- readaim.com
- 0
উত্তর::ভূমিকা: বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও আলোচিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হলো বাজার অর্থনীতি।এই ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে, এর মূল ভিত্তিগুলো কী এবং কেনই বা এটি এত গুরুত্বপূর্ণ, তা জানা আমাদের সকলের জন্য ضروری।সহজ কথায়, এটি এমন এক ব্যবস্থা যেখানে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং উদ্যোগই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।চলুন, এই আকর্ষণীয় ব্যবস্থাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
শাব্দিক অর্থ: “বাজার অর্থনীতি” কথাটি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত: ‘বাজার’ এবং ‘অর্থনীতি’।
- বাজার (Market): সাধারণত বাজার বলতে আমরা এমন একটি স্থানকে বুঝি যেখানে ক্রেতা ও বিক্রেতা একত্রিত হয়ে পণ্য কেনাবেচা করে।তবে অর্থনীতিতে ‘বাজার’ ধারণাটি আরও ব্যাপক।এটি এমন একটি প্রক্রিয়া বা ব্যবস্থা যেখানে চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে পণ্যের দাম নির্ধারিত হয় এবং বিনিময় সম্পন্ন হয়, তা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে হোক বা ডিজিটাল মাধ্যমে।
- অর্থনীতি (Economy): অর্থনীতি হলো কোনো দেশ বা অঞ্চলের সম্পদ উৎপাদন, বন্টন এবং ভোগের সাথে সম্পর্কিত যাবতীয় কার্যকলাপের সমষ্টি।
সুতরাং, শাব্দিক অর্থে বাজার অর্থনীতি হলো এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যা বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের নীতির উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
বাজার অর্থনীতি (Market Economy) হলো এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে বেশিরভাগ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি দ্বারা গৃহীত হয়।এই ব্যবস্থায় সরকার বা কোনো কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ অত্যন্ত সীমিত থাকে।কী উৎপাদন করা হবে, কতটা উৎপাদন করা হবে, এবং কার জন্য উৎপাদন করা হবে—এই মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর নির্ধারিত হয় ক্রেতা ও বিক্রেতার স্বাধীন взаимодействия মাধ্যমে, যা ‘চাহিদা ও সরবরাহ’ (Supply and Demand) নামে পরিচিত।এই ব্যবস্থাকে মুক্তবাজার অর্থনীতি (Free Market Economy) বা পুঁজিবাদী অর্থনীতি (Capitalist Economy) নামেও অভিহিত করা হয়।
তবে, অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট চিন্তাবিদরা বাজার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।নিচে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের সংজ্ঞা প্রদান করা হলো:
১।অ্যাডাম স্মিথ (Adam Smith): যদিও তিনি সরাসরি “বাজার অর্থনীতি” শব্দটি ব্যবহার করেননি, তবে তাঁর “অদৃশ্য হাত” (Invisible Hand) তত্ত্বটিই বাজার অর্থনীতির মূল ভিত্তি।তিনি বলেন, প্রত্যেকে যখন নিজের স্বার্থে কাজ করে, তখন একটি অদৃশ্য শক্তি বা বাজারের প্রক্রিয়া সমাজের সার্বিক মঙ্গল নিশ্চিত করে।তাঁর মতে, “It is not from the benevolence of the butcher, the brewer, or the baker that we expect our dinner, but from their regard to their own interest.”
২।কার্ল মার্কস (Karl Marx): বাজার অর্থনীতি বা পুঁজিবাদের কঠোর সমালোচক হিসেবে কার্ল মার্কস একে ভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।তাঁর মতে, এটি এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে উৎপাদনের উপায়গুলো (Means of Production) ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে এবং শ্রমিকশ্রেণি কেবল তাদের শ্রম বিক্রি করে বেঁচে থাকে, যা পুঁজিবাদের অন্তর্নিহিত শোষণ ও সংকটের জন্ম দেয়।”The capitalist mode of production is a system in which the means of production are privately owned and labour-power is a commodity.”
৩।পল এ।স্যামুয়েলসন (Paul A।Samuelson): আধুনিক অর্থনীতির অন্যতম এই প্রবক্তা বলেন, “বাজার অর্থনীতি হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে কী, কীভাবে এবং কার জন্য উৎপাদন করা হবে, সেই মৌলিক অর্থনৈতিক প্রশ্নগুলোর সমাধান হয় বাজারের মাধ্যমে; যেখানে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো স্বেচ্ছায় পণ্য ও সেবা অর্থের বিনিময়ে আদান-প্রদান করে।” (“A market economy is one in which the what, how, and for whom questions are primarily solved by the market; where individuals and firms voluntarily exchange goods and services for money.”)
