• Home
  • Class 0-12
  • Masters
  • Honours
  • Degree
  • Grammar
    • Bangla Grammar
    • English Grammar
    • Arabic Grammar
  • Computer
    • MS Word
  • Jobs Study
    • BCS
    • Bank
    • Primary
    • Govt. job
    • Nibandhon
    • Medical Admission
    • University Admission
    • Army/Police/BDR/Anchar
  • Jobs
  • News
  • Tools
    • আনা গন্ডা ক্যালকুলেটর
    • Copyable PDF maker
    •  PDF to Excel
    •  Word to PDF
    • Add and remove PDF watermark
    • Add Page Numbers
    • Merge PDF files
    • Organize PDF
    • PDF to image
    • PDF to PowerPoint
    • PDF to Word
    • PowerPoint to PDF
    • Remove PDF Pages
    • Rotate PDF
    • Separate PDF | Split
    • Image to PDF
    • Home
    • Class 0-12
    • Masters
    • Honours
    • Degree
    • Grammar
      • Bangla Grammar
      • English Grammar
      • Arabic Grammar
    • Computer
      • MS Word
    • Jobs Study
      • BCS
      • Bank
      • Primary
      • Govt. job
      • Nibandhon
      • Medical Admission
      • University Admission
      • Army/Police/BDR/Anchar
    • Jobs
    • News
    • Tools
      • আনা গন্ডা ক্যালকুলেটর
      • Copyable PDF maker
      •  PDF to Excel
      •  Word to PDF
      • Add and remove PDF watermark
      • Add Page Numbers
      • Merge PDF files
      • Organize PDF
      • PDF to image
      • PDF to PowerPoint
      • PDF to Word
      • PowerPoint to PDF
      • Remove PDF Pages
      • Rotate PDF
      • Separate PDF | Split
      • Image to PDF
  • mdreadaim@gmail.com
  • Bangladesh
Login
Read Aim

Read Aim

  • Home
  • Class 0-12
  • Masters
  • Honours
  • Degree
  • Grammar
    • Bangla Grammar
    • English Grammar
    • Arabic Grammar
  • Computer
    • MS Word
  • Jobs Study
    • BCS
    • Bank
    • Primary
    • Govt. job
    • Nibandhon
    • Medical Admission
    • University Admission
    • Army/Police/BDR/Anchar
  • Jobs
  • News
  • Tools
    • আনা গন্ডা ক্যালকুলেটর
    • Copyable PDF maker
    •  PDF to Excel
    •  Word to PDF
    • Add and remove PDF watermark
    • Add Page Numbers
    • Merge PDF files
    • Organize PDF
    • PDF to image
    • PDF to PowerPoint
    • PDF to Word
    • PowerPoint to PDF
    • Remove PDF Pages
    • Rotate PDF
    • Separate PDF | Split
    • Image to PDF
  • readaim.com
  • 0
“মানুষ-ই সবকিছুর পরিমাপক” উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যাকর।

প্রশ্ন:- “মানুষ-ই সবকিছুর পরিমাপক” উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যাকর।

উত্তর।।প্রারম্ভ: প্রোটাগোরাসের এই বিখ্যাত উক্তিটি মানবকেন্দ্রিক দর্শনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এটি কেবল একটি দার্শনিক মতবাদ নয়, বরং সভ্যতার অগ্রযাত্রায় মানুষের ভূমিকা এবং তার চিন্তাধারার মূল ভিত্তি। এই উক্তিটির মাধ্যমে প্রোটাগোরাস বোঝাতে চেয়েছেন যে, বস্তু বা সত্যের কোনো নিরপেক্ষ বা পরম মানদণ্ড নেই; বরং মানুষের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির মাধ্যমেই সবকিছু অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে। মানুষের দৃষ্টিকোণই সবকিছুকে বিচার করে এবং মূল্য নির্ধারণ করে। মানবীয় বিচার-বিবেচনা, নৈতিকতা এবং সংবেদনশীলতাই এই বিশ্বকে সংজ্ঞায়িত করে।

“মানুষ-ই সবকিছুর পরিমাপক” উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা হলো -

