- readaim.com
- 0
উত্তর::ভূমিকা: উপস্থাপনা বেকারত্ব একটি জটিল সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা যা শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই প্রভাবিত করে না, বরং একটি দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতেও বাধা সৃষ্টি করে। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে একজন কর্মক্ষম ও কর্মে ইচ্ছুক ব্যক্তি প্রচলিত মজুরিতে কাজ খুঁজে পায় না। আধুনিক অর্থনীতিতে বেকারত্বকে একটি অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য এবং হতাশার জন্ম দেয়। এটি শুধুমাত্র আর্থিক সংকট নয়, বরং মানবিক মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাসের ওপরও এক বড় আঘাত।
শাব্দিক অর্থ: বেকারত্ব শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো কর্মহীনতা বা কাজ না থাকা। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তি কাজ করার জন্য প্রস্তুত এবং চেষ্টা করছে, কিন্তু তার জন্য কোনো কাজ নেই।
অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে, বেকারত্ব হলো শ্রমশক্তির সেই অংশ যারা বর্তমান বাজারে প্রচলিত মজুরি হারে কাজ করতে ইচ্ছুক এবং সক্ষম, কিন্তু কাজের সুযোগ পাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) অনুযায়ী, বেকারত্ব গণনা করা হয় যখন একজন ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ে কর্মহীন থাকে, সক্রিয়ভাবে কাজ খোঁজে এবং কাজের জন্য উপলব্ধ থাকে।
অগবার্ন, নিমকফ, কার্ল মার্কস এবং অক্সফোর্ড ডিকশনারির মতো কিছু সত্তার বেকারত্ব সম্পর্কিত ধারণা ও সংজ্ঞা রয়েছে।
১. অগবার্ন ও নিমকফ (Ogburn and Nimkoff): এই সমাজবিজ্ঞানীরা বেকারত্বকে একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মধ্যে কাজের অভাব দেখা যায়। (The authors give definitions of unemployment as a socioeconomic phenomenon that involves the absence of work among people who are economically active)
২. অক্সফোর্ড ডিকশনারি (Oxford Dictionary): অক্সফোর্ড ডিকশনারি অনুসারে, বেকারত্ব হলো অসংখ্য মানুষের চাকরি না থাকার বাস্তবতা; অর্থাৎ, চাকরিহীন মানুষের সংখ্যা। (The fact of a number of people not having a job; the number of people without a job)
৩. কার্ল মার্কস (Karl Marx): কার্ল মার্কস সরাসরি বেকারত্বের সংজ্ঞা না দিলেও, তিনি “রিজার্ভ আর্মি অব লেবার” বা “শ্রমের সংরক্ষিত বাহিনী”র ধারণা দিয়েছেন। তার মতে, পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় পুঁজিপতিরা মজুরি কম রাখতে এবং কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বেকার শ্রমিকদের একটি দল তৈরি করে। (Unemployment needed by the capitalists in order to maintain work discipline in jobs, keep wages down, and protect business profitability)
৪. জন মেনার্ড কেইনস (John Maynard Keynes): কেইনসের মতে, বেকারত্ব ঘটে যখন অর্থনীতিতে সামগ্রিক চাহিদার অভাব থাকে, যার ফলে নিয়োগকর্তারা কর্মীদের ছাঁটাই করতে বাধ্য হন। (Unemployment occurs when there is insufficient aggregate demand in the economy to provide jobs for everyone who wants to work)
৫. অধ্যাপক ফিফনার ও প্রেসথাস (P. Fiffner and Presthus): যদিও এই দুজন গবেষক মূলত জনপ্রশাসন নিয়ে কাজ করেছেন, তবুও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাদের কাজ বিবেচনা করলে বোঝা যায় যে, কর্মসংস্থানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও মানবসম্পদের সঠিক ব্যবহারের অভাবে বেকারত্ব দেখা দিতে পারে।
৬. এমিল ডুর্খেইম (Émile Durkheim): ডুর্খেইম সরাসরি বেকারত্বের সংজ্ঞা দেননি, তবে তিনি “অ্যানোমি” বা আদর্শহীনতার ধারণার মাধ্যমে সমাজে শ্রমের বিভাজনের ব্যর্থতাকে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন, শিল্প সংকট, সংঘাত এবং অপরাধের মতো বিষয়গুলো সামাজিক সংহতির অভাব থেকে সৃষ্টি হয়, যা প্রকারান্তরে বেকারত্বের মতো সমস্যার জন্ম দেয়।
১। শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন: আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনা জরুরি। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা প্রায়শই চাকরি-কেন্দ্রিক না হয়ে সনদ-কেন্দ্রিক। তাই, পাঠ্যক্রমকে ঢেলে সাজিয়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান না দিয়ে ব্যবহারিক ও হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরি করতে হবে, যাতে তারা পড়ালেখা শেষ করেই চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে পারে অথবা নিজস্ব উদ্যোগে কিছু করতে পারে। যেমন, ইলেক্ট্রনিক্স, ওয়েব ডিজাইন বা মোবাইল রিপেয়ারিংয়ের মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণ।
২। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠা: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SMEs) দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের শিল্প কম পুঁজিতে অধিক কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। সরকার যদি এই শিল্পগুলোকে সহজ শর্তে ঋণ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেয়, তাহলে অনেক নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রেও বিশেষ সহায়তা প্রদান করা উচিত।