৪।মিল্টন ফ্রিডম্যান (Milton Friedman): মুক্তবাজার অর্থনীতির একজন শক্তিশালী প্রবক্তা হিসেবে তিনি বলেন, “বাজার অর্থনীতি হলো অর্থনৈতিক কার্যক্রম সংগঠিত করার এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং পছন্দের স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং সরকারি হস্তক্ষেপ ন্যূনতম পর্যায়ে রাখা হয়।” (“A market economy is a system for organizing economic activity in which private enterprise and freedom of choice are given the highest priority, and government intervention is kept to a minimum.”)
৫।ফ্রিডরিখ হায়েক (F.A।Hayek): তিনি বাজারকে একটি তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা হিসেবে দেখেছেন।তাঁর মতে, বাজার অর্থনীতি হলো এমন একটি স্বতঃস্ফূর্ত ব্যবস্থা যেখানে লক্ষ লক্ষ ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন জ্ঞান ও পছন্দকে মূল্য ব্যবস্থার (Price System) মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়, যা কোনো কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।(“The market economy is a spontaneous order where the dispersed knowledge of millions of individuals is coordinated through the price system, a mechanism far more efficient than any central plan.”)
৬।অক্সফোর্ড ডিকশনারি (Oxford Dictionary): এর মতে, “বাজার অর্থনীতি হলো এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে উৎপাদন এবং মূল্য চাহিদা ও সরবরাহের মুক্ত শক্তির দ্বারা নির্ধারিত হয়।” (“An economic system in which production and prices are determined by unrestricted competition between privately owned businesses.”)
উপরের সংজ্ঞাগুলো বিশ্লেষণ করলে আমরা বলতে পারি যে, বাজার অর্থনীতি হলো এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে সম্পদের মালিকানা ব্যক্তিগত পর্যায়ে থাকে এবং উৎপাদন, বন্টন ও মূল্যের মতো মৌলিক বিষয়গুলো কোনো কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়ে বরং বাজারের চাহিদা ও সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয়।এই ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা, মুনাফা অর্জন এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগ প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
শেষকথা: পরিশেষে বলা যায়, বাজার অর্থনীতি উদ্ভাবন, দক্ষতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে অত্যন্ত কার্যকর একটি মডেল।এটি ভোক্তাদের পছন্দের স্বাধীনতা দেয় এবং উৎপাদকদের মধ্যে প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করে, যা পণ্যের মান বৃদ্ধি ও মূল্য হ্রাসে সহায়তা করে।তবে, এর কিছু দুর্বল দিকও রয়েছে, যেমন আয় বৈষম্য সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা।তাই আধুনিক বিশ্বে অনেক দেশই খাঁটি বাজার অর্থনীতির পরিবর্তে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে মিশ্র অর্থনীতি (Mixed Economy) পরিচালনা করে।
১।দামের সংকেত: দাম হলো উৎপাদক ও ভোক্তাদের জন্য একটি শক্তিশালী সংকেত।যখন কোনো পণ্যের দাম বাড়ে, তখন উৎপাদকেরা বুঝতে পারে যে সেই পণ্যের চাহিদা বেশি, ফলে তারা উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত হয়।আবার, যখন দাম কমে, তখন উৎপাদকেরা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয় কারণ এটি ইঙ্গিত দেয় যে সেই পণ্যের চাহিদা কম।এই সংকেত সম্পদের সঠিক বন্টনে সাহায্য করে, যা অর্থনীতির সামগ্রিক দক্ষতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২।সম্পদের বন্টন: দাম ব্যবস্থা সীমিত সম্পদকে সবচেয়ে কার্যকর উপায়ে বন্টন করে।উচ্চ দামের পণ্যগুলো উৎপাদন করতে বেশি সম্পদ ব্যবহার করা হয়, কারণ সেগুলো থেকে বেশি মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনা থাকে।অন্যদিকে, কম দামের পণ্যগুলোর জন্য কম সম্পদ বরাদ্দ করা হয়।এই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে যে সমাজের চাহিদা অনুযায়ী সম্পদ সবচেয়ে দক্ষতার সাথে ব্যবহৃত হচ্ছে।