১. জ্ঞানের ভিত্তি ও মানবীয় উপলব্ধি: এই উক্তিটির মূল তাৎপর্য হলো, আমাদের সকল জ্ঞানের ভিত্তি হলো মানবীয় উপলব্ধি। আমরা যা কিছু জানি, তা আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য এবং মস্তিষ্কের প্রক্রিয়াকরণের ফল। কোনো বস্তু বা ধারণার অস্তিত্ব ততক্ষণ পর্যন্ত অর্থহীন, যতক্ষণ না মানুষ সেটিকে উপলব্ধি করতে পারছে। যেমন, একটি গাছ তখনই “গাছ” হয়ে ওঠে যখন আমরা তার আকার, রং, এবং প্রকৃতি আমাদের ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করি। সূর্যের আলো বা রাতের অন্ধকারও আমাদের দেখার ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, আমাদের ব্যক্তিগত জ্ঞান এবং উপলব্ধির বাইরে কোনো পরম বা সর্বজনীন সত্য নেই। সবকিছুই মানবীয় চেতনার আলোকে যাচাইকৃত ও সংজ্ঞায়িত।

২. নৈতিকতা ও মূল্যবোধের উৎস: প্রোটাগোরাসের এই উক্তিটি নৈতিকতা ও মূল্যবোধের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, সুন্দর-অসুন্দর—এইসব ধারণাগুলো মানুষের তৈরি। কোনো কাজকে ভালো বা মন্দ হিসেবে বিচার করার জন্য কোনো নিরপেক্ষ বা ঐশ্বরিক মানদণ্ড নেই; এটি নির্ভর করে আমাদের সমাজের তৈরি নৈতিক কাঠামো এবং ব্যক্তিগত বিবেকের উপর। একটি সমাজে যা অন্যায়, অন্য সমাজে তা স্বাভাবিক হতে পারে। যেমন, বিভিন্ন সংস্কৃতিতে খাদ্যাভ্যাস, পোশাক, বা সামাজিক প্রথা ভিন্ন ভিন্ন হয়। এই ভিন্নতা প্রমাণ করে যে, নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধগুলো মানুষের তৈরি এবং সময়ের সাথে সাথে এর পরিবর্তন ঘটে। মানুষই তার সমাজের জন্য আইন ও নৈতিকতার ভিত্তি স্থাপন করে।

৩. সত্যের আপেক্ষিকতা ও ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ: “মানুষই সবকিছুর পরিমাপক” উক্তিটি সত্যের আপেক্ষিকতাকে নির্দেশ করে। এর অর্থ হলো, সত্য বলে কিছু নেই যা সবার জন্য এক ও অভিন্ন। বরং, প্রত্যেকের কাছেই তার নিজের মতো করে সত্য বিদ্যমান। একই ঘটনাকে দুজন ব্যক্তি দু’রকমভাবে দেখতে পারে এবং তাদের দুজনের দৃষ্টিভঙ্গিই তাদের কাছে সত্য। যেমন, কোনো একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এক ব্যক্তির কাছে ইতিবাচক মনে হতে পারে, আবার অন্য একজন তার সম্পূর্ণ বিপরীত মতামত পোষণ করতে পারে। উভয়ই তাদের নিজস্ব যুক্তির আলোকে সত্য। এই ধারণাটি আমাদের বোঝায় যে, ভিন্ন ভিন্ন মতামতকে সম্মান করা জরুরি, কারণ প্রত্যেকের অভিজ্ঞতাই স্বতন্ত্র এবং তার সত্যও আপেক্ষিক। এটি কোনো পরম সত্যের ধারণাকে অস্বীকার করে।

৪. মানুষের আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতার গুরুত্ব: এই উক্তিটি মানুষের আত্মবিশ্বাস এবং স্বাধীনতার ধারণাকে জোরদার করে। যখন মানুষ নিজেকে সবকিছুর পরিমাপক হিসেবে দেখে, তখন সে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়। সে বুঝতে পারে যে, তার নিজস্ব চিন্তাভাবনা এবং বিচার-বিবেচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে মানুষ স্বাধীনভাবে চিন্তা করার এবং নিজের জীবনকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা পায়। সে কোনো পূর্বনির্ধারিত নিয়মের দাস নয়, বরং নিজের ভাগ্য সে নিজেই নিয়ন্ত্রণ করে। এই ধারণাটি মানুষের মধ্যে যুক্তিবাদী এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার জন্ম দেয়, যা তাকে সমাজে একটি সক্রিয় এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে সাহায্য করে।

