশ্চিম পাকিস্তানের সরকার ও সামরিক বাহিনী দুর্যোগ মোকাবেলায় দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, যা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এই উদাসীনতা প্রমাণ করে যে কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ব বাংলার মানুষের জীবন ও সমস্যা নিয়ে সামান্যতমও চিন্তিত ছিল না। (১১)
সত্তরের নির্বাচন: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ছিল পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম এবং শেষ গণতান্ত্রিক নির্বাচন। এই নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং জাতীয় পরিষদেও সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই গণতান্ত্রিক বিজয় পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারা মেনে নিতে পারেননি। জনগণের এই রায়কে অস্বীকার করাই মূলত পাকিস্তান ভাঙনের চূড়ান্ত কারণ তৈরি করে। (১২)
ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা: ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী ক্ষমতা আওয়ামী লীগের হাতে হস্তান্তর করা উচিত ছিল। কিন্তু সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা টালবাহানা শুরু করেন। তারা নানা অজুহাতে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বাতিল করতে থাকেন। এই অন্যায় ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞা বাঙালি জনগণের কাছে পরিষ্কার করে দেয় যে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার পশ্চিম পাকিস্তান কখনোই মেনে নেবে না। (১৩)
আলোচনা ব্যর্থতা: ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে শেখ মুজিবুর রহমান এবং ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টোর মধ্যে যে আলোচনা হয়েছিল, তা ছিল ক্ষমতা হস্তান্তরের বদলে সময়ক্ষেপণের কৌশল। আলোচনা চলাকালীন পশ্চিম পাকিস্তান সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ফলস্বরূপ, এই আলোচনা ব্যর্থ হয় এবং বাঙালি নেতারা বুঝতে পারেন যে সশস্ত্র সংগ্রাম ছাড়া স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব নয়। এই ব্যর্থতা স্বাধীনতার পথকে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করেছিল। (১৪)
অপারেশন সার্চলাইট: ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র জনগণের ওপর “অপারেশন সার্চলাইট” নামে এক বর্বরোচিত সামরিক অভিযান শুরু করে। হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয় এবং শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই গণহত্যার মাধ্যমে পশ্চিম পাকিস্তান আসলে আলোচনার পথ চিরতরে বন্ধ করে দেয় এবং এর প্রতিক্রিয়ায় ২৬শে মার্চ থেকে শুরু হয় বাঙালির সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ, যা পাকিস্তানকে অখণ্ড রাখা অসম্ভব করে তোলে। (১৫)
আন্তর্জাতিক সমর্থন: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর সক্রিয় সমর্থন ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভারতের সামরিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা মুক্তিযুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন করে দেয়। অন্যদিকে, বেশিরভাগ পশ্চিমা দেশ ও চীনের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান সামরিকভাবে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যা চূড়ান্ত বিজয় লাভে সহায়তা করেছিল। (১৬)
মুক্তি বাহিনীর সংগ্রাম: পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ জনগণ, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যরা মিলে গঠিত হয়েছিল মুক্তি বাহিনী। নয় মাস ধরে চলে এই সশস্ত্র সংগ্রাম। মুক্তি বাহিনীর অদম্য সাহস, ত্যাগ ও আত্মবলিদান পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধই ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটায়। (১৭)
শেষকথা: সংযুক্ত পাকিস্তান ভাঙার মূল কারণ ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর চাপানো ধারাবাহিক অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং সাংস্কৃতিক আধিপত্য। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ছয় দফা ও সত্তরের নির্বাচনে বাঙালির গণতান্ত্রিক রায়কে অস্বীকার করা—প্রতিটি ঘটনাই স্বাধীনতার পথকে সুগম করেছে। চূড়ান্তভাবে, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের গণহত্যা এবং এর ফলস্বরূপ শুরু হওয়া সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে অনিবার্য করে তুলেছিল।

