- readaim.com
- 0
ভূমিকা:- কার্ল মার্কস, একজন জার্মান দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী এবং বিপ্লবী, মানব সমাজের বিবর্তনকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। তার মতে, সমাজ স্থির নয় বরং এটি নির্দিষ্ট কিছু নিয়মের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়। উৎপাদন ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং শ্রেণী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মানব সমাজ বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করে আজকের অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। এই নিবন্ধে আমরা মার্ক্সের মতানুযায়ী সমাজবিকাশের বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে আলোচনা করব, যা মানব ইতিহাসের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
১। আদিম সাম্যবাদী সমাজ: মার্কসের মতে, মানব সমাজের প্রথম পর্যায় ছিল আদিম সাম্যবাদী সমাজ। এই সমাজে ব্যক্তিগত মালিকানা ছিল না, বরং সবকিছু ছিল যৌথ মালিকানাধীন। মানুষ শিকার ও খাদ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জীবনযাপন করত এবং সমাজে কোনো শ্রেণী বিভেদ ছিল না। উৎপাদন ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত সরল এবং উদ্বৃত্ত উৎপাদন প্রায় ছিল না বললেই চলে। এই সমাজ ব্যবস্থায় শ্রম বিভাজন ছিল সীমিত এবং প্রতিটি ব্যক্তি সমাজের টিকে থাকার জন্য সমানভাবে অবদান রাখত। সম্পদ সীমিত হওয়ায় এবং প্রযুক্তির অভাবে সকলেই একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করত।
২। দাস সমাজ: আদিম সাম্যবাদী সমাজের পর আসে দাস সমাজ। উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নতির সাথে সাথে উদ্বৃত্ত উৎপাদন সম্ভব হয় এবং কিছু মানুষ অন্যকে দাসে পরিণত করে। দাসেরা উৎপাদন প্রক্রিয়ার মূল চালিকা শক্তি ছিল এবং তাদের শ্রমের মাধ্যমে সম্পদ তৈরি হত। এই সমাজে দাস মালিক ও দাসদের মধ্যে স্পষ্ট শ্রেণী বিভেদ ছিল। দাসদের কোনো অধিকার ছিল না এবং তাদের জীবন ছিল অত্যন্ত কষ্টের। এই উৎপাদন ব্যবস্থায় দাস মালিকরা দাসদের উপর চূড়ান্ত ক্ষমতা রাখত এবং তাদের ইচ্ছামত ব্যবহার করত।
৩। সামন্ততান্ত্রিক সমাজ: দাস সমাজের পর আসে সামন্ততান্ত্রিক সমাজ। এই সমাজে ভূমি ছিল প্রধান উৎপাদন উপকরণ এবং এর মালিক ছিল সামন্ত প্রভুরা। কৃষকেরা, যারা ভূমিদাস নামে পরিচিত ছিল, সামন্ত প্রভুদের জমিতে কাজ করত এবং বিনিময়ে তাদের উৎপাদিত ফসলের একটি অংশ সামন্ত প্রভুদের দিতে বাধ্য থাকত। এই সমাজে সামন্ত প্রভু ও ভূমিদাসদের মধ্যে শ্রেণী বিভেদ ছিল স্পষ্ট। ভূমিদাসদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ছিল সীমিত এবং তারা সামন্ত প্রভুদের উপর নির্ভরশীল ছিল। এই ব্যবস্থায় কৃষকদের উপর অনেক ধরনের কর ও বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছিল।
৪। পুঁজিবাদী সমাজ: সামন্ততান্ত্রিক সমাজের পতনের পর পুঁজিবাদী সমাজের উন্মোচন হয়। এই সমাজে উৎপাদন উপকরণের মালিকানা ব্যক্তিগত হাতে চলে আসে, যা বুর্জোয়া শ্রেণী নামে পরিচিত। শ্রমিক শ্রেণী, যারা প্রলেতারিয়েত নামে পরিচিত, তাদের শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। পুঁজিবাদী সমাজে মুনাফা অর্জনই প্রধান লক্ষ্য এবং এই ব্যবস্থায় শোষণ একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পুঁজিবাদ সমাজে বুর্জোয়া এবং প্রলেতারিয়েতদের মধ্যে শ্রেণী সংগ্রাম তীব্র আকার ধারণ করে। এই ব্যবস্থা প্রতিযোগিতানির্ভর এবং সর্বদা মুনাফা বৃদ্ধির দিকে ধাবিত হয়।
