- readaim.com
- 0
উত্তর।।উপস্থাপনা: বর্তমান পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনীতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈদেশিক নীতি প্রণয়নের বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। বিশ্বায়নের এই যুগে পরাশক্তিগুলোর প্রভাব এবং নিজেদের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার মাঝেও এই দেশগুলো কতটা রাজনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে, তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে। নিজস্ব সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক চাপ—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই তাদের কূটনীতি আবর্তিত হয়।
বৈদেশিক নীতির সংজ্ঞা:
বৈদেশিক নীতি হলো রাষ্ট্রের সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ও অনুসৃত সেই নীতি, সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের সমষ্টি, যা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অন্য রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংস্থা, জোট ও অন্যান্য অভিনেতার সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনার জন্য গৃহীত হয়।
বৈদেশিক নীতি বলতে রাষ্ট্রের বাহ্যিক পরিবেশের প্রতি লক্ষ্য করে গৃহীত লক্ষ্য, সিদ্ধান্ত, কৌশল ও কার্যক্রমের সমন্বিত রূপকে বোঝায়, যা জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও বাস্তবায়নের জন্য পরিচালিত হয়।
১. হ্যান্স জে. মরগেনথাউ (Hans J. Morgenthau): “বৈদেশিক নীতি হলো ক্ষমতার নিরিখে সংজ্ঞায়িত জাতীয় স্বার্থের অন্বেষণ।”
২. কে. জে. হলস্টি (K. J. Holsti): “বৈদেশিক নীতি বলতে সরকারের এমন সিদ্ধান্ত, লক্ষ্য ও কর্মকাণ্ডকে বোঝায়, যা বাহ্যিক পরিবেশের প্রতি লক্ষ্য করে এবং জাতীয় স্বার্থ অর্জনের জন্য পরিচালিত হয়।”
৩. জেমস এন. রোজেনau (James N. Rosenau): “বৈদেশিক নীতি হলো রাষ্ট্রের বাহ্যিক আচরণ ও কার্যক্রমের সমষ্টি, যা আন্তর্জাতিক পরিবেশে তার লক্ষ্য অর্জনের জন্য গৃহীত হয়।”
বৈদেশিক নীতি হলো জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রের বাহ্যিক সম্পর্ক পরিচালনার সুপরিকল্পিত কৌশল। এটি কূটনীতি, অর্থনৈতিক, সামরিক ও আইনগত উপকরণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের আচরণ নির্ধারণ করে।
উন্নয়নশীল দেশের বৈদেশিক নীতির স্বাধীনতা
১। অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা: উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রায়শই উন্নত রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার ওপর ঋণের জন্য নির্ভর করে। এই বিশাল ঋণের বোঝা তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে বহুলাংশে সংকুচিত করে ফেলে। সাহায্যকারী দেশগুলোর শর্ত মানতে গিয়ে অনেক সময় উন্নয়নশীল দেশগুলো নিজেদের জাতীয় স্বার্থের বাইরে গিয়েও বৈদেশিক নীতি নির্ধারণ করতে বাধ্য হয়।
২। ঋণ কূটনীতি: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঋণ কূটনীতি বা ‘ডেবট ট্র্যাপ’ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এক বড় ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বড় বড় শক্তির কাছ থেকে নেওয়া উচ্চ সুদের ঋণ শেষ পর্যন্ত সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলে। এর ফলে অনেক দেশ তাদের ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর বা খনিজ সম্পদ বিদেশি শক্তির নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
৩। আন্তর্জাতিক সংস্থা: আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক বা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। এই সংস্থাগুলোর কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা পেতে হলে তাদের দেওয়া কাঠামোগত সংস্কারের শর্তগুলো হুবহু মেনে চলতে হয়। ফলে অনুদান বা ঋণ পাওয়ার আশায় উন্নয়নশীল দেশগুলো নিজস্ব রাজনৈতিক স্বাধীনতা অনেকখানি হারিয়ে ফেলে।
৪। ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান: একটি দেশের ভৌগোলিক অবস্থান তার বৈদেশিক নীতির স্বাধীনতা নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি কোনো উন্নয়নশীল দেশ পরাশক্তিগুলোর দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে অবস্থান করে, তবে তার পক্ষে নিরপেক্ষ থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। বৃহৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ প্রতিনিয়ত তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথকে অবরুদ্ধ ও বাধাগ্রস্ত করে তোলে।