৫. শিল্প ও সৌন্দর্যের মানদণ্ড: শিল্পকলা এবং সৌন্দর্যের মানদণ্ডও মানুষের উপর নির্ভরশীল। কোনো চিত্রকর্ম, ভাস্কর্য, বা সাহিত্য তখনই সুন্দর বলে বিবেচিত হয় যখন কোনো মানুষ তার মধ্যে সৌন্দর্য খুঁজে পায়। সৌন্দর্যের কোনো সার্বজনীন সূত্র নেই। যা এক ব্যক্তির কাছে সুন্দর, তা অন্য ব্যক্তির কাছে সাধারণ বা অসুন্দর মনে হতে পারে। শিল্পের মূল্য নির্ধারণ হয় দর্শকের অনুভূতি, কল্পনা, এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের উপর ভিত্তি করে। প্রোটাগোরাসের উক্তিটি বোঝায় যে, কোনো শিল্পকর্মের শ্রেষ্ঠত্ব তার নিজস্ব গুণে নয়, বরং দর্শক বা সমালোচকের প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভর করে। মানুষ তার আবেগ এবং নান্দনিক চেতনার মাধ্যমেই শিল্পের সৃষ্টি ও মূল্য নির্ধারণ করে।

৬. ভাষার উৎপত্তি ও অর্থ নির্ধারণ: 

ভাষা মানবীয় যোগাযোগ এবং চিন্তাভাবনার একটি অপরিহার্য অংশ। এই উক্তিটি ভাষার উৎপত্তি এবং অর্থের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কোনো শব্দের অর্থ মানুষই তৈরি করেছে। যেমন, “জল” শব্দটি কোনো বস্তু নয়, বরং একটি প্রতীক যা আমরা একটি তরল পদার্থের জন্য ব্যবহার করি। এই শব্দের অর্থ কেবল আমাদের সামাজিক চুক্তির উপর ভিত্তি করে টিকে আছে। যদি আমরা এই চুক্তি ভঙ্গ করি, তবে এই শব্দের অর্থও হারিয়ে যাবে। প্রোটাগোরাসের এই ধারণাটি বোঝায় যে, আমাদের ভাষার গঠন এবং শব্দের অর্থ মানবীয় চিন্তাভাবনা ও পারস্পরিক সম্মতির উপর নির্ভরশীল, যা মানব সমাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৭. আইন ও সামাজিক চুক্তির ধারণা: প্রোটাগোরাসের এই উক্তিটি আইন এবং সামাজিক চুক্তির ধারণার সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। সমাজ পরিচালনার জন্য যে নিয়মকানুন বা আইন তৈরি হয়, তা মানুষের দ্বারাই নির্ধারিত। মানুষ নিজেদের সুবিধার জন্য এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যে কিছু নিয়ম মেনে চলতে সম্মত হয়। এই নিয়মগুলো কোনো ঐশ্বরিক বা প্রাকৃতিক শক্তির তৈরি নয়, বরং মানুষের পারস্পরিক বোঝাপড়ার ফল। যেমন, রাস্তায় বাম বা ডান দিক দিয়ে চলাচলের নিয়মটি কোনো প্রাকৃতিক নিয়ম নয়, বরং মানুষের তৈরি একটি সামাজিক চুক্তি। এই চুক্তিটি প্রমাণ করে যে, মানুষই তাদের সমাজ এবং আইন-শৃঙ্খলার পরিমাপক।

৮. ধর্ম ও বিশ্বাস ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা: ধর্ম এবং বিশ্বাস ব্যবস্থাও মানুষের মনের একটি সৃষ্টি। প্রোটাগোরাসের উক্তিটি ধর্মীয় বিশ্বাসকেও মানবীয় অভিজ্ঞতার একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখে। বিভিন্ন ধর্মীয় ধারণা, যেমন ঈশ্বর, স্বর্গ, নরক, বা পরকাল, মানুষের আশা, ভয়, এবং নৈতিকতার বোধ থেকে উদ্ভূত। এই ধারণাগুলো মানুষের অস্তিত্বের অর্থ খোঁজার একটি প্রয়াস। মানুষই ধর্মীয় অনুশাসন তৈরি করেছে এবং এর মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট জীবনধারা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করেছে। ধর্মীয় সত্যগুলো নিরপেক্ষ বা বস্তুগত নয়; বরং তা মানবীয় বিশ্বাস এবং ধারণার উপর নির্ভরশীল। এক ব্যক্তি যা বিশ্বাস করে, অন্য ব্যক্তি তা নাও করতে পারে, এবং উভয়ের বিশ্বাসই তাদের কাছে সত্য।

