- readaim.com
- 0
উত্তর::ভূমিকা: “রাজা রাজত্ব করেন কিন্তু শাসন করেন না” — এই বিখ্যাত উক্তিটি ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের সাংবিধানিক এবং প্রতীকী ভূমিকার একটি নিখুঁত বর্ণনা। এটি বোঝায় যে রাজা বা রানী দেশের প্রধান হলেও, তাদের কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই। প্রকৃত শাসন ক্ষমতা থাকে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর হাতে। রাজতন্ত্র এখানে একটি ঐক্য ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করে, যা দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
এই বাক্যটি ব্রিটিশ সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের মূলনীতিকে তুলে ধরে। এর মাধ্যমে বোঝানো হয় যে, রাজা বা রানী রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রধান, কিন্তু তাদের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ। রাজনৈতিক ক্ষমতা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি, অর্থাৎ পার্লামেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত থাকে। এখানে “রাজত্ব করেন” (reigns) বলতে বোঝায় যে রাজা বা রানী দেশের প্রতীকী প্রধান হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। তারা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, যেমন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের অভ্যর্থনা, নতুন আইনের অনুমোদন এবং জাতীয় দিবসে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার মতো আনুষ্ঠানিক কাজগুলো সম্পন্ন করেন। এই ভূমিকা দেশের ঐতিহ্য ও ঐক্যকে ধারণ করে।
অন্যদিকে, “শাসন করেন না” (does not rule) বলতে বোঝায় যে রাজা বা রানীর কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই। তারা কোনো আইন তৈরি করেন না, কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন না, বা সরকারের নীতি নির্ধারণ করেন না। এই কাজগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত ক্যাবিনেট এবং পার্লামেন্টের দায়িত্ব। ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের এই ব্যবস্থাটি নিশ্চিত করে যে দেশের ক্ষমতা কোনো একক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হবে না, বরং তা গণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এই বিভাজন ব্রিটিশ গণতন্ত্রের একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।
এই ধারণার উৎপত্তি হয় ১৭শ শতাব্দীর গৌরবময় বিপ্লব (Glorious Revolution of 1688) এবং ১৭০১ সালের অ্যাক্ট অফ সেটেলমেন্ট (Act of Settlement 1701)-এর মাধ্যমে, যখন পার্লামেন্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং রাজার ক্ষমতা সীমিত করা হয়। ১৮শ শতাব্দীতে রবার্ট ওয়ালপোলের অধীনে ক্যাবিনেট সরকার প্রবর্তনের পর এই ধারণাটি আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে, রাজা তৃতীয় চার্লস আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রের প্রধান হলেও, দেশের শাসনকার্য পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক এবং তার সরকার। এই ব্যবস্থা প্রমাণ করে যে, একটি আধুনিক গণতন্ত্রেও ঐতিহ্যবাহী রাজতন্ত্র coexist করতে পারে, যদি তার ভূমিকা প্রতীকী এবং অরাজনৈতিক হয়।
উপসংহার: “রাজা রাজত্ব করেন কিন্তু শাসন করেন না” এই বাক্যটি ব্রিটিশ সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। এটি প্রমাণ করে যে, প্রতীকী ভূমিকা পালন করেও রাজতন্ত্র একটি দেশের ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারে। এই ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যে রাজনৈতিক ক্ষমতা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতেই থাকবে, যা আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে একটি সফল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
রাজা বা রানী রাষ্ট্রের প্রতীকী প্রধান হিসেবে কাজ করেন, কিন্তু দেশের প্রকৃত শাসন ক্ষমতা নির্বাচিত সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকে।
১৭৮৩ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জর্জ ওয়াশিংটন এই ধারণাটির ভিত্তি স্থাপন করেন। ১৯১১ সালের পার্লামেন্ট অ্যাক্ট (Parliament Act 1911) এর মাধ্যমে পার্লামেন্টের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায় এবং রাজার ক্ষমতা কমে যায়। ২০১৮ সালের একটি জনমত জরিপে দেখা যায়, ব্রিটিশ জনগণের প্রায় ৬৭% সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের পক্ষে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাজা ষষ্ঠ জর্জের ভূমিকা জনগণের মনোবল বাড়িয়েছিল, যা রাজতন্ত্রের প্রতীকী ক্ষমতা প্রমাণ করে।