৫। সামরিক দুর্বলতা: অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশেরই নিজস্ব সামরিক শক্তি অত্যন্ত সীমিত এবং তারা আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের জন্য উন্নত দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল থাকে। এই সামরিক দুর্বলতার কারণে নিরাপত্তার প্রয়োজনে তাদের কোনো না কোনো শক্তিশালী সামরিক জোট বা পরাশক্তির ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিতে হয়। ফলে প্রতিরক্ষা চুক্তির বেড়াজালে আটকে পড়ে তাদের বৈদেশিক নীতির রাজনৈতিক স্বাধীনতা চরমভাবে হ্রাস পায়।
৬। প্রযুক্তিগত ঘাটতি: আধুনিক যুগে তথ্যপ্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং উন্নত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলো সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমা বা উন্নত বিশ্বের ওপর নির্ভরশীল। এই প্রযুক্তির বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে তাদের উন্নত দেশগুলোর রাজনৈতিক শর্ত ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ মেনে নিতে হয়। নিজস্ব প্রযুক্তির অভাব তাই পরোক্ষভাবে তাদের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে থাকে।
৭। বাণিজ্য চুক্তি: উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানি বাজার মূলত উন্নত দেশগুলোর ওপর এবং তাদের দেওয়া বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধার ওপর টিকে থাকে। জিএসপি বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মতো সুবিধাগুলো হারানোর ভয়ে তারা উন্নত দেশগুলোর অন্যায় দাবিও মেনে নেয়। এই বাণিজ্যিক ব্ল্যাকমেইলের কারণে আন্তর্জাতিক ফোরামে উন্নয়নশীল দেশগুলো স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে চরম দ্বিধাবোধ করে।
৮। জোটনিরপেক্ষ নীতি: অনেক উন্নয়নশীল দেশ পরাশক্তিগুলোর দ্বন্দ্ব থেকে দূরে থাকার জন্য ঐতিহাসিকভাবে জোটনিরপেক্ষ নীতি বা ব্যালেন্সিং ডিপ্লোম্যাসি অনুসরণ করার চেষ্টা করে। এই নীতির মাধ্যমে তারা সব পক্ষের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নিজেদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা কিছুটা হলেও টিকিয়ে রাখতে চায়। তবে বাস্তবতার নিরিখে তীব্র আন্তর্জাতিক চাপের মুখে এই ভারসাম্য বজায় রাখা সবসময় সম্ভব হয় না।
৯। নেতৃত্বের দৃঢ়তা: বৈদেশিক নীতিতে রাজনৈতিক স্বাধীনতা কতটা বজায় থাকবে, তা বহুলাংশে নির্ভর করে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাহসিকতা ও দূরদর্শিতার ওপর। যদি নেতৃত্ব জাতীয় স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দেওয়ার মতো দৃঢ়চেতা হয়, তবে অনেক চাপের মাঝেও স্বাধীন নীতি বজায় রাখা সম্ভব। ক্যারিশম্যাটিক ও জাতীয়তাবাদী নেতারা অনেক সময় পরাশক্তিগুলোর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দেশের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেন।
১০। অভ্যন্তরীণ রাজনীতি: দেশের ভেতরের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনমতের চাপ বৈদেশিক নীতি প্রণয়নে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। সরকারের বৈধতার সংকট বা অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা থাকলে বিদেশি শক্তির পক্ষে সেই দেশে হস্তক্ষেপ করা অনেক সহজ হয়ে যায়। শক্তিশালী জনমত এবং ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশ থাকলে যেকোনো সরকারই বিদেশি চাপ মোকাবিলা করে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
১১। আঞ্চলিক সহযোগিতা: আসিয়ান, আফ্রিকান ইউনিয়ন বা সার্কের মতো আঞ্চলিক জোটগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সম্মিলিত শক্তি প্রদর্শন করার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে। এককভাবে একটি দেশের পক্ষে পরাশক্তির চাপ মোকাবিলা করা অসম্ভব হলেও, আঞ্চলিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হলে দরকষাকষির ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। এই ধরনের জোটগুলো সদস্য দেশগুলোর রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছুটা হলেও সুরক্ষা দেয়।