৩। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) খাত হলো বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল একটি খাত। এই খাতে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের উচিত এই খাতে আরো বেশি বিনিয়োগ করা এবং তরুণদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে পারলে অসংখ্য তরুণ ঘরে বসে বিদেশি কোম্পানির কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারবে।
৪। কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন: কৃষি হলো বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। পাশাপাশি, কৃষিভিত্তিক ছোট ছোট শিল্প গড়ে তোলা যেতে পারে, যেমন: ফল প্রক্রিয়াকরণ বা দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন। এতে গ্রামের মানুষের আয়ের উৎস বাড়বে এবং শহরে কাজের খোঁজে আসা মানুষের সংখ্যা কমবে।
৫। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ: বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) দেশের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে। সরকার যদি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ নীতিমালা ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করে, তাহলে তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে। এতে শুধু নতুন নতুন কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানই গড়ে উঠবে না, বরং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের প্রযুক্তি ও দক্ষতাও আমাদের দেশে নিয়ে আসবে।
৬। নারী উদ্যোক্তা তৈরি: আমাদের দেশে কর্মক্ষম নারীদের একটি বড় অংশ এখনো বেকার। তাদের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত, যাতে তারা ছোট ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারে। নারীদের জন্য সেলাই, হস্তশিল্প, রান্না বা বিউটি পার্লারের মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে তারা স্বাবলম্বী হবে এবং নিজেদের পরিবারের আয়েও অবদান রাখতে পারবে।
৭। যুব উন্নয়ন কার্যক্রম: দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানোর জন্য সরকারের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরকে আরো সক্রিয় হতে হবে। তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ যেমন: পশুপালন, মাছ চাষ, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ড্রাইভিংয়ের মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে তরুণদের কর্মসংস্থানমুখী করা যায়। এতে তারা শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে বরং আত্মকর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবে।
৮। অবকাঠামোগত উন্নয়ন: দেশের অবকাঠামো যেমন: সড়ক, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা পণ্য পরিবহনকে সহজ করবে, যা ব্যবসার জন্য অত্যন্ত সহায়ক। এতে নতুন নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠবে এবং সেখানে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
৯। কর্মসংস্থান ব্যাংক প্রতিষ্ঠা: বেকার তরুণদের জন্য বিশেষ ধরনের ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে, যা শুধু স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ দেবে। এই ব্যাংকগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য হবে তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা, যাতে তারা নিজেদের ব্যবসা শুরু করতে পারে। ব্যাংকগুলো ঋণ প্রদানের পাশাপাশি তাদের ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তাও দিতে পারে।
১০। শ্রম বাজারের সংস্কার: দেশের শ্রম বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ এবং মেধার ভিত্তিতে। নিয়োগ দুর্নীতির কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থী চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়। পাশাপাশি, শ্রম আইনগুলো আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে হবে, যাতে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।
১১। বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল: দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। এই অঞ্চলগুলো মূলত শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য নির্ধারিত। এখানে বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। এর ফলে প্রচুর কল-কারখানা তৈরি হচ্ছে এবং সেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে।
১২। প্রবাসীদের জন্য কর্মসংস্থান: বিদেশ থেকে ফেরত আসা দক্ষ শ্রমিকদের জন্য বিশেষ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি। তারা বিদেশে কাজ করে দক্ষতা অর্জন করেছেন, যা দেশের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। তাদের জন্য বিশেষ ঋণ ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা উচিত।
১৩। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা এবং জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা আমাদের বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে পারি, তাহলে বেকারত্ব অনেকাংশে কমে যাবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন কাজে দক্ষ করে তুলতে পারলে তারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।