৯. বিজ্ঞান ও মানবীয় ব্যাখ্যার সীমাবদ্ধতা: বিজ্ঞান যদিও বস্তুনিষ্ঠ সত্যের সন্ধান করে, প্রোটাগোরাসের উক্তিটি বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতাও তুলে ধরে। বিজ্ঞানের সমস্ত সূত্র, তত্ত্ব এবং ব্যাখ্যা মানুষের তৈরি। বিজ্ঞানীরা প্রকৃতিকে পর্যবেক্ষণ করে কিছু নিয়ম আবিষ্কার করেন, কিন্তু এই নিয়মগুলো আসলে প্রকৃতির নিজস্ব নিয়ম নয়, বরং প্রকৃতির উপর মানুষের দেওয়া একটি ব্যাখ্যা। যেমন, মহাকর্ষের সূত্রটি নিউটন মানুষের ধারণার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। এই সূত্রটি প্রকৃতির একটি নিখুঁত বর্ণনা নয়, বরং একটি সরলীকৃত মডেল যা আমাদের প্রকৃতিকে বুঝতে সাহায্য করে। তাই, বিজ্ঞানও মানুষের জ্ঞান, সীমাবদ্ধতা এবং চিন্তাধারার উপর নির্ভরশীল।

১০. শিক্ষা ও মানবীয় জ্ঞান বিস্তার: শিক্ষা হলো মানুষের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার পরিমাপক। শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা যে জ্ঞান লাভ করি, তা মূলত মানবজাতির অতীত অভিজ্ঞতা এবং অর্জিত তথ্যের সমষ্টি। এই জ্ঞান আমাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা এবং উপলব্ধি তৈরির জন্য একটি ভিত্তি তৈরি করে। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শেখান কীভাবে চিন্তা করতে হয়, কীভাবে বিচার করতে হয়, এবং কীভাবে বিশ্বকে দেখতে হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটিই মানবকেন্দ্রিক। আমরা যা শিখি, তা মানুষের তৈরি পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষকের দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপিত হয়। অর্থাৎ, শিক্ষাও মানুষের তৈরি একটি প্রক্রিয়া যা মানবীয় জ্ঞানকে বৃদ্ধি করে।

১১. অর্থনীতি ও বাজারের মানদণ্ড: অর্থনীতি এবং বাজারের মানদণ্ড সম্পূর্ণরূপে মানুষের উপর নির্ভরশীল। কোনো পণ্যের মূল্য নির্ধারণ হয় তার উৎপাদন খরচ বা বাজারের চাহিদা ও যোগানের উপর ভিত্তি করে, যা মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। যেমন, একটি বিলাসবহুল পণ্যের মূল্য বেশি হয়, কারণ সমাজের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ সেটি কিনতে ইচ্ছুক। সোনার মূল্য বেশি কারণ মানুষ একে মূল্যবান বলে মনে করে। যদি মানুষের এই ধারণা পরিবর্তিত হয়, তবে সেই পণ্যের মূল্যও পরিবর্তিত হবে। অর্থাৎ, আর্থিক মূল্য এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপ মানবীয় চাহিদা, আকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত।

১২. সময় ও স্থানের ধারণা: সময় এবং স্থানের ধারণাগুলোও মানুষের উপলব্ধির উপর ভিত্তি করে গঠিত। “সময়” কোনো বস্তু নয়, বরং এটি একটি মানবীয় ধারণা যা আমরা ঘটনাপ্রবাহকে পরিমাপ করার জন্য তৈরি করেছি। যেমন, দিন, মাস, বা বছর—এগুলো আমাদের সৌরজগতের গতিবিধিকে পরিমাপ করার জন্য তৈরি করা মানবীয় একক। একইভাবে, স্থান সম্পর্কিত ধারণাগুলোও আমাদের অবস্থানের উপর নির্ভরশীল। যেমন, “এখানে” বা “ওখানে” এই শব্দগুলো আমাদের নিজস্ব অবস্থান থেকে সংজ্ঞায়িত হয়। প্রোটাগোরাসের উক্তিটি প্রমাণ করে যে, আমরা নিজেদের সুবিধামত সময় ও স্থানের পরিমাপক তৈরি করেছি।

