- readaim.com
- 0
উত্তর::উপস্থাপনা:- প্লেটোর ন্যায়বিচার ধারণাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এর মূল আলোচনা পাওয়া যায় তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দ্য রিপাবলিক’-এ। তিনি প্রচলিত ধারণার বিপরীতে গিয়ে ন্যায়বিচারকে একটি নৈতিক ও অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখেছেন, যা কোনো বাহ্যিক নিয়ম বা শাস্তির ওপর নির্ভর করে না।
প্লেটোর মতে, ন্যায়বিচার হলো এমন এক অবস্থা যেখানে ব্যক্তি তার স্বভাবগত গুণ অনুসারে কাজ করে এবং অন্যের কাজে হস্তক্ষেপ করে না। তিনি মানব আত্মাকে তিনটি অংশে ভাগ করেছেন:
১. যুক্তি বা প্রজ্ঞা (Reason/Wisdom): এটি মানুষের সবচেয়ে উচ্চতর গুণ। এর কাজ হলো মানুষের অন্যান্য প্রবৃত্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।
২. সাহস বা স্পৃহা (Spirit/Courage): এটি মানুষের ভেতরের শক্তি, যা বিপদের মুখেও তাকে দৃঢ় থাকতে সাহায্য করে।
৩. ক্ষুধা বা কামনা (Appetite): এটি মানুষের মৌলিক চাহিদা ও কামনা-বাসনার সঙ্গে সম্পর্কিত।
প্লেটোর মতে, যখন এই তিনটি অংশ একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কাজ করে, তখনই একজন ব্যক্তি ন্যায়পরায়ণ হয়। অর্থাৎ, যখন প্রজ্ঞা সাহস ও কামনাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করে, তখনই ব্যক্তির মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্লেটো এই ধারণাকে রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করেছেন। তিনি মনে করতেন, রাষ্ট্রও মানুষের মতো তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত:
- শাসক শ্রেণি (Philosopher Kings): এদের মধ্যে প্রজ্ঞা বা যুক্তি প্রধান। তারা জ্ঞানী ও বিচক্ষণ হন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব তাদেরই থাকা উচিত।
- সৈনিক শ্রেণি (Warriors): এদের মধ্যে সাহস বা স্পৃহা প্রধান। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব তাদের।
- উৎপাদনকারী শ্রেণি (Producers): এদের মধ্যে কামনা বা ক্ষুধা প্রধান। তারা সমাজের অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণের জন্য কাজ করেন।
প্লেটোর মতে, একটি রাষ্ট্রে তখনই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন এই তিনটি শ্রেণির মানুষ নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে এবং একে অপরের কাজে হস্তক্ষেপ করবে না। শাসকশ্রেণি প্রজ্ঞা দিয়ে শাসন করবে, সৈনিকেরা সাহস দিয়ে প্রতিরক্ষা করবে এবং উৎপাদনকারীরা খাদ্য ও পণ্য উৎপাদন করবে। এই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থাই হলো প্লেটোর চোখে আদর্শ রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার।
উপসংহার: প্লেটোর ন্যায়বিচার হলো ‘কার্যবিশেষীকরণ’-এর ধারণা। অর্থাৎ, যে যার যোগ্য, সে সেই কাজ করবে এবং অন্য কেউ তার কাজে বাধা দেবে না। এটি কোনো বাহ্যিক আইন নয়, বরং ব্যক্তি ও সমাজের অভ্যন্তরীণ নৈতিকতা ও সুশৃঙ্খলার ওপর নির্ভরশীল।