১৪। বেকার ভাতা প্রদান: বেকারত্ব দূরীকরণের একটি সাময়িক সমাধান হিসেবে শিক্ষিত বেকারদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেকার ভাতার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এটি তাদের হতাশা কমাবে এবং কর্মসংস্থান খোঁজার জন্য একটি আর্থিক সহায়তা হিসেবে কাজ করবে। তবে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নয়, বরং একটি সাময়িক ব্যবস্থা।
১৫। শহরাঞ্চলের বাইরে শিল্পায়ন: শুধুমাত্র শহরকেন্দ্রিক শিল্পায়ন না করে গ্রামীণ অঞ্চলগুলোতেও শিল্প কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এতে গ্রামের মানুষ শহরে কাজের খোঁজে আসবে না। স্থানীয়ভাবে শিল্পায়ন হলে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং স্থানীয় মানুষের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
১৬। উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র: নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। এই কেন্দ্রগুলো নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসার পরিকল্পনা, অর্থ সংস্থান, বাজার বিশ্লেষণ ও আইনি পরামর্শ দেবে। এতে অনেক তরুণ তাদের নিজের ব্যবসা শুরু করতে উৎসাহিত হবে।
১৭। চুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান: সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে কাজের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে এবং আংশিক কর্মসংস্থান (part-time) বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি এ ধরনের কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে।
১৮। পর্যটন খাতের উন্নয়ন: বাংলাদেশের পর্যটন খাত বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে অপেক্ষা করছে। এই খাতের উন্নয়নের জন্য অবকাঠামো যেমন: হোটেল, রিসর্ট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা প্রয়োজন। এতে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান তৈরি হবে, বিশেষ করে পর্যটন গাইডিং, হোটেল ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন খাতে।
১৯। বাজেটে কর্মসংস্থান খাত: সরকারের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের সময় কর্মসংস্থান খাতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য নির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ রাখা উচিত। এটি দেশের সামগ্রিক বেকারত্ব নিরসনে সহায়তা করবে।
উপসংহার: বেকারত্ব বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে একটি বড় বাধা হলেও তা দূর করা অসম্ভব নয়। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, সুশীল সমাজ এবং ব্যক্তি পর্যায়ে উদ্যোগ নিলে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, শিল্পায়ন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন এই চারটি ক্ষেত্রে সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারলে আমরা একটি কর্মসংস্থান-বান্ধব সমাজ গড়ে তুলতে পারব।
✅ ১। শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন ✅ ২। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠা ✅ ৩। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ✅ ৪। কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন ✅ ৫। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ✅ ৬। নারী উদ্যোক্তা তৈরি ✅ ৭। যুব উন্নয়ন কার্যক্রম ✅ ৮। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ✅ ৯। কর্মসংস্থান ব্যাংক প্রতিষ্ঠা ✅ ১০। শ্রম বাজারের সংস্কার ✅ ১১। বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল ✅ ১২। প্রবাসীদের জন্য কর্মসংস্থান ✅ ১৩। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও মানবসম্পদ উন্নয়ন ✅ ১৪। বেকার ভাতা প্রদান ✅ ১৫। শহরাঞ্চলের বাইরে শিল্পায়ন ✅ ১৬। উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র ✅ ১৭। চুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান ✅ ১৮। পর্যটন খাতের উন্নয়ন ✅ ১৯। বাজেটে কর্মসংস্থান খাত।
বেকারত্ব হলো সেই অবস্থা, যখন একজন প্রাপ্তবয়স্ক, কর্মক্ষম এবং কর্মে ইচ্ছুক ব্যক্তি প্রচলিত মজুরিতে কাজ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়।
বাংলাদেশের বেকারত্বের সমস্যা বহু বছর ধরে চলে আসছে। ২০২১ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ২.৬%, যা ছিল প্রায় ২৩ লাখ মানুষ। তবে, যুব বেকারত্বের হার এর চেয়ে অনেক বেশি ছিল। ২০০৬ সালে সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘জাতীয় যুব নীতি’ প্রণয়ন করে। এছাড়া, ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রকল্পের অধীনে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে, ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় কর্মসংস্থানকে একটি প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়েছিল। বর্তমানে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ এর মতো উদ্যোগগুলো তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করছে, যা বেকারত্ব নিরসনে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