১৩. রাজনৈতিক ক্ষমতা ও গণতন্ত্রের ভিত্তি: রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং গণতন্ত্রের ভিত্তিও মানুষের উপর নির্ভরশীল। গণতন্ত্রে জনগণই ক্ষমতার উৎস। জনগণের মতামত, ভোট এবং প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমেই সরকার গঠিত হয়। সরকার জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করে। যদি কোনো সরকার জনগণের ইচ্ছা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণের আন্দোলনের মুখে তার পতন ঘটতে পারে। এই ধারণাটি বোঝায় যে, রাজনৈতিক কাঠামো এবং এর বৈধতা মানুষের সম্মতি এবং ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। মানুষই তার শাসনের পরিমাপক এবং নিয়ন্ত্রক।

১৪. ইতিহাস ও ঐতিহাসিক সত্যের নির্মাণ: ইতিহাসকে প্রায়শই বস্তুনিষ্ঠ সত্য হিসেবে দেখা হলেও, প্রোটাগোরাসের উক্তিটি ইতিহাসে মানবীয় ব্যাখ্যার প্রভাব তুলে ধরে। ইতিহাসবিদরা কেবল অতীতের ঘটনাগুলোকে নথিভুক্ত করেন না, বরং তারা তাদের নিজস্ব দৃষ্টিকোণ, পক্ষপাতিত্ব, এবং বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপট থেকে সেই ঘটনাগুলোকে ব্যাখ্যা করেন। যেমন, কোনো একটি যুদ্ধকে এক দেশ স্বাধীনতা সংগ্রাম হিসেবে দেখলেও, অন্য দেশ তাকে আগ্রাসন হিসেবে দেখতে পারে। তাই, ইতিহাস কোনো নিরপেক্ষ সত্য নয়, বরং তা মানবীয় দৃষ্টিকোণ, দৃষ্টিভঙ্গি, এবং ব্যাখ্যার সমষ্টি।

১৫. চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যের সংজ্ঞা: চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যের সংজ্ঞা মানুষের দ্বারা নির্ধারিত। আমরা কখন একজন ব্যক্তিকে অসুস্থ বা সুস্থ বলি, তা তার শারীরিক লক্ষণ এবং সমাজের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ধারণার উপর নির্ভরশীল। যেমন, অতীতে কিছু মানসিক অবস্থাকে ‘দৈব’ হিসেবে দেখা হতো, যা এখন মানসিক রোগ হিসেবে চিকিৎসা করা হয়। অর্থাৎ, স্বাস্থ্য এবং রোগের সংজ্ঞা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে এবং এটি মানুষের জ্ঞান, বিজ্ঞান, এবং সামাজিক বোঝাপড়ার উপর ভিত্তি করে গঠিত। মানুষই তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার পরিমাপক।

১৬. জীবন ও মৃত্যুর তাৎপর্য: জীবন এবং মৃত্যুর তাৎপর্যও মানুষের উপর নির্ভরশীল। একটি জীবনের মূল্য কতটুকু, বা মৃত্যুর পর কী হয়—এইসব প্রশ্নগুলোর উত্তর মানুষের বিশ্বাস এবং দর্শনের উপর নির্ভর করে। এক ব্যক্তির কাছে জীবন একটি ঐশ্বরিক দান হতে পারে, আবার অন্য একজন এটিকে একটি জৈবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখতে পারে। মৃত্যুর পর কী হয়, তা নিয়ে বিভিন্ন ধর্ম ও দর্শনে ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ প্রচলিত। এই ভিন্নতা প্রমাণ করে যে, জীবন এবং মৃত্যুর অর্থ মানুষই তৈরি করেছে এবং মানুষই এই চূড়ান্ত অভিজ্ঞতার পরিমাপক।

১৭. প্রযুক্তি ও মানবীয় উদ্ভাবন: প্রযুক্তি মানুষের উদ্ভাবনের একটি অনন্য উদাহরণ। মানুষের প্রয়োজন, সমস্যা এবং আকাঙ্ক্ষার উপর ভিত্তি করে প্রযুক্তি তৈরি হয়েছে। যেমন, পরিবহনের সমস্যা সমাধানের জন্য মানুষ চাকা আবিষ্কার করেছে, যোগাযোগের জন্য তৈরি হয়েছে মোবাইল ফোন। প্রযুক্তির উদ্দেশ্যই হলো মানুষের জীবনকে সহজ এবং উন্নত করা। তাই, কোনো প্রযুক্তির কার্যকারিতা বা মূল্য মানুষের চাহিদার উপর নির্ভরশীল। মানুষ তার সুবিধার জন্য প্রযুক্তি তৈরি করেছে, এবং মানুষই এই প্রযুক্তির সফলতার পরিমাপক।