৩।উৎপাদনকারীর মুনাফা: দাম ব্যবস্থা উৎপাদনকারীদের মুনাফা অর্জনে সহায়তা করে।যখন কোনো পণ্যের দাম উৎপাদন খরচের চেয়ে বেশি হয়, তখন উৎপাদক লাভ করে।এই লাভ তাদেরকে নতুন নতুন পণ্য উদ্ভাবন এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করে।এটি অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৪।ভোক্তার পছন্দ: দাম ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোক্তারা তাদের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী পণ্য কিনতে পারে।যখন কোনো পণ্যের দাম বেশি হয়, তখন অনেক ভোক্তা সেটি কিনতে পারে না বা বিকল্প পণ্য খোঁজে।আবার, দাম কম হলে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করে।এভাবে দাম ব্যবস্থা ভোক্তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
৫।চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য: দামের ওঠা-নামা বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক ভারসাম্য তৈরি করে।যদি কোনো পণ্যের চাহিদা তার সরবরাহের চেয়ে বেশি হয়, তবে দাম বাড়ে, যা উৎপাদকদের উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত করে।বিপরীতভাবে, যদি সরবরাহ বেশি হয়, তবে দাম কমে, যা ভোক্তাদের বেশি কিনতে উৎসাহিত করে।এই স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া বাজারকে স্থিতিশীল রাখে।
৬।উৎপাদন খরচ নির্ধারণ: দাম ব্যবস্থা উৎপাদকদের জন্য একটি মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে, যা তাদের উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।যদি কোনো উৎপাদক তার পণ্যের দাম বাজারের দামের চেয়ে বেশি রাখে, তবে সে ভোক্তা হারাবে।তাই, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উৎপাদকরা তাদের উৎপাদন খরচ কমানোর চেষ্টা করে।এটি সামগ্রিক অর্থনৈতিক দক্ষতার উন্নতি ঘটায়।
৭।অর্থনৈতিক দক্ষতার উৎস: দাম ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পদের সুষ্ঠু বন্টন এবং উৎপাদকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।এতে উৎপাদনকারীরা তাদের পণ্য ও সেবার মান বাড়াতে এবং খরচ কমাতে উৎসাহিত হয়।এর ফলস্বরূপ, অর্থনীতিতে সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি পায়, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে একটি দেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে শক্তিশালী করে।
৮।আর্থিক প্রণোদনা: দাম ব্যবস্থা উৎপাদনকারী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আর্থিক প্রণোদনা হিসেবে কাজ করে।উচ্চ মুনাফার সম্ভাবনা নতুন নতুন বিনিয়োগকে আকর্ষণ করে।এটি নতুন শিল্প স্থাপন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করে, যা একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।এই প্রণোদনা ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে পড়ত।
৯।সংকট ও ঘাটতির সংকেত: দাম ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজারে কোনো পণ্যের ঘাটতি বা উদ্বৃত্তের সংকেত পাওয়া যায়।যখন কোনো পণ্যের সরবরাহ কম থাকে, তখন তার দাম বেড়ে যায়, যা ভোক্তাদের সেই পণ্যটি ব্যবহারে আরও সচেতন করে তোলে।এটি কৃত্রিম ঘাটতি রোধ করতে সাহায্য করে এবং প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১০।নমনীয়তা ও পরিবর্তন: বাজার অর্থনীতিতে দাম ব্যবস্থা অত্যন্ত নমনীয়।এটি দ্রুত অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।উদাহরণস্বরূপ, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে একটি পণ্যের সরবরাহ কমে গেলে, দাম দ্রুত বেড়ে যায়, যা ভোক্তাদের বিকল্প খোঁজার এবং উৎপাদকদের সেই পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত করে।
১১।তথ্য প্রদান: দাম ব্যবস্থা ভোক্তা এবং উৎপাদক উভয়কেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে।ভোক্তারা জানতে পারে কোন পণ্যটি কত দামে পাওয়া যাচ্ছে এবং উৎপাদকেরা জানতে পারে কোন পণ্যের চাহিদা কেমন।এই তথ্য বাজারের অংশগ্রহণকারীদের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে অপরিহার্য।এটি বাজারের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।
১২।উৎপাদন ও ভোগের মধ্যে সমন্বয়: দাম ব্যবস্থা উৎপাদন এবং ভোগের মধ্যে একটি স্বাভাবিক সমন্বয় সাধন করে।যখন কোনো পণ্যের চাহিদা বাড়ে, তখন দাম বাড়ে, যা উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত করে।আবার, যখন চাহিদা কমে, তখন দাম কমে, যা উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে।এই সমন্বয় অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
১৩।বিনিময় মাধ্যম: দাম ব্যবস্থায় মুদ্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা পণ্য ও সেবার বিনিময়ের মান হিসেবে কাজ করে।দামের মাধ্যমে একটি পণ্যের আপেক্ষিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়, যা ভিন্ন ভিন্ন পণ্য ও সেবার মধ্যে বিনিময়কে সহজ করে।এটি আধুনিক বাজারের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য অপরিহার্য।
