- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর যখন পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়, তখন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) এবং পশ্চিম পাকিস্তান দুটি ভিন্ন ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়ে গঠিত হয়। শুরু থেকেই এই দুই অংশের মধ্যে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গভীর বৈষম্য বিদ্যমান ছিল। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানকে একটি উপনিবেশের মতো ব্যবহার করত, যার ফলে পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ পশ্চিম পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হতো এবং পূর্ব পাকিস্তান উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হতো। এই অর্থনৈতিক বৈষম্যই পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
১। সম্পদ ও রাজস্বের অসম বণ্টন: পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ব পাকিস্তান থেকে অর্জিত রাজস্বের একটি বৃহৎ অংশ পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় করত। পূর্ব পাকিস্তান থেকে উৎপাদিত পাট, চা, চামড়া ইত্যাদি রপ্তানি করে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো, তার সিংহভাগই পশ্চিম পাকিস্তানে বিনিয়োগ করা হতো। এই অসম বন্টনের ফলে পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয় এবং এখানকার জনগণের মধ্যে অর্থনৈতিক বঞ্চনার অনুভূতি প্রবল হয়।
২। উন্নয়ন প্রকল্প ও বিনিয়োগে বৈষম্য: কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিত এবং সেখানে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করত, যেমন – ভারী শিল্প, অবকাঠামো ও সেচ প্রকল্প। অন্যদিকে, পূর্ব পাকিস্তানে শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে তেমন কোনো বিনিয়োগ করা হয়নি। এই বৈষম্য পূর্ব পাকিস্তানকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে রেখেছিল এবং এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হতে দেয়নি।
৩। শিল্পায়নে পিছিয়ে পড়া: পশ্চিম পাকিস্তানে দ্রুত শিল্পায়ন ঘটলেও পূর্ব পাকিস্তানে পরিকল্পিতভাবে শিল্পায়ন প্রক্রিয়াকে বাধা দেওয়া হয়েছিল। এখানকার কাঁচামাল পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হতো এবং সেখানে উৎপাদিত পণ্য আবার পূর্ব পাকিস্তানে চড়া দামে বিক্রি করা হতো। এই নীতি পূর্ব পাকিস্তানকে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি থেকে বঞ্চিত করেছিল এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত করেছিল।
৪। কৃষি নীতিতে বৈষম্য: পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর ছিল, বিশেষ করে পাট চাষ ছিল এখানকার প্রধান আয়ের উৎস। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি নীতিতে পাট চাষিদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়নি। পাটের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে অনিয়ম ছিল এবং কৃষকদের ভর্তুকি বা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হতো। এই বৈষম্য পূর্ব পাকিস্তানের কৃষি অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিয়েছিল।
৫। বৈদেশিক সাহায্যের অসম ব্যবহার: পাকিস্তান যে বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণ পেত, তার সিংহভাগই পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় করা হতো। পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দকৃত বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ ছিল নগণ্য। এই অসম বন্টন পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি বড় বাধা ছিল এবং এখানকার জনগণের মধ্যে হতাশার জন্ম দিয়েছিল।
৬। ব্যাংকিং ও বীমা খাতে নিয়ন্ত্রণ: পাকিস্তানের ব্যাংকিং, বীমা এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সদর দফতর ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ এসব প্রতিষ্ঠানের সেবা থেকে বঞ্চিত হতো এবং এখানকার পুঁজি পশ্চিম পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হতো। এই নিয়ন্ত্রণ পূর্ব পাকিস্তানের নিজস্ব আর্থিক খাতের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করেছিল।
৭। বাজেট বরাদ্দে বৈষম্য: পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় বাজেটে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল খুবই কম। প্রতিরক্ষা, প্রশাসন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে সিংহভাগ অর্থ পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় করা হতো। এই বাজেট বৈষম্য পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ এবং অন্যান্য মৌলিক খাতের উন্নয়নে মারাত্মকভাবে প্রভাব ফেলেছিল।
৮। কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে বৈষম্য: কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ চাকরিতে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের প্রতিনিধিত্ব ছিল নগণ্য। বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ পদই পশ্চিম পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের দ্বারা পূরণ করা হতো। এই বৈষম্যের কারণে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষিত তরুণরা কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল এবং তাদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছিল।
৯। আমদানি ও রপ্তানি নীতিতে বৈষম্য: কেন্দ্রীয় সরকারের আমদানি ও রপ্তানি নীতি পশ্চিম পাকিস্তানের অনুকূলে ছিল। পশ্চিম পাকিস্তানের পণ্য রপ্তানিতে সুবিধা দেওয়া হতো, যেখানে পূর্ব পাকিস্তানের পণ্য রপ্তানিতে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হতো। এই নীতি পূর্ব পাকিস্তানের ব্যবসা-বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।
১০। মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যবৃদ্ধি: পূর্ব পাকিস্তানে পশ্চিম পাকিস্তানের তুলনায় পণ্যমূল্য প্রায়শই বেশি থাকত। কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক নীতির কারণে পূর্ব পাকিস্তানে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে গিয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি করত এবং তাদের আর্থিক কষ্ট বাড়িয়ে দিত।
১১। পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বৈষম্য: পাকিস্তানের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাগুলোতে পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল। পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য সুচিন্তিতভাবে পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ শোষণ করা হয়েছিল। এই পরিকল্পিত বৈষম্য পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল।