১৮. পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার: পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারও মানুষের প্রয়োজনের উপর নির্ভরশীল। মানুষ যখন নিজেদের উন্নতির জন্য বনভূমি ধ্বংস করে বা খনিজ সম্পদ উত্তোলন করে, তখন সেই কাজটি তার নিজস্ব চাহিদা পূরণের জন্যই করে। একটি নদীর পানিকে কতটা বিশুদ্ধ বলা হবে বা একটি বনের গুরুত্ব কতটুকু—এইসব প্রশ্নের উত্তর মানুষের উপর নির্ভরশীল। মানুষ যদি কোনো পরিবেশগত মানদণ্ড তৈরি না করতো, তাহলে প্রকৃতির কোনো মূল্যই থাকত না। তাই, প্রকৃতি এবং তার সম্পদের ব্যবহার ও মূল্যায়ন মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকেই বিচার করা হয়।

১৯. স্বপ্ন ও ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন: স্বপ্ন এবং ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা হলো আমাদের মনের গভীরতম প্রতিফলন। আমরা যা কিছু স্বপ্ন দেখি, তা আমাদের অভিজ্ঞতা, ভয়, এবং প্রত্যাশার উপর ভিত্তি করে গঠিত। একজন ব্যক্তি কী হতে চায়, কী করতে চায়—এইসব আকাঙ্ক্ষাগুলো তার নিজস্ব সত্তার পরিমাপক। অন্য কোনো বাহ্যিক শক্তি বা মানদণ্ড দ্বারা এই আকাঙ্ক্ষাগুলো পরিমাপ করা যায় না। তাই, মানুষের স্বপ্ন এবং আকাঙ্ক্ষাগুলো তার নিজস্ব মনোজগতের পরিমাপক।

২০. সৌন্দর্য ও নান্দনিকতা: সৌন্দর্য এবং নান্দনিকতা সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিগত উপলব্ধি এবং অনুভূতির উপর নির্ভরশীল। একটি ফুলকে এক ব্যক্তির কাছে সুন্দর মনে হতে পারে, কিন্তু অন্য একজনের কাছে তা সাধারণ মনে হতে পারে। শিল্পের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কোনো শিল্পকর্মের সৌন্দর্য দর্শক বা শ্রোতার ব্যক্তিগত আবেগ, অভিজ্ঞতা এবং মানসিক অবস্থার উপর নির্ভরশীল। সৌন্দর্যের কোনো বস্তুনিষ্ঠ মানদণ্ড নেই, বরং এটি সম্পূর্ণরূপে মানবীয় অনুভূতির একটি প্রতিফলন।

উপসংহার: প্রোটাগোরাসের “মানুষই সবকিছুর পরিমাপক” উক্তিটি আমাদের মানবকেন্দ্রিক দর্শনের এক গভীর উপলব্ধি প্রদান করে। এটি আমাদের বোঝায় যে, এই পৃথিবীতে কোনো নিরপেক্ষ বা পরম সত্য নেই। আমাদের জ্ঞান, নৈতিকতা, সৌন্দর্য, এবং মূল্যবোধ—সবকিছুই মানুষের অভিজ্ঞতা, উপলব্ধি এবং দৃষ্টিকোণের উপর নির্ভরশীল। এই উক্তিটি আমাদের চিন্তাভাবনাকে স্বাধীনতা দেয় এবং আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা কেবল এই বিশ্বের দর্শক নই, বরং এর স্রষ্টা এবং বিচারকও। মানবীয় চেতনা, সংবেদনশীলতা, এবং যুক্তিবাদী চিন্তাধারাই এই বিশ্বকে অর্থপূর্ণ করে তুলেছে।