১২। প্রাকৃতিক সম্পদ: যেসব উন্নয়নশীল দেশ তেল, গ্যাস বা বিরল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ, তারা বৈদেশিক নীতিতে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে থাকে। এই প্রাকৃতিক সম্পদকে তারা ভূ-রাজনৈতিক হাতিয়ার বা ‘রিসোর্স ডিপ্লোম্যাসি’ হিসেবে ব্যবহার করে উন্নত বিশ্বকে নিজেদের শর্তে চালিত করতে পারে। তবে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এই সম্পদ আবার অনেক সময় বিদেশি আগ্রাসনের কারণও হয়ে দাঁড়ায়।
১৩। বহুপাক্ষিক কূটনীতি: জাতিসংঘ বা ওআইসি-র মতো বহুপাক্ষিক ফোরামগুলোতে উন্নয়নশীল দেশগুলো ভোট দেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের স্বাধীন রাজনৈতিক সত্তার জানান দিতে পারে। সাধারণ পরিষদে সব দেশের ভোটের মূল্য সমান হওয়ায়, তারা সম্মিলিতভাবে পরাশক্তিগুলোর একচেটিয়া সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করার সুযোগ পায়। এই বহুপাক্ষিক কূটনীতি উন্নয়নশীল দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব প্রকাশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আইনি মাধ্যম।
১৪। প্রবাসী আয়: রেমিট্যান্স বা প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো আয় অনেক উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে থাকে। যেসব দেশে এই প্রবাসীরা কাজ করেন, সেইসব দেশের সরকারের নীতির বিরুদ্ধে যাওয়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং সুরক্ষার কথা চিন্তা করে তারা বাধ্য হয়েই সেইসব দেশের অনুকূলে বৈদেশিক নীতি সাজায়।
১৫। জ্বালানি নিরাপত্তা: শিল্পোন্নত না হলেও টিকে থাকার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জ্বালানি আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল থাকতে হয়। এই জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে তারা উৎপাদনকারী দেশগুলোর সাথে রাজনৈতিকভাবে আপস করতে বাধ্য হয়। জ্বালানি কূটনীতির এই কঠিন মারপ্যাঁচে পড়ে অনেক সময় উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের আদর্শিক বৈদেশিক নীতি থেকে বিচ্যুত হতে বাধ্য হয়।
১৬। জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং তারা ক্ষতিপূরণের জন্য উন্নত দেশগুলোর তহবিলের দিকে তাকিয়ে থাকে। এই আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল বা ফান্ড পাওয়ার আশায় তারা অনেক সময় উন্নত বিশ্বের পরিবেশগত ও রাজনৈতিক এজেন্ডা মেনে নেয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক পরিবেশ কূটনীতিতে তাদের স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসে।
১৭। সস্তা শ্রম: উন্নয়নশীল দেশগুলোর অন্যতম বড় সম্পদ হলো তাদের সস্তা শ্রম বাজার, যা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আকর্ষণ করে। এই কোম্পানিগুলো এবং তাদের মাতৃদেশগুলোর রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা না করলে বিনিয়োগ চলে যাওয়ার বড় ঝুঁকি থাকে। ফলে বিদেশি বিনিয়োগ ধরে রাখার স্বার্থে উন্নয়নশীল দেশগুলো অনেক সময় তাদের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে ছাড় দিতে বাধ্য হয়।
১৮। জনমত ও মিডিয়া: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং পশ্চিমা থিঙ্কট্যাঙ্কগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা পালন করে। কোনো দেশ স্বাধীন নীতি গ্রহণ করলে প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে সেই দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়। এই ধরনের বৈশ্বিক মিডিয়া ট্রায়াল এবং নিষেধাজ্ঞার ভয়ে অনেক সরকারই তাদের স্বাধীন বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়নে পিছিয়ে যায়।
শেষকথা: পরিশেষে বলা যায়, উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈদেশিক নীতিতে শতভাগ রাজনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করা বর্তমান বাস্তবতায় প্রায় অসম্ভব। অর্থনৈতিক, সামরিক ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা তাদের স্বাধীন পথচলাকে প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করে তুলছে। তাসত্ত্বেও, সুচতুর কূটনীতি, আঞ্চলিক ঐক্য এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে এই দেশগুলো পরাশক্তিগুলোর চাপের মাঝেও নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে সীমিত পরিসরে স্বাধীনতা বজায় রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।