১২। যোগাযোগ ও পরিবহন খাতের অবহেলা: পূর্ব পাকিস্তানে সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করা হয়নি। অবকাঠামোগত দুর্বলতা পূর্ব পাকিস্তানের শিল্প ও কৃষি খাতের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করেছিল এবং পণ্য পরিবহনকে ব্যয়বহুল করে তুলেছিল।
১৩। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বৈষম্য: শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে পূর্ব পাকিস্তানে বরাদ্দ ছিল খুবই কম। উন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আধুনিক হাসপাতালের অভাব ছিল প্রকট। এই বৈষম্য পূর্ব পাকিস্তানের মানবসম্পদ উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল এবং জনগণের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল।
১৪। বেসরকারি বিনিয়োগে অনীহা: পশ্চিম পাকিস্তানের বিনিয়োগকারীরা পূর্ব পাকিস্তানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী ছিল না, কারণ কেন্দ্রীয় সরকার তাদের কোনো প্রণোদনা দিত না। এর ফলে পূর্ব পাকিস্তানে বেসরকারি খাতের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়নি।
১৫। শুল্ক ও করনীতিতে বৈষম্য: কেন্দ্রীয় সরকারের শুল্ক ও করনীতি পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনীতিকে শোষণ করত। পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্প পণ্যের ওপর কম শুল্ক আরোপ করা হলেও পূর্ব পাকিস্তানের পণ্য প্রায়শই উচ্চ শুল্কের আওতায় থাকত, যা তাদের প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা কমিয়ে দিত।
১৬। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অভাব: পূর্ব পাকিস্তানে পর্যাপ্ত সংখ্যক ব্যাংক, বীমা কোম্পানি বা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছিল না। এর ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ বা অন্যান্য আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতো, যা তাদের ব্যবসার প্রসারে বাধা দিত।
১৭। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস: অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মাথাপিছু আয় ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে অনেক কম। এর ফলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়েছিল এবং দারিদ্র্য বেড়ে গিয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করেছিল।
১৮। প্রাকৃতিক সম্পদের শোষণ: পূর্ব পাকিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ, যেমন – গ্যাস, বনজ সম্পদ ইত্যাদি পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যবহার করা হতো। পূর্ব পাকিস্তানের স্থানীয় জনগণের এসব সম্পদের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না এবং তারা এর থেকে কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা পেত না।
১৯। দুর্যোগ মোকাবিলায় অবহেলা: পূর্ব পাকিস্তান প্রায়শই বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হতো। কেন্দ্রীয় সরকার দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে উদাসীন ছিল, যা পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে দিত এবং জনগণের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিত।
২০। মুদ্রার বিনিময় হার: পাকিস্তানের মুদ্রার বিনিময় হার এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা পূর্ব পাকিস্তানের রপ্তানিকে ক্ষতিগ্রস্ত করত এবং পশ্চিম পাকিস্তানের আমদানিকে উৎসাহিত করত। এই নীতি পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
২১। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি: উপরোক্ত সকল অর্থনৈতিক বৈষম্য পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছিল। এই অর্থনৈতিক শোষণই বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটিয়েছিল এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল, যার ফলশ্রুতিতে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছিল।
উপসংহার: পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্য কেবল সংখ্যার হিসাব ছিল না, বরং এটি ছিল একটি জাতির শোষণ ও বঞ্চনার করুণ ইতিহাস। এই বৈষম্যগুলো পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছিল এবং তাদের মধ্যে রাজনৈতিক স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা তীব্র করে তুলেছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় এই দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক প্রতিরোধ ছিল, যা বিশ্বকে দেখিয়েছিল যে, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ছাড়া কোনো জাতি দীর্ঘকাল পরাধীন থাকতে পারে না।
১। 🟢 সম্পদ ও রাজস্বের অসম বণ্টন
২। 🔵 উন্নয়ন প্রকল্প ও বিনিয়োগে বৈষম্য
৩। 🔴 শিল্পায়নে পিছিয়ে পড়া
৪। 🟡 কৃষি নীতিতে বৈষম্য
৫। 🟠 বৈদেশিক সাহায্যের অসম ব্যবহার
৬। 🟣 ব্যাংকিং ও বীমা খাতে নিয়ন্ত্রণ
৭। 🟤 বাজেট বরাদ্দে বৈষম্য
৮। ⚫ কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে বৈষম্য
৯। ⚪ আমদানি ও রপ্তানি নীতিতে বৈষম্য
১০। 🟢 মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যবৃদ্ধি
১১। 🔵 পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বৈষম্য
১২। 🔴 যোগাযোগ ও পরিবহন খাতের অবহেলা
১৩। 🟡 শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বৈষম্য
১৪। 🟠 বেসরকারি বিনিয়োগে অনীহা
১৫। 🟣 শুল্ক ও করনীতিতে বৈষম্য
১৬। 🟤 আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অভাব
১৭। ⚫ জনগণের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস
১৮। ⚪ প্রাকৃতিক সম্পদের শোষণ
১৯। 🟢 দুর্যোগ মোকাবিলায় অবহেলা
২০। 🔵 মুদ্রার বিনিময় হার
২১। 🔴 মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি
১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের মোট রপ্তানি আয় পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। যেমন, ১৯৬০-এর দশকে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পাকিস্তানের মোট বৈদেশিক আয়ের ৬০-৭০% আসত, কিন্তু এই আয়ের মাত্র ২৫-৩০% পূর্ব পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় হতো। ১৯৬০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের তুলনায় প্রায় ৩৩% কম। এমনকি, ১৯৫০-এর দশকে পশ্চিম পাকিস্তানে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি যেখানে প্রায় ৭% ছিল, সেখানে পূর্ব পাকিস্তানে তা ছিল মাত্র ২%। ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তানের মোট কেন্দ্রীয় বাজেট বরাদ্দের ৮০% এর বেশি পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় হতো, যেখানে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ২০% এরও কম। এই অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন ছিল একটি ঐতিহাসিক প্রতিবাদ, যা পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মকে ত্বরান্বিত করে।