একনজরে উত্তর দেখুন

১। জ্ঞানের ভিত্তি ও মানবীয় উপলব্ধি
২। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের উৎস
৩। সত্যের আপেক্ষিকতা ও ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ
৪। মানুষের আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতার গুরুত্ব
৫। শিল্প ও সৌন্দর্যের মানদণ্ড
৬। ভাষার উৎপত্তি ও অর্থ নির্ধারণ
৭। আইন ও সামাজিক চুক্তির ধারণা
৮। ধর্ম ও বিশ্বাস ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা
৯। বিজ্ঞান ও মানবীয় ব্যাখ্যার সীমাবদ্ধতা
১০। শিক্ষা ও মানবীয় জ্ঞান বিস্তার
১১। অর্থনীতি ও বাজারের মানদণ্ড
১২। সময় ও স্থানের ধারণা
১৩। রাজনৈতিক ক্ষমতা ও গণতন্ত্রের ভিত্তি
১৪। ইতিহাস ও ঐতিহাসিক সত্যের নির্মাণ
১৫। চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যের সংজ্ঞা
১৬। জীবন ও মৃত্যুর তাৎপর্য
১৭। প্রযুক্তি ও মানবীয় উদ্ভাবন
১৮। পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার
১৯। স্বপ্ন ও ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন
২০। সৌন্দর্য ও নান্দনিকতা

প্রশ্নটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

প্রোটাগোরাসের এই উক্তিটি খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে (আনুমানিক ৪৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে) প্রাচীন গ্রিসে উদ্ভূত হয়। এটি সফিস্ট দর্শনের একটি মূল ভিত্তি ছিল, যা সে সময়ে প্রচলিত দেবতা-কেন্দ্রিক ধারণার বিপরীতে মানবকেন্দ্রিক চিন্তাধারাকে তুলে ধরে। যদিও প্রোটাগোরাসের মূল গ্রন্থ ‘সত্য’ (Truth)-এর অধিকাংশই হারিয়ে গেছে, তবুও তার এই উক্তিটি সক্রেটিস, প্লেটো এবং অ্যারিস্টটলের মতো দার্শনিকদের বিতর্কের একটি কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল। প্লেটো তার ‘থিইটেটাস’ সংলাপে প্রোটাগোরাসের এই ধারণা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। পরবর্তীকালে, রেনেসাঁ যুগে মানবতাবাদীরা এই উক্তিটিকে পুনরায় গুরুত্ব দেন। ২০শ শতাব্দীতে অস্তিত্ববাদী দার্শনিকরা, যেমন জ্যাঁ-পল সার্ত্রে, মানুষের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত দায়িত্বের ওপর জোর দিতে গিয়ে এই ধারণার অনুরূপ মতবাদ ব্যক্ত করেন। এটি মানুষের চিন্তাভাবনার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী প্রভাব ফেলে।

Tags: “মানুষ-ই সবকিছুর পরিমাপক” উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যাকর।মানুষ-ই সবকিছুর পরিমাপক
  • Previous রোমান সভ্যতার বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা কর।
  • Next সোফিস্ট রাষ্ট্রদর্শনের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।
Read Aim

SUBSCRIBE

    JOB CIRCULAR

    • Media/Ads/Event Mngnt (145)
    • Medical/Pharmaceutical (123)
    • NGO/Organization (323)
    • Production/Operation (142)
    • Research/Consultancy (85)
    • Secretary/Receptionist (188)
    • Security/Support Service (99)
    • Others (59)

    LEARNING & EARNING

    • English Article
    • Bearded Dragon
    • Cats
    • Dogs
    • Guinea Pigs
    • Insurance
    • Lawyer
    • Rabbits
    • Earn Money Online
    • Others

    CATEGORIES

    • Computer (12)
    • DEGREE (4)
    • English Article (27)
    • GRAMMAR (138)
    • Health Tips (2)
    • Honours (1083)
    • Jobs (16)
    • Jobs Study (33)
    • News (1497)
    • PDF BOOK (78)

    RECENT POST

    বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের সমস্যাগুলো আলোচনা কর।
    বাংলাদেশের কয়েকজন স্বপ্নদর্শী রাজনৈতিক নেতার কার্যক্রম আলোচনা কর। 
    বাংলাদেশের শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনার জন্য কী পদক্ষেপ বিবেচ্য হওয়া উচিত বলে তুমি মনে কর।
    বাংলাদেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা করার উপায়সমূহ আলোচনা কর।

    2025 All Rights Reserved readaim.com

    • Contact
    • About
    • Privacy
    • Blog
    • READ AIM