- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: বর্তমান বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে বৈদেশিক সাহায্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেক দেশ নিজেদের অভ্যন্তরীণ সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে উন্নত দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা গ্রহণ করে। এই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৈদেশিক সাহায্য নামে পরিচিত।
বৈদেশিক সাহায্যের পরিচয়:
শাব্দিক অর্থ: বৈদেশিক সাহায্য শব্দটি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। “বৈদেশিক” অর্থ হলো বিদেশ বা অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং “সাহায্য” অর্থ হলো সহযোগিতা বা সহায়তা প্রদান করা। তাই বৈদেশিক সাহায্যের শাব্দিক অর্থ হলো কোনো বিদেশি দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে অন্য কোনো দেশকে প্রদত্ত সহযোগিতা।
বৈদেশিক সাহায্য: বৈদেশিক সাহায্য হলো এমন একটি অর্থনৈতিক, কারিগরি বা মানবিক সহায়তা, যা একটি দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা দাতা প্রতিষ্ঠান অন্য কোনো দেশকে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রদান করে। সাধারণত উন্নয়নশীল দেশগুলো অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, দুর্যোগ মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণ করে।
বৈদেশিক সাহায্য বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, যেমন—অনুদান, ঋণ, কারিগরি সহায়তা, খাদ্য সহায়তা ও মানবিক সহায়তা। এটি কোনো দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করলেও অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা সৃষ্টি হলে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যার কারণ হতে পারে।
১। হ্যান্স মরগেনথাউ (Hans Morgenthau): হ্যান্স মরগেনথাউয়ের মতে, বৈদেশিক সাহায্য হলো এমন একটি উপায়, যার মাধ্যমে একটি দেশ অন্য দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করে এবং একই সঙ্গে নিজের স্বার্থও রক্ষা করতে পারে। (Foreign aid is a means by which one nation assists another nation’s economic and political development while pursuing its own interests.)
২। পিটার জে. মেইর (Peter J. Meyer): পিটার জে. মেইরের মতে, বৈদেশিক সাহায্য হলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য উন্নত দেশ বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সম্পদ ও সহযোগিতা। (Foreign aid refers to resources and assistance provided by developed countries or international organizations to promote economic and social development in developing countries.)
৩। ক্যারোল ল্যাঙ্কাস্টার (Carol Lancaster): ক্যারোল ল্যাঙ্কাস্টারের মতে, বৈদেশিক সাহায্য হলো সরকারি বা আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অন্য দেশের উন্নয়ন বা মানবিক উদ্দেশ্যে প্রদত্ত অর্থনৈতিক সহায়তা। (Foreign aid is the transfer of resources from governments or international organizations to support development and humanitarian objectives in other countries.)
৪। রবার্ট এ. গ্রিফিন (Robert A. Griffin): রবার্ট গ্রিফিনের মতে, বৈদেশিক সাহায্য হলো এমন একটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, যার মাধ্যমে উন্নত দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবিলায় সহায়তা করে। (Foreign aid is international assistance through which developed countries help developing countries address economic challenges.)
৫। অক্সফোর্ড ডিকশনারি (Oxford Dictionary): অক্সফোর্ড ডিকশনারি অনুযায়ী, বৈদেশিক সাহায্য হলো একটি দেশ বা সংস্থার পক্ষ থেকে অন্য দেশকে প্রদত্ত অর্থ, পণ্য বা সেবা, যা সাধারণত উন্নয়ন বা সংকট মোকাবিলায় ব্যবহৃত হয়। (Foreign aid is money, goods, or services given by one country or organization to another country, usually for development or emergency purposes.)
৬। থিওডোর ডব্লিউ. শুলজ (Theodore W. Schultz): থিওডোর শুলজের মতে, উন্নয়নমূলক সহায়তা মানবসম্পদ, শিক্ষা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। (Development assistance can contribute to economic growth by improving human resources, education and productivity.)
৭। জোসেফ স্টিগলিটজ (Joseph Stiglitz): জোসেফ স্টিগলিটজের মতে, বৈদেশিক সাহায্য কার্যকর হলে তা উন্নয়নশীল দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়তা করতে পারে। (Foreign aid can support capacity building, poverty reduction and long-term development when effectively implemented.)
উপরের সংজ্ঞাগুলোর আলোকে বলা যায়, বৈদেশিক সাহায্য হলো এমন একটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে উন্নত দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা দাতা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অর্থ, প্রযুক্তি, পণ্য বা দক্ষতা প্রদান করে। এই সাহায্যের মূল উদ্দেশ্য হলো অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক অগ্রগতি এবং বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করা।
উপসংহার: বৈদেশিক সাহায্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে কার্যকর ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া এটি দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনতে পারে না। তাই জাতীয় উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক সাহায্যের পাশাপাশি নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।