৫। সমাজতান্ত্রিক সমাজ: মার্কসের মতে, পুঁজিবাদী সমাজের তীব্র শ্রেণী সংগ্রাম এবং শোষণের পরিণতিতে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ঘটবে। সমাজতান্ত্রিক সমাজে উৎপাদন উপকরণের মালিকানা ব্যক্তিগত হাতের পরিবর্তে সমাজের হাতে চলে আসবে। এর ফলে উৎপাদন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হবে সামাজিক চাহিদা পূরণ করা, মুনাফা অর্জন নয়। এই সমাজে শ্রেণী শোষণ বিলুপ্ত হবে এবং প্রত্যেকের শ্রম অনুযায়ী পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা হবে। সমাজতান্ত্রিক সমাজ হবে সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক এবং মানব সমাজের বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
৬। সাম্যবাদী সমাজ: সমাজতান্ত্রিক সমাজের চূড়ান্ত পরিণতি হল সাম্যবাদী সমাজ। এই সমাজে শ্রেণী বিভেদ সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হবে এবং রাষ্ট্রও বিলুপ্ত হয়ে যাবে। “প্রত্যেকে তার ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করবে এবং তার প্রয়োজন অনুযায়ী পাবে” – এই নীতিই হবে সাম্যবাদী সমাজের ভিত্তি। সাম্যবাদী সমাজ হবে এক শ্রেণীবিহীন ও শোষণহীন সমাজ যেখানে মানুষ পূর্ণ স্বাধীনতা ও সাম্যের সাথে বসবাস করবে। এটিই মানব সমাজের চূড়ান্ত বিকাশের পর্যায় বলে মার্কস মনে করতেন।
৭। উৎপাদন শক্তির বিকাশ: মার্কসের মতে, উৎপাদন শক্তির বিকাশই সমাজ বিকাশের মূল চালিকা শক্তি। উৎপাদন শক্তি বলতে শ্রমশক্তি, উৎপাদন উপকরণ এবং প্রযুক্তিকে বোঝায়। যখন উৎপাদন শক্তি পরিবর্তিত হয়, তখন উৎপাদন সম্পর্কও পরিবর্তিত হয়, যা সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটায়। উৎপাদন শক্তির উন্নতির সাথে সাথে সমাজের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং নতুন নতুন উৎপাদন পদ্ধতি ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই বিকাশ সমাজের প্রতিটি স্তরে প্রভাব ফেলে এবং নতুন উৎপাদন পদ্ধতি প্রবর্তন করে।
৮। উৎপাদন সম্পর্কের পরিবর্তন: উৎপাদন শক্তির পরিবর্তনের সাথে সাথে উৎপাদন সম্পর্কও পরিবর্তিত হয়। উৎপাদন সম্পর্ক বলতে উৎপাদনের সাথে জড়িত মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে বোঝায়, যেমন মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক। যখন উৎপাদন সম্পর্ক উৎপাদন শক্তির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ থাকে না, তখন সমাজে সংকট দেখা দেয় এবং শ্রেণী সংগ্রাম শুরু হয়। এই পরিবর্তনের ফলেই নতুন সমাজ ব্যবস্থার জন্ম হয়। যখন প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, তখন পুরনো উৎপাদন সম্পর্ক আর কার্যকর থাকে না, ফলে পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে ওঠে।
৯। শ্রেণী সংগ্রাম: মার্কসের মতে, শ্রেণী সংগ্রামই ইতিহাসের চালিকা শক্তি। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে স্বার্থের সংঘাতের কারণে শ্রেণী সংগ্রাম দেখা দেয়। এই সংগ্রামই এক সমাজ থেকে অন্য সমাজে উত্তরণের পথ খুলে দেয়। শোষক শ্রেণী এবং শোষিত শ্রেণীর মধ্যে সর্বদা সংঘাত বিদ্যমান থাকে, যা শেষ পর্যন্ত বিপ্লবের জন্ম দেয়। প্রতিটি সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তনে শ্রেণী সংগ্রামের ভূমিকা অপরিহার্য। এই সংগ্রাম সমাজের গতিপথ নির্ধারণ করে এবং নতুন ব্যবস্থার পথ প্রশস্ত করে।
১০। ভিত্তিকাঠামো ও উপরি কাঠামো: মার্কস সমাজকে দুটি ভাগে ভাগ করেছেন: ভিত্তিকাঠামো (Base) এবং উপরি কাঠামো (Superstructure)। ভিত্তিকাঠামো হল সমাজের অর্থনৈতিক কাঠামো, যা উৎপাদন শক্তি ও উৎপাদন সম্পর্ক নিয়ে গঠিত। উপরি কাঠামো হল সমাজের রাজনৈতিক, আইনি, ধর্মীয়, শৈল্পিক এবং দার্শনিক প্রতিষ্ঠানসমূহ। ভিত্তিকাঠামো উপরি কাঠামোকে প্রভাবিত করে এবং উপরি কাঠামো ভিত্তিকাঠামোকে বৈধতা দেয়। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সমাজের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবিত করে।