১৪।ঝুঁকি কমানো: দাম ব্যবস্থা উৎপাদকদের জন্য ঝুঁকি কমানোর একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে।যদি কোনো পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকে, তবে উৎপাদকেরা তাদের ভবিষ্যৎ আয় সম্পর্কে কিছুটা নিশ্চিত হতে পারে।যদিও দামের ওঠানামা কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি করে, তবে এটি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক একটি কাঠামো বজায় রাখে।
১৫।উদ্ভাবনী শক্তি: উচ্চ মুনাফা লাভের সম্ভাবনা উৎপাদকদের নতুন পণ্য উদ্ভাবন এবং উন্নত উৎপাদন কৌশল ব্যবহার করতে উৎসাহিত করে।যদি কোনো উৎপাদক একটি নতুন এবং আকর্ষণীয় পণ্য বাজারে নিয়ে আসে, তবে তারা প্রাথমিকভাবে উচ্চ দাম নির্ধারণ করতে পারে।এই উচ্চ মুনাফা তাদের আরও গবেষণায় বিনিয়োগ করতে এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে উৎসাহিত করে।
১৬।ভোক্তার সঞ্চয়: কম দামের কারণে ভোক্তারা তাদের অর্থের একটি অংশ সঞ্চয় করতে পারে।যখন কোনো পণ্যের দাম কমে, তখন একই পরিমাণ অর্থ দিয়ে বেশি পণ্য কেনা যায় অথবা বাকি অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা যায়।এই সঞ্চয় পরবর্তীতে বিনিয়োগে রূপান্তরিত হতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখে।
১৭।স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ: বাজার অর্থনীতিতে দাম ব্যবস্থা একটি স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়াই এটি চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে।এটি বাজারকে একটি স্ব-নিয়ন্ত্রিত সত্তা হিসেবে কাজ করতে দেয়, যেখানে দামের ওঠানামার মাধ্যমে বাজারের সমস্যাগুলো সমাধান হয়।
উপসংহার: দাম ব্যবস্থা হলো একটি বাজারের প্রাণকেন্দ্র।এটি কেবল পণ্য বা সেবার মূল্য নির্ধারণ করে না, বরং সীমিত সম্পদের দক্ষ বন্টন, উৎপাদকদের জন্য প্রণোদনা এবং ভোক্তাদের পছন্দের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।এই অদৃশ্য শক্তি ছাড়া আধুনিক বাজার অর্থনীতি তার কার্যকারিতা হারাবে, এবং সমাজের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কল্যাণ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
বাজার অর্থনীতি হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে সরকারি হস্তক্ষেপের পরিবর্তে চাহিদা ও সরবরাহের অদৃশ্য শক্তি দ্বারা সম্পদের বন্টন ও মূল্য নির্ধারিত হয়।
১।🎭 দামের সংকেত
২।💰 সম্পদের বন্টন
৩।📈 উৎপাদনকারীর মুনাফা
৪।🛍️ ভোক্তার পছন্দ
৫।⚖️ চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য
৬।🏭 উৎপাদন খরচ নির্ধারণ
৭।💪 অর্থনৈতিক দক্ষতার উৎস
৮।✨ আর্থিক প্রণোদনা
৯।🚨 সংকট ও ঘাটতির সংকেত
১০।🔄 নমনীয়তা ও পরিবর্তন
১১।📊 তথ্য প্রদান
১২।🎯 উৎপাদন ও ভোগের মধ্যে সমন্বয়
১৩।💸 বিনিময় মাধ্যম
১৪।🛡️ ঝুঁকি কমানো
১৫।💡 উদ্ভাবনী শক্তি
১৬।🎁 ভোক্তার সঞ্চয়
১৭।⚙️ স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ।
ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে, দাম ব্যবস্থার গুরুত্ব ১৭৭৬ সালে অ্যাডাম স্মিথের “দ্য ওয়েলথ অফ নেশনস” গ্রন্থে “অদৃশ্য হাত” (Invisible Hand) ধারণার মাধ্যমে প্রথম সুস্পষ্টভাবে উঠে আসে।তিনি যুক্তি দেন যে, বাজারের অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের স্বার্থ পূরণের জন্য কাজ করলেও, দাম ব্যবস্থার মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কল্যাণ সাধিত হয়।১৯৯০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর, বিশ্বব্যাপী সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো বাজার অর্থনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে, যা দাম ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও শ্রেষ্ঠত্বের ঐতিহাসিক প্রমাণ।বিশ্বব্যাংকের একটি জরিপ (২০২০) অনুযায়ী, যেসব দেশে মুক্ত বাজার ও কার্যকর দাম ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে মাথাপিছু জিডিপি এবং জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।এই ব্যবস্থা ১৯২৯ সালের মহামন্দা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক মহামারী পর্যন্ত বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংকটে অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