১১। দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ: মার্কসের সমাজ বিকাশের তত্ত্ব দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের উপর ভিত্তি করে গঠিত। এই মতবাদ অনুযায়ী, প্রতিটি বস্তুর মধ্যে দুটি বিপরীত শক্তি থাকে, যা একে অপরের সাথে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে। এই দ্বন্দ্বের ফলেই নতুন কিছু সৃষ্টি হয়। সমাজের ক্ষেত্রেও শ্রেণী সংগ্রাম এই দ্বন্দ্বের উদাহরণ, যা নতুন সমাজ ব্যবস্থার জন্ম দেয়। এই দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়া সমাজের প্রতিটি স্তরে দেখা যায় এবং এটি পরিবর্তনের মূল কারণ।
১২। ঐতিহাসিক বস্তুবাদ: ঐতিহাসিক বস্তুবাদ হল মার্কসের সমাজ বিকাশের তত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এই মতবাদ অনুযায়ী, মানব সমাজের ইতিহাস বস্তুবাদী কারণ দ্বারা প্রভাবিত হয়, বিশেষ করে অর্থনৈতিক কারণ দ্বারা। সমাজ বিকাশের মূল কারণ হল উৎপাদন পদ্ধতির পরিবর্তন। মানব সমাজের অগ্রগতি অর্থনৈতিক কাঠামোর উপর নির্ভরশীল। এই দৃষ্টিভঙ্গি মানব ইতিহাসের বস্তুগত দিকগুলিকে গুরুত্ব দেয় এবং অর্থনৈতিক পরিবর্তনকে মূল চালিকা শক্তি হিসেবে দেখে।
১৩। উদ্বৃত্ত মূল্য: পুঁজিবাদী সমাজে উদ্বৃত্ত মূল্য (Surplus Value) একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। শ্রমিকেরা তাদের শ্রমের মাধ্যমে যে মূল্য তৈরি করে, তার একটি অংশ তারা মজুরি হিসেবে পায় এবং বাকি অংশ পুঁজিপতিরা মুনাফা হিসেবে আত্মসাৎ করে। এই উদ্বৃত্ত মূল্যই পুঁজিপতিদের শোষণের উৎস। এই শোষণই শ্রমিক শ্রেণীকে শোষিত করে এবং শ্রেণী সংগ্রামকে তীব্র করে। মার্কসের মতে, এই উদ্বৃত্ত মূল্যই পুঁজিবাদের মূল ভিত্তি এবং শোষণের উৎস।
১৪। পুঁজির কেন্দ্রীভবন: পুঁজিবাদী সমাজে পুঁজির কেন্দ্রীভবন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। বড় পুঁজিপতিরা ছোট পুঁজিপতিদের গ্রাস করে এবং পুঁজি অল্প কিছু লোকের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়। এর ফলে সমাজের সম্পদ বৈষম্য আরও বৃদ্ধি পায়। এই কেন্দ্রীভবন শ্রেণী বৈষম্যকে আরও তীব্র করে এবং শ্রমিক শ্রেণীর শোষণকে বাড়িয়ে তোলে। পুঁজির এই কেন্দ্রীভবন পুঁজিবাদী ব্যবস্থার একটি অনিবার্য পরিণতি।
১৫। আন্তর্জাতিকীকরণ: পুঁজিবাদ একটি বিশ্বব্যাপী ব্যবস্থা। পুঁজিবাদের বিকাশের সাথে সাথে এটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং একটি আন্তর্জাতিক বাজার তৈরি হয়। এর ফলে শ্রমিক শ্রেণীও আন্তর্জাতিক রূপ নেয়। আন্তর্জাতিক পুঁজিবাদের কারণে বিভিন্ন দেশের শ্রমিকরা একতাবদ্ধ হয় এবং আন্তর্জাতিক শ্রেণী সংগ্রাম শুরু হয়। এই আন্তর্জাতিকীকরণ বিশ্ব অর্থনীতিকে একীভূত করে।
১৬। বিপ্লব: মার্কসের মতে, শ্রেণী সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি হল বিপ্লব। শোষিত শ্রেণী তাদের শোষণের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে বিপ্লব ঘটায় এবং পুরনো সমাজ ব্যবস্থাকে উচ্ছেদ করে নতুন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে। এই বিপ্লবই সমাজ পরিবর্তনের মূল হাতিয়ার। বিপ্লবের মাধ্যমে উৎপাদন সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তন সমাজের মৌলিক কাঠামোকে রূপান্তরিত করে।
১৭। রাষ্ট্রের বিলুপ্তি: মার্কসের মতে, সাম্যবাদী সমাজে রাষ্ট্র বিলুপ্ত হয়ে যাবে। রাষ্ট্র হল একটি শ্রেণী শোষণের যন্ত্র এবং যখন শ্রেণী শোষণ থাকবে না, তখন রাষ্ট্রেরও প্রয়োজন থাকবে না। সাম্যবাদী সমাজে রাষ্ট্র একটি প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান হিসাবে থাকবে না বরং এটি একটি স্বেচ্ছামূলক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এই বিলুপ্তি মানব সমাজের চূড়ান্ত স্বাধীনতার প্রতীক।
১৮। শ্রমের বিচ্ছিন্নতা: পুঁজিবাদী সমাজে শ্রমিকরা তাদের শ্রমের ফলাফল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তারা তাদের উৎপাদিত পণ্যের মালিক নয় এবং তাদের শ্রম কেবল মজুরি অর্জনের একটি উপায়। এই বিচ্ছিন্নতা শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা ও বিচ্ছিন্নতা তৈরি করে। শ্রমিকরা তাদের কাজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং তাদের শ্রম কেবল পুঁজিপতিদের মুনাফার একটি উৎস হয়। এই বিচ্ছিন্নতা শ্রমিকদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
১৯। ঐতিহাসিক অনিবার্যতা: মার্কসের মতে, সমাজ বিকাশের প্রতিটি পর্যায় ঐতিহাসিক অনিবার্যতা অনুসরণ করে। এটি কোন কাকতালীয় ঘটনা নয় বরং এটি উৎপাদন শক্তির বিকাশ এবং শ্রেণী সংগ্রামের স্বাভাবিক পরিণতি। সমাজ বিকাশের এই ধারা একটি নির্দিষ্ট নিয়মে চলে এবং এটি পরিবর্তনশীল নয়। এই অনিবার্যতা মানব ইতিহাসের গতিপথ নির্ধারণ করে এবং ভবিষ্যতের পূর্বাভাস দেয়।
উপসংহার:- কার্ল মার্কসের সমাজ বিকাশের তত্ত্ব মানব ইতিহাসকে এক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে সাহায্য করে। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সমাজ স্থির নয় বরং এটি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং শ্রেণী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়। আদিম সাম্যবাদ থেকে শুরু করে দাস, সামন্ততান্ত্রিক, পুঁজিবাদী এবং অবশেষে সমাজতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী সমাজের দিকে অগ্রসর হওয়ার এই প্রক্রিয়া মানব সভ্যতার এক দীর্ঘ ও জটিল যাত্রার বর্ণনা দেয়। মার্কসের এই তত্ত্ব আজও সমাজ বিশ্লেষণ ও পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১। আদিম সাম্যবাদী সমাজ
২। দাস সমাজ
৩। সামন্ততান্ত্রিক সমাজ
৪। পুঁজিবাদী সমাজ
৫। সমাজতান্ত্রিক সমাজ
৬। সাম্যবাদী সমাজ
৭। উৎপাদন শক্তির বিকাশ
৮। উৎপাদন সম্পর্কের পরিবর্তন
৯। শ্রেণী সংগ্রাম
১০। ভিত্তিকাঠামো ও উপরি কাঠামো
১১। দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ
১২। ঐতিহাসিক বস্তুবাদ
১৩। উদ্বৃত্ত মূল্য
১৪। পুঁজির কেন্দ্রীভবন
১৫। আন্তর্জাতিকীকরণ
১৬। বিপ্লব
১৭। রাষ্ট্রের বিলুপ্তি
১৮। শ্রমের বিচ্ছিন্নতা
১৯। ঐতিহাসিক অনিবার্যতা
কার্ল মার্কস (১৮১৮-১৮৮৩) জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার সহকর্মী ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের সাথে মিলে “কমিউনিস্ট ইশতেহার” (১৮৪৮) প্রকাশ করেন, যা বিশ্বজুড়ে বিপ্লবী আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করে। তার monumental কাজ “ডাস ক্যাপিটাল” (প্রথম খণ্ড ১৮৬৭) পুঁজিবাদের গভীর বিশ্লেষণ প্রদান করে। ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব এবং ১৯৪৯ সালের চীনা বিপ্লব মার্কসবাদী তত্ত্ব দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিল, যা বিশ্বের রাজনৈতিক ভূগোলে বিশাল পরিবর্তন আনে। বিংশ শতাব্দীর বেশিরভাগ সময় ধরে বিশ্বের বৃহৎ অংশে সমাজতান্ত্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে, যদিও এর ফলাফল নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আধুনিক সমাজবিজ্ঞানে মার্কসের ধারণাগুলি এখনও আলোচনার বিষয়